📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর সেবা

📄 স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর সেবা


স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্কের ভিত্তি হলো, অধিকার ও দায়িত্বের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সাম্য। এর উৎস হচ্ছে আল্লাহর এ বাণী:
وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ ۚ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ ۗ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
অর্থ: স্ত্রীদের উপর যেমন ন্যায় সংগত দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি কর্তব্যও রয়েছে। আর স্ত্রীদের উপর পুরুষদের একটা মর্যাদা রয়েছে।" (সূরা বাকারা: আয়াত ২২৯)
সুতরাং এ আয়াত নারীকে সে রকমের অধিকারই দিয়েছে, যে রকম অধিকার নারীর কাছে স্বামীর রয়েছে। নারীর (স্ত্রীর) কাছে যেমন দাবি করা যায়, পুরুষের (স্বামীর) কাছেও অদ্রূপ দাবি করা যায়।
যে জিনিসকে ইসলাম স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যকার লেনদেন ও পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তি নির্ধারণ করেছে, তা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ভিত্তি। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বাড়ির বাইরের যাবতীয় কাজকর্ম, শ্রম সাধনা ও আয় রোজগারে পুরুষের সামর্থ্যই অপেক্ষাকৃত বেশি। অপরদিকে সংসার ব্যবস্থাপনা, সন্তানাদির লালন পালন এবং গৃহের শান্তি ও নিরাপত্তার উপকরণাদি সহজলভ্য করণে নারী অধিকতর সক্ষম। তাই পুরুষকে সেই ভূমিকা পালনেরই দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, যা তার জন্য সমীচীন ও শোভনীয়। আর নারীর ওপর অর্পিত হয়েছে সেই দায়িত্ব, যা তার জন্য স্বাভাবিক। এভাবেই সংসার ভেতর ও বাহির থেকে সুচারুরূপে পরিচালিত হয়। স্বামী স্ত্রী দু'জনের কারোই সাংসারিক দায়দায়িত্বের নিজের অংশ নিজেই ভাগ করে নেয়ার প্রয়োজন পড়েনা। রসূলুল্লাহ সা. আলী বিন আবু তালেব ও তার স্ত্রী ফাতেমার মধ্যে সংসারের দায়িত্ব বণ্টন করেছেন: ফাতেমাকে পরিবার পরিচালনা ও আলীকে আয় রোজগার ও কাজকর্ম করার দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন, একদিন ফাতেমা রা. রসূল সা.-এর নিকট এসে যাতা ঘুরাতে ঘুরাতে তার হাতে কড়া পড়ে গেছে বলে অনুযোগ করলেন এবং তার নিকট একজন পরিচারিকা চাইলেন। জবাবে রসূল সা. বললেন: "তোমরা যা চেয়েছ তার চেয়ে উত্তম জিনিসের সন্ধান আমি তোমাদের দেবো কি? যখন বিছানায় ঘুমাতে যাবে তখন তেত্রিশবার সুবহানাল্লাহ, তেত্রিশবার আলহামদু লিল্লাহ ও চৌত্রিশবার আল্লাহু আকবার বলবে। এটা তোমাদের জন্য পরিচারিকার চেয়ে উত্তম।"
আবু বকর রা. এর মেয়ে আসমা বলেন: আমি (আমার স্বামী) যুবাইরের সংসারের সব কাজ নিজ হাতে করতাম। তার একটা ঘোড়া ছিলো। আমি তাকে লালন পালন, তার জন্য ঘাস কেটে আনা ও তার যাবতীয় প্রয়োজন পূরণ করতাম।" আসমা সেই ঘোড়াকে লতাপাতা খাওয়াতেন, পানি খাওয়াতেন, বালতিতে রশি লাগিয়ে কুয়া থেকে পানি তুলতেন, আটা পিষতেন এবং প্রায় এক ফরসখ দূরে অবস্থিত যুবাইরের জমি থেকে খেজুরের ডাল (লাকড়ি) মাথায় করে বয়ে আনতেন। এ দুটো হাদিস থেকে জানা গেলো, পরিবার ও সংসারের সেবা করা তার কর্তব্য। যেমন স্বামীর কর্তব্য তার যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করা। ফাতেমা রা.- যখন সংসারের কাজ কর্মে গলদঘর্ম হয়ে রসূল সা.-এর নিকট অভিযোগ করলেন, তখন রসূল সা. আলী রা.কে বলেননি যে, সংসারের কাজকর্ম করা তার দায়িত্ব নয়। ওটা শুধু আলীর দায়িত্ব। অনুরূপ, যখন আসমাকে তার স্বামীর সেবা করতে দেখলেন, তখন বলেননি, স্বামীর সেবা তার দায়িত্ব নয়, বরং সেবাকার্যে তাকে বহাল রাখেন। সকল মহিলা সাহাবীকেও তিনি নিজ নিজ স্বামীর সেবায় বহাল রাখেন। অথচ তিনি জানতেন, এটা তাদের কেউ কেউ পছন্দ করে, আবার কেউ কেউ করেনা। ইবনুল কাইয়েম বলেছেন: এটা সন্দেহাতীতভাবে সত্য, ধনী ও দরিদ্র এবং অভিজাত ও সাধারণ মহিলার মধ্যে বৈষম্য করা বৈধ নয়। সারা বিশ্বের মহিলাদের মধ্যে যিনি সবচেয়ে শ্রদ্ধার পাত্রী এং সম্ভ্রান্ত, তিনি তার স্বামীর সেবা করতেন। তিনি যখন রসূল সা.-এর কাছে নিজের কষ্টের কথা জানাতে এলেন, তখন তিনি তাতে কর্ণপাত করলেন না।
মুসলিম সমাজে প্রাচীন ও আধুনিক যুগে উপরোক্ত কাজগুলো প্রথাগতভাবে নারীর করণীয় হিসেবে চালু রয়েছে। এমনকি রসূল সা. ও তাঁর সাহাবীদের সহধমিণীগণও গম পেষা, রুটি বানানো, রান্নাবান্না, বিছানা পাতা ও খাবার তৈরি পরিবেশন ইত্যাকার যাবতীয় ঘরোয়া কাজকর্ম করতেন। এমন কোনো মহিলার কথা জানা যায়নি, যিনি এসব কাজ করতে অস্বীকার করেছেন বা বিরত থেকেছেন। বিরত থাকার অবকাশই ছিলনা। কেননা এসব কাজে কোনো ত্রুটি হলে তারা স্ত্রীদেরকে শাসন পর্যন্ত করতেন এবং তাদেরকে সেবাকার্যে নিয়োজিত থাকতে বাধ্য করতেন। এগুলো স্ত্রীর করণীয় না হলে তারা তাদের কাছ থেকে এগুলোর দাবি করতেননা। এটাই সঠিক অভিমত। তবে মালেক, আবু হানিফা ও শাফেয়ির মতে, স্ত্রীর উপর স্বামীর ঘরকন্নার কাজ করে দেয়া ও সেবা করা ওয়াজিব নয়, ঐচ্ছিক। তারা বলেন: বিয়ের আক্দ কেবলমাত্র যৌন সম্ভোগের জন্য। সেবামূলক কাজ আদায় করার জন্য নয়। তাদের মতে, বর্ণিত হাদিসগুলো থেকে যা জানা যায়, তা হচ্ছে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক ও উন্নত নৈতিকতার কাজ।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 স্ত্রীর মধ্যে সচ্চরিত্রবিতার ব্যতিক্রম

📄 স্ত্রীর মধ্যে সচ্চরিত্রবিতার ব্যতিক্রম


দাম্পত্য জীবনের একাত্মতা, সমন্বয় ও সাবলীলতা রক্ষা করা এবং পারিবারিক বন্ধনকে জোরদার করা এমন একটা লক্ষ্য, যা অর্জন করার খাতিরে কখনো কখনো সত্যবাদিতার ব্যতিক্রম করাও বৈধ। আবু উযরা দুয়ালী উমর রা.-এর খেলাফতকালে নিজের স্ত্রীদের কাছ থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে যেতেন। এর ফলে নারী মহলে তার নামে অবাঞ্ছিত দুর্নাম রটে গেলো। আবু উযরা একথা জানার পর আবদুল্লাহ ইবনুল আরকামকে সাথে নিয়ে বাড়িতে এলেন। তারপর তার স্ত্রীকে বললেন: আল্লাহর কসম দিয়ে তোমাকে জিজ্ঞাসা করছি, তুমি কি আমার উপর রূষ্ট? স্ত্রী বললো: আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করোনা। আবু উযরা বললেন: আমি তোমাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি। স্ত্রী বললো: হাঁ। আবু উযরা ইবনুল আরকামকে বললেন: শুনলে তো? অতপর তারা উভয়ে উমর রা.-এর নিকট গেলেন। আবু উযরা বললেন: আপনারা বলে থাকেন, আমি স্ত্রীদের উপর যুলুম করি এবং তাদেরকে রেখে নিরুদ্দেশ হয়ে যাই। ইবনুল আরকামকে জিজ্ঞাসা করুন তো। উমর রা. ইবনুল আরকামকে জিজ্ঞাসা করলেন। ইবনুল আরকাম তাকে প্রকৃত সত্য জানালেন। এরপর তিনি আবু উযরার স্ত্রীকে দূত মারফত ডেকে পাঠালেন। স্ত্রী ও তার ফুফু এলো। উমর আবু উযরার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলেন: তুমিই কি সেই মহিলা, যে তার স্বামীকে বলে, "আমি তোমার উপর রূষ্ট?” স্ত্রী বললো: আমি সর্বপ্রথম তওবাকারী এবং আল্লাহর বিধানের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। আমার স্বামী আমাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে জিজ্ঞাসা করেছে। তাই আমি মিথ্যা বলতে কুণ্ঠিত হয়েছি। আমীরুল মুমিনীন, আমি কি মিথ্যা বলবো? উমর রা. বললেন: হাঁ, মিথ্যা বলবে? কোনো মহিলা যদি তার স্বামীকে পছন্দ না করে, তাহলে সে যেন তা তাকে না বলে। কেননা পছন্দও ভালোবাসার ভিত্তিতে খুব কম সংখ্যক পরিবার প্রতিষ্ঠিত। মানুষ ইসলাম ও বংশীয় আভিজাত্যবোধের ভিত্তিতে পারস্পরিক আচরণ করে থাকে।
বুখারি ও মুসলিম উম্মে কুলসুম রা. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি (উম্মে কুলসুম) রসূলুল্লাহ সা.কে বলতে শুনেছেন: যে ব্যক্তি মানুষের মধ্যকার বিবাদ মিমাংসা করার জন্য ভালো কথা বানায়, সে মিথ্যুক নয়। উম্মে কুলসুম রা. আরো বলেন: রসূল সা. মানুষের কথাবার্তার মধ্যে তিনটি ক্ষেত্র ব্যতিত মিথ্যা বলার অনুমতি দেননি: যুদ্ধে, মানুষের পারস্পরিক বিবাদের মিমাংসায় এবং স্ত্রীর সাথে স্বামীর ও স্বামীর সাথে স্ত্রীর কথাবার্তায়।” সুতরাং সুসম্পর্ক স্থাপন ও কল্যাণের খাতিরে কিছু কিছু মিথ্যা বলা যে জায়েয, সে কথা এ হাদিসে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 স্বামীর গৃহে স্ত্রীকে আটকে রাখা

📄 স্বামীর গৃহে স্ত্রীকে আটকে রাখা


স্বামীর গৃহে স্ত্রীকে আটকে রাখা অর্থাৎ স্বামীর অনুমতি ব্যতিরেকে বের হবার অনুমতি না দেয়ার অধিকার স্বামীর রয়েছে। তবে পিতামাতাকে দেখতে যাওয়া থেকে বিরত রাখা যাবেনা। স্ত্রী স্বামীর অনুমতি ছাড়াই সপ্তাহে একবার অথবা সংশ্লিষ্ট এলাকায় যেরূপ রীতিপ্রথা প্রচলিত আছে, তদনুসারে পিতামাতাকে দেখতে যেতে পারবে। কেননা রক্ত সম্পর্ক রক্ষা করার জন্য এটা অপরিহার্য ও ওয়াজিব। পিতামাতা অসুস্থ হলে তাদের পরিচর্যা করার মতো অন্য কেউ থাকলে সে তাদের পরিচর্যার জন্যও স্বামীর অসম্মতি অগ্রাহ্য করেও যেতে পারবে। কেননা এটা ওয়াজিব। স্বামীর অধিকার নেই তাকে তার ওয়াজিব কাজ থেকে বাধা দেয়ার। তবে সেই বাসগৃহটা স্ত্রীর বসবাসের যোগ্য হওয়া এবং দাম্পত্য জীবনের স্থিতিশীলতা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে এমন হওয়া শর্ত। এ ধরনের বাসগৃহই শরিয়তসম্মত বাসগৃহ নামে আখ্যায়িত। বাসগৃহ যদি স্ত্রীর বাসযোগ্য না হয় এবং যে দাম্পত্য অধিকার অর্জন বিয়ের উদ্দেশ্য, তা অর্জনে করার উপযোগী না হয়, তাহলে সেই বাড়িতে বাস করতে স্ত্রী বাধ্য নয়। কেননা সে বাড়িটি শরিয়তসম্মত বাড়ি নয়। যেমন- বাড়িতে এমন অন্যান্য লোকও বাস করে, যারা তার সাথে একত্রে বাস করলে তার পক্ষে দাম্পত্য জীবন যাপন করা সম্ভব হয়ে ওঠেনা, অথবা তাদের উপস্থিতির কারণে স্ত্রীর ক্ষতি হয় অথবা তাদের কারণে তার আসবাবপত্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশংকা থাকে, কিংবা সে বাড়িতে যদি প্রয়োজনীয় আবাসিক সুযোগ সুবিধা ও সাজসরঞ্জাম না থাকে, কিংবা তার পরিবেশ স্ত্রীর নিকট ভীতিপ্রদ ও অস্বস্তিকর মনে হয়, কিংবা যদি প্রতিবেশিরা খারাপ হয়।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 স্ত্রীকে নিয়ে বাসস্থান স্থানান্তর

📄 স্ত্রীকে নিয়ে বাসস্থান স্থানান্তর


স্বামী তার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে যেখানে ইচ্ছা স্থানান্তরিত হতে পারে। কেননা আল্লাহ বলেছেনঃ أَسْكُنُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ سَكَنْتُمْ مِنْ وَجَدِكُمْ وَلَا تُضَارُّوهُنَّ لِتُضَيِّقُوا عَلَيْهِنَّ ۚ অর্থ: তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী যে ধরনের গৃহে তোমরা বাস করো, তোমাদের স্ত্রীদেরকেও সে ধরনের গৃহে বাস করতে দাও। তাদেরকে সংকটে ফেলার উদ্দেশ্যে উত্যক্ত করোনা।" (সূরা তালাক: আয়াত ৬)
স্ত্রীদেরকে সংকটে ফেলা ও উত্যক্ত-উৎপীড়ন করার বিরুদ্ধে যে নিষেধাজ্ঞা এ আয়াতে উচ্চারিত হয়েছে, তা থেকে বুঝা যায়, স্ত্রীকে অন্য বাড়িতে স্থানান্তরের উদ্দেশ্যও যেন সংকটে ফেলা ও উত্যক্ত করা না হয়। বরং এর উদ্দেশ্য হওয়া চাই একত্রে বসবাস করা এবং বিয়ের উদ্দেশ্য সফল করা। পক্ষান্তরে স্থানান্তর করতে চাওয়ার ক্ষেত্রে স্বামীর উদ্দেশ্য যদি হয় তাকে সংকটে ফেলা ও কষ্ট দেয়া, যেমন সে এ দ্বারা মহরের অংশবিশেষ স্বামীকে উপহারস্বরূপ ফেরত দিক, অথবা স্বামীর উপর স্ত্রীর যে খোরপোষ দেয়া ওয়াজিব তার খানিকটার দাবি ছেড়ে দিক, অথবা সে বাড়িটা স্ত্রীর জন্য নিরাপদ না হয়, তাহলে স্ত্রীর অধিকার রয়েছে, সেই নতুন বাড়িতে যেতে অস্বীকার করার। আদালত তাকে নতুন বাড়িতে যাওয়ার আদেশ প্রত্যাখ্যান করার অধিকার দিতে পারবে। এ অধিকার ব্যবহারের জন্য ফকীহগণ এ শর্তও আরোপ করেছেন যে, স্ত্রীকে ভিন্ন বাড়িতে স্থানান্তর করতে গিয়ে তার ক্ষতি যেন না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে, যেমন পথের বিপদসংকুল হওয়া, স্ত্রীর অসহনীয় কঠিন পরিশ্রম করতে বাধ্য হওয়া, নতুন বাড়িতে শত্রুর উৎপাতের আশংকা থাকা ইত্যাদি। স্ত্রী যদি এসব সমস্যার কোনো একটিরও আশংকাবোধ করে, তবে সে স্থানান্তরে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে পারবে। প্রসঙ্গত একটি বিচার বিভাগীয় স্মারক থেকে কিছু উদ্ধৃতি দিচ্ছি:
"যেহেতু দম্পতির বাসস্থান স্থানান্তর করা ও না করার লাভজনক হওয়ার কোনো বাঁধাধরা রূপরেখা নেই, তাই ফকীহগণ একে অনির্দিষ্টই রেখেছেন। তারা এর কোনো সম্ভাব্য রূপরেখার উল্লেখ না করে বিষয়টিকে বিচারকের প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা ও ন্যায়বিচারের উপর ছেড়ে দিয়েছেন। কেননা এটা তো দিবালোকের মতো পরিষ্কার যে, শুধুমাত্র স্ত্রীর দিক থেকে স্বামীর নিশ্চিন্ত হওয়াই তাকে স্থানান্তরে বাধ্য করার লাভজনকতা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নয়। বরং এ ব্যাপারে স্বামী ও স্ত্রীর এবং যে জায়গায় ও যে জায়গা থেকে তারা স্থানান্তরিত হচ্ছে, তার অন্যান্য অবস্থাও বিবেচনা করতে হবে। যেমন (১) এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সুবিধা, যা স্থানান্তরিত হওয়া ছাড়া অর্জন করা যায়না, (২) স্বামী-স্ত্রীর সফরের ব্যয় নির্বাহ করার পরও তার হাতে এতটা অর্থ উদ্বৃত্ত থাকবে যে, তা দিয়ে সে ব্যবসা করলে এত লাভ করতে পারবে বলে প্রবল ধারণা হয়, যা দ্বারা স্বামীর নিজেরও গোটা পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করা যায়, কিংবা এমন কোনো কারিগরি পেশায় নিয়োজিত হতে পারে, যা তার ও গোটা পরিবারের জীবিকা উপার্জনে সহায়ক, (৩) দুই এলাকার যাতায়াতের রাস্তা জান, মাল ও সম্ভ্রমের জন্য নিরাপদ, (৪) স্ত্রী এতটা সুস্থ ও সবল যে, যেখানে সে বর্তমানে বাস করছে, সেখান থেকে নতুন জায়গায় সফর করার যাবতীয় কষ্ট সহ্য করতে সক্ষম, (৫) যে স্থানে স্থানান্তরিত হওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে, তা নানা রকমের রোগ, মহামারী উপদ্রুত না হয়, (৬) উভয় এলাকার মধ্যে ঠাণ্ডা ও গরমের মাত্রায় এত ব্যবধান না হয়, যা শরীরের পক্ষে অসহনীয়, (৭) নতুন জায়গায় স্ত্রীর মান সম্ভ্রম মূল জায়গার মতোই সুরক্ষিত ও নিরাপদ থাকবে, (৮) স্থানান্তরিত হওয়ার কারণে স্ত্রীর আর্থিক, শারীরিক ও নৈতিক ক্ষতি না হয়। এ ধরনের আরো বহু বিষয় এরূপ পরিস্থিতিতে বিবেচনা করতে হয়, যা স্থান কাল ও পাত্রভেদে বিভিন্ন হতে পারে এবং যা দক্ষ বিচারকের দৃষ্টি এড়ায়না।” এ বিষয়ে এটাকে একটা উত্তম বিবরণ বলা যেতে পারে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00