📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 তাবাকরুজের অর্থ

📄 তাবাকরুজের অর্থ


যে জিনিস গোপন করা জরুরি, তা প্রকাশ করার নাম তাবাররুজ। এর ধাতুগত ও মূল অর্থ দুর্গ থেকে বের হওয়া। পরে এটা নারীর লজ্জা সংকোচ থেকে বেরিয়ে আসা এবং তার আকর্ষণীয় বস্তু ও সৌন্দর্য প্রদর্শন করার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কুরআনে তাবাররুজ প্রসঙ্গ

📄 কুরআনে তাবাররুজ প্রসঙ্গ


পবিত্র কুরআনে দুই জায়গায় তাবাররুজ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে: প্রথমত সূরা নূরে: وَالْقَوَاعِدُ مِنَ النِّسَاءِ اللَّتِي لَا يَرْجُونَ نِكَامًا فَلَيْسَ عَلَيْهِنَّ جُنَاحٌ أَنْ يَضَعْنَ ثِيَابَهُنَّ غَيْرَ مُتبرجات بزِينَةٍ وَأَن يَسْتَعْفِفْنَ خَيْرٌ لَّهُنَّ .
অর্থ: অধিক বয়স্কা স্ত্রীলোক যারা বিয়ের আশা পোষণ করেনা, তারা যদি তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ করার উদ্দেশ্য ছাড়াই তাদের অতিরিক্ত বস্ত্র খুলে রাখে, তাহলে তাতে তাদের কোনো দোষ নেই। তবে এ থেকে বিরত থাকাই তাদের জন্য শ্রেয়।” (আয়াত: ৬০) দ্বিতীয়ত সূরা আহযাবে তাবাররুজকে নিষিদ্ধ করা ও এর প্রতি ধিক্কার জানানো হয়েছে:
وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَامِلِيَّةِ الأولى .
"প্রাচীন জাহেলিয়তের ন্যায় তোমরা তাবাররুজ করোনা।" (নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়িওনা)। (সূরা আহযাব: আয়াত ৩৩)

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 তাবাকরুজ ইসলাম ও সভ্যতা উভয়ের পরিপন্থী

📄 তাবাকরুজ ইসলাম ও সভ্যতা উভয়ের পরিপন্থী


যেসব বৈশিষ্ট্য দ্বারা মানুষ ইতর প্রাণী থেকে পৃথক হয়, তন্মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, পোশাক ও শোভাবর্ধক উপকরণাদি ব্যবহার। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
يَا بَنِي آدَمَ قَدْ أَنْزَلْنَا عَلَيْكُمْ لِبَاسًا يُوَارِي سَوْاتِكُمْ وَرِيشًا. وَلِبَاسُ التَّقْوَى، ذَلِكَ خَيْرٌ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ، لَعَلَّهُمْ يَذَّكَّرُونَ .
অর্থ: হে আদম সন্তানরা। আমি তোমাদের জন্য পোশাক প্রবর্তন করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থানকেও আবৃত করে এবং বেশভূষার উপকরণও হয় এবং তাকওয়ার পোশাকই উত্তম। এটা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।” (সূরা আরাফ: আয়াত ২৬)
পোশাক ও সাজসজ্জা সভ্যতা ও শালীনতার নিদর্শন। এ দুটি জিনিস না থাকা পশুত্ব স্তরের দিকে প্রত্যাবর্তনের নামান্তর। জীবন যখন তার স্বাভাবিক গতিতে বহমান থাকে, তখন তার পশ্চাদদিকে প্রত্যাবর্তন করা ততক্ষণ সম্ভব নয়, যতক্ষণ তা এমন কোনো গুরুতর অধোপতনের শিকার না হয়, যা তার মতামত ও চিন্তাধারার আমূল পরিবর্তন ঘটায় এবং তাকে তার সভ্যতা ও মনুষ্যত্বের অর্জিত অগ্রগতিকে ভুলে গিয়ে বা ভুলে যাওয়ার ভান করে পেছনে দিকে প্রত্যাবর্তন করতে বাধ্য না করে।
আর পোশাক পরা যখন উন্নত মানুষের অত্যাবশ্যকীয় বৈশিষ্ট্য, তখন নারীর জন্য তা আরো বেশি অত্যাবশ্যকীয়। কেননা এটাই সেই অপরিহার্য রক্ষাকবচ, যা তার ধর্ম, সম্ভ্রম, মর্যাদা, সতীত্ব, শালীনতা ও লজ্জাকে রক্ষা করে। এই মহৎ গুণগুলো নারীর সাথে অধিকতর সম্পর্কযুক্ত এবং পুরুষ অপেক্ষা নারীর জন্য অধিকতর প্রয়োজনীয়। আর এজন্য লজ্জা ও সংকোচ নারীর উৎকৃষ্টতম ভূষণ। বস্তুত নারীর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো শালীনতা, লজ্জা ও সতীত্ব। আর এ গুণাবলীর সংরক্ষণ নারীর সর্বোচ্চ স্তরের মনুষ্যত্বেরই সংরক্ষণ। নারীর লজ্জা ও শালীনতা থেকে বিচ্যুত হওয়া নারীর স্বার্থেরও অনুকূল নয়, সমাজের জন্যও কল্যাণকর নয়। বিশেষত যখন যৌন আবেগ ও আকর্ষণ সর্বকালের সবচেয়ে প্রবল আবেগ ও সবচেয়ে দুর্দমনীয় আকর্ষণ। আর নির্লজ্জতা ও অশালীনতা এই আকর্ষণকে উদ্দীপিত ও উত্তেজিত করে এবং উশৃঙ্খল ও উদ্দাম করে। এর উপর যত বেশি বাধা, বন্ধন ও শৃঙ্খল আরোপ করা হবে, ততই তার উত্তেজনা ও উশৃঙ্খলতা প্রশমিত হবে, ততই তা নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং ততই তা মানুষ ও তার মনুষ্যত্বের উপযোগী শালীন ও সংযত হবে। এ কারণেই ইসলাম নারীর পোশাকের উপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছে এবং খুঁটিনাটি বিধি বিধান বর্ণনা করা সাধারণভাবে কুরআনের রীতি না হওয়া সত্ত্বেও নারীর পোশাকের অত্যন্ত বিশদ বিবরণ দিয়েছে। যেমন সূরা আহযাবের ৫৯ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন:
يَأَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنْتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْلِيْنَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ ، ذلِكَ أَدْنَى أَنْ يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ ،
"হে নবী, তোমার স্ত্রীদেরকে, মেয়েদেরকে ও মুসলিম নারীদেরকে বলে দাও তারা যেনো তাদের ওড়না তাদের উপরে ছড়িয়ে দেয়। এতে সহজেই তাদেরকে চেনা যাবে। ফলে তাদেরকে ঔত্যক্ত করা হবেনা।" নবীর স্ত্রী, কন্যা ও মুসলিম নারীদেরকে সম্বোধন করা দ্বারা প্রমাণিত হয়, সকল নারীই এ নির্দেশ পালনের জন্য দায়ী। কোনো নারীই এর ব্যতিক্রম নয়, চাই তারা নবীদুহিতা ও নবী সহধর্মিণীদের পর্যায়ের পুণ্যবতীই হোক না কেন। কুরআন এ বিষয়টির প্রতি অত্যধিক গুরুত্ব আরোপ করেছে ও এর বিস্তারিত খুঁটিনাটি বর্ণনা করেছে। নারীর শরীরের কোন্ অংশ ঢাকতে হবে এবং কোন্ অংশ খোলা যাবে, তাও সবিস্তারে বর্ণনা করেছে:
وَقُلْ لِلْمُؤْمِنِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِمِنْ أَوْا أَبْنَاءِ بُعُولَتِهِنَّ
অর্থ : হে নবী মুমিন নারীদেরকে বলে দাও, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে, সতীত্ব রক্ষা করে এবং যা সাধারণত আপনা আপনি প্রকাশ হয়ে পড়ে, তাছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে। আর তারা যেন তাদের চাদর নিজেদের বুকের উপর ছড়িয়ে রাখে। আর তারা যেন নিজেদের সৌন্দর্য কারো কাছে প্রকাশ না করে কেবল তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীদের পুত্র, ভাই, ভ্রাতুষ্পুত্র, ভাগ্নে, পরিবারভুক্ত মহিলা, মালিকানাধীন দাসী, যৌন কামনামুক্ত নিষ্কাম পুরুষ এবং এমন বালক যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তারা ব্যতীত। আর তারা যেন নিজেদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে জোরে জোরে না হাঁটে।" (সূরা নূর: আয়াত ৩১)
এমনকি নারী যদি এত বয়স্কাও হয় যে, তারও কোনো যৌন কামনা নেই এবং তার উপরও কারো যৌন কামনা হয়না, তবু এটাই তার জন্যে উত্তম।
ইসলাম এ বিষয়টাকে এত গুরুত্ব দিয়েছে যে, কতো বয়সে নারী পর্দা করা শুরু করবে তাও উল্লেখ করেছে। রসূলুল্লাহ সা. বলেন: “হে আসমা, নারী বালেগা হয়ে যায়, তখন তার শুধু হাতের পাতা ও মুখমণ্ডল ব্যতীত আর কিছুই প্রকাশ করা যাবেনা।” তিনি আরো বলেছেন: "নারী যখন এগিয়ে আসে তখনও তার সাথে একটা শয়তান থাকে, আর যখন পিছিয়ে যায় তখনও তার সাথে একটা শয়তান থাকে।" বস্তুত নারী পুরুষের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক পরীক্ষার বস্তু। তাই নারীর নগ্নতা ও সৌন্দর্য প্রদর্শন তার মনুষ্যত্বের সবচেয়ে মূল্যবান উপাদান লজ্জা ও সম্ভ্রমকে বিনষ্ট করে এবং তাকে তার মনুষ্যত্বের স্তর থেকে নিচে নামিয়ে দেয়। এতে যদি তার মনুষ্যত্বে কলংক আরোপিত হয় তা জাহান্নামের আগুন ছাড়া আর কিছু দ্বারা পবিত্র হয়না। রসূলুল্লাহ সা. বলেন: দুই শ্রেণীর দোযখবাসীকে আমি দেখিনি : একদল হলো, হাতে গরুর লেজ আকৃতির বেত্রদণ্ডধারী পুরুষ, আর পোশাকধারিণী হয়েও নগ্ন একদল নারী, যারা মানুষকে তাদের দিকে আকৃষ্ট করার জন্য হেলেদুলে চলে। তারা বেহেশতে প্রবেশ তো করবেই না, এমনকি তার ঘ্রাণও পাবেনা। অথচ বহু দূর থেকে তার ঘ্রাণ পাওয়া যায়।”
নবুয়্যত যুগে রসূলুল্লাহ সা. তাবাররুজের (বেপর্দা চলাফেরার) কিছু কিছু আলামত দেখতেন এবং সেগুলোর দিকে মহিলাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতেন: এ হচ্ছে আল্লাহর বিধান থেকে বিদ্রোহের শামিল। তিনি তাদেরকে ইসলামের সহজ সরল পথে ফিরে আসতে আদেশ দিতেন, স্বামী ও অভিভাবকদেরকে এই বিকৃতি ও গোমরাহীর পরিণতির জন্য দায়ী করতেন এবং তাদেরকে আল্লাহর আযাব থেকে সতর্ক করতেন।
১. মূসা বিন ইয়াসার রা. বলেন, তীব্র ঘ্রাণযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহার করে জনৈকা মহিলা আবু হুরায়রার কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। আবু হুরায়রা রা. তাকে বললেন: তুমি কোথায় যাচ্ছো? সে বললো: মসজিদে। তিনি বললেন: তুমি সুগন্ধী ব্যবহার করেছ বুঝি? সে বললো, হাঁ। আবু হুরায়রা রা. বললেন: বাড়ি ফিরে গিয়ে গোসল করে এসো। কেননা আমি রসূল সা.কে বলতে শুনেছি: আল্লাহ এমন মহিলার নামায কবুল করেন না, যার থেকে তীব্র ঘ্রাণ বের হয়, যতক্ষণ না সে বাড়িতে ফিরে গিয়ে গোসল করে।" গোসল করার নির্দেশ দেয়ার উদ্দেশ্য শুধু এই যে, তার ঘ্রাণ যেন দূর হয়ে যায়।
২. আবু হুরায়রা রা. আরো বর্ণনা করেন, রসূল সা. বলেছেন: যে মহিলা সুগন্ধী ব্যবহার করবে সে যেন জামাতে না আসে। (আবু দাউদ, নাসায়ী)
৩. আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রসূল সা. মসজিদে নববীতে বসেছিলেন। এমতাবস্থায় মুযায়না গোত্রের জনৈক মহিলা জাঁকজমকপূর্ণ সাজগোজ সহকারে সগর্বে মসজিদে প্রবেশ করলো। রসূল সা. তা দেখে বললেন: হে জনতা, তোমরা তোমাদের মহিলাদের মসজিদে সাজগুজে ও অহংকারের সাথে মসজিদে আসতে নিষেধ করো। কেননা বনী ইসরাইলের মহিলারা সেজেগুজে ও অহংকারের সাথে মসজিদে না আসা পর্যন্ত তারা অভিশপ্ত হয়নি। (ইবনে মাজাহ)
উমর রা. এই মারাত্মক ফেতনা সম্পর্কে শংকিত ছিলেন। এজন্য তিনি "চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম" এই নীতি অনুসারে উক্ত ফেতনা সংঘটিত হওয়ার পূর্বে তার আগাম চিকিৎসা করা পছন্দ করতেন। বর্ণিত আছে যে, তিনি একদিন রাতে ঘুরে ঘুরে জনগণের অবস্থা অনুসন্ধান করে বেড়াচ্ছিলেন। সহসা শুনতে পেলেন, জনৈক মহিলা বলছে: 'আহা, একটু মদ খাওয়ার কি কোনো উপায় আছে? নতুবা নাসর বিন হুজ্জাজের কাছে যাওয়ার কি কোনো উপায় আছে?'
উমর রা. তৎক্ষনাত স্বগতভাবে বললেন: "উমরের আমলে এর কোনোটারই উপায় নেই।” পরদিন সকালে তিনি নাসর বিন হুজ্জাজকে দরবারে হাজির করলেন। দেখলেন, সে একজন অতি সুদর্শন পুরুষ। এরপর তিনি তার চুল কামিয়ে দেয়ার আদেশ দিলেন। এতে তাকে আরো সুদর্শন দেখাতে লাগলো। ফলে তিনি তাকে দেশ থেকে নির্বাসিত করে সিরিয়ায় পাঠিয়ে দিলেন।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বিশৃংখলতার কারণ

📄 বিশৃংখলতার কারণ


ইসলামের সহজ সরল পথ থেকে এই বিচ্যুতির কারণ ছিলো অজ্ঞতা ও অন্ধ অনুকরণ। এরপর সাম্রাজ্যবাদ এলো এবং এই বিপথগামিতাকে আস্কারা দিয়ে তার শেষসীমায় পৌঁছিয়ে দিলো। এর ফলে একজন মুসলমান পুরুষ একজন মুসলিম নারীকে নির্দ্বিধায় অশালীন, নির্লজ্জ, রূপ ও সৌন্দর্য প্রদর্শনকারিণী, সেজেগুজে প্রকাশ্যে বিচরণকারিণী এবং বুক, গলা, পিঠ, বাহু ও পায়ের থোড়া বের করে চলাচলকারিণী রূপে দেখতে পেলো। এমনকি মুসলিম নারীরা তাদের চুল ছেটে খাটো করাতেও লজ্জা ও কুণ্ঠাবোধ করলোনা। নানা রকমের প্রসাধনী রং ও ফেস পাউডার মেখে সুগন্ধী ব্যবহার করে ও জাকজমকপূর্ণ পোশাক পরে ঘুরে বেড়ানোটাও যেন তাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে গেলো। শুধু এখানেই শেষ নয়, মুসলিম যুবতীরা নানা রকম পাপাচার, ব্যভিচার, নাচগান, খেলাধুলা, থিয়েটার ও হোটেল রেস্তোরার আসরে আড্ডা জমানোকে গর্বের কাজ ও প্রগতির নিদর্শন মনে করতে লাগলো। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে ও সমুদ্রতীরে এই নৈতিক অধোপতন চরম আকার ধারণ করলো। এক পর্যায়ে এগুলো গা সওয়া হয়ে গেলো। তারপর আমরা সুন্দরী প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান করতে আরম্ভ করে দিলাম। এতে নারী শুধু পুরুষদের সামনেই আসতে লাগলোনা, বরং তার দেহের প্রতিটি অংগ পরীক্ষা নিরীক্ষার আওতায় আসতে লাগলো এবং প্রতি অংগ সকল ধরনের নারী পুরুষের চোখের সামনে মাপাজোপা হতে লাগলো। আর এসব নিকৃষ্ট উৎসাহ দানে সংবাদপত্র ও অন্যান্য গণমাধ্যম সুদূর প্রসারী ভূমিকা পালন করতে লাগলো। নারীকে এই পশুত্বের সস্তা পর্যায়ে পৌঁছে দিয়ে গণমাধ্যম বাহবা কুড়াতে লাগলো ও নারীকে গৌরবান্বিত করতে লাগলো। পোশাক ব্যবসায়ীরাও এই সুযোগে রমরমা ব্যবসা শুরু করে দিলো।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00