📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 সহবাসের সময় পুরোপুরি নগ্ন না হওয়া চাই

📄 সহবাসের সময় পুরোপুরি নগ্ন না হওয়া চাই


ইসলাম সকল অবস্থায় সতর ঢেকে রাখার আদেশ দিয়েছে একমাত্র সেই অবস্থা ব্যতিত, যখন সতর খোলার প্রয়োজন হয়। বাহয বিন হাকিমের দাদা রাসূল সা.কে জিজ্ঞাসা করলেন, "হে রসূলুল্লাহ, আমাদের শরীরের গোপনীয় অংশের কতোটুকু ঢাকবো আর কতোটুকু খুলবো? তিনি বললেন, তোমার স্ত্রী বা বাদী ব্যতিত আর সবার দৃষ্টি থেকে শরীরের গোপন অংশ লুকিয়ে রাখো। পুনরায় জিজ্ঞাসা করা হলো, হে রসূলুল্লাহ, যখন একজন আর একজনের সাথে সংগমরত হয় তখন? রসূল সা. বললেন, যদি গুপ্ত অংগ না দেখে পারা যায় তবে যেন না দেখে। আবার জিজ্ঞাসা করা হলো, যখন আমাদের কেউ একেবারেই নির্জন স্থানে অবস্থান করে? রসূল সা. বললেন, মানুষের চেয়ে আল্লাহ থেকে বেশি লজ্জা করা উচিত।” (তিরমিযি)
সহবাসের সময় সতর খোলা জায়েয। কিন্তু তা রসূল সা. বলেছেন, সহবাসের সময় স্বামী স্ত্রীর পুরোপুরি নগ্ন হওয়া উচিত নয়। উতবা বিন আবদ সুলাইমি থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, তোমরা যখন স্ত্রীর সাথে সংগম করো তখন যথাসম্ভব সতর ঢাকো এবং গাধা গাধীর মতো উলংগ হয়ো না। (ইবনে মাজাহ)। ইবনে উমর রা. বর্ণনা করেন: রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, সাবধান, নগ্ন হয়োনা। কেননা তোমাদের সাথে এমন ফেরেশতা রয়েছেন, যারা কখনো তোমাদেরকে ছেড়ে যাননা একমাত্র পেশাব পায়খানা করার সময় ব্যতিত এবং স্ত্রী সংগমের সময় ব্যতিত। সুতরাং তোমরা তাদের থেকে লজ্জা করো এবং তাদেরকে সম্মান করো (তিরমিযি)। আয়েশা রা. বলেছেন, রসূল সা. কখনো আমার দেহের গুপ্তাংশ দেখেননি, আর আমিও তার দেহের গুপ্তাংশ দেখিনি।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 সহবাসের সময় বিসমিল্লাহ্ বলা

📄 সহবাসের সময় বিসমিল্লাহ্ বলা


সহবাসের সময় আউযুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়া সুন্নত। বুখারি ও মুসলিম ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন: بِسْمِ الله ... اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ، وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا .
রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: তোমাদের কোনো ব্যক্তি স্ত্রী সহবাসে লিপ্ত হওয়ার প্রাক্কালে যদি বিসমিল্লাহির রাহমানির রহীম, আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শায়তান ওয়া জান্নিবিশ শয়তানা মা রযাকতানা" (পরম দাতা ও দয়ালু আল্লাহর নামে, হে আল্লাহ আমাদেরকে শয়তান থেকে দূরে রাখো এবং আমাদের ভাবি সন্তান থেকে শয়তানকে দূরে রাখো) তাহলে সেই সহবাসের ফলে তাদের দু'জনের জন্য যদি কোনো সন্তান বরাদ্দ করা হয়, তাহলে শয়তান সেখানে সেই সন্তানের ক্ষতি করতে পারবেনা।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 সহবাস চলাকালে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সহবাস সংক্রান্ত বাক্যালাপ

📄 সহবাস চলাকালে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সহবাস সংক্রান্ত বাক্যালাপ


সহবাসের বিষয় আলোচনা করা ও অন্যদেরকে জানানো শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং একেবারেই নিরর্থক ও নিষ্প্রয়োজন। এ বিষয়ে কিছু বলার একান্ত প্রয়োজন দেখা না দিলে এটা পরিহার করাই বাঞ্ছনীয়। সহীহ হাদিসে রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, নিষ্প্রয়োজনীয় জিনিস পরিহার করা ইসলামের সৌন্দর্যের অংশ। আল্লাহ তায়ালাও বেহুদা ও নিষ্প্রয়োজন জিনিস পরিহারকারীদের প্রশংসা করেছেন
وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ "(মুক্তি পাবে তারাও) যারা বেহুদা কাজ ও কথা পরিহার করে।" (সূরা মুমিনুন: ৩)
অবশ্য এ বিষয়ে কাউকে কিছু বলা অনিবার্য হয়ে পড়লে তাতে দোষ নেই। জনৈকা মহিলা রসূল সা.-এর নিকট অভিযোগ করেছিল যে, তার স্বামী তার সাথে সহবাসে অক্ষম। তখন তার স্বামী বললো, “হে রসূলুল্লাহ, আমি তাকে পাকা চামড়া যেভাবে ঝাঁকানো হয় সেভাবে ঝাঁকাই।" তবে স্বামী বা স্ত্রী যখন সহবাসের বিস্তারিত বিবরণকে অত্যাবশ্যক পর্যায়ের চেয়ে বেশি সম্প্রসারিত করে এবং উভয়ের মধ্যকার গোপন কাজের খুঁটিনাটি প্রকাশ করে, তখন তা হারাম কাজ হয়ে যায়। আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, কেয়ামতের দিন আল্লার দৃষ্টিতে খারাপ বিবেচিত হবে সেই ব্যক্তি, যে তার স্ত্রীর সাথে গোপনে মিলিত হয় এবং স্ত্রীও তার সাথে গোপনে মিলিত হয়, অতপর সেই গোপন মিলনের কথা জনসমক্ষে প্রকাশ করে।” (আহমদ) আর আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সা. নামায পড়ালেন। সালাম ফেরানোর পর নামাযীদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসে বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন পুরুষ কেউ আছে কি, যে তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করতে গিয়ে দরজা বন্ধ করে ও সতর খোলে, তারপর বের হয়ে লোকজনকে বলে, “আমার স্ত্রীর সাথে এরূপ এরূপ করছি" লোকেরা চুপ থাকলো। এরপর তিনি মহিলাদের দিকে মুখ ফেরালেন এবং বললেন, তোমাদের মধ্যে কোনো মহিলা এমন আছে কি যে এসব কথা প্রকাশ করে? তখন জনৈকা যুবতী হাঁটুর উপর ভর করে ঘাড় উঁচু করে মাথা তুলতে লাগলো, যাতে রসূল সা. তাকে দেখতে পান ও তার কথা শুনতে পান। সে বললো, জ্বি, আল্লাহর কসম, পুরুষরাও এসব বিষয়ে কথা বলেন, মহিলারাও বলে। রসূলুল্লাহ সা. বললেন, "তোমরা জানো, যারা এ রকম করে, তাদের উদাহরণ কী? যারা এ ধরনের কাজ করে তারা সেই শয়তান পুরুষ ও শয়তান মহিলার মতো, যাদের একটা সড়কের উপর পরস্পরের সাক্ষাৎ হয়, আর তখনই জনতার চোখের সামনেই পুরুষটি মহিলারটির সাথে নিজের লালসা চরিতার্থ করে।” (আহমদ, আবু দাউদ)

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 অস্বাভাবিক পন্থায় যৌন লালসা চরিতার্থ করা

📄 অস্বাভাবিক পন্থায় যৌন লালসা চরিতার্থ করা


নারীর মলদ্বারে সহবাস করা অত্যন্ত ঘৃণ্য, স্বভাব বিরুদ্ধ ও হারাম কাজ। আল্লাহ বলেন:
নِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ . "তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্রস্বরূপ। কাজেই তোমাদের ক্ষেতে তোমরা যেভাবে ইচ্ছা যেতে পারো।" শস্য ক্ষেত বলা হয় সেই ভূমিকে যাতে চাষ করা হয় ও বীজ বোনা হয়। (সূরা বাকারা, ২২৩)। এখানে, শস্যক্ষেত দ্বারা সন্তান প্রজননের ক্ষেত্র বুঝানো হয়েছে। আর শস্যক্ষেতে যাওয়ার আদেশ দ্বারা স্পষ্টতই নারীর যৌনাঙ্গে সহবাস বুঝানো হয়েছে। কেননা একমাত্র যোনিপথ দিয়েই সন্তান প্রজনন সম্ভব। আরব কবি বলেন:
"জরায়ু আমাদের জন্য শস্যক্ষেত। সেখানে চাষ করাই আমাদের কর্তব্য। আর ফসল ফলানো আল্লাহর কাজ।” উল্লিখিত আয়াত নাযিল হওয়ার উপলক্ষ প্রসংঙ্গে বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে: “রসূলুল্লাহ সা. এর আমালে ইহুদীরা ধারণা করতো যে, স্বামী যদি স্ত্রীর পশ্চাতদিক থেকে যৌনাংগে সংগম করে, তবে সন্তান টেরাচোখা হয়। এ ব্যাপারে আনসারগণ ইহুদীদের অনুসরণ করতো। এজন্য আল্লাহ নাযিল করলেন, তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত। কাজেই তোমাদের শস্যক্ষেতে তোমরা যেভাবে ইচ্ছা যাও।” অর্থাৎ সন্তান উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে যৌনাংগে সংগম করলেই হলো, তা যেভাবেই হোক।
মলদ্বারে সংগম করায় নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত একাধিক হাদিস এসেছে। আহমদ, তিরমিযি ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেন: রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, "নারীদের মলদ্বারে সংগম করোনা।” রসূল সা. আরো বলেছেন, মলদ্বারে সংগম লুত আ. এর জাতির কাজ।” আহমদ আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ, আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন: রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর মলদ্বারে সংগম করে সে অভিশপ্ত।”
ইবনে তাইমিয়া বলেছেন, স্বামী যখন স্ত্রীর মলদ্বারে সংগম করে আর স্ত্রী তাতে স্বামীর আনুগত্য করে, তখন উভয়কেই শাস্তি দেয়া হবে। নচেত উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00