📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 গর্ভপাতের বিধান

📄 গর্ভপাতের বিধান


জরায়ুতে বীর্য স্থিতিশীল হওয়ার একশো বিশ দিন পর ভ্রূণ হত্যা জায়েয নেই। কেননা তখন এ কাজ প্রাণ হননের পদক্ষেপ গণ্য হবে এবং দুনিয়া ও আখেরাতে শাস্তি পাওয়ার যোগ্য হবে। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, "তোমাদের কোনো ব্যক্তি তার মায়ের পেটে চল্লিশ দিন বীর্যের আকারে সঞ্চিত থাকে, তারপর সে জমাট রক্তে পরিণত হয়, তারপর মাংসপিণ্ডে। তারপর তার ভেতরে প্রাণ সঞ্চার করা হয় এবং চারটা কথা লিখে দেয়া হয় তার জীবিকা, তার আয়ুষ্কাল, তার কার্যকলাপ এবং সে সৌভাগ্যশালী হবে অথবা দুর্ভাগা।"
একশো বিশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে গর্ভপাত বা ভ্রূণ নষ্ট করা অনিবার্য প্রয়োজনে বৈধ। কোনো বাস্তব কারণ না থাকলে, তা মাকরূহ। 'সুবুলুস সালাম' গ্রন্থের লেখক বলেন, প্রাণ সঞ্চারের পূর্বে ভ্রূণ নষ্ট করার জন্য ওষুধ প্রয়োগ জায়েয কিনা, তা আযল জাযেয় হওয়ার মতোই বিতর্কিত। যিনি আযলকে জায়েয বলেন, তিনি ওষুধ প্রয়োগকেও জায়েয বলেন। আর যিনি হারাম বলেন, তিনি এটিকে হারাম বলেন। গর্ভধারণ শুরু থেকেই রোধ করে এমন ব্যবস্থা মহিলাদের গ্রহণ করার ব্যাপারে একই বিধান প্রযোজ্য।
ইমাম গাযযালী বলেন, গর্ভপাত গর্ভে বিদ্যমান বস্তুর বিরুদ্ধে একটি অপরাধ। এর একাধিক স্তর রয়েছে। জরায়ুতে বীর্যপাত হওয়া। তা নারীর বীর্যের সাথে মিশ্রিত হওয়া, তা প্রাণ সঞ্চারের যোগ্য হওয়া, এরপর এটিকে নষ্ট করা অপরাধ। তারপর যখন জমাট রক্ত ও মাংসপিণ্ডের রূপ নেয়, তখন তা ফেলে দেয়া নিকৃষ্টতর অপরাধ। তাতে প্রাণ সঞ্চারণের পর ও পূর্ণ অবয়ব সৃষ্টির পর ফেলে দেয়া আরো বড় অপরাধ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00