📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 সংজ্ঞা

📄 সংজ্ঞা


ইলার আভিধানিক অর্থ কোনো কাজ না করার কসম খাওয়া। আর শরিয়তের পরিভাষায় স্ত্রীর সাথে সহবাস না করার জন্য কসম খাওয়া। এ ব্যাপারে আল্লাহর নামে কসম খাওয়া হোক বা রোযা, সদকা, হজ্জ বা তালাকের মান্নত করা হোক, সবই সমান। জাহেলি যুগে স্বামী এক বছর, দু'বছর বা তারও বেশি সময়ের জন্য স্ত্রীকে স্পর্শ কররে না বলে কসম খেতো। এর উদ্দেশ্যে হতো, স্ত্রীকে নির্যাতন করা বা ক্ষতি করা। ফলে তাকে ঝুলন্ত রেখে দেয়া হতো। সে না থাকতো স্ত্রী, না হতো তালাকপ্রাপ্তা। আল্লাহ এই ক্ষতিকর কাজটির জন্য একটা সীমা নির্ধারণের ইচ্ছা করলেন। তাই এর জন্য চার মাস মেয়াদ নির্ধারণ করলেন। এই সময় স্বামীর মেজায নরম হবে। হয়তো বা তার সুমতি ফিরে আসবে। এই সময়ের মধ্যে বা তার শেষ ভাগে যদি সুমতি ফিরে আসে, কসম ভেঙে স্ত্রীকে স্পর্শ করে এবং কসমের কাফফারা দেয়, তাহলে তো ভালো। নচেত তালাক দেবে। আল্লাহ সূরা বাকারার ২২৭ নং আয়াতে বলেন:
لِلَّذِينَ يُؤْلُونَ مِنْ نِسَائِهِمْ تَرَبُّصُ أَرْبَعَةِ أَشْهُرٍ : فَإِنْ فَاءُوْ فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ . وَإِنْ عَزَمُوا الطَّلَاقَ فَإِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ .
"যারা তাদের স্ত্রীদের সাথে ইলা করে, তাদের জন্য চার মাস অপেক্ষা করা বাঞ্ছনীয়। তারপর যদি তারা ইলা থেকে ফিরে না আসে, তবে আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াময়। আর যদি তালাক দেয়ার সংকল্প নেয়, তাহলে আল্লাহ সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ।"

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ইলার মেয়াদকাল

📄 ইলার মেয়াদকাল


আলেমগণ একমত, চার মাসের চেয়ে বেশি সময়ের জন্য স্ত্রীকে স্পর্শ না করার কসম খেলেই 'ইলা' হয়ে যাবে এবং মেয়াদটা কসম খাওয়ার মুহূর্ত থেকেই শুরু হবে। চার মাসের জন্য স্পর্শ না করার কসম খেলে কি হবে, তা নিয়ে মতভেদ হয়েছে। আবু হানিফা ও তার শিষ্যদের মতে, এতেও ইলা হবে।
অন্যদের মতে ইলা হবেনা। কেননা আল্লাহ এর জন্য চার মাস মেয়াদ নির্ধারণ করেছেন। এই মেয়াদ অতিবাহিত হওয়ার পর হয় ফিরে আসতে হবে, নচেত তালাক দিতে হবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ইলার বিধান

📄 ইলার বিধান


স্ত্রীর নিকটবর্তী হবেনা বলে কসম খাওয়ার পর চার মাসের মধ্যে স্ত্রীকে স্পর্শ করলে ইলার অবসান ঘটবে এবং কসমের কাফফারা দিতে হবে। আর যদি সহবাস ব্যতিতই মেয়াদ অতিবাহিত হয়ে যায় তাহলে অধিকাংশ আলেমের মতে, স্ত্রীর অধিকার থাকবে তার সাথে বসবাস করা অথবা তালাক দেয়ার দাবি জানানোর। কোনোটাই যদি না করে, তাহলে ইমাম মালেকের মতে, শাসক স্বামীর উপর তালাক কার্যকর করে স্ত্রীকে ক্ষতি থেকে মুক্তি দিতে পারে। আহমদ ও শাফেয়ীর মতে, আদালত স্বামীর উপর তালাক কার্যকর করার পরিবর্তে তাকে চাপ দেবে ও ততোক্ষণ আটক রাখবে, যতোক্ষণ সে স্ত্রীকে নিজে থেকে তালাক না দেয়।
হানাফিদের মতে, বিনা সহবাসে মেয়াদ অতিবাহিত হওয়ার পর আপনা থেকেই স্ত্রীর উপর এক তালাক বায়েন পড়বে। এরপর স্বামীর তালাক প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবেনা। কেননা সে বিনা ওযরে সহবাস থেকে বিরত থেকে নিজের অধিকারের অপব্যবহার করেছে। এভাবে সে তার স্ত্রীর অধিকার নষ্ট করেছে ও তার উপর যুলুম করেছে। ইমাম মালেকের মতে, স্বামী যদি সহবাস থেকে বিরত থেকে স্ত্রীর ক্ষতি করার ইচ্ছা করে থাকে, তাহলে স্বামীর উপর ইলা কার্যকরী হবে। চাই সে কসম না খাক। কেননা কসম খেলে স্ত্রীর যে ক্ষতি হয়, এ ক্ষেত্রেও সেই ক্ষতি হয়।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ইলা দ্বারা যে তালাক সংঘটিত হয়

📄 ইলা দ্বারা যে তালাক সংঘটিত হয়


ইলা দ্বারা যে তালাক সংঘটিত হয়, সেটি বায়েন তালাক। কেননা সেটি যদি রজয়ী হতো, তাহলে স্বামী স্ত্রীকে তার কাছে ফিরে আসতে বাধ্য করার সুযোগ পেতো। কারণ সেটি স্বামীর অধিকার। কিন্তু এতে স্ত্রীর স্বার্থ সংরক্ষিত হয়না এবং তার ক্ষতিও দূর হয়না। এটাই আবু হানিফার মাযহাব। পক্ষান্তরে মালেক, শাফেয়ী, সাইদ ইবনুল মুসাইয়াব ও আবু বকর বিন আব্দুর রহমানের মতে, এটি রজয়ী অর্থাৎ প্রত্যাহারযোগ্য তালাক। কারণ এটা যে বায়েন তালাক, সে ব্যাপারে কোনো প্রমাণ নেই। তাছাড়া এটা এমন স্ত্রীর তালাক, যার সাথে সহবাস করা হয়েছে এবং যাকে কোনো বিনিময় ছাড়া এবং ফিরিয়ে নেয়ার নিশ্চয়তা ছাড়া তালাক দেয়া হয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00