📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 স্ত্রীকে কাজ করতে না দেয়া

📄 স্ত্রীকে কাজ করতে না দেয়া


আলেমগণ স্ত্রীর কাজকে দুই শ্রেণীতে বিন্যস্ত করেছেন: এক ধরনের কাজ হলো, যা স্বামীর অধিকার বিনষ্ট করে বা ক্ষতিগ্রস্ত করে বা তাকে বাড়ির বাইরে যেতে বাধ্য করে। আরেক ধরনের কাজ হলো, যাতে কোনো ক্ষতি হয়না। প্রথমটিকে স্ত্রীর জন্য অবৈধ ও দ্বিতীয়টিকে বৈধ বলে অভিহিত করেছেন। হানাফী ফকীহদের মধ্যে ইবনে আবেদীন বলেছেন: যে কাজ স্বামীর অধিকার ক্ষুণ্ণ করে বা তার ক্ষতিসাধন করে বা স্ত্রীকে ঘরের বাইরে যেতে বাধ্য করে, তা থেকে স্ত্রীকে বিরত রাখা যেতে পারে। যে কাজে কোনো ক্ষতিসাধনের অবকাশ নেই, তা থেকে বাধা দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে শুধু মহিলারাই করতে পারে এমন ফরযে কেফায়ার কাজ যদি কোনো মহিলা পেশা হিসেবে গ্রহণ করে যেমন ধাত্রীমাতার কাজ। তবে সে কাজের জন্য বাড়ির বাইরে যেতে স্ত্রীকে বাধা দেয়ার অধিকার স্বামীর নেই।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ইসলামের জ্ঞানার্জনের জন্য নারীর বহির্গমন

📄 ইসলামের জ্ঞানার্জনের জন্য নারীর বহির্গমন


আল্লাহ যে সকল কাজ বান্দার উপর ফরয করেছেন, সে সকল কাজের জ্ঞান অর্জন করাও ফরয। এ ধরনের জ্ঞান শিক্ষা দেয়ার সামর্থ্য স্বামীর থাকলে স্ত্রীকে তা শিক্ষা দেয়া স্বামীর উপর ফরয। স্বামীর যদি সামর্থ্য না থাকে কিংবা সে শিক্ষা না দেয়, তবে তা শিক্ষা করতে আলেমদের নিকট ও যেসব জায়গায় ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া হয় স্বামীর অনুমতি না থাকলেও সেসব জায়গায় গিয়ে ইসলামী জ্ঞান অর্জন করার অধিকার স্ত্রীর রয়েছে। স্বামী যদি ইসলামী জ্ঞানের অধিকারী হয় এবং স্ত্রীকে তা শেখায়, তাহলে তার অনুমতি ছাড়া ইসলামী জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে বাড়ির বাইরে যাওয়ার অধিকার স্ত্রীর নেই।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 অবাধ্য স্ত্রীকে শায়েস্তা করা

📄 অবাধ্য স্ত্রীকে শায়েস্তা করা


আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: وَاللَّاتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوهُنَّ ج فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا.
অর্থ: তোমরা যে সকল স্ত্রীর অবাধ্য হওয়ার আশংকা করবে, তাদেরকে সদুপদেশ দাও, তাদেরকে তাদের বিছানায় পরিত্যক্ত করে রেখে দাও এবং তাদেরকে প্রহার করো। এরপর যদি তারা তোমাদের অনুগত হয়ে যায়, তবে আর তাদের বিরুদ্ধে কিছু করোনা।” (সূরা আন্-নিসা : আয়াত ৩৪)
স্ত্রীর অবাধ্য হওয়া: এর অর্থ স্বামীর আদেশ নিষেধ অগ্রাহ্য ও অমান্য করা, স্বামীর বিছানায় যেতে অস্বীকার করা, অথবা স্বামীর বিনা অনুমতিতে বাড়ির বাইরে যাওয়া।
স্ত্রীকে সদুপদেশ দেয়া: এর অর্থ তাকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া, আল্লাহর ভয় দেখিয়ে সতর্ক করা। স্বামীর আনুগত্য করা এবং তার উপর স্বামীর যে অধিকার রয়েছে তা পালন করা যে তার কর্তব্য, সে কথা তাকে স্মরণ করিয়ে হুশিয়ার করা। স্বামীর হুকুম অমান্য করলে যে গুনাহ হয়, তার দিকে স্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং অবাধ্য হলে সে যে খোরপোশ থেকে বঞ্চিত হবে সে কথা তাকে জানানো।
বিছানায় পরিত্যক্ত করে রাখা: কথাবার্তা বন্ধ রাখা তিনদিনের বেশি জায়েয নেই। কেননা আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত "রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: কোনো মুসলমানের পক্ষে তার ভাই এর সাথে তিন দিনের বেশি বাক্যালাপ বন্ধ রাখা হালাল নয়।"
আর প্রহারের ব্যাপারে মনে রাখতে হবে যে, প্রথমবারের অবাধ্যতার জন্য প্রহার করা যাবে না। প্রকৃতপক্ষে আয়াতটিতে কিছু কিছু কথা উহ্য রয়েছে।
অর্থাৎ: "যে সকল স্ত্রীর অবাধ্যতার আশংকা করো, তাদেরকে সদুপদেশ দাও। (তারপরও যদি অবাধ্য হয় তবে) তাদেরকে বিছানায় পরিত্যক্ত করে রেখে দাও। (তারপরও যদি তারা অবাধ্য থাকে তবে) তাদেরকে প্রহার করো।" অর্থাৎ সদুপদেশ ও বিছানায় পরিত্যক্ত করে রাখার পরও যদি সংযত না হয়, তাহলে স্ত্রীকে প্রহার করার অধিকার স্বামীর রয়েছে। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "স্ত্রীদের উপর তোমাদের অধিকার রয়েছে যে, তোমরা পছন্দ করোনা এমন কাউকে তোমাদের বিছানা মাড়াতে দেবেনা। .... যদি মাড়াতে দেয়, তবে তাদেরকে প্রহার কর মৃদুভাবে।" প্রহারের সময় মুখ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো পরিহার করতে হবে। কেননা উদ্দেশ্য হলো শিক্ষা দান, ধ্বংস করা নয়। হাকীম বিন মুয়াবিয়া আল কুশাইরীর পিতা থেকে আবু দাউদ বর্ণনা করেন: "আমি বললাম: হে রসূলুল্লাহ, আমাদের স্ত্রীদের উপর আমাদের অধিকার কী কী?
তিনি বললেন: তুমি যখন খাবে তাকে খাওয়াবে, তুমি যখন পোশাক পরবে তাকে পোশাক পরাবে, তাকে মুখে মারবেনা ও গালিগালাজ সহকারে তিরস্কার করবেনা এবং তাকে পরিত্যাগ করলে বাড়ির ভেতরে ছাড়া তা করবেনা।"

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 স্বামীর সন্তুষ্টির জন্য স্ত্রীর সাজসজ্জা

📄 স্বামীর সন্তুষ্টির জন্য স্ত্রীর সাজসজ্জা


স্বামীর মনসন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে স্ত্রীর সুরমা, রকমারি রং ও সুগন্ধী ইত্যাদি প্রসাধনী দ্রব্য ব্যবহার করে রূপচর্চা ও সাজগোজ করা উত্তম। ইমাম আহমদ কারিমা বিনতে হুম্মাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আয়েশা রা. কে বললেন: হে উম্মুল মুমিনীন, মেহেদী সম্পর্কে আপনার মত কী? আয়েশা রা. বললেন: আমার প্রিয়তম (রসূল) সা. মেহেদীর রং পছন্দ করতেন, কিন্তু এর গন্ধ অপছন্দ করতেন। দুই মাসিক স্রাবের মাঝে কিংবা প্রত্যেক মাসিকের নিকটবর্তী সময়ে এটা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ নয়।"

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00