📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বিয়ের সময় কন্যাকে পিতার উপদেশ দান

📄 বিয়ের সময় কন্যাকে পিতার উপদেশ দান


আবদুল্লাহ বিন জাফর বিন আবু তালেব তার মেয়েকে নিম্নরূপ উপদেশ দিলেন: “মান অভিমান ও তিরস্কার এড়িয়ে চলবে। এটা ঘৃণা ও শত্রুতার জন্ম দেয়। চোখে সুর্মা মেখো। এটা সবচেয়ে ভালো সাজসজ্জা। আর পানি সবচেয়ে উত্তম সুগন্ধী।”

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 স্ত্রীকে স্বামীর উপদেশ দান

📄 স্ত্রীকে স্বামীর উপদেশ দান


আবুদ দারদা রা. স্ত্রীকে বলেছিলেন : "তুমি যখন দেখবে আমি রেগে গিয়েছি, তখন আমার রাগ প্রশমন করবে। আর যখন আমি তোমাকে রাগান্বিত দেখবো, তখন তোমাকে খুশী করবো। নচেত তোমার কাছে থাকবোনা।" জনৈক স্বামী তার স্ত্রীকে বলেন: “তুমি আমার সাথে ক্ষমার নীতি অবলম্বন করো, তাহলে আমার চিরস্থায়ী ভালোবাসা পাবে, আর আমি যখন ক্রুদ্ধ হই তখন ক্রোধের তীব্রতার সময় আমার সাথে কথা বলোনা। আর ঢোলকে যেভাবে টোকা দেয়া হয়, সেভাবে আমাকে কখনো টোকা দিওনা। কেননা তুমি জাননা, স্ত্রী থেকে অনুপস্থিত স্বামীর কিভাবে দিন কাটে। খুব বেশি অভিযোগ করোনা। তাতে কেবল শক্তি ক্ষয় হবে। যদি কখনো আমার মন তোমাকে অস্বীকার করে তবে মনও তো পরিবর্তনশীল। আমি দেখেছি, কারো মনে যদি ভালোবাসা ও মনোকষ্ট একত্রিত হয়, তবে ভালোবাসা টেকসই হয়না, দূর হয়ে যায়।”

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বিয়ে সম্পর্কে মেয়েকে মায়ের উপদেশ

📄 বিয়ে সম্পর্কে মেয়েকে মায়ের উপদেশ


কান্দার রাজা আমর বিন হাজর উম্মে ইয়াস নাম্মী মহিলাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং বিয়ে করেন। যখন বাসরের সময় ঘনিয়ে এলো, তখন উম্মে ইয়াসের মাতা উমামা তার সাথে একান্তে সাক্ষাৎ করে মেয়েকে এমন কয়েকটি উপদেশ দিলেন, যা দ্বারা সুখী দাম্পত্য জীবনের ভিত্তি ও স্বামীর প্রতি স্ত্রীর কী কী করণীয় তা জানা যায়। উমামা বললেন: হে আমার কন্যা, উপদেশ যদি বাড়তি মহত্ত্বের নিদর্শনস্বরূপ দেয়া হতো, তবে আমি তোমার জন্য রেখে দিতাম। কিন্তু এটা আসলে অচেতন মানুষকে সচেতন করা ও বুদ্ধিমানকে সাহায্য করার সরঞ্জাম। কোনো মেয়ে যদি তার পিতামাতা ধনী হওয়ার কারণে ও মেয়ের প্রতি পিতামাতার তীব্র মুখাপেক্ষিতার কারণে স্বামীর অমুখাপেক্ষী হতো, তাহলে আমিই হতাম স্বামীর সবচেয়ে অমুখাপেক্ষী। কিন্তু নারীদেরকে পুরুষদের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে এবং পুরুষদেরকেও নারীদের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে। হে আমার কন্যা, যে পরিবেশ থেকে তুমি আবির্ভূত হয়েছে, তা ত্যাগ করে চলে গিয়েছ, যে বাসস্থানে তুমি লালিত পালিত হয়েছ, তা ছেড়ে তুমি এক অজানা বাসস্থানে চলে গিয়েছ এবং একজন অচেনা সাথীর সঙ্গিণী হয়েছ। সে এখন তোমার তত্ত্বাবধায়ক ও কর্তৃত্বের অধিকারী হয়েছে। সুতরাং এখন তুমি যদি তাকে তোমার কৃতজ্ঞ গোলাম বানাতে চাও, তবে তার বাদী হয়ে যাও। আর তার ব্যাপারে দশটি উপদেশ মনে রাখো, যা তোমার জন্য মূল্যবান সম্পদে পরিণত হবে।
১ম ও ২য়: অল্পে তুষ্টি দ্বারা তার প্রতি একাগ্রতা ও আন্তরিকতা দেখাবে এবং তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবে ও আনুগত্য করবে।
৩য় ও চতুর্থ: তার চোখ ও নাক সম্পর্কে সতর্ক থাকবে। তার চোখ যেন তোমার মধ্যে খারাপ কিছু না দেখে এবং তার নাক যেন তোমার মধ্যে কোনো দুর্গন্ধ না পায়।
পঞ্চম ও ষষ্ঠ তার ঘুম ও খাবার সময়ের উপর নজর রাখবে। ক্রমাগত ক্ষুধার্ত থাকা ক্রোধ উস্কে দেয় এবং ঘুমের ব্যাঘাত বিরক্তি সৃষ্টি করে।
৭ম ও ৮ম: তার ধন সম্পত্তি রক্ষা করবে এবং তার পরিবার পরিজনের তদারকী করবে। মনে রাখবে, ধনসম্পত্তির ব্যাপারে ভাগ্যই মূল কথা আর পরিবার লালন পালনে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাই মূল কথা।
৯ম ও ১০ম: স্বামীর কোনো হুকুম অমান্য করোনা, তার কোনো গোপনীয়তা ফাঁস করোনা। তার হুকুম অমান্য করলে তার বুকে বিদ্বেষের আগুন জ্বলবে। আর তার গোপনীয়তা ফাঁস করলে তার প্রতিশোধ থেকে নিরাপদ থাকতে পারবেনা। আর সে যখন দুশ্চিন্তায় থাকে তখন তার সামনে উৎফুল্লতা প্রকাশ করবেনা। আর সে যখন আনন্দিত থাকে তখন তার সামনে বিষণ্ণভাব প্রদর্শন করবেনা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00