📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 “তুমি চক্তি নিবেতো নিবেতো তালাক দাও”

📄 “তুমি চক্তি নিবেতো নিবেতো তালাক দাও”


“তুমি চক্তি নিবেতো নিবেতো তালাক দাও”:
হানাফিগণ বলেন, যে ব্যক্তি কোনো নিয়ত ছাড়া অথবা এক তালাকের নিয়ত সহকারে তার স্ত্রীকে বলে, তুমি নিজেকে তালাক দাও। আর তৎক্ষণাত স্ত্রী বলে, আমি নিজেকে তালাক দিলাম, তাহলে একটা রজয়ি তালাক হবে। আর যদি সে নিজেকে তিন তালাক দেয় এবং স্বামীও তদ্রূপ নিয়ত করে থাকে, তাহলে তিন তালাকই হবে। আর যদি স্বামী তাকে বলেন, তুমি নিজেকে তালাক দাও। আর জবাবে স্ত্রী বলে, আমি নিজেকে বায়েন তালাক দিয়েছি, তাহলে তার উপর তালাক কার্যকর হবে। আর যদি বলেন, আমি নিজেকে স্বাধীন করলাম, তাহলে তালাক কার্যকর হবেনা। আর যদি স্বামী তাকে বলেন, যখন ইচ্ছা নিজেকে তালাক দাও, তাহলে স্ত্রী নিজেকে তাৎক্ষণিকভাবেও তালাক দিতে পারবে, পরবর্তী যে কোনো সময়েও দিতে পারবে। আর যদি কোনো ব্যক্তিকে বলে, তুমি আমার স্ত্রীকে তালাক দাও। তাহলে সেই ব্যক্তি তাকে তাৎক্ষণিকভাবেও তালাক দিতে পারবে, পরেও দিতে পারবে। আর যদি কোনো ব্যক্তিকে বলে, তোমার ইচ্ছা হলে আমার স্ত্রীকে তালাক দাও, তাহলে সে শুধুমাত্র তাৎক্ষণিকভাবেই তালাক দিতে পারবে, পরে নয়।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 প্রতিনিধি নিয়োগের মাধ্যমে তালাক দেয়া

📄 প্রতিনিধি নিয়োগের মাধ্যমে তালাক দেয়া


প্রতিনিধি নিয়োগের মাধ্যমে তালাক দেয়া:
অন্য কাউকে নিজের স্ত্রীর উপর তালাক কার্যকারণ করার দায়িত্ব দেয়া বৈধ। এটা নিজের তালাক দেয়ার মতোই। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে তালাক দিতে পারবে, পরেও দিতে পারবে। ইমাম শাফেয়ি এ তালাককে বৈধ বলে রায় দিয়েছেন এবং বলেছেন তাৎক্ষণিকভাবেও দেয়া যাবে, পরেও দেয়া যাবে। কিন্তু ইমাম আবু হানিফার শিষ্যগণ বলেছেন, শুধুমাত্র তাৎক্ষণিকভাবেই তালাক দিতে পারবে, পরে নয়। আল মুগনির লেখক বলেন, শর্তহীন ভাষায় প্রতিনিধি নিযুক্ত করা হলে যে কোনো সময় তালাক দেয়া শুদ্ধ হবে। কেবল শর্ত এই যে, নিয়োগ বাতিল হওয়া বা সহবাস করার আগে তালাক দিতে হবে। প্রতিনিধি এক তালাকও দিতে পারবে, তিন তালাকও দিতে পারবে, যেমন স্ত্রীকে ক্ষমতা দেয়া হলে সেও এক বা তিন তালাক দিতে পারে।

তবে প্রতিনিধি নিয়োগে শর্ত হলো, প্রতিনিধি হওয়ার যোগ্য হওয়া চাই অর্থাৎ সুস্থ বুদ্ধি সম্পন্ন হওয়া চাই। শিশু ও পাগলকে প্রতিনিধি নিয়োগ করা জায়েয নয়। যদি সেরকম কাউকেও করা হয় এবং সেই প্রতিনিধি তালাক দেয়, তাহলে তালাক কার্যকর হয়না। আসহাবুর রায় বলেন, শিশু ও পাগলকে প্রতিনিধি নিয়োগ করা বৈধ।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 তালাকের ক্ষমতা অর্पणे শর্তহীন ও শর্তযুক্ত ভাষা ব্যবহার

📄 তালাকের ক্ষমতা অর্पणे শর্তহীন ও শর্তযুক্ত ভাষা ব্যবহার


তালাকের ক্ষমতা অর্पणे শর্তহীন ও শর্তযুক্ত ভাষা ব্যবহার:
এ সকল ভাষা কখনো শর্তহীন হয়। যেমন স্ত্রীকে বাড়তি কোনো কিছু উল্লেখ না করেই শুধু তালাকের ক্ষমতা দেয়া অথবা স্ত্রীর নিজেকে স্বাধীন ক্ষমতাসম্পন্না বলে গ্রহণ করা। এরূপ পরিস্থিতিতে স্ত্রী শুধু তাৎক্ষণিকভাবে ও ক্ষমতা অর্পণের বৈঠকেই নিজেকে তালাক দিতে পারবেন, যদি সে সেখানে উপস্থিত থাকে। আর যদি উপস্থিত না থাকে, তবে যে বৈঠকে বসে জানতে পারবে যে তাকে তালাকের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, শুধু সেই বৈঠকেই তালাক দিতে পারবে। ক্ষমতা অর্পণের বৈঠক অথবা ক্ষমতা অর্পণের কথা জানতে পারার বৈঠক যদি তালাক প্রয়োগ ছাড়াই শেষ হয়ে যায় বা পরিবর্তিত হয়ে যায়, তাহলে এরপর আর তার এই অধিকার থাকবেনা। কেননা ক্ষমতা অর্পণের ভাষাটা ছিলো শর্তহীন, তাই তা সংশ্লিষ্ট বৈঠককে ঘিরেই আবর্তিত হবে। বৈঠক না থাকলে ক্ষমতা থাকবেনা। এই বিধি সেই অবস্থায় প্রযোজ্য, যখন ক্ষমতা অর্পণের ভাষা শর্তহীন ছিলো একথা জানার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়না। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বিয়ের আকদ সম্পন্ন হওয়ার সময় যদি ক্ষমতা অর্পিত হয়ে থাকে, তাহলে এরূপ হবে। কেননা ক্ষমতা অর্পণকারী বিয়েরে মজলিসেই স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা দেবে, এটা বোধগম্য নয়। কাজেই এক্ষেত্রে কোনো শাব্দিক প্রমাণ দ্বারা নয়, বরং পরিবেশগত প্রমাণ দ্বারাই বুঝা যায় যে, ক্ষমতা অর্পণের ভাষাটা ছিলো শর্তহীন।

কোনো কোনো মিশরীয় নিম্ন আদালত থেকে এই মর্মে রায় দেয়া হয়েছে যে, বিয়ের আকদ সম্পন্ন হওয়ার সময়ই যদি শর্তহীনভাবে তালাকের ক্ষমতা দেয়া হয়, তবে তা বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবেনা। স্ত্রী যখন খুশি নিজেকে তালাক দিতে পারবে। নচেত ক্ষমতা অর্পণের কোনো সার্থকতা থাকবেনা। আপিল দ্বারাও এ রায় সমর্থিত হয়েছে। এই ভাষা কখনো কখনো শর্তহীন হয়ে থাকে। যেমন স্বামী স্ত্রীকে বলবে, "তুমি যখন খুশি নিজেকে স্বাধীন বলে গ্রহণ করতে পারো" অথবা "তুমি যখন চাও তালাক দেয়ার ক্ষমতা নিজের হাতে নিয়ে নিতে পারো।" এরূপ ক্ষেত্রে স্ত্রী যখন চাইবে, নিজেকে তালাক দিতে পারবে। কেননা সে স্ত্রীকে শর্তহীনভাবে তালাকের ক্ষমতা দিয়েছে। তাই সে এ ক্ষমতা যে কোনো সময় ব্যবহার করে নিজেকে তালাক দিতে পারবে। আবার কখনো তালাকের ক্ষমতা অর্পণের ভাষা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমিত হতে পারে। যেমন স্ত্রীকে এক বছরের মধ্যে নিজেকে তালাক দেয়ার ক্ষমতা দেয় হলো। এরূপ ক্ষেত্রে শুধু নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যেই সে নিজেকে তালাক দিতে পারবে। এই মেয়াদ অতিবাহিত হওয়ার পর স্ত্রীর নিজেকে তালাক দেয়ার কোনো ক্ষমতা থাকবেনা।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যে সময় ও তার পরে তালাকের ক্ষমতা অর্পণ

📄 যে সময় ও তার পরে তালাকের ক্ষমতা অর্পণ


যে সময় ও তার পরে তালাকের ক্ষমতা অর্পণ:
বিয়ের আকদ সম্পন্ন হওয়ার সময়ও স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা দেয়া যায় পরেও দেয়া যায়। তবে হানাফি মাযহাব অনুযায়ী আকদের সময়ে ক্ষমতা অর্পনের শর্ত হলো, স্ত্রীকেই এর উদ্যোক্তা হতে হবে। যেমন স্ত্রী স্বামীকে বলবে, আমি তোমাকে বিয়ে করেছি এই শর্তে যে, আমার হাতে ক্ষমতা থাকবে, যখন চাইবে তালাক নিয়ে নেব। আর এর জবাবে স্বামী বলবে, আমি মেনে নিলাম। এই মেনে নেয়া দ্বারাই বিয়ের আকদ সম্পন্ন হবে, তালাক শুদ্ধ হবে এবং স্ত্রীর অধিকার থাকবে যখনই চাইবে তালাক নিতে পারবে। কেননা স্বামীর সম্মতি দান দ্বারা বিয়ে সম্পন্ন এবং বিয়ে সম্পন্ন হওয়া দ্বারা স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। কিন্তু যখন বিয়ের আকদ সম্পন্ন হওয়ার সময়েই তালাকের ক্ষমতা অর্পনের উদ্যোক্তা হবে স্বামী, যেমন সে তার স্ত্রীকে বলবে, তোমাকে এই শর্তে বিয়ে করলাম যে, তোমার নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা তোমার হাতে থাকবে, তুমি যখনই চাইবে নিজেকে তালাক দিতে পারবে। আর এর জবাবে স্ত্রী বলবে, আমি কবুল করলাম। তখন এ দ্বারা বিয়ে সম্পন্ন হবে, কিন্তু তালাকের ক্ষমতা অর্পণ শুদ্ধ হবেনা এবং স্ত্রী নিজেকে তালাক দিতে পারবেনা। উক্ত দুই অবস্থার পার্থক্য হলো, প্রথম অবস্থায় স্বামী আকদ সম্পন্ন হওয়ার পর তালাকের ক্ষমতা অর্পণে সম্মতি দিয়েছে। এর অর্থ দাঁড়ালো, বিয়ের আকদ সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে স্বামী তালাকের অধিকারী হয়েছে, অতপর সেই অধিকার স্ত্রীকে দিয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় অবস্থায় স্বামী নিজে তালাকের ক্ষমতার অধিকারী হওয়ার আগে তা স্ত্রীকে অর্পন করেছে। কেননা সে বিয়ের আকদ সম্পন্ন হওয়ার আগে উক্ত অধিকার অর্পন করেছে। কারণ তখন পর্যন্ত কেবল ইজাব সম্পন্ন হয়েছে, কবুল সম্পন্ন হয়নি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00