📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যার উপর তালাক কার্যকর হয়না

📄 যার উপর তালাক কার্যকর হয়না


যার উপর তালাক কার্যকর হয়না:
আমরা বলেছি, স্ত্রী তালাকের যোগ্য না হলে তার উপর তালাক কার্যকর হয়না। সুতরাং সে যখন তালাকের যোগ্য থাকেনা, তখন তার উপর তালাক কার্যকর হয়না। যেমন সমকক্ষতা না থাকা, মোহরে মিছিলের চেয়ে কম মহর নির্ধারণ, প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার কারণে বিয়ে প্রত্যাখ্যান অথবা বিয়ের বিশুদ্ধতার শর্তাবলীর কোনো শর্ত পূরণ না হওয়ার দরুন আকদ শুদ্ধ হয়নি প্রমাণিত হওয়ার কারণে বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার ইদ্দত পালনরতা স্ত্রীর উপর তালাক কার্যকর হয়না। কেননা এসব ক্ষেত্রে আকদ মূল থেকেই ভেঙ্গে গেছে। তাই ইদ্দতকালে তার কোনো অস্তিত্বই নেই। এমতাবস্থায় কেউ যদি তার স্ত্রীকে বলে, তোমাকে তালাক দিলাম। তবে তা একটা অর্থহীন বাক্যে পরিণত হবে এবং তার কোনো ফলাফল দেখা যাবেনা। অনুরূপ সহবাস বা নিখুঁতভাবে নির্জনবাস ব্যতীতই যে স্ত্রীকে তালাক দেয়া হয়েছে, তাকে আর তালাক দেয়া যাবেনা। কেননা তাদের মধ্যকার দাম্পত্য সম্পর্কের অবসান হয়েছে এবং ঐ স্ত্রী তালাক পাওয়া মাত্রই সম্পূর্ণ বেগানা স্ত্রীতে পরিণত হয়েছে। কাজেই এরপর সে তালাকের যোগ্য থাকেনা। কেননা সে তার স্ত্রীও নয়, ইদ্দত পালনরতাও নয়। সুতরাং কেউ যদি তার এমন স্ত্রীকে তিনবার তালাক দেয়, যার সাথে সে সহবাস করেনি, তবে তার উপরে শুধু এক তালাক বায়েন কার্যকর হবে। কেননা দাম্পত্য সম্পর্ক তখনো রয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তালাক নিরর্থক ও নিষ্ফল। কেননা ঐ দুটো তালাক যখন দেয়া হয়েছে, তখন সে তার স্ত্রীও ছিলনা, ইদ্দত পালনরতাও ছিলনা। যার সাথে সহবাস হয়নি, তার কোনো ইদ্দত নেই (এটা হানাফি ও শাফেয়ীদের মত)। অনুরূপ, যার সাথে কখনো বৈবাহিক সম্পর্ক হয়নি এবং যার ইদ্দত শেষ হয়েছে, তার উপরও তালাক কার্যকর হবেনা। কেননা ইদ্দত শেষ হওয়া মাত্রই সে বেগানা মহিলায় পরিণত হয়। তিন তালাক স্ত্রীও ইদ্দত পালনকালে তালাকের যোগ্য থাকেনা। কারণ সে বৃহৎ বায়েন তালাকপ্রাপ্ত। তার উপর তালাক সম্পূর্ণ নিষ্ফল।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বিয়ের পূর্বে তালাক

📄 বিয়ের পূর্বে তালাক


বিয়ের পূর্বে তালাক:
কোনো অচেনা নারীর সাথে বিয়ে হলে তার উপর তালাক কার্যকর হবে না, এ ধরনের তালাক দিলেও তা কার্যকর হবেনা। যেমন কেউ যদি বলে, অমুক মহিলাকে যদি বিয়ে করি, তবে তার উপর তালাক পড়বে। তিরমিযি বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "আদম সন্তান যে জিনিসের মালিক নয়, তাতে তার কোনো মান্নত চলেনা, যে গোলামের সে মালিক নয়, তাকে সে মুক্ত করতে পারেনা, যে স্ত্রীর সে স্বামী নয় তাকে সে তালাক দিতে পারেনা।” এটা ইমাম শাফেয়ীর মত। ইমাম আবু হানিফা শর্তাধীন তালাক সম্পর্কে বলেছেন, শর্ত পাওয়া গেলে তালাক কার্যকর হবে, চাই অনির্দিষ্টভাবে যে কোনো মহিলাকে উদ্দেশ্য করে বলুক বা কোনো নির্দিষ্ট মহিলাকে উদ্দেশ্য করে বলুক। ইমাম মালেক ও তার শিষ্যরা বললেন, অনির্দিষ্টভাবে সকল মহিলাকে উদ্দেশ্য করে বললে তালাক কার্যকর হবেনা, নির্দিষ্ট করে বললে তালাক কার্যকর হবে। অনির্দিষ্টভাবে বলার উদাহরণ: "আমি যে কোনো মহিলাকে বিয়ে করলেই তার উপর তালাক।" আর নির্দিষ্টভাবে বলার উদাহরণ : অমুক মহিলাকে বিয়ে করলে তার উপর তালাক।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কিসের দ্বারা তালাক কার্যকর হয়?

📄 কিসের দ্বারা তালাক কার্যকর হয়?


কিসের দ্বারা তালাক কার্যকর হয়?:
দাম্পত্য সম্পর্কের অবসান ঘটানো বুঝায় এমন যে কোনো পন্থায় তালাক কার্যকর হয়, চাই তা কথা দ্বারা হোক, স্ত্রীর নিকট চিঠি লেখা দ্বারা হোক, বোবা কর্তৃক ইশারা দ্বারা হোক, কিংবা দূত পাঠানোর মাধ্যমে হোক।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কথা দ্বারা তালাক

📄 কথা দ্বারা তালাক


কথা দ্বারা তালাক:
কথা স্পষ্ট হতে পারে বা ইঙ্গিতমূলকও হতে পারে। সুষ্ঠ কথা তাকেই বলা যাবে, যা বলা মাত্রই তার অর্থ বুঝা যায়। যেমন, তোমাকে তালাক দিলাম বা তুমি তালাকপ্রাপ্ত। শাফেয়ী বলেছেন, তালাকের স্পষ্ট ভাষা তিনটি : তালাক, বিচ্ছেদ, বিদায়। এ তিনটেই কুরআনে উল্লেখিত হয়েছে। যাহেরী মাযহাবের অনুসারী কেউ কেউ বলেছেন, এই তিনটে শব্দ দ্বারা ব্যতীত তালাক কার্যকর হয়না। কেননা শরিয়তে এই তিনটেরই উল্লেখ রয়েছে। তালাক একটা ইবাদত এবং তার শর্ত হচ্ছে উপযুক্ত শব্দ প্রয়োগ। কাজেই শরিয়তে যে শব্দ নির্ধারিত হয়েছে, তার মধ্যেই সীমিত থাকা জরুরি। (বিদায়াতুল মুজতাহিদ, ২য় খণ্ড, পৃ-৭০)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00