📄 দুঃসহ অবস্থার প্রতিকার
এই ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির থেকে নিষ্কৃতি পেতে হলে একটা দৃঢ় প্রত্যয়ী পরিকল্পনা গ্রহণ করা ছাড়া গত্যন্তর নেই, যার আওতায় নিম্নোক্ত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করা উচিত:
১. ধর্মীয় চেতনার প্রসার ঘটাতে হবে এবং এই প্রবল স্রোতে গা ভাসিয়ে দেয়া ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে জনগণকে হুঁশিয়ার করে দিতে হবে।
২. এমন আইন প্রণয়নের দাবিতে সংঘবদ্ধভাবে সোচ্চার হতে হবে, যা চরিত্র ও মূল্যবোধকে রক্ষার গ্যারান্টি দেবে এবং যারা তা অমান্য করবে, তাদের জন্যে কঠোর শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে হবে।
৩. সংবাদপত্র ও সকল গণমাধ্যমকে আপত্তিকর ও নগ্ন ছবি ছাপা নিষেধ এবং পোশাকের ডিজাইনকারকদের উপর তদারকী প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
৪. সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা ও অশ্লীল নাচগান নিষিদ্ধ এবং যাবতীয় বেহায়াপনাকে নিরুৎসাহিত করতে হবে।
৫. শালীন পোশাকের প্রচলন বাধ্যতামূলক করতে হবে।
৬. প্রত্যেকে প্রথমে নিজে এগুলোর বাস্তবায়ন করতে হবে এবং তারপর অন্যকে এদিকে আহ্বান জানাতে হবে।
৭. শালীনতা, লজ্জাশীলতা, পর্দা ও সৎ জীবন যাপনকে প্রশংসা ও উৎসাহ দান করতে হবে।
৮. অবসর মুহূর্তগুলোকে গঠনমূলক কাজের মধ্যদিয়ে কাটানোর ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে কোনো অপকর্মে নিয়োজিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি না হয়।
৯. প্রতিকারের উদ্দেশ্যে সময়কে পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। কেননা এ কাজ দীর্ঘ সময় দাবি করে।
📄 একটি সন্দেহ অপনোদন
কিছু লোক প্রচলিত রীতি প্রথা ও সমাজ পদ্ধতির সাথে আপোষ করে চলতে পছন্দ করে এবং একে আধুনিকতা ও প্রগতির অনিবার্য দাবি বলে যুক্তি দেখায়। আমরা উন্নয়ন, অগ্রগতি ও প্রগতির বিরোধী নই। তবে ঐসব উন্নতি ও প্রগতির সমর্থন করিনা, যতো ধর্ম, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের উচ্ছেদ ঘটানোর আংশকা থাকে। কেননা ধর্ম, ধর্মভিত্তিক নৈতিকতা ও মূল্যবোধ, এসব সরাসরি আল্লাহর ওহি থেকে প্রাপ্ত। এগুলো আল্লাহর চিরন্তন ও শাশ্বত বিধানের অংশ। সর্বকাল ও সকল স্থানের জন্য তা প্রযোজ্য। আল্লাহর দীন ইসলাম মানুষের বিবেকবুদ্ধির সামনে গোটা বিশ্ব প্রকৃতিকে উন্মুক্ত করে রেখেছে, যাতে সে তার দিকে দৃষ্টি দেয়, তার মধ্যে যে সকল শক্তি ও কল্যাণ রয়েছে, তা দ্বারা উপকৃত হয় এবং তার জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ উন্নতি ও সমৃদ্ধি লাভের জন্য জীবনকে প্রগতিমুখী করে। ইসলাম কোনভাবেই উন্নতি ও প্রগতির বিরোধী বা অন্তরায় নয়। সে শুধু প্রবৃত্তির অনুসারী ও নৈতিকতা বিরোধী উন্নতি ও প্রগতির বিরোধী।