📄 বায়েন তালাকের প্রকারভেদ
বায়েন তালাকের প্রকারভেদ:
বায়েন তালাক দুই প্রকার: ছোট বায়েন তালাক। এটা হচ্ছে তিন তালাকের কম। আর বড় বায়েন তালাক। এটা হচ্ছে তিন তালাকের শেষ তালাক।
📄 ছোট বায়েন তালাকের বিধান
ছোট বায়েন তালাকের বিধান:
ছোট বায়েন তালাক ঘোষিত হওয়া মাত্রই তা দাম্পত্য বন্ধনকে ছিন্ন করে দেয়। আর দাম্পত্য বন্ধন ছিন্ন হওয়ার কারণে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী তার স্বামীর কাছে একজন বেগানা নারী বা পরনারী হিসেবে গণ্য হয়। তাই স্বামীর জন্য ঐ স্ত্রীর সাথে সহবাস করা বৈধ থাকেনা। আর ইদ্দত পূর্ণ হওয়ার আগে বা পরে দু'জনের একজন মারা গেলে অপরজন তার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবেনা। বায়েন তালাক দেয়া মাত্রই মৃত্যু বা তালাক, যেটি পরে সংঘটিত হয়, সেটি পর্যন্ত বিলম্বিত অবশিষ্ট মোহর পরিশোধ করার সময় সমাগত হয়।
ছোট বায়েন তালাক দেয়া স্ত্রীকে নতুন মোহরসহ নতুন আকদ করে ঘরে ফিরিয়ে নেয়ার অধিকার স্বামীর রয়েছে। এক্ষেত্রে স্ত্রীর অন্য স্বামীর সাথে বিয়ে হওয়ার প্রয়োজন নেই। আর যখন স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেবে, তখন সে অবশিষ্ট তালাকগুলো সহই স্বামীর নিকট ফিরে যাবে। স্বামী যদি ইতিপূর্বে তাকে এক তালাক দিয়ে থাকে, তাহলে ঘরে ফেরার পর স্ত্রীকে আরো দুই তালাক দেয়ার অধিকার স্বামীর থাকবে। আর যদি দুই তালাক দিয়ে থাকে, তাহলে স্বামীর আর মাত্র একটি তালাক দেয়ার অধিকার থাকবে অর্থাৎ যদি কখনো তালাক দিতে চায় তবে।
📄 বড় বায়েন তালাকের বিধান
বড় বায়েন তালাকের বিধান:
ছোট বায়েন তালাকের মতো বড় বায়েন তালাকও দাম্পত্য বন্ধন ছিন্ন করে। অন্য সমস্ত বিধান একই রকম। পার্থক্য শুধু এই যে, বড় বায়েন তালাক দেয়ার পর স্ত্রীর অন্য স্বামীর সাথে বিশুদ্ধভাবে বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত স্ত্রীকে ঘরে ফিরিয়ে নেয়া স্বামীর জন্য বৈধ নয়। অন্য স্বামীর সাথে তাহলীলের ইচ্ছা ছাড়াই বিয়ে হওয়া চাই এবং তার সাথে সহবাস সম্পন্ন হওয়া চাই। কেননা আল্লাহ বলেছেন:
"এরপর যদি স্বামী স্ত্রীকে তালাক দেয়, তাহলে সে আর স্বামীর জন্য বৈধ হবে না যতক্ষণ অন্য স্বামীর সাথে তার বিয়ে না হয়।” অর্থাৎ দুই তালাকের পর যদি স্বামী তাকে তৃতীয় তালাক দেয়, তাহলে তিন তালাক বায়েন সম্পন্ন হওয়ার পর ঐ স্ত্রী আর তার জন্য বৈধ হবেনা, যতক্ষণ অন্য স্বামীর সাথে তার বিশুদ্ধভাবে বিয়ে সম্পন্ন না হয়। রসূলুল্লাহ সা. রিফায়ার স্ত্রীকে বলেছিলেন: "তুমি তোমার প্রথম স্বামীর নিকট ততক্ষণ ফিরে যেতে পারবেনা যতক্ষণ দ্বিতীয় স্বামী তোমাকে পূর্ণ তৃপ্তিসহকারে উপভোগ না করবে এবং তুমিও তাকে পূর্ণ তৃপ্তিসহকারে উপভোগ না করবে।” অর্থাৎ স্বাভাবিক নিয়মে সহবাস না করবে। -বুখারি, মুসলিমঐ
📄 বিধয়ী স্বামী কি প্রথম স্বামীর তালাকের সুযোগ নষ্ট করে দেয়?
বিধয়ী স্বামী কি প্রথম স্বামীর তালাকের সুযোগ নষ্ট করে দেয়?:
এটা সর্বসম্মত মত যে, বড় বায়েন তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী যখন অন্য স্বামীকে বিয়ে করে, তারপর তালাকপ্রাপ্ত হয় এবং ইদ্দতের পর প্রথম স্বামীর নিকট ফিরে আসে, তখন সে সম্পূর্ণ নতুন বৈবাহিক বন্ধনসহকারে ফিরে আসে এবং প্রথম স্বামী তার উপর তিনটে তালাক দেয়ার অধিকার লাভ করে। কেননা দ্বিতীয় স্বামী প্রথম বৈবাহিক বন্ধনের অবসান ঘটিয়েছে। এরপর সে যখন নতুন আকদের মাধ্যমে প্রথম স্বামীর নিকট ফিরে এসেছে তখন এই আকদ একটা নতুন বৈবাহিক বন্ধন ও একটা নতুন দাম্পত্য সৃষ্টি করেছে।
পক্ষান্তরে ছোট বায়েন তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী যখন ইদ্দত শেষে অন্য পুরুষকে বিয়ে করে তারপর সেখান থেকে তালাকপ্রাপ্ত হয় এবং প্রথম স্বামীর নিকট ফিরে আসে, তখন সে বড় বায়েন তালাকপ্রাপ্ত নারীর মতো হয়ে যায়। তার কাছে নতুন দাম্পত্য বন্ধনে আবদ্ধ হয় এবং তার উপর তার স্বামী নতুনভাবে তিন তালাকের অধিকারী হয়। এটা আবু হানিফা ও আবু ইউসুফের অভিমত। তবে ইমাম মুহাম্মদ বলেছেন, যে কটি তালাক বাকি আছে, সে কটির অধিকারী হয়। ফলে সে হয়ে যায় রজয়ি তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর মতো অথবা ছোট বায়েন তালাক পাওয়ার পর নতুনভাবে বৈবাহিক বন্ধনে আবন্ধ স্ত্রীর মতো। অবশ্য ইমাম মুহাম্মদের এই অভিমত হানাফি মাযহাবে প্রায় প্রত্যাখ্যাত।