📄 রজয়ী তালাক প্রাপ্ত স্ত্রীর সাথে স্বামীর সম্পর্ক
রজয়ী তালাক প্রাপ্ত স্ত্রীর সাথে স্বামীর সম্পর্ক:
আবু হানিফা বলেছেন, রজয়ি তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর পক্ষে স্বামীর জন্য সাজসজ্জা করা, সুগন্ধী লাগানো, তাকে উঁকি দিয়ে দেখা, অলংকার পরা, তার সামনে আঙ্গুল প্রকাশ করা ও চোখে সুর্মা লাগিয়ে তা প্রকাশ করা জায়েয। তবে কাশি দিয়ে বা জুতোর শব্দ করে বা অন্য কোনো কথা বা আচরণ দ্বারা স্ত্রীকে অবহিত না করে তার কাছে যাওয়া স্বামীর জন্য বৈধ নয়। ইমাম শাফেয়ির মতে, রজয়ি তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী তালাকদাতার জন্য সম্পূর্ণরূপে হারাম। ইমাম মালেক বলেন, ঐ স্ত্রীর সাথে নিভৃতে সাক্ষাৎ ও তার কাছে যাওয়া তার অনুমতি ছাড়া জায়েয নেই। তার চুলের দিকেও তাকানো জায়েয নেই। তবে স্ত্রীর সাথে অন্য কেউ থাকলে তার সাথে একত্রে পানাহার জায়েয। কিন্তু পরবর্তীকালে ইমাম মালেক এক সাথে খাওয়া দাওয়াকে অবৈধ বলে আখ্যায়িত করেন।
📄 রজয়ী তালাকের সংখ্যা কমায়
রজয়ী তালাকের সংখ্যা কমায়:
স্বামী তার স্ত্রীকে যতগুলো তালাক দেয়ার ক্ষমতা রাখে, রজয়ি তালাক তার সংখ্যা কমিয়ে দেয়। এটা যদি প্রথম তালাক হয়, তবে তার জন্য আর দুটো তালাকের সুযোগ অবশিষ্ট থাকবে। আর যদি এটা দ্বিতীয় তালাক হয়, তবে একটা তালাক অবশিষ্ট থাকবে। এরপর সে যদি স্ত্রীকে দেয়া তালাক প্রত্যাহার করে, তাহলেও এর প্রভাব বিলুপ্ত হবেনা। বরঞ্চ তাকে যদি ঐ অবস্থায় রেখে দেয়া হয়, প্রত্যাহার ব্যতীতই ইদ্দত অতিবাহিত হয়ে যায়, অতপর সে অন্য স্বামীকে বিয়ে করে এবং তারপর প্রথম স্বামীর নিকট ফিরে যায়, তবে সে অবশিষ্ট তালাকগুলো ফিরে পাবে। দ্বিতীয় স্বামী তার উপর পতিত কোনো তালাক নষ্ট করতে পারেনা। কেননা এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে দুই তালাক দিয়েছিল। তারপর ইদ্দত অতিবাহিত হলো এবং সে মহিলা অন্য স্বামীকে বিয়ে করে তার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, তারপর আবার প্রথম স্বামীকে বিয়ে করলো। এ ঘটনা উমর রা.কে জানানো হলে তিনি বললেন, সে প্রথম স্বামীর নিকট অবশিষ্ট তালাকসহই গিয়েছে। আলি, মুয়ায, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব ও হাসান বসরীর অভিমতও তদ্রূপ।
📄 বায়েন তালাক
বায়েন তালাক:
আমরা পূর্বেই তিন তালাকের শেষ তালাক সহবাসের পূর্বে দেয়া তালাক এবং অর্থের বিনিময়ে দেয়া তালাক বায়েন তালাক। ইবনে রুশদ বিদায়াতুল মুজতাহিদ নামক গ্রন্থে বলেছেন: "বায়েন তালাক সম্পর্কে ফকিহগণ একমত যে, তালাক বায়েন হয় তিন অবস্থায় সহবাসের পূর্বে তালাক দিলে, তালাকের সংখ্যা অনুপাতে এবং খুলা তালাকে বিনিময় দিলে। তবে খুলা কি তালাক, না বিয়ে বাতিলকরণ সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। ফকিহগণ এ বিষয়ে একমত যে, স্বাধীন নারীর তালাককে যে সংখ্যা বায়েন তালাকে পরিণত করে, তা হচ্ছে তিন তালাক, যদি তা আলাদা আলাদাভাবে দেয়া হয়। কেননা আল্লাহ বলেছেন, তালাক দু'বার ----
ইবনে হাযমের মতে, বায়েন তালাক হচ্ছে শুধু তিন তালাকের শেষেরটি। অথবা সহবাসের পূর্বে দেয়া তালাক। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর দীনে আল্লাহর পক্ষ থেকে বা রসূল সা.-এর পক্ষ থেকে অপ্রত্যাহারযোগ্য বায়েন তালাক পাই শুধু এক সাথে বা আলাদাভাবে দেয়া তিন তালাক, কিংবা যে তালাকের পূর্বে সহবাস করা হয়নি। এছাড়া আর যা কিছু আছে, তার পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।" (আল মুহাল্লা, ১০ম খণ্ড, ২১৬, ২৪০ পৃ.) এছাড়া পারিবারিক আইনে স্বামীর খুতের কারণে, তার নিরুদ্দেশ থাকার কারণে, তার বন্দী থাকার কারণে বা ক্ষতির কারণে যে তালাক দেয়া হয়, তাকেও বায়েন তালাক বলে অভিহিত করা হয়েছে।
📄 বায়েন তালাকের প্রকারভেদ
বায়েন তালাকের প্রকারভেদ:
বায়েন তালাক দুই প্রকার: ছোট বায়েন তালাক। এটা হচ্ছে তিন তালাকের কম। আর বড় বায়েন তালাক। এটা হচ্ছে তিন তালাকের শেষ তালাক।