📄 হাসিঠাট্টাচ্ছলে তালাক
হাসিঠাট্টাচ্ছলে তালাক:
অধিকাংশ আলেমের মতে, ঠাট্টা পরিহাসচ্ছলে তালাক দেয়া হলে কার্যকর হবে। যেমন এ অবস্থায় সম্পাদিত বিয়েও কার্যকর হয়। কেননা আহমদ আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিযি ও হাকেম আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "তিনটে জিনিস এমন রয়েছে, যা গম্ভীরভাবে হলেও গম্ভীর, পরিহাসের সাথে হলেও গম্ভীর : বিয়ে, তালাক ও তালাক প্রত্যাহার।"
কোনো কোনো আলেমের মতে পরিহাসের সাথে দেয়া তালাক কার্যকর হয়না। ইমাম বাকের, সাদেক ও নাসের এই দলভুক্ত। আহমদ ও মালেকের একটি মতও এ রকম। কেননা এসব আলেম তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য কথা দ্বারা সম্মতি জ্ঞাপনকে কিংবা ইচ্ছা জ্ঞাপনকে শর্তরূপে ধার্য করেছেন। সুতরাং নিয়ত ও উদ্দেশ্য যেখানে বিলুপ্ত, সেখানে শপথ ও সংকল্প নিরর্থক গণ্য হয়। আল্লাহ বলেন:
وَإِنْ عَزَمُوا الطَّلَاقَ، فَإِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ .
“ যদি তারা তালাকের সংকল্প করে, তাহলে আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।” (বাকারা: ২৭)
কোনো কাজ করার দৃঢ় ইচ্ছা করাকেই সংকল্প বলা হয়। কোনো কাজ করা বা না করার অনমনীয় ইচ্ছার মধ্য দিয়েই এটা প্রতিফলিত হয়। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, নিয়তের উপরই কাজ নির্ভরশীল। বস্তুত তালাক এমন একটি কাজ, যা নিয়ত বা ইচ্ছা ও সংকল্পের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু যে ব্যক্তি ঠাট্টা পরিহাস করে, তার কোনো নিয়ত ও সংকল্প থাকেনা। বুখারি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন: "তালাকের পেছনে কোনো উদ্দেশ্য থাকতেই হবে।” অর্থাৎ তালাকদাতার তালাক দেয়ার উদ্দেশ্য থাকলেই তা কার্যকর হবে। ইবনে হাজরের মতে, একমাত্র আনুগত্যহীন স্ত্রী ব্যতীত তালাক দেয়া অনুচিত। অসতর্কভাবে তথা অনিচ্ছাকৃতভাবে তালাক দিলে অর্থাৎ তালাক দিতে ইচ্ছা করেনি কিন্তু মুখ ফসকে তালাক উচ্চারণ করে ফেলেছে, এরূপ ব্যক্তি সম্পর্কে হানাফি ফকিহদের মত এই যে, আইনত তালাক কার্যকর হবে। কিন্তু ধর্মীয়ভাবে তার ও আল্লাহর মধ্যে তালাক কার্যকর হবেনা। তার স্ত্রী তার জন্য হালাল থাকবে।
📄 উদাসীনভাবে ও ভুলক্রমে প্রদত্ত তালাক
উদাসীনভাবে ও ভুলক্রমে প্রদত্ত তালাক:
পরিহাসচ্ছলে ও অনিচ্ছাকৃতভাবে দেয়া তালাকের মতই উদাসীনভাবে ও ভুলক্রমে দেয়া তালাকের পরিণতি। তবে পরিহাসচ্ছলে দেয়া তালাক ও ভুলক্রমে দেয়া তালাকের পার্থক্য এই যে, পরিহাসচ্ছলে দেয়া তালাক আইনত ও ধর্মীয় উভয়ভাবেই কার্যকর হবে, আর ভুলক্রমে দেয়া তালাক শুধু আইনত কার্যকর হবে। কেননা তালাক কোনো হাসিঠাট্টা ও ছিনিমিনি খেলার বিষয় নয়।
📄 বেহুঁশ ব্যক্তির তালাক
বেহুঁশ ব্যক্তির তালাক:
কোনো ব্যক্তি যখন এমন আঘাতপ্রাপ্ত হয় যে, যা তার বুদ্ধি হরণ করে, চিন্তাশক্তি বিলুপ্ত করে এবং সে কী বলছে তা সে নিজেই জানে না, তখন তার তালাক কার্যকর হবেনা, যেমন কার্যকর হয়না পাগল, নির্বোধ বা আকস্মিক দুর্ঘটনা রোগ বা বার্ধক্য হেতু বুদ্ধি বিগড়ে যাওয়া মানুষের তালাক।
📄 যার উপর তালাক কার্যকর হয়
যার উপর তালাক কার্যকর হয়:
স্ত্রী তালাকের যোগ্য না হলে তালাক কার্যকর হয়না। স্ত্রী তালাকের যোগ্য হয় তখন, যখন : ১. তার ও তার স্বামীর মধ্যে যথার্থভাবে দাম্পত্য সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে, ২. যখন স্ত্রী প্রত্যাহারযোগ্য তালাকপ্রাপ্ত হয়ে উদ্দত অতিবাহিত করতে থাকে, অথবা ক্ষুদ্র বায়েন তালাকের পর ইদ্দতের মধ্যে থাকে। কেননা ইদ্দত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই দুই ক্ষেত্রে বৈবাহিক সম্পর্ক আইনত বহাল থাকে। ৩. যে বিচ্ছেদ তালাক বলে গণ্য হয়, সেই বিচ্ছেদের পরে ইদ্দত পালনকালে স্ত্রী তালাকের যোগ্য থাকে। এ ধরনের বিচ্ছেদের একটি উদাহরণ হলো, স্ত্রীর ইসলাম গ্রহণ সত্ত্বেও স্বামীর ইসলাম গ্রহণ না করা অথবা ইলার মেয়াদ অতিবাহিত হওয়া। এ দুই অবস্থায় যে বিচ্ছেদ ঘটে, তা হানাফিদের নিকট তালাক গণ্য হয়ে থাকে। ৪. যখন স্ত্রী এমন বিচ্ছেদজনিত ইদ্দত পালন করতে থাকে, যাকে বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়া নামে আখ্যায়িত করা হয়। যা মূলত আকদকে ভঙ্গ করেনা, যেমন স্ত্রীর মুরতাদ অর্থাৎ কাফের হওয়ার কারণে সংঘটিত বিচ্ছেদ। কেননা এ ক্ষেত্রে বিয়ে বিশুদ্ধভাবে সম্মত হওয়ার পর উদ্ভুত কারণে বিয়ে ভেঙ্গে যায়।