📄 বিশৃংখলতার কারণ
ইসলামের সহজ সরল পথ থেকে এই বিচ্যুতির কারণ ছিলো অজ্ঞতা ও অন্ধ অনুকরণ। এরপর সাম্রাজ্যবাদ এলো এবং এই বিপথগামিতাকে আস্কারা দিয়ে তার শেষসীমায় পৌঁছিয়ে দিলো। এর ফলে একজন মুসলমান পুরুষ একজন মুসলিম নারীকে নির্দ্বিধায় অশালীন, নির্লজ্জ, রূপ ও সৌন্দর্য প্রদর্শনকারিণী, সেজেগুজে প্রকাশ্যে বিচরণকারিণী এবং বুক, গলা, পিঠ, বাহু ও পায়ের থোড়া বের করে চলাচলকারিণী রূপে দেখতে পেলো। এমনকি মুসলিম নারীরা তাদের চুল ছেটে খাটো করাতেও লজ্জা ও কুণ্ঠাবোধ করলোনা। নানা রকমের প্রসাধনী রং ও ফেস পাউডার মেখে সুগন্ধী ব্যবহার করে ও জাকজমকপূর্ণ পোশাক পরে ঘুরে বেড়ানোটাও যেন তাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে গেলো। শুধু এখানেই শেষ নয়, মুসলিম যুবতীরা নানা রকম পাপাচার, ব্যভিচার, নাচগান, খেলাধুলা, থিয়েটার ও হোটেল রেস্তোরার আসরে আড্ডা জমানোকে গর্বের কাজ ও প্রগতির নিদর্শন মনে করতে লাগলো। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে ও সমুদ্রতীরে এই নৈতিক অধোপতন চরম আকার ধারণ করলো। এক পর্যায়ে এগুলো গা সওয়া হয়ে গেলো। তারপর আমরা সুন্দরী প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান করতে আরম্ভ করে দিলাম। এতে নারী শুধু পুরুষদের সামনেই আসতে লাগলোনা, বরং তার দেহের প্রতিটি অংগ পরীক্ষা নিরীক্ষার আওতায় আসতে লাগলো এবং প্রতি অংগ সকল ধরনের নারী পুরুষের চোখের সামনে মাপাজোপা হতে লাগলো। আর এসব নিকৃষ্ট উৎসাহ দানে সংবাদপত্র ও অন্যান্য গণমাধ্যম সুদূর প্রসারী ভূমিকা পালন করতে লাগলো। নারীকে এই পশুত্বের সস্তা পর্যায়ে পৌঁছে দিয়ে গণমাধ্যম বাহবা কুড়াতে লাগলো ও নারীকে গৌরবান্বিত করতে লাগলো। পোশাক ব্যবসায়ীরাও এই সুযোগে রমরমা ব্যবসা শুরু করে দিলো।
📄 বিশৃংখলতার পরিণাম
এই বিপথগামিতার পরিণামে পাপাচার ও ব্যভিচারের ব্যাপক প্রসার ঘটলো, পরিবারের বন্ধন ভেঙ্গে পড়লো, ধর্মীয় কর্তব্যগুলো অবহেলার শিকার হলো, শিশুদের প্রতি মনোযোগ পরিত্যক্ত হলো, দাম্পত্য জীবনে সংকট ঘনীভূত ও জটিলতর হলো এবং হালালের চেয়ে হারাম কাজ সমাজে সহজতর হলো। এক কথায়, এই বিপথগামিতায় নৈতিক অধোপতন ত্বরান্বিত হলো। এমনকি সকল ধর্মের মানুষ যেসব নৈতিক মূল্যবোধে অভ্যস্ত ছিলো তাও ধ্বংসের পথে ধাবিত হলো। এই অধোপতন ক্রমান্বয়ে এমন এক স্তরে উপনীত হলো, যা কোনো মুসলমান কখনো কল্পনাও করতে পারেনি। অধোপতনের আহ্বায়করা একে প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংস্কৃতিক রূপ দিলো, প্রসাধনী ব্যবহার ও সাজসজ্জার নানা রকম উপায় উদ্ভাবিত হলো, নানা পদ্ধতি আবিষ্কৃত হলো এবং এসব পন্থা ও পদ্ধতি শিক্ষা দানের জন্য প্রতিষ্ঠানাদি গড়ে উঠলো।
কায়রোর দৈনিক "আল-আহরাম” পত্রিকায় "নারীর সাথে” শিরোনামে যে সকল সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, নমুনাস্বরূপ তার কয়েকটির শিরোনাম দেখুন: "আলেকজান্দ্রিয়ায় মহিলাদের কেশবিন্যাস শিক্ষা দেয়ার প্রথম বিদ্যালয়, এক মাস পর এই বিদ্যালয়ে পড়াতে আসবেন জনৈক জার্মান বিশেষজ্ঞ”। উক্ত শিরোনামের অধীন সংবাদটির সারসংক্ষেপ হলো : এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আলেকজান্দ্রিয়ার মহিলাদের কেশবিন্যাস সমিতির সদস্যদের চাঁদা দ্বারা।..... সমিতি এই বিদ্যালয়ের জন্য একটা ছোট ফ্লাটও ভাড়া নিয়েছে, যাতে তা ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিদ্যালয়ের ভিত্তি হিসেবে দাঁড়াতে পারে। সমিতি তার সকল সদস্যকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সামনে ভাষণ দেয়ার জন্য উপস্থিত হওয়ার দাওয়াত দিয়েছে। ক্লিওপেট্রায় গতকাল সকালে সমিতির জনৈক সদস্য বিদ্যালয়টির উদ্বোধন করে ভাষণ দিয়েছেন। এ বিদ্যালয়ে কেশবিন্যাস, কেশ রঞ্জন, চুলকাটা, নখকাটা, শরীর মাজন ও ডলন ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষা দেয়া হবে।
সমিতির সভাপতি কায়রোতে ঘোষণা করেছেন: "সমিতি আগামী মাসে কেশবিন্যাস বিষয়ে মিশরের রাষ্ট্রীয় পুরস্কার লাভের জন্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে।” শুধুমাত্র কায়রোতে কেশবিন্যাসের সেলুনের সংখ্যা এক হাজারে উপনীত হয়েছে। .... নারীর রূপচর্চা, সৌন্দর্য প্রদর্শনী ও নৈতিক অধোপতনের এই উদ্দাম গড্ডালিকা প্রবাহের মুখেও এ থেকে মুসলিম পরিবারগুলোর পবিত্রতা ও সম্মান রক্ষার্থে বিপরীতমুখী চিন্তাচেতনার উন্মেষ আয়োজনও থেমে নেই। ২৯/৯/১৯৬২ তারিখের দৈনিক আখবারুল ইয়াওমে নিম্নরূপ শিরোনামে একটি নিবন্ধ ছেপেছে:
"বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণী বিশ্ববিদ্যালয়কে পোশাক বিক্রির শোরুম থেকে পৃথক কিছু ভাবছে না।" উক্ত শিরোনামে নিবন্ধের লেখিকা বলেন: আজকাল প্রত্যেক বছর যখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রছাত্রী ভর্তি শুরু হয়, তখন পত্রপত্রিকাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের পোশাক ও মেকআপ কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়ে নিবন্ধ, ফিচার ইত্যাদি ছাপাতে আরম্ভ করে। কেউবা তাদের সবার পোশাক এক রকম অবলম্বন করার আহ্বান জানায়। আবার কেউ তাদেরকে মেকআপ থেকে বিরত রাখার দাবি জানায়। আমি এসব মতামত সমর্থন করিনা। কেননা আমি মনে করি, তরুণীদের ইচ্ছাধীন পোশাক নির্বাচন তাদের ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করে এবং তার স্বতন্ত্র রুচি গড়তে সাহায্য করে।
....অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা একক পোশাক পরেনা এবং তাদেরকে মেকআপ থেকে বঞ্চিত রাখা হয়না। তবুও আমি এসব চরমপন্থী মতামত পোষণকারীদেরকে প্রায়ই ভর্ৎসনা করে থাকি। কেননা আমাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণীরাই তাদেরকে এ ধরনের দাবি জানাতে উদ্বুদ্ধ করে। তারা জানেনা কিভাবে তাদের উপযুক্ত পোশাক ও মেকআপ নির্বাচন করবে। আসলে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও পোশাকের শোরুমের মধ্যে পার্থক্যই করতে পারেনা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে। তারা প্রায়শ এমন টাইট পোশাক ও হাইহিল পরে ক্যাম্পাসে যায় যে, সহজ ও সাবলীলভাবে চলাফেরাই করতে পারেনা। তারা কখনো বইপুস্তক ও লেকচার সিট সাথে নিতে ভুল করলেও করতে পারে, কিন্তু সাজসজ্জা ও প্রসাধনী উপকরণ সাথে নিতে কখনো ভোলেনা। আমার মতে, এসবের মূল কারণ হলো, আজকালকার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা পাঠাভ্যাসকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়না এবং তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে তার সাজসজ্জাকে। প্রকৃতপক্ষে এর বিপরীত হওয়াই সমীচীন। কেননা এখন এমন একটা সময় চলছে যখন নারী শিক্ষার উচ্চতর মূল্যায়ন হচ্ছে। এর অর্থ এ নয় যে, আমি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণীদের পোশাক ও সাজসজ্জাকে অবজ্ঞা করছি। আমি শুধু অধ্যয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া এবং এরপরে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্ব দিয়ে চেহারার মেকাপ করার আহ্বান জানাচ্ছি। ক্যাম্পাসের খাতিরে না হলেও ত্বকের যত্নের খাতিরেই এটা করা দরকার। কেননা বেশি মেকাপ ত্বকের ক্ষতিসাধন করে, বিশেষতঃ এমন বয়সে, যখন কৃত্রিম মেকআপের চেয়ে চেহারার স্বাভাবিক লাবণ্য অধিকতর সুন্দর লাগে। সেই সাথে আঁটসাট পোশাকের পরিবর্তে সহজ আরামদায়ক ঢিলেঢালা পোশাক পরার আহ্বান জানাই। কেননা এই বয়সের তরুণীর জীবনের প্রথম ও শেষ লক্ষ্য উগ্র মেকাপ উৎকট সাজসজ্জা দ্বারা দৃষ্টি আকর্ষণ করা নয়। "আজ তার অগ্রাধিকার দিতে হবে নিজেকে বিদ্যাবুদ্ধিতে ক্ষুরধার করা ও সুসভ্য রুচি দ্বারা সমৃদ্ধ করাকে।" এখন ডাইরেক্টরের টেলিফোন ধরার জন্য সেক্রেটারীর আসনে বসা তার সর্বোচ্চ লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। তার সামনে এখনও মন্ত্রীত্বের আসন উন্মুক্ত রয়েছে। অপর এক বৃটিশ মহিলা সাংবাদিক কায়রো সফরের পর এক নিবন্ধে কায়রোর উগ্র আধুনিক মহিলাদের সমালোচনা করে লিখেছেন:
"বিমানবন্দরে নেমেই আমি দুঃখ পেয়েছি। আমি ভেবেছিলাম, আমি সঠিক অর্থেই প্রাচ্য ললনার সাক্ষাত পাবো। এ দ্বারা আমি বোরকা নিকাব পরা পর্দানশীল মহিলার কথা বলছিনা। আমি বলছি সেই রুচিবতী প্রাচ্য বৈশিষ্ট্যধারী কর্মোপযোগী পোশাক পরা প্রাচ্য ললনার কথা, যে প্রাচ্যের পদ্ধতিতেই চলাফেরা করে। কিন্তু আমি সে সবের কিছুই পেলাম না। যে কোনো ইউরোপীয় বিমানবন্দরে যে ধরনের মহিলার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়, এখানে সে ধরনের মহিলারই সাক্ষাৎ পেলাম। একই বেশভূষা, একই ধরনের কেশবিন্যাস, একই মেকাপ, এমনকি কথা বলা ও চলা ফেরার ভাবভংগীও একই রকম। এমনকি ক্ষেত্রভেদে ভাষাও-কারো বা ইংরেজী, কারো ফরাসী। প্রাচ্য ললনার এ ধারণা আমাকে কষ্ট দিয়েছে যে, পাশ্চাত্য ললনার মতো বেশভূষা ও কৃষ্টি অবলম্বন করলেই পাশ্চাত্য নারীর অনুকরণ হয়ে যায়। তারা ভুলে গেছে যে, তারা নিজেদের নয়নাভিরাম প্রাচ্য পোশাক ও বেশভূষা নিয়েও উন্নতি ও অগ্রগতি অর্জন করতে পারে।"
১৯৬২ সালের ৯ই জুন শনিবারের দৈনিক 'আস-সাবত' পত্রিকায় নিম্নোক্ত শিরোনামে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করা হয় : "মার্কিন লেখিকার অনুরোধ: যুবক যুবতীর অবাধ মেলামেশা বন্ধ করুন, নারী স্বাধীনতা সীমিত করুন।" উক্ত শিরোনামে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও খোলামেলা বক্তব্য তুলে ধরে পত্রিকাটি বলেছে: "মার্কিন মহিলা সাংবাদিক হেলসিয়ান ক্যান্সবেরী" কয়েক সপ্তাহ অবস্থানের পর সম্প্রতি কায়রো ত্যাগ করেছেন। সফরকালে তিনি বিভিন্ন স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, যুবক অধ্যুষিত বিভিন্ন ক্যাম্প, বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান, কিশোর কেন্দ্রসমূহ, বিভিন্ন এলাকার নারী, শিশু কেন্দ্র ও বিভিন্ন পরিবার পরিদর্শন করেন। এটা ছিলো আরব্য সমাজে পরিবার ও যুব সমস্যাবলীর তত্ত্বানুসন্ধানমূলক সফর। হেলসিয়ান প্রায় ২৫০টি মার্কিন পত্রিকার সংবাদদাতা ভ্রাম্যমান সাংবাদিক। তিনি প্রতিদিন একটি নিবন্ধ পাঠান। যা লক্ষ লক্ষ লোক পড়ে এবং যা অনূর্ধ বিশজন তরুণ তরুণীর সমস্যাবলী নিয়ে লেখা হয়। তিনি বিশ বছরের বেশি সময় ব্যাপী রেডিও ও টেলিভিশনে চাকরি করছেন ও বিশ্বের সকল দেশ সফর করেছেন। বর্তমানে তার বয়স পঞ্চান্ন বছর। মিশরে এক মাস অবস্থানের পর এই মার্কিন মহিলা সাংবাদিক তার রিপোর্টে বলেন :
"আরব সমাজ একটি পূর্ণাঙ্গ ও শান্তিপ্রিয় সমাজ। এ সমাজে বসবাসকারীদের জন্য এ সমাজের রীতিনীতি ও ঐতিহ্য অনুসরণ করাই সমীচীন। সে ঐতিহ্য যুবক যুবতীদের উপর যুক্তিসংগত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। এ সমাজ ইউরোপীয় ও মার্কিন সমাজ থেকে পৃথক। এ সমাজে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত এমন ঐতিহ্য রয়েছে, যা নারীর উপর বাধ্যতামূলক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে, পিতামাতার প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধাকে বাধ্যতামূলক করে এবং সর্বোপরি, পাশ্চাত্যের সেই লাগামহীন বেলেল্লাপনাকে প্রত্যাখ্যান করা বাধ্যতামূলক করে যা বর্তমানে আমেরিকা ও ইউরোপের সমাজ ও পরিবারের অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তুলেছে। তাই আরব সমাজ অনূর্ধ বিশ বছর বয়স্কাসহ সকল কিশোরী ও তরুণীর উপর যেসব কড়াকড়ি ও বিধিনিষেধ আরোপ করে, তা তাদের জন্য উপযোগী ও কল্যাণকর। তাই আমি আরবদেরকে পরামর্শ দিচ্ছি, আপনাদের নৈতিকতা ও ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করুন, অবাধ মেলামেশা বন্ধ করুন এবং কিশোরী যুবতীদের স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রিত করুন এবং পর্দার যুগে ফিরে যান। আপনাদের জন্য এটা অবাধ ও লাগামহীন স্বাধীনতা, স্বেচ্ছাচারিতা এবং মার্কিন ও ইউরোপীয় নির্লজ্জতার চেয়ে উত্তম। বিশ বছর বয়সের নিচে তরুণ তরুণীদের মেলামেশা বন্ধ করুন। আমরা আমেরিকা এ দ্বারা অনেক দুর্ভোগ পোহায়েছি। সব ধরনের বেলেল্লাপনা ও স্বেচ্ছাচারিতায় ভরপুর মার্কিন সমাজ পঙ্গু সমাজে পরিণত হয়েছে। বিশ বছর বয়সের নিচে বেলেল্লাপনা, স্বেচ্ছাচারিতা ও অবাধ মেলামেলার শিকার তরুণ তরুণীরা মার্কিন কারাগার, পানশালা ও গোপন গৃহসমূহে বসবাস করছে। যে স্বাধীনতা আমরা আমাদের অল্প বয়স্ক কিশোর কিশোরীদেরকে দিয়েছিলাম, তা তাদেরকে সন্ত্রাসী, মাদক সেবী ও মদ্যপায়ী বানিয়েছে। মার্কিন ও ইউরোপীয় সমাজে অবাধ মেলামেশা, স্বেচ্ছাচারিতা ও লাগামহীন স্বাধীনতা পরিবারগুলোর অস্তিত্বকে হুমকির সম্মুখীন করেছে এবং নৈতিকতা ও মূল্যবোধকে সংকটাপন্ন করেছে। বিশ বছরের কম বয়স্কা কিশোরী আধুনিক সমাজে যুবকদের সাথে মেলামেশা করে, নাচে, মদপান করে, ধূমপান করে ও মাদক সেবন করে। আর এ সবই করে ব্যক্তি স্বাধীনতার নামে। আমেরিকায় ও ইউরোপে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, বিশ বছরের কম বয়স্কা তরুণী তার পরিবারের চোখের সামনেই যার সাথে ইচ্ছা খেলাধুলা ও মেলামেশা করে। বরঞ্চ সত্যি বলতে কি, তার পিতামাতা, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদেরকে ব্যক্তি স্বাধীনতা ও অবাধ মেলামেশার অধিকারের নামে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েই এসব করে। কয়েক মিনিটেই একজনকে বিয়ে করে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তার কাছ থেকে তালাক নিয়ে নেয়। কখনো বা পুনঃবিয়ে ও পুনঃতালাকও।
📄 দুঃসহ অবস্থার প্রতিকার
এই ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির থেকে নিষ্কৃতি পেতে হলে একটা দৃঢ় প্রত্যয়ী পরিকল্পনা গ্রহণ করা ছাড়া গত্যন্তর নেই, যার আওতায় নিম্নোক্ত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করা উচিত:
১. ধর্মীয় চেতনার প্রসার ঘটাতে হবে এবং এই প্রবল স্রোতে গা ভাসিয়ে দেয়া ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে জনগণকে হুঁশিয়ার করে দিতে হবে।
২. এমন আইন প্রণয়নের দাবিতে সংঘবদ্ধভাবে সোচ্চার হতে হবে, যা চরিত্র ও মূল্যবোধকে রক্ষার গ্যারান্টি দেবে এবং যারা তা অমান্য করবে, তাদের জন্যে কঠোর শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে হবে।
৩. সংবাদপত্র ও সকল গণমাধ্যমকে আপত্তিকর ও নগ্ন ছবি ছাপা নিষেধ এবং পোশাকের ডিজাইনকারকদের উপর তদারকী প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
৪. সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা ও অশ্লীল নাচগান নিষিদ্ধ এবং যাবতীয় বেহায়াপনাকে নিরুৎসাহিত করতে হবে।
৫. শালীন পোশাকের প্রচলন বাধ্যতামূলক করতে হবে।
৬. প্রত্যেকে প্রথমে নিজে এগুলোর বাস্তবায়ন করতে হবে এবং তারপর অন্যকে এদিকে আহ্বান জানাতে হবে।
৭. শালীনতা, লজ্জাশীলতা, পর্দা ও সৎ জীবন যাপনকে প্রশংসা ও উৎসাহ দান করতে হবে।
৮. অবসর মুহূর্তগুলোকে গঠনমূলক কাজের মধ্যদিয়ে কাটানোর ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে কোনো অপকর্মে নিয়োজিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি না হয়।
৯. প্রতিকারের উদ্দেশ্যে সময়কে পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। কেননা এ কাজ দীর্ঘ সময় দাবি করে।
📄 একটি সন্দেহ অপনোদন
কিছু লোক প্রচলিত রীতি প্রথা ও সমাজ পদ্ধতির সাথে আপোষ করে চলতে পছন্দ করে এবং একে আধুনিকতা ও প্রগতির অনিবার্য দাবি বলে যুক্তি দেখায়। আমরা উন্নয়ন, অগ্রগতি ও প্রগতির বিরোধী নই। তবে ঐসব উন্নতি ও প্রগতির সমর্থন করিনা, যতো ধর্ম, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের উচ্ছেদ ঘটানোর আংশকা থাকে। কেননা ধর্ম, ধর্মভিত্তিক নৈতিকতা ও মূল্যবোধ, এসব সরাসরি আল্লাহর ওহি থেকে প্রাপ্ত। এগুলো আল্লাহর চিরন্তন ও শাশ্বত বিধানের অংশ। সর্বকাল ও সকল স্থানের জন্য তা প্রযোজ্য। আল্লাহর দীন ইসলাম মানুষের বিবেকবুদ্ধির সামনে গোটা বিশ্ব প্রকৃতিকে উন্মুক্ত করে রেখেছে, যাতে সে তার দিকে দৃষ্টি দেয়, তার মধ্যে যে সকল শক্তি ও কল্যাণ রয়েছে, তা দ্বারা উপকৃত হয় এবং তার জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ উন্নতি ও সমৃদ্ধি লাভের জন্য জীবনকে প্রগতিমুখী করে। ইসলাম কোনভাবেই উন্নতি ও প্রগতির বিরোধী বা অন্তরায় নয়। সে শুধু প্রবৃত্তির অনুসারী ও নৈতিকতা বিরোধী উন্নতি ও প্রগতির বিরোধী।