📄 কথা দ্বারা তালাক
কথা দ্বারা তালাক:
কথা স্পষ্ট হতে পারে বা ইঙ্গিতমূলকও হতে পারে। সুষ্ঠ কথা তাকেই বলা যাবে, যা বলা মাত্রই তার অর্থ বুঝা যায়। যেমন, তোমাকে তালাক দিলাম বা তুমি তালাকপ্রাপ্ত। শাফেয়ী বলেছেন, তালাকের স্পষ্ট ভাষা তিনটি : তালাক, বিচ্ছেদ, বিদায়। এ তিনটেই কুরআনে উল্লেখিত হয়েছে। যাহেরী মাযহাবের অনুসারী কেউ কেউ বলেছেন, এই তিনটে শব্দ দ্বারা ব্যতীত তালাক কার্যকর হয়না। কেননা শরিয়তে এই তিনটেরই উল্লেখ রয়েছে। তালাক একটা ইবাদত এবং তার শর্ত হচ্ছে উপযুক্ত শব্দ প্রয়োগ। কাজেই শরিয়তে যে শব্দ নির্ধারিত হয়েছে, তার মধ্যেই সীমিত থাকা জরুরি। (বিদায়াতুল মুজতাহিদ, ২য় খণ্ড, পৃ-৭০)
📄 অস্পষ্ট বা ইঙ্গিতমূলক কথা
অস্পষ্ট বা ইঙ্গিতমূলক কথা:
যে কথা দ্বারা তালাকও বুঝায়, আবার অন্য ধরনের বিচ্ছেদও বুঝায়। যেমন যদি বলা হয়, তুমি বায়েন অর্থাৎ বিচ্ছিন্ন তাহলে এ দ্বারা বিয়ের থেকে বিচ্ছিন্নও বুঝা যেতে পারে, আবার মন্দ থেকে বিচ্ছিন্নও বুঝা যেতে পারে। অনুরূপ, যদি বলা হয়, তোমার ভাগ্য তোমার হাতে। তবে এর অর্থ এও হতে পারে যে, তুমি তোমার সতীত্ব রক্ষার দায়িত্ব নিতে পারো। অনুরূপ কেউ যদি বলে, তুমি আমার জন্য হারাম। তবে এর দু'রকম অর্থ হতে পারে: এক. তোমার সাথে সহবাস করা আমার জন্য হারাম। দুই. তোমাকে কষ্ট দেয়া আমার জন্য হারাম।
এ ধরনের অস্পষ্ট ও ইঙ্গিতমূলক শব্দ দ্বারা তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য তালাকদাতার নিয়ত জানা জরুরি। সে যদি বলে, আমি এ দ্বারা তালাক বুঝাইনি, তবে তালাক হবেনা।
📄 স্পষ্ট কথা
স্পষ্ট কথা:
স্পষ্ট কথা দ্বারা নিয়ত ব্যক্ত করা ছাড়াই তালাক কার্যকর হবে। কেননা এর অর্থ ব্যাখ্যা সাপেক্ষ নয়। তবে এ ধরনের সুস্পষ্ট শব্দ দ্বারা তালাক কার্যকর হওয়ার জন্যও শর্ত রয়েছে যে, কথাটা স্ত্রীকে জড়িত করে বা সম্বোধন করে বলতে হবে: যেমন, আমার স্ত্রীকে তালাক দিলাম, বা তোমাকে তালাক দিলাম।
📄 স্ত্রীকে নিজের জন্য নিষিদ্ধ করলে তালাক হবে কি?
স্ত্রীকে নিজের জন্য নিষিদ্ধ করলে তালাক হবে কি?:
স্বামী যখন তার স্ত্রীকে নিজের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, তখন দেখতে হবে, সে সত্য সত্যই তাকে নিষিদ্ধ করা বুঝাচ্ছে, না এ দ্বারা শব্দের আসল অর্থ না বুঝিয়ে স্ত্রীকে বিদায় দেয়া তথা তালাক বুঝাচ্ছে। যদি যথার্থই নিষিদ্ধ বুঝিয়ে থাকে, তাহলে তালাক হবেনা। কেননা তিরমিযি আয়েশা রা. থেকে বর্ণনা করেন: রসূলুল্লাহ সা. তার স্ত্রীদের সাথে ইলা করলেন, হালালকে হারাম করলেন এবং কসমের কাফফারা দিলেন।
সহীহ মুসলিমে ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, "স্বামী যখন তার স্ত্রীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, তখন তা একটি কসমে পর্যবসিত হয় এবং ভঙ্গ করলে কাফফারা দিতে হয়। তারপর তিনি (ইবনে আব্বাস) বললেন: لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أَسْوَةٌ حَسَنَةٌ
"তোমাদের জন্য আল্লাহর রসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে।" নাসায়ীতে ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি তার কাছে এসে বললো, আমি আমার স্ত্রীকে আমার জন্য নিষিদ্ধ করেছি। ইবনে আব্বাস বললেন, তুমি মিথ্যা বলেছ। সে তোমার জন্য নিষিদ্ধ নয়। অতপর এ আয়াতটি (সূরা আত তাহরীমের ১ নং আয়াত) পাঠ করলেন: يَأَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللهُ لَكَ ، تَبْتَغِي مَرْضَاتِ أَزْوَاجِكَ ، وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ قَدْ فَرَضَ اللَّهُ لَكُمْ تَحِلَّةَ أَيْمَانِكُمْ وَاللَّهُ مَوْلَكُمْ ، وَهُوَ الْعَلِيمُ الْحَكِيرُه
অর্থ: হে নবী আল্লাহ যে জিনিস তোমার জন্য হালাল করেছেন, তা তুমি তোমার স্ত্রীদের সন্তুষ্টির জন্য হারাম করো কেন? আল্লাহ তো পরম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। আল্লাহ তোমাদের উপর ফরয করেছেন তোমাদের শপথগুলোকে হালাল করা।" (এ আয়াত থেকে স্পষ্ট যে, স্ত্রীকে হারাম বা নিষিদ্ধ করা একটা শপথ, যা ভঙ্গ করলে কাফফারা দিতে হয়) তারপর ইবনে আব্বাস তাকে বললেন : তোমার উপর সবচেয়ে কঠিন কাফফারা, দাস মুক্ত করা ধার্য করা হলো।"
আর যদি তালাক বুঝায়, তাহলে তালাক সংঘটিত হবে। কেননা অন্য সব ইঙ্গিতবহ শব্দের ন্যায় নিষিদ্ধ করা শব্দটাও ইঙ্গিতবহ।