📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 উদাসীনভাবে ও ভুলক্রমে প্রদত্ত তালাক

📄 উদাসীনভাবে ও ভুলক্রমে প্রদত্ত তালাক


উদাসীনভাবে ও ভুলক্রমে প্রদত্ত তালাক:
পরিহাসচ্ছলে ও অনিচ্ছাকৃতভাবে দেয়া তালাকের মতই উদাসীনভাবে ও ভুলক্রমে দেয়া তালাকের পরিণতি। তবে পরিহাসচ্ছলে দেয়া তালাক ও ভুলক্রমে দেয়া তালাকের পার্থক্য এই যে, পরিহাসচ্ছলে দেয়া তালাক আইনত ও ধর্মীয় উভয়ভাবেই কার্যকর হবে, আর ভুলক্রমে দেয়া তালাক শুধু আইনত কার্যকর হবে। কেননা তালাক কোনো হাসিঠাট্টা ও ছিনিমিনি খেলার বিষয় নয়।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বেহুঁশ ব্যক্তির তালাক

📄 বেহুঁশ ব্যক্তির তালাক


বেহুঁশ ব্যক্তির তালাক:
কোনো ব্যক্তি যখন এমন আঘাতপ্রাপ্ত হয় যে, যা তার বুদ্ধি হরণ করে, চিন্তাশক্তি বিলুপ্ত করে এবং সে কী বলছে তা সে নিজেই জানে না, তখন তার তালাক কার্যকর হবেনা, যেমন কার্যকর হয়না পাগল, নির্বোধ বা আকস্মিক দুর্ঘটনা রোগ বা বার্ধক্য হেতু বুদ্ধি বিগড়ে যাওয়া মানুষের তালাক।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যার উপর তালাক কার্যকর হয়

📄 যার উপর তালাক কার্যকর হয়


যার উপর তালাক কার্যকর হয়:
স্ত্রী তালাকের যোগ্য না হলে তালাক কার্যকর হয়না। স্ত্রী তালাকের যোগ্য হয় তখন, যখন : ১. তার ও তার স্বামীর মধ্যে যথার্থভাবে দাম্পত্য সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে, ২. যখন স্ত্রী প্রত্যাহারযোগ্য তালাকপ্রাপ্ত হয়ে উদ্দত অতিবাহিত করতে থাকে, অথবা ক্ষুদ্র বায়েন তালাকের পর ইদ্দতের মধ্যে থাকে। কেননা ইদ্দত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই দুই ক্ষেত্রে বৈবাহিক সম্পর্ক আইনত বহাল থাকে। ৩. যে বিচ্ছেদ তালাক বলে গণ্য হয়, সেই বিচ্ছেদের পরে ইদ্দত পালনকালে স্ত্রী তালাকের যোগ্য থাকে। এ ধরনের বিচ্ছেদের একটি উদাহরণ হলো, স্ত্রীর ইসলাম গ্রহণ সত্ত্বেও স্বামীর ইসলাম গ্রহণ না করা অথবা ইলার মেয়াদ অতিবাহিত হওয়া। এ দুই অবস্থায় যে বিচ্ছেদ ঘটে, তা হানাফিদের নিকট তালাক গণ্য হয়ে থাকে। ৪. যখন স্ত্রী এমন বিচ্ছেদজনিত ইদ্দত পালন করতে থাকে, যাকে বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়া নামে আখ্যায়িত করা হয়। যা মূলত আকদকে ভঙ্গ করেনা, যেমন স্ত্রীর মুরতাদ অর্থাৎ কাফের হওয়ার কারণে সংঘটিত বিচ্ছেদ। কেননা এ ক্ষেত্রে বিয়ে বিশুদ্ধভাবে সম্মত হওয়ার পর উদ্ভুত কারণে বিয়ে ভেঙ্গে যায়।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যার উপর তালাক কার্যকর হয়না

📄 যার উপর তালাক কার্যকর হয়না


যার উপর তালাক কার্যকর হয়না:
আমরা বলেছি, স্ত্রী তালাকের যোগ্য না হলে তার উপর তালাক কার্যকর হয়না। সুতরাং সে যখন তালাকের যোগ্য থাকেনা, তখন তার উপর তালাক কার্যকর হয়না। যেমন সমকক্ষতা না থাকা, মোহরে মিছিলের চেয়ে কম মহর নির্ধারণ, প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার কারণে বিয়ে প্রত্যাখ্যান অথবা বিয়ের বিশুদ্ধতার শর্তাবলীর কোনো শর্ত পূরণ না হওয়ার দরুন আকদ শুদ্ধ হয়নি প্রমাণিত হওয়ার কারণে বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার ইদ্দত পালনরতা স্ত্রীর উপর তালাক কার্যকর হয়না। কেননা এসব ক্ষেত্রে আকদ মূল থেকেই ভেঙ্গে গেছে। তাই ইদ্দতকালে তার কোনো অস্তিত্বই নেই। এমতাবস্থায় কেউ যদি তার স্ত্রীকে বলে, তোমাকে তালাক দিলাম। তবে তা একটা অর্থহীন বাক্যে পরিণত হবে এবং তার কোনো ফলাফল দেখা যাবেনা। অনুরূপ সহবাস বা নিখুঁতভাবে নির্জনবাস ব্যতীতই যে স্ত্রীকে তালাক দেয়া হয়েছে, তাকে আর তালাক দেয়া যাবেনা। কেননা তাদের মধ্যকার দাম্পত্য সম্পর্কের অবসান হয়েছে এবং ঐ স্ত্রী তালাক পাওয়া মাত্রই সম্পূর্ণ বেগানা স্ত্রীতে পরিণত হয়েছে। কাজেই এরপর সে তালাকের যোগ্য থাকেনা। কেননা সে তার স্ত্রীও নয়, ইদ্দত পালনরতাও নয়। সুতরাং কেউ যদি তার এমন স্ত্রীকে তিনবার তালাক দেয়, যার সাথে সে সহবাস করেনি, তবে তার উপরে শুধু এক তালাক বায়েন কার্যকর হবে। কেননা দাম্পত্য সম্পর্ক তখনো রয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তালাক নিরর্থক ও নিষ্ফল। কেননা ঐ দুটো তালাক যখন দেয়া হয়েছে, তখন সে তার স্ত্রীও ছিলনা, ইদ্দত পালনরতাও ছিলনা। যার সাথে সহবাস হয়নি, তার কোনো ইদ্দত নেই (এটা হানাফি ও শাফেয়ীদের মত)। অনুরূপ, যার সাথে কখনো বৈবাহিক সম্পর্ক হয়নি এবং যার ইদ্দত শেষ হয়েছে, তার উপরও তালাক কার্যকর হবেনা। কেননা ইদ্দত শেষ হওয়া মাত্রই সে বেগানা মহিলায় পরিণত হয়। তিন তালাক স্ত্রীও ইদ্দত পালনকালে তালাকের যোগ্য থাকেনা। কারণ সে বৃহৎ বায়েন তালাকপ্রাপ্ত। তার উপর তালাক সম্পূর্ণ নিষ্ফল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00