📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 স্ত্রীকে নিজের জন্য নিষিদ্ধ করলে তালাক হবে কি?

📄 স্ত্রীকে নিজের জন্য নিষিদ্ধ করলে তালাক হবে কি?


স্ত্রীকে নিজের জন্য নিষিদ্ধ করলে তালাক হবে কি?:
স্বামী যখন তার স্ত্রীকে নিজের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, তখন দেখতে হবে, সে সত্য সত্যই তাকে নিষিদ্ধ করা বুঝাচ্ছে, না এ দ্বারা শব্দের আসল অর্থ না বুঝিয়ে স্ত্রীকে বিদায় দেয়া তথা তালাক বুঝাচ্ছে। যদি যথার্থই নিষিদ্ধ বুঝিয়ে থাকে, তাহলে তালাক হবেনা। কেননা তিরমিযি আয়েশা রা. থেকে বর্ণনা করেন: রসূলুল্লাহ সা. তার স্ত্রীদের সাথে ইলা করলেন, হালালকে হারাম করলেন এবং কসমের কাফফারা দিলেন।

সহীহ মুসলিমে ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, "স্বামী যখন তার স্ত্রীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, তখন তা একটি কসমে পর্যবসিত হয় এবং ভঙ্গ করলে কাফফারা দিতে হয়। তারপর তিনি (ইবনে আব্বাস) বললেন: لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أَسْوَةٌ حَسَنَةٌ

"তোমাদের জন্য আল্লাহর রসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে।" নাসায়ীতে ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি তার কাছে এসে বললো, আমি আমার স্ত্রীকে আমার জন্য নিষিদ্ধ করেছি। ইবনে আব্বাস বললেন, তুমি মিথ্যা বলেছ। সে তোমার জন্য নিষিদ্ধ নয়। অতপর এ আয়াতটি (সূরা আত তাহরীমের ১ নং আয়াত) পাঠ করলেন: يَأَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللهُ لَكَ ، تَبْتَغِي مَرْضَاتِ أَزْوَاجِكَ ، وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ قَدْ فَرَضَ اللَّهُ لَكُمْ تَحِلَّةَ أَيْمَانِكُمْ وَاللَّهُ مَوْلَكُمْ ، وَهُوَ الْعَلِيمُ الْحَكِيرُه

অর্থ: হে নবী আল্লাহ যে জিনিস তোমার জন্য হালাল করেছেন, তা তুমি তোমার স্ত্রীদের সন্তুষ্টির জন্য হারাম করো কেন? আল্লাহ তো পরম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। আল্লাহ তোমাদের উপর ফরয করেছেন তোমাদের শপথগুলোকে হালাল করা।" (এ আয়াত থেকে স্পষ্ট যে, স্ত্রীকে হারাম বা নিষিদ্ধ করা একটা শপথ, যা ভঙ্গ করলে কাফফারা দিতে হয়) তারপর ইবনে আব্বাস তাকে বললেন : তোমার উপর সবচেয়ে কঠিন কাফফারা, দাস মুক্ত করা ধার্য করা হলো।"

আর যদি তালাক বুঝায়, তাহলে তালাক সংঘটিত হবে। কেননা অন্য সব ইঙ্গিতবহ শব্দের ন্যায় নিষিদ্ধ করা শব্দটাও ইঙ্গিতবহ।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 লিখিতভাবে তালাক দেয়া

📄 লিখিতভাবে তালাক দেয়া


লিখিতভাবে তালাক দেয়া:
লিখিতভাবে তালাক দিলেও তালাক সংঘটিত হবে, যদিও তালাকদাতা বাকশক্তি সম্পন্ন হয়। স্বামী স্ত্রীকে মৌখিকভাবেও তালাক দিতে পারে, তার কাছে লিখিতভাবে ও তালাকনামা পাঠাতে পারে। তবে ফকিহগণ শর্ত আরোপ করেছেন যে, লেখা যেন স্পষ্ট হয়, স্ত্রীকে সম্বোধন করে তার ঠিকানায় পৌঁছনো হয়। অর্থাৎ তাকে এভাবে লিখতে হবে : “হে অমুক, তুমি তালাকপ্রাপ্ত।” একটা কাগজে একথা লিখে তার ঠিকানায় না পাঠালে নিয়ত ব্যতিরেকে তালাক সংঘটিত হবেনা।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বোবার ইশারা

📄 বোবার ইশারা


বোবার ইশারা:
বোবার জন্য ইশারা হলো মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম। এজন্য তার ইশারা যখন এমন হবে যে, দাম্পত্য সম্পর্কের অবসান বুঝায়, তখন তা তালাক সংঘটিত করার ব্যাপারে কথার স্থলভিষিক্ত হবে। ফকিহগণ এজন্য শর্ত আরোপ করেছেন যে, বোবার ইশারা দ্বারা তালাক সংঘটিত করার জন্য তার লিখতে সক্ষম না হওয়া চাই, লিখতে পারলে ইশারা যথেষ্ট হবেনা। কেননা লিখিত বক্তব্য মনের ভাবকে অধিকতর স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে। তাই লিখতে অক্ষম হওয়া ব্যতীত ইশারা গ্রহণযোগ্য নয়।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 দূত পাঠানো

📄 দূত পাঠানো


দূত পাঠানো:
অনুপস্থিত স্ত্রীকে তালাক দেয়া হয়েছে জানানোর জন্য দূত মারফত তালাক পাঠানো বৈধ। এরূপ পরিস্থিতিতে দূত তালাকদাতার প্রতিনিধি হবে এবং তার তালাক কার্যকর করবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00