📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 “তোমার কর্তৃত্ব বা ক্ষমতা তোমার হাতে”

📄 “তোমার কর্তৃত্ব বা ক্ষমতা তোমার হাতে”


“তোমার কর্তৃত্ব বা ক্ষমতা তোমার হাতে”:
অর্থাৎ তোমাকে তালাক দেয়া বা না দেয়ার যে ক্ষমতা আমার হাতে রয়েছে, তা তোমাকে দিলাম। স্বামী একথা বলার পর যদি স্ত্রী নিজেকে তালাক দেয়, তবে উমর রা. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, সুফিয়ান, শাফেয়ি ও আহমদের মতানুসারে এক তালাক পড়বে। বর্ণিত আছে, ইবনে মাসউদের নিকট এক ব্যক্তি এসে বললো, আমার ও আমার স্ত্রীর মাঝে এমন কিছু অপ্রীতিকর ব্যাপার হয়েছে, যেমন অনেকের মধ্যেই হয়ে থাকে। তখন সে বললো, আমার ব্যাপারে যে ক্ষমতা তোমার হাতে রয়েছে (অর্থাৎ তালাক সংক্রান্ত) তা যদি আমার হতে থাকতো, তাহলে তা কিভাবে কাজে লাগাতে হয়, আমার জানা আছে। সে বললো, তোমার ব্যাপারে যে ক্ষমতা আমার হাতে রয়েছে, তা তোমাকে অর্পণ করলাম। তৎক্ষণাত সে বললো, তাহলে তোমার উপর তিন তালাক। ইবনে মাসউদ রা. তাকে বললেন, আমার তো মনে হয় এক তালাক হয়েছে। তবে সে যতোক্ষণ ইদ্দতের মধ্যে রয়েছে, ততোক্ষণ তার উপর তোমার অগ্রাধিকার রয়েছে। আমি শীঘ্র আমীরুল মুমিনীন উমর রা.-এর সাথে সাক্ষাৎ করবো।

অতপর তিনি উমর রা.-এর সাথে সাক্ষাৎ করে পুরো ঘটনা জানালেন। উমর রা. বললেন, আল্লাহ পুরুষদের ক্ষমতা প্রদান করেছেন। তিনি তাদের হাতে যে ক্ষমতা দিয়েছেন, তা তারা স্ত্রীদের হাতে হস্তান্তর করে। তুমি এ ব্যাপারে কি বলেছ? আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বললেন, আমার মনে হয়, একটা তালাক হয়েছে এবং স্বামীর এখনো তার স্ত্রীর উপর অগ্রাধিকার রয়েছে। উমর রা. বললেন, আমিও তদ্রূপ মনে করি। তুমি যদি অন্য কিছু বলতে, তাহলে আমি বুঝতাম, তুমি সঠিক বলনি। হানাফিদের মতে, এক্ষেত্রে একটি বায়েন তালাক পড়বে। কেননা স্বামী কর্তৃক স্ত্রীর নিকট ক্ষমতা অর্পণের দাবি হলো, স্ত্রীর উপর থেকে তার ক্ষমতার অবসান। আর স্ত্রী যখন স্বাধীন ক্ষমতা বলে এই ক্ষমতা গ্রহণ করেছে, তখন তার উপর থেকে এই ক্ষমতার অবসান ঘটা অনিবার্য। আর রজয়ি তালাক হলে তা সম্ভব হয়না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00