📄 স্বামীর নিয়ত বিবেচ্য, না স্ত্রীর নিয়ত?
স্বামীর নিয়ত বিবেচ্য, না স্ত্রীর নিয়ত?:
ইমাম শাফেয়ির মতে, স্বামীর নিয়ত বিবেচ্য, সে যদি এক তালাক নিয়ত করে, তাহলে এক তালাক পড়বে, আর তিন তালাক নিয়ত করলে তিন তালাক পড়বে। এমনকি স্বামী স্ত্রীকে তালাকের ব্যাপারে বা তালাকের সংখ্যার ব্যাপারে আপত্তি জানাতে পারে, ক্ষমতা অর্পণের ক্ষেত্রে। অন্যেরা বলেন, স্ত্রী এক তালাকের চেয়ে বেশি নিয়ত করলে যা নিয়ত করবে, তা পড়বে। কেননা সে সুস্পষ্ট ঘোষণা বলে তিন তালাকের অধিকারী। তাই স্বামীর মতোই ইঙ্গিত দ্বারাও সে তিন তালাকের অধিকারী হবে। এরপর স্ত্রী যদি নিজেকে তিন তালাক দেয়, আর স্বামী বলে যে, আমি ওকে এক তালাকের বেশির ক্ষমতা দেইনি, তবে স্বামীর কথার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা হবেনা। স্ত্রী যা বলবে, সেই অনুসারেই বিচার ফায়সালা হবে। এটা উসমান, ইবনে উমর ও ইবনে আব্বাসের অভিমত। উমর রা. ও ইবনে মাসউদ রা. বলেন, এক তালাক পড়বে।
📄 স্ত্রীর হাতে তালাকের ক্ষমতা অর্পণের কার্যকারিতা তাৎক্ষণিক কিনা?
স্ত্রীর হাতে তালাকের ক্ষমতা অর্পণের কার্যকারিতা তাৎক্ষণিক কিনা?:
ইবনে কুদামা আল মুগনিতে বলেন, স্ত্রীকে যখন তালাকের ক্ষমতা দেয়া হয়, তখন তা তার হাতে স্থায়ীভাবে থাকবে, তাৎক্ষণিকভাবে নয়। এটা আলী, আবু ছাওর, ইবনুল মুনযির ও আল হাকামের মত। মালেক, শাফেয়ি ও আসহাব উর রায়' বলেন, এটা তাৎক্ষণিক এবং যে মজলিসে বসে ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে, সেই মজলিসের মধ্যেই সীমিত। স্বামী থেকে পৃথক হওয়ার পর সে নিজেকে তালাক দিতে পারবেনা। কেননা তাকে 'তুমি নিজেকে স্বাধীন বিবেচনা করো' এই কথা বলার মাধ্যমে তাকে তালাক গ্রহণের ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে। সুতরাং যে মজলিসে এই ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে, সেই মজলিসেই এর কার্যকারিতা সীমাবদ্ধ থাকবে।
কিন্তু প্রথমোক্ত উক্তি অগ্রগণ্য। কেননা এক ব্যক্তি যখন তার স্ত্রীকে এই ক্ষমতা অর্পণ করলো, তখন আলী রা. বললেন, স্ত্রী যতোক্ষণ এ ক্ষমতা বর্জন না করবে, ততোক্ষণ তা তার হাতে থাকবে। কোনো সাহাবি এই মতের বিপক্ষে বলে জানা যায় না। তাই ধরে নেয়া যায় এটা একটা সর্বসম্মত মত। তাছাড়া যেহেতু এটা এক ধরনের প্রতিনিধি নিয়োগ, তাই এটা স্থায়ীভাবে চালু থাকারই কথা। যেমন কোনো অজানা অচেনা লোককে এ ক্ষমতা দিলে তাও স্থায়ী হয়ে থাকে, তাৎক্ষণিক নয়।
📄 স্ত্রীর তালাকের ক্ষমতা অর্পণ প্রত্যাহার
স্ত্রীর তালাকের ক্ষমতা অর্পণ প্রত্যাহার:
স্ত্রীকে যে ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে, স্বামী যদি তা প্রত্যাহার করে, অথবা যদি বলে, তোমাকে যে ক্ষমতা দিয়েছিলাম তা বাতিল করলাম। তাহলে বাতিল হয়ে যাবে। আতা, মুজাহিদ, শাবি, নাখয়ি, আওযায়ি ও ইসহাকের মত এটাই। কিন্তু যুহরি, সাওরি, মালেক ও আসহাবুর রায় বলেন, প্রত্যাহারের বা বাতিল করার ক্ষমতা স্বামীর নেই। কেননা সে তাকে এর মালিক বানিয়ে দিয়েছে। কাজেই তার প্রত্যাহারের ক্ষমতা ও সুযোগ নেই। আর যদি স্বামী তার সাথে সহবাস করে, তাহলে সেটা প্রত্যাহারের শামিল হবে। কেননা এটা এক ধরনের প্রতিনিধি নিয়োগ। প্রতিনিধি নিয়োগকারী যদি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে, তাহলে প্রতিনিধিত্ব বাতিল হবে। আর যদি তার নিকট অর্পিত ক্ষমতা ফেরত দেয়, তাহলে অর্পিত ক্ষমতা বাতিল হবে, যেমন প্রতিনিধি নিয়োগের চুক্তি বাতিল করলে তা বাতিল হয়।
📄 “তুমি চক্তি নিবেতো নিবেতো তালাক দাও”
“তুমি চক্তি নিবেতো নিবেতো তালাক দাও”:
হানাফিগণ বলেন, যে ব্যক্তি কোনো নিয়ত ছাড়া অথবা এক তালাকের নিয়ত সহকারে তার স্ত্রীকে বলে, তুমি নিজেকে তালাক দাও। আর তৎক্ষণাত স্ত্রী বলে, আমি নিজেকে তালাক দিলাম, তাহলে একটা রজয়ি তালাক হবে। আর যদি সে নিজেকে তিন তালাক দেয় এবং স্বামীও তদ্রূপ নিয়ত করে থাকে, তাহলে তিন তালাকই হবে। আর যদি স্বামী তাকে বলেন, তুমি নিজেকে তালাক দাও। আর জবাবে স্ত্রী বলে, আমি নিজেকে বায়েন তালাক দিয়েছি, তাহলে তার উপর তালাক কার্যকর হবে। আর যদি বলেন, আমি নিজেকে স্বাধীন করলাম, তাহলে তালাক কার্যকর হবেনা। আর যদি স্বামী তাকে বলেন, যখন ইচ্ছা নিজেকে তালাক দাও, তাহলে স্ত্রী নিজেকে তাৎক্ষণিকভাবেও তালাক দিতে পারবে, পরবর্তী যে কোনো সময়েও দিতে পারবে। আর যদি কোনো ব্যক্তিকে বলে, তুমি আমার স্ত্রীকে তালাক দাও। তাহলে সেই ব্যক্তি তাকে তাৎক্ষণিকভাবেও তালাক দিতে পারবে, পরেও দিতে পারবে। আর যদি কোনো ব্যক্তিকে বলে, তোমার ইচ্ছা হলে আমার স্ত্রীকে তালাক দাও, তাহলে সে শুধুমাত্র তাৎক্ষণিকভাবেই তালাক দিতে পারবে, পরে নয়।