📄 বিয়ের পূর্বে তালাক
বিয়ের পূর্বে তালাক:
কোনো অচেনা নারীর সাথে বিয়ে হলে তার উপর তালাক কার্যকর হবে না, এ ধরনের তালাক দিলেও তা কার্যকর হবেনা। যেমন কেউ যদি বলে, অমুক মহিলাকে যদি বিয়ে করি, তবে তার উপর তালাক পড়বে। তিরমিযি বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "আদম সন্তান যে জিনিসের মালিক নয়, তাতে তার কোনো মান্নত চলেনা, যে গোলামের সে মালিক নয়, তাকে সে মুক্ত করতে পারেনা, যে স্ত্রীর সে স্বামী নয় তাকে সে তালাক দিতে পারেনা।” এটা ইমাম শাফেয়ীর মত। ইমাম আবু হানিফা শর্তাধীন তালাক সম্পর্কে বলেছেন, শর্ত পাওয়া গেলে তালাক কার্যকর হবে, চাই অনির্দিষ্টভাবে যে কোনো মহিলাকে উদ্দেশ্য করে বলুক বা কোনো নির্দিষ্ট মহিলাকে উদ্দেশ্য করে বলুক। ইমাম মালেক ও তার শিষ্যরা বললেন, অনির্দিষ্টভাবে সকল মহিলাকে উদ্দেশ্য করে বললে তালাক কার্যকর হবেনা, নির্দিষ্ট করে বললে তালাক কার্যকর হবে। অনির্দিষ্টভাবে বলার উদাহরণ: "আমি যে কোনো মহিলাকে বিয়ে করলেই তার উপর তালাক।" আর নির্দিষ্টভাবে বলার উদাহরণ : অমুক মহিলাকে বিয়ে করলে তার উপর তালাক।
📄 কিসের দ্বারা তালাক কার্যকর হয়?
কিসের দ্বারা তালাক কার্যকর হয়?:
দাম্পত্য সম্পর্কের অবসান ঘটানো বুঝায় এমন যে কোনো পন্থায় তালাক কার্যকর হয়, চাই তা কথা দ্বারা হোক, স্ত্রীর নিকট চিঠি লেখা দ্বারা হোক, বোবা কর্তৃক ইশারা দ্বারা হোক, কিংবা দূত পাঠানোর মাধ্যমে হোক।
📄 কথা দ্বারা তালাক
কথা দ্বারা তালাক:
কথা স্পষ্ট হতে পারে বা ইঙ্গিতমূলকও হতে পারে। সুষ্ঠ কথা তাকেই বলা যাবে, যা বলা মাত্রই তার অর্থ বুঝা যায়। যেমন, তোমাকে তালাক দিলাম বা তুমি তালাকপ্রাপ্ত। শাফেয়ী বলেছেন, তালাকের স্পষ্ট ভাষা তিনটি : তালাক, বিচ্ছেদ, বিদায়। এ তিনটেই কুরআনে উল্লেখিত হয়েছে। যাহেরী মাযহাবের অনুসারী কেউ কেউ বলেছেন, এই তিনটে শব্দ দ্বারা ব্যতীত তালাক কার্যকর হয়না। কেননা শরিয়তে এই তিনটেরই উল্লেখ রয়েছে। তালাক একটা ইবাদত এবং তার শর্ত হচ্ছে উপযুক্ত শব্দ প্রয়োগ। কাজেই শরিয়তে যে শব্দ নির্ধারিত হয়েছে, তার মধ্যেই সীমিত থাকা জরুরি। (বিদায়াতুল মুজতাহিদ, ২য় খণ্ড, পৃ-৭০)
📄 অস্পষ্ট বা ইঙ্গিতমূলক কথা
অস্পষ্ট বা ইঙ্গিতমূলক কথা:
যে কথা দ্বারা তালাকও বুঝায়, আবার অন্য ধরনের বিচ্ছেদও বুঝায়। যেমন যদি বলা হয়, তুমি বায়েন অর্থাৎ বিচ্ছিন্ন তাহলে এ দ্বারা বিয়ের থেকে বিচ্ছিন্নও বুঝা যেতে পারে, আবার মন্দ থেকে বিচ্ছিন্নও বুঝা যেতে পারে। অনুরূপ, যদি বলা হয়, তোমার ভাগ্য তোমার হাতে। তবে এর অর্থ এও হতে পারে যে, তুমি তোমার সতীত্ব রক্ষার দায়িত্ব নিতে পারো। অনুরূপ কেউ যদি বলে, তুমি আমার জন্য হারাম। তবে এর দু'রকম অর্থ হতে পারে: এক. তোমার সাথে সহবাস করা আমার জন্য হারাম। দুই. তোমাকে কষ্ট দেয়া আমার জন্য হারাম।
এ ধরনের অস্পষ্ট ও ইঙ্গিতমূলক শব্দ দ্বারা তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য তালাকদাতার নিয়ত জানা জরুরি। সে যদি বলে, আমি এ দ্বারা তালাক বুঝাইনি, তবে তালাক হবেনা।