📄 তালাকের সাক্ষী রাখাকে যারা জরুরি মনে করেন
তালাকের সাক্ষী রাখাকে যারা জরুরি মনে করেন:
তালাকে সাক্ষী রাখাকে যারা অত্যাবশ্যক বা ওয়াজিব মনে করেন এবং তালাক শুদ্ধ হওয়ার শর্ত হিসেবে অভিহিত করেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন আমিরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবু তালেব, ইমরান বিন হুসাইন, ইমাম বাকের, ইমাম জাফর সাদেক এবং শেষোক্ত এই উভয় ইমামের সন্তান আহলে বাইতের ইমামগণ। এছাড়া আতা, ইবনে জুরাইজ ও ইবনে সিরীন রহ.। জাওয়াহেরুল কালাম গ্রন্থে আলী রা. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি তাকে তালাক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাকে প্রশ্ন করলেন, দু'জন ন্যায়পরায়ন ব্যক্তিকে সাক্ষী রেখেছো কি? সে বললো, না। তখন আলী রা. বললেন: যাও, তোমার তালাক নয়। আবু দাউদ ইমরান বিন হুসাইন রা. থেকে বর্ণনা করেছেন, তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে যখন তখন তালাক দেয়, আবার তার সাথে সহবাস করে, সে তালাকের উপরও কাউকে সাক্ষী রাখেনা, তালাক প্রত্যাহারের উপরও সাক্ষী রাখেনা, তখন তিনি ঐ ব্যক্তিকে বললেন, তুমি তালাকও দিয়েছো রসূল সা.-এর সুন্নাতের বিপরীত পন্থায়, আবার তালাক প্রত্যাহারও করেছ সুন্নতের বিপরীত পন্থায়। তালাক ও তালাক প্রত্যাহারে সাক্ষী রাখো। আর এ যাবত যা করেছ, তা আর করোনা।"
উসূলে ফিকহ শাস্ত্রে এ মূলনীতি উল্লেখিত হয়েছে যে, সাহাবি যখন বলেন, এটা সুন্নত, তখন বুঝতে হবে, তিনি যা বলেছেন, বিশুদ্ধভাবে রসূল সা. থেকে সরাসরি শুনেই বলেছেন। কেননা সাহাবির উক্তি মাত্রই স্পষ্টত রসূল সা.-এর অপরিহার্যভাবে অনুসরণীয় সুন্নতের সাথে সংশ্লিষ্ট। তাছাড়া সাহাবির উদ্দেশ্য হয়ে থাকে শরিয়তের বিধান বর্ণনা করা, ভাষা বা রীতিপ্রথা ও আদত অভ্যাস বর্ণনা করা নয়। হাফেয সয়ূতী তার তাফসীর গ্রন্থ দূররে মানছুরে নিম্নোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে:
فَإِذَا بَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ أَوْفَارِقُوهُنَّ بِمَعْرُوفِ وَأَشْهِدُوا ذَوَى عَدْلٍ مِنْكُمْ .
"অতপর যখন স্ত্রীরা ইদ্দত পূর্ণ করবে, তখন হয় তাদেরকে ন্যায়সঙ্গতকভাবে বহাল রাখো, নচেত ন্যায়সঙ্গতভাবে বিদায় করো এবং তোমাদের মধ্য হতে দু'জন ন্যয়পরায়ন ব্যক্তিকে সাক্ষী রাখো" ইবনে সিরীন থেকে বর্ণনা করেন : এক ব্যক্তি ইমরান বিন হুসাইনকে জানালো যে, এক লোক কোনো সাক্ষী না রেখে তালাক দিয়েছে। তখন তিনি বললেন, সে খুব খারাপ কাজ করেছে। তার তালাক বিদয়াত এবং তার তালাক প্রত্যাহার সুন্নত বিরোধী। সে যেন তালাকে ও তালাক প্রত্যাহারে সাক্ষী রাখে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়।” সুতরাং ইমরান বিন হুসাইন রা. কর্তৃক সাক্ষী না রেখে তালাক দেয়া ও তালাক প্রত্যাহার করাকে অপছন্দ করা। এ কাজ থেকে সতর্ক করা ও এ কাজকে গুনাহ আখ্যায়িত করে এর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার আদেশ দেয়ার একমাত্র কারণ স্পষ্টত এটাই যে, তিনি সাক্ষী রাখাকে অপরিহার্য মনে করতেন। "আল ওয়াসায়েল" নামক গ্রন্থে রয়েছে, ইমাম বাকের বলেছেন, যে তালাকের বিষয়ে আল্লাহ তার কিতাবে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং যার পদ্ধতি রসূল সা. শিখিয়েছেন, তা হচ্ছে, স্ত্রী যখন ঋতুবতী হবে এবং ঋতু থেকে পবিত্র হবে, তখন স্বামী তার সঙ্গ ত্যাগ করবে। অতপর সে যখন পবিত্র থাকবে এবং কোনো সহবাসের কারণে অপবিত্র থাকবেনা, তখন দুজন ন্যায়পরায়ন লোককে সাক্ষী রেখে তালাক দিবে। আর এই তালাকের পর তিনবার ঋতু ও ঋতু থেকে পবিত্রতা অর্জন পর্যন্ত তালাক প্রত্যাহারে স্বামীরই অগ্রাধিকার রয়েছে।
এরূপ নিয়ম অনুসরণ ব্যতীত যে তালাক দেয়া হবে, তা বাতিল, তালাক নয়।
জাফর সাদেক বলেছেন, সাক্ষী ব্যতীত যে তালাক দেয়া হয়, তা কোনো তালাকই নয়। সাইয়েদ মুর্তজা 'আল-ইনতিসার' নামক গ্রন্থে বলেন, ইমামীয়া শিয়ারা যে বলেন, দুজন ন্যায়পরায়ন ব্যক্তির সাক্ষী থাকা তালাকের জন্য শর্ত এবং এ শর্ত অপূর্ণ থাকলে তালাক হবেনা, এর প্রমাণ আল্লাহর এই উক্তি : "এবং তোমরা দু'জন ন্যায়পরায়ন ব্যক্তিকে সাক্ষী রাখো।” স্পষ্টতই এটা সাক্ষী রাখার জন্য আল্লাহর আদেশ। আর শরিয়তের রীতি অনুসারে সুস্পষ্ট আদেশ দ্বারা অপরিহার্য কর্তব্যই বুঝানো হয়। এখন সুস্পষ্ট আদেশ দ্বারা অপরিহার্য কর্তব্য প্রমাণিত হওয়ার পরও তাকে মুস্তাহাব গণ্য করা বিনা প্রমাণে শরিয়তের সুপরিচিত রীতি লঙ্ঘনের নামান্তর। দুররে মানসূরে সয়ূতী আতা থেকে উদ্ধৃত করেছেন, "বিয়েতে সাক্ষী, তালাকে সাক্ষী এবং তালাক প্রত্যাহারেও সাক্ষী অপরিহার্য।”
তবে ইবনে কাসীর তার তাফসীরে আতার উক্তি উদ্ধৃত করেছেন যে, ওযর ব্যতীত বিনা সাক্ষীতে বিয়ে, তালাক ও তালাক প্রত্যাহার জায়েয নেই। আমাদের উল্লিখিত উদ্ধৃতি সমূহ থেকে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, সাক্ষী রাখা অপরিহার্য, এ মতটি শুধু শিয়াদের নয়, বরং আতা, ইবনে জুরাইয ও ইবনে সিরীন সুন্নী ইমামদেরও।
📄 তালাকের শ্রেণীভেদ
তালাকের শ্রেণীভেদ:
যে শব্দ বা ভাষা প্রয়োগ করে তালাক দেয়া হয়, তার আলোকে তালাক তিন শ্রেণীতে বিভক্ত: তাৎক্ষণিক তালাক, শর্ত সাপেক্ষ তালাক, ভবিষ্যতের নিষ্পন্নযোগ্য তালাক। তাৎক্ষণিক তালাক হলো সেই তালাক, যা কোনো শর্ত বা ভবিষ্যতের কোনো সময়ের উপর নির্ভরশীল নয়, বরং তালাক দাতা তাৎক্ষণিকভাবেই তালাক দিতে ইচ্ছুক। যেমন স্ত্রীকে বলা হলো, তুমি তালাকপ্রাপ্তা বা তোমাকে তালাক দিলাম। এ তালাকের বিধান হলো, তালাকদাতার কাছ থেকে ঘোষিত হওয়া মাত্রই সংঘটিত হবে। শর্ত সাপেক্ষ তালাক হলো, স্বামী থাকে নির্ভরশীল ঘোষণা করে। যেমন স্ত্রীকে বলে, তুমি অমুক জায়গায় গেলে তোমার উপর তালাক সংঘটিত হবে। শর্ত সাপেক্ষ তালাক কার্যকর হওয়া জন্য তিনটে শর্ত পূরণ জরুরি:
১. তালাক এমন জিনিসের উপর নির্ভরশীল হওয়া চাই বর্তমানে যার অস্তিত্ব নেই এবং পরবর্তী সময়ে অস্তিত্ব লাভ করার সম্ভাবনা রয়েছে। পক্ষান্তরে তালাক দেয়ার সময় বিদ্যমান কোনো জিনিসের উপর নির্ভরশীল হলে তা হবে তাৎক্ষণিক তালাক যদিও তা শর্ত সাপেক্ষ তালাকের ভঙ্গিতে দেয়া হয়েছে। যেমন: সূর্য উদিত হয়েছে এরূপ অবস্থায় বলা: "সূর্য উঠলে তোমার উপর তালাক কার্যকর হবে।” আর যদি কোনো অসম্ভব জিনিসের শর্তাধীন করে তালাক দেয়া হয়: যথা সূর্যের ছিদ্রের মধ্যে উট প্রবেশ করলে তোমার উপর তালাক সংঘটিত হবে। তাহলে তালাক সম্বলিত উক্তি সম্পূর্ণ বৃথা হবে।
২. তালাকের ঘোষণা হওয়ার সময় স্ত্রী তালাকের যোগ্য হওয়া অর্থাৎ তার বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ থাকা চাই।
৩. শর্তাধীন তালাকের শর্ত পূরণের সময়ও স্ত্রীর অনুরূপ তালাকের যোগ্য থাকা চাই।
শর্তাধীন তালাক দুই প্রকার: ১. যার উদ্দেশ্য হয় স্ত্রীকে কোনো কাজ করতে বা ত্যাগ করতে উদ্বুদ্ধ করা। যেমন তাকে বলা তুমি যদি বাড়ির বাইরে যাও তাহলে তোমার উপর তালাক পড়বে। এখানে তালাক কার্যকর করার জন্য স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। এটা তালাকের ব্যাপারে কসম খাওয়ার পর্যায়ভুক্ত।
২. শর্ত পূরণ হয়ে গেলে তালাক কার্যকর হওয়া যার উদ্দেশ্য। যেমন স্বামী স্ত্রীকে বলা: "তুমি যদি আমাকে তোমার প্রাপ্য অবশিষ্ট মোহর থেকে অব্যাহতি দাও, তাহলে তোমার উপর তালাক কার্যকর হবে।"
অধিকাংশ আলেমের নিকট এই উভয় প্রকারের তালাক কার্যকর হয়। কিন্তু ইবনে হাযমের মতে, তালাক কার্যকর হয়না। ইবনে কাইয়েম ও ইবনে তাইমিয়া বলেছেন: শর্তাধীন তালাক যদি এমন হয় যে, তাতে কসমের অর্থ পাওয়া যায়, তাহলে সে তালাক কার্যকর হবেনা। এতে যে জিনিসের উপর কসম খাওয়া হয়, তা পূরণ হলে কসমের কাফফারা দেয়া ওয়াজিব হবে। কাফফারা হলো, দশজন মিসকিনকে খাদ্য বা বস্ত্র দান অথবা তিন দিন রোযা রাখা। কসমের অর্থ যুক্ত না হয়ে শুদ্ধ শর্তযুক্ত হলে শর্ত পূরণ হওয়া মাত্র তালাক কার্যকর হবে।
ইবনে তাইমিয়া বলেছেন, লোকেরা সাধারণত তালাক দিতে যে সফল শব্দ ব্যবহার করে থাকে তা তিন ধরনের: ১. তাৎক্ষণিক ও শপথবিহীন, যথা: "তোমাকে তালাক দিলাম।" এ দ্বারা তালাক সংঘটিত হয়ে যাবে। এতে কোনো শপথও নেই, তাই সর্বসম্মতভাবে এতে কাফফারা নেই। ২. শপথবোধক শব্দ : যেমন তালাক দিতে আমি বাধ্য, এটা আমি দেবোই।” ৩. শর্তযুক্ত শব্দ যথা: আমার স্ত্রী যদি অমুক কাজ করে, তাহলে তার উপর তালাক কার্যকর হবে। এদ্বারা স্বামী যদি শপথ বুঝায় এবং সে তালাক দেয়া অপছন্দ করে, তাহলে এটা একটা শপথ এবং শপথযুক্ত তালাকের মতোই। এ ব্যাপারে সকল ফকিহ একমত। আর যদি শর্ত বুঝায় তবে শর্ত পূরণ হলে তালাক সংঘটিত হবে। যেমন : "তুমি যদি আমাকে এক হাজার টাকা দাও, তবে তোমার উপর তালাক কার্যকর হবে।" অথবা "তুমি যখন ব্যভিচার করবে, তখন তোমার উপর তালাক পড়বে।" আর একথা দ্বারা ব্যভিচার সংঘটিত হওয়া মাত্রই তালাক সংঘটিত হোক এটা কামনা করে, শুধু শপথ করার ইচ্ছা পোষণ করেনা, তাহলে এটা শপথ নয় এবং এতে কোনো কাফফারাও দিতে হবেনা। তবে এতে শর্ত পূরণ হওয়া মাত্র তালাক কার্যকর হবে। যে সকল শব্দ দ্বারা বক্তা কোনো কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করতে চায়, অথবা বিরত রাখতে চায়, অথবা সমর্থন করতে চায় কিংবা অস্বীকার করতে চায়, তা শপথ সম্বলিত শব্দ হোক বা শুধু শর্তযুক্ত শব্দ হোক, সর্বসম্মতভাবে শপথ গণ্য হবে। আর যদি শপথযুক্ত শব্দ হয়, তবে সেই শপথ প্রযোজ্য হলে কাফফারা দিতে হবে। আর প্রযোজ্য না হলে, যেমন কোনো সৃষ্টির নামে শপথ করা হলে, কাফফারা দিতে হবেনা। আর যদি শপথ প্রযোজ্য হয় কিন্তু কেবল শ্রদ্ধাবোধক হয়, যার কাফফারা হয়না, তবে কুরআনে বা হাদিসে কোথাও তার কোনো বিধান নেই এবং তার স্বপক্ষে কোনো প্রমাণও নেই।
📄 সুন্নাতি তালাক ও বিদয়াতি তালাক
সুন্নাতি তালাক ও বিদয়াতি তালাক:
সুন্নাহ অনুসরণ করা বা না করার ভিত্তিতে তালাক দু'রকম: সুন্নতি তালাক ও বেদয়াতি তালাক।
📄 সুন্নাতি তালাক
সুন্নাতি তালাক:
সুন্নতি তালাক হলো সেই তালাক, যা শরিয়তের নির্দেশিত পন্থায় দেয়া হয়। সহবাসকৃত স্ত্রীকে ঋতু পরবর্তী পবিত্রাবস্থায় সহবাস না করে তালাক দেয়াকে সুন্নতি তালাক বলা হয়। আল্লাহ বলেছেন: الطَّلَاقُ مَرْتَانِ فَإِمْسَاكَ بِمَعْرُوفِ أَوْ تَسْرِيعُ بِإِحْسَانِ . "তালাক দু'বার। এরপর হয় স্ত্রীকে ন্যায়সংগতভাবে বহাল রাখা, নচেত সদাচারের সাথে বিদায় করা।” অর্থাৎ শরিয়তবিহিত তালাক প্রথমে একবার দেয়া হবে, যার পর তা প্রত্যাহার করার অবকাশ থাকবে। তারপর দ্বিতীয়বার দেয়া হবে যার পর আবারো প্রত্যাহার করার অবকাশ থাকবে। এরপর তালাকদাতার স্বাধীনতা থাকবে হয় ন্যায়সংগতভাবে বহাল রাখবে, নতুবা সদাচারের সাথে বিদায় করা হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন: يَا أَيُّهَا النَّبِي إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ “হে নবী, যখন স্ত্রীকে তালাক দাও, তখন ইদ্দতের জন্যে তালাক দাও।” অর্থাৎ তালাক দিতে চাইলে এমন সময়ে দাও, যখন সে ইদ্দতের সম্মুখীন হবে। আর তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী ইদ্দতের সম্মুখীন হবে তখনই, যখন সে মাসিক ঋতুস্রাব (হায়েজ) বা প্রসবোত্তর স্রাব (নেফাস) থেকে পবিত্র থাকবে এবং সহবাসের পূর্বে তালাক দেয়া হবে।। এর যুক্তি এই যে, ঋতুবতী অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দেয়া হলে এ সময়ে সে ইদ্দতের অবশিষ্ট সময় ইদ্দতের মধ্যে গণ্য হয় না। ফলে তার ক্ষতি করা হয়। আর যদি পবিত্রাবস্থায় সহবাস করে তালাক দেয়া হয়, তাহলে স্ত্রী বুঝতে পারে না সে গর্ভবতী হয়েছে কিনা। ফলে সে ইদ্দত কিভাবে গণবে, পবিত্রাবস্থা দ্বারা না সন্তান প্রসব দ্বারা, বুঝতে পারেনা।
নাফে বর্ণনা করেন যে, উমর রা.-এর ছেলে আব্দুল্লাহ রসূলুল্লাহ সা. এর আমলে তার স্ত্রীকে ঋtতুবতী অবস্থায় তালাক দিলো। উমর রা. এ সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সা. কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "আব্দুল্লাহকে তালাক প্রত্যাহার করতে আদেশ দাও। তারপর পবিত্র হওয়া পর্যন্ত তাকে যেন বহাল রাখে, তারপর সে ঋতুবতী হবে ও পবিত্র হবে। তারপর ইচ্ছা করলে তাকে বহাল রাখবে, নচেত সহবাস করার আগে তালাক দিবে। এটাই হলো সেই ইদ্দত, যা সামনে রেখে স্ত্রীকে তালাক দিতে আল্লাহ হুকুম দিয়েছেন।” অপর বর্ণনায় বলা হয়েছে রসূলুল্লাহ সা. বললেন, তাকে আদেশ দাও, তালাক প্রত্যাহার করুক। তারপর স্ত্রী পবিত্র হলে কিংবা গর্ভবতী হলে তালাক দিক।" -নাসায়ী, মুসলিম, ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ।
এ তালাক থেকে স্পষ্টতই প্রমাণিত হয় যে ঋতু পরবর্তী পবিত্রাবস্থায় যে তালাক সহবাসের পূর্বে দেয়া হয়, সেটাই সুন্নতি তালাক। এটাই আবু হানিফার মাযহাব এবং এক বর্ণনা অনুযায়ী আহমদ ও শাফেয়ীরও মত। তারা হাদিসের স্পষ্টক্তি দ্বারাই এর প্রমাণ দিয়েছেন। তাছাড়া যেহেতু ঋতুর কারণেই তালাক দিতে নিষেধ করা হয়েছিল, তাই পবিত্র হওয়ার পর আর নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ রইলনা। কাজেই সেই পবিত্রাবস্থায় তালাক দেয়া জায়েয।