📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 আযল ও জন্ম নিয়ন্ত্রণ

📄 আযল ও জন্ম নিয়ন্ত্রণ


[যৌনাংগের বাইরে বীর্যপাত করা] ইতিপূর্বে বলা হয়েছে যে, ইসলাম জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে সমর্থন করে। কেননা এটা জাতিসমূহের শক্তি ও নিরাপত্তার প্রতীক। একমাত্র জনবহুল জাতিই সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী। রসূল সা.-এর নিম্নোক্ত উক্তি এটিকে শরিয়তের দৃষ্টিতেও জরুরি সাব্যস্ত করে, “তোমরা অধিক সন্তান প্রসবিনী মমতাময়ী নারীদেরকে বিয়ে করো। কেননা কেয়ামতের দিন আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে গর্ব করবো।” তথাপি ইসলাম বিশেষ বিশেষ অবস্থায় সন্তান সংখ্যা সীমিত করতে নিষেধ করে না, চাই তা গর্ভনিরোধক ওষুধ ব্যবহার দ্বারা হোক কিংবা অন্য কোনো উপায়ে হোক।
কোনো ব্যক্তি যদি এত বেশি সন্তানের অধিকারী হয় যে, তাদেরকে সঠিকভাবে লালন পালনে সক্ষম নয়, তাহলে তার জন্য জন্ম নিয়ন্ত্রণ বৈধ। অনুরূপ, যখন স্ত্রী দুর্বল স্বাস্থ্যের অধিকারিণী হয়, কিংবা তার বিরতিহীনভাবে গর্ভধারণ করার আশংকা থাকে, অথবা স্বামী দরিদ্র হয়। এসব অবস্থায় সন্তান প্রজননকে সীমিত করা জায়েয। এমনকি কোনো কোনো আলেমের মতে, এসব অবস্থায় জন্ম নিয়ন্ত্রণ শুধু জায়েয নয় বরং মুস্তাহাব। অধিক সংখ্যক সন্তান প্রসবে স্ত্রীর সৌন্দর্যহানির আশংকা থাকলেও ইমাম গাযযালীর মতে, জন্ম নিয়ন্ত্রণ বৈধ। কিছু সংখ্যক আলেম শর্তহীনভাবে জন্ম নিয়ন্ত্রণ বৈধ বলে রায় দিয়েছেন। তাদের প্রমাণ নিম্নরূপ:
১. বুখারি ও মুসলিম জাবের রা. থেকে বর্ণনা করেন: “আমরা রসূল সা.-এর আমলে কুরআন নাযিল হতে থাকা অবস্থায় আযল করতাম।
২. জাবের থেকে মুসলিম বর্ণনা করেন: "আমরা রসূল সা.-এর আমলে আযল করতাম। এটা জেনেও রসূল সা. আমাদের নিষেধ করেননি।"
ইমাম শাফেয়ী বলেছেন, আমরা বেশ কয়েকজন সাহাবি সম্পর্কে জেনেছি যে, তারা এর অনুমতি দিয়েছেন এবং এতে কোনো আপত্তি করেননি। বায়হাকি বলেছেন, সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস, আবু আইয়ুব আনসারি, যায়দ বিন ছাবেত, ইবনে আব্বাস প্রমুখ আযলকে জায়েয মনে করতেন। এটা মালেক ও শাফেয়ীর মত। উমর ও আলী রা. একমত ছিলেন যে, গর্ভস্থ ভ্রূণ সাতটি পর্যায় অতিক্রম না করলে তা নষ্ট করাকে শিশু হত্যা বলা যাবেনা। কাযী আবু ইয়ালা বর্ণনা করেছেন, উমরের নিকট আলী, যুবায়ের ও সাদসহ কতিপয় সাহাবি বসেছিলেন এবং আযল সম্পর্কে কথা বলছিলেন। তারা সবাই বলেন, এতে কোনো বাধা নেই। এক ব্যক্তি বললো, কেউ কেউ তো একে ছোট আকারের শিশু হত্যা বলে আখ্যা দিচ্ছে। আলী রা. মত দিলেন, শিশু হত্যা গণ্য হবে কেবল সাতটি স্তর অতিক্রম করার পর হত্যা করলে প্রথমে কাদামাটি, তারপর বীর্য, তারপর মাটিরক্ত, তারপর গোশতের টুকরো, তারপর হাড়গোড়, তারপর গোশত, তারপর পূর্ণাঙ্গ অবয়ব। উমর রা. বললেন, আপনি ঠিক বলেছেন, আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘজীবী করুন। যাহেরী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, গর্ভনিরোধ সম্পূর্ণরূপে হারাম। কেননা জুয়াসা বিনতে ওহাব বর্ণনা করেছেন : "একজন লোক রসূল সা. কে জিজ্ঞাসা করলো আযল কেমন? তিনি জবাব দিলেন, এটা গোপন শিশু হত্যা।"
ইমাম গাযযালী এই প্রমাণ খণ্ডন করে বলেন, একাধিক সহীহ হাদিস থেকে আযল বৈধ প্রমাণিত হয়। উল্লিখিত হাদিসে "গোপন শিশু হত্যা" কথাটা "গোপন শিরক" এর সাথে তুলনীয়। এ দ্বারা মাকরূহ প্রমাণিত হয়, হারাম প্রমাণিত হয়না। আর মাকরূহ অর্থ হচ্ছে অপছন্দনীয়। হানাফিদের কেউ কেউ মনে করেন, স্ত্রী অনুমতি দিলে আযল জায়েয, অন্যথায় মাকরূহ।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 গর্ভপাতের বিধান

📄 গর্ভপাতের বিধান


জরায়ুতে বীর্য স্থিতিশীল হওয়ার একশো বিশ দিন পর ভ্রূণ হত্যা জায়েয নেই। কেননা তখন এ কাজ প্রাণ হননের পদক্ষেপ গণ্য হবে এবং দুনিয়া ও আখেরাতে শাস্তি পাওয়ার যোগ্য হবে। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, "তোমাদের কোনো ব্যক্তি তার মায়ের পেটে চল্লিশ দিন বীর্যের আকারে সঞ্চিত থাকে, তারপর সে জমাট রক্তে পরিণত হয়, তারপর মাংসপিণ্ডে। তারপর তার ভেতরে প্রাণ সঞ্চার করা হয় এবং চারটা কথা লিখে দেয়া হয় তার জীবিকা, তার আয়ুষ্কাল, তার কার্যকলাপ এবং সে সৌভাগ্যশালী হবে অথবা দুর্ভাগা।"
একশো বিশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে গর্ভপাত বা ভ্রূণ নষ্ট করা অনিবার্য প্রয়োজনে বৈধ। কোনো বাস্তব কারণ না থাকলে, তা মাকরূহ। 'সুবুলুস সালাম' গ্রন্থের লেখক বলেন, প্রাণ সঞ্চারের পূর্বে ভ্রূণ নষ্ট করার জন্য ওষুধ প্রয়োগ জায়েয কিনা, তা আযল জাযেয় হওয়ার মতোই বিতর্কিত। যিনি আযলকে জায়েয বলেন, তিনি ওষুধ প্রয়োগকেও জায়েয বলেন। আর যিনি হারাম বলেন, তিনি এটিকে হারাম বলেন। গর্ভধারণ শুরু থেকেই রোধ করে এমন ব্যবস্থা মহিলাদের গ্রহণ করার ব্যাপারে একই বিধান প্রযোজ্য।
ইমাম গাযযালী বলেন, গর্ভপাত গর্ভে বিদ্যমান বস্তুর বিরুদ্ধে একটি অপরাধ। এর একাধিক স্তর রয়েছে। জরায়ুতে বীর্যপাত হওয়া। তা নারীর বীর্যের সাথে মিশ্রিত হওয়া, তা প্রাণ সঞ্চারের যোগ্য হওয়া, এরপর এটিকে নষ্ট করা অপরাধ। তারপর যখন জমাট রক্ত ও মাংসপিণ্ডের রূপ নেয়, তখন তা ফেলে দেয়া নিকৃষ্টতর অপরাধ। তাতে প্রাণ সঞ্চারণের পর ও পূর্ণ অবয়ব সৃষ্টির পর ফেলে দেয়া আরো বড় অপরাধ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00