📘 ফিকাহুস সুন্নাহ 📄 ইদ্দত পালনরত স্ত্রীর ভরণপোষণ

📄 ইদ্দত পালনরত স্ত্রীর ভরণপোষণ


রজয়ী তালাকোত্তর ইদ্দত ও গর্ভবতী অবস্থায় ইদ্দত পালনকারিণীর ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কেননা আল্লাহ রজয়ী তালাকপ্রাপ্তাদের সম্পর্কে বলেন:
اسْكُنُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ سَكَنْتُم مِّن وُّجَدِكُمْ . অর্থ: তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী যেরূপ গৃহে তোমরা বাস করো, তোমাদের তালাক দেয়া স্ত্রীদেরকেও সেরূপ গৃহে বাস করতে দিও।" (সূরা তালাক, আয়াত ৬) আর গর্ভবতীদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন: وَإِنْ كُنَّ أُولَاتِ حَمْلٍ فَأَنْفِقُوا عَلَيْهِنَّ حَتَّى يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ.
অর্থ: আর যদি তারা গর্ভবতী হয়, তবে তাদের সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত তাদের ভরণপোষণ দাও।” (সূরা তালাক: আয়াত ৬)
এ আয়াত প্রমাণ করে, গর্ভবতীকে ভরণপোষণ দেয়া ওয়াজিব, চাই সে রজয়ী তালাকজনিত ইদ্দতে থাকুক, বায়েন তালাক জনিত ইদ্দতে থাকুক, কিংবা মৃত্যুজনিত ইদ্দতে থাকুক। বায়েন তালাকজনিত ইদ্দত পালনকারিণী অগর্ভবতীর ব্যাপারে তিন ধরনের মতামত রয়েছে:
১. বাসস্থান দিতে হবে, কিন্তু ভরণপোষণ দিতে হবেনা। এটা ইমাম মালেক ও শাফেয়ীর অভিমত। তাদের প্রমাণ সূরা তালাকের উপরোক্ত ৬ নং আয়াত।
২. তাকে বাসস্থান ও ভরণপোষণ দুটোই দিতে হবে। এটা উমর ইবনুল খাত্তাব, উমর ইবনে আব্দুল আযীয, ছাওরী ও হানাফি মাযহাবের অভিমত। কেননা সূরা তালাকের উক্ত ৬ নং আয়াতে সকল ধরনের তালাকপ্রাপ্তাকে বাসস্থান সুবিধা দেয়া ওয়াজিব বলা হয়েছে। আর বাসস্থান সুবিধা দেয়া যেখানে ওয়াজিব, সেখানে ভরণপোষণ দেয়াও আনুষঙ্গিকভাবে ওয়াজিব। এটা রজয়ী তালাক, গর্ভীবতীর তালাক ও স্বয়ং স্ত্রীর জন্যও ওয়াজিব। উমর রা. ও আয়েশা রা. উভয়ে ফাতিমা বিনতে কায়েস রা. কর্তৃক বর্ণিত হাদিসকে অস্বীকার করে বলেছিলেন, "আমরা একজন মহিলার কথার জন্য আল্লাহর কিতাব ও রসূল সা.-এর সুন্নতকে ত্যাগ করবোনা। এই মহিলা রসূল সা.-এর কথা সঠিকভাবে মনে রেখেছেন না ভুলে গেছেন, তা আমরা জানিনা।” তারপর ফাতিমা যখন এই কথা জানতে পারলেন তখন বললেন: "আমার ও তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব ফায়সালা করবে। আল্লাহ বলেন: فَطَلِقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ وَأَحْصُوا الْعِدَّةَ : وَاتَّقُوا اللهَ رَبَّكُمْ : لَا تُخْرِجُوهُنَّ مِنْ بُيُوتِهِنَّ وَلَا يَخْرُجْنَ إِلَّا أَنْ يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ ، وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ ، وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ ، لَا تَدْرِي لَعَلَّ اللَّهَ يُحْدِيثُ بَعْدَ ذَلِكَ أَمْرًاه
অর্থ: যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দিতে চাও, তখন তাদের ইদ্দতের উদ্দেশ্যে তালাক দিও এবং ইদ্দত গণনা করো। তোমাদের পালনকর্তা আল্লাহকে তোমরা ভয় করো। তোমরা তাদেরকে তাদের বাসগৃহ থেকে বের করে দিওনা এবং তারাও যেন বের না হয়, যদি তারা কোনো স্পষ্ট অশ্লীলতায় লিপ্ত না হয়। এগুলো আল্লাহর বিধান। যে কেউ আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন করে, সে তো নিজের উপরই যুলুম করে। তুমি জাননা, হয়তো আল্লাহ এরপর কোনো নতুন উপায় করে দিবেন।"
প্রশ্ন হলো, তিন তালাকের পর আর কী উপায় বেরিয়ে আসবে?"
৩. আহমদ, দাউদ, আবু সাওর, ইসহাক, আলী ইবনে আব্বাস, জাবের, হাসান, আতা, শাবী, ইবনে আবি লায়লা, আওযায়ি ও ইমামিয়া শীয়া মাযহাবের মতে, সে ভরণপোষণ ও বাসস্থান কোনোটাই পারেনা। তাদের প্রমাণ বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত হাদিস: ফাতিমা বিনতে কায়েস বলেন বা "আমার স্বামী রসূল সা.-এর আমলে আমাকে তিন তালাক দিলো এবং সে আমাকে কোনো বাসস্থানও দিলনা, ভরণপোষণওনা।” কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে: রসূল সা. বলেছেন: "যে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার সুযোগ তার স্বামীর রয়েছে, সে- বাসস্থানের সুবিধা ও ভরণপোষণ পাবে।" আর আহমদ, মুসলিম, আবু দাউদ ও নাসায়ী বর্ণনা করেন রসূল সা. ফাতেমা বিনতে কায়েসকে বলেছেন: "তুমি গর্ভবতী না হলে ভরণপোষণ পাবেনা।"

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ 📄 প্রবাসী স্ত্রীর ভরণপোষণ

📄 প্রবাসী স্ত্রীর ভরণপোষণ


মিশরীয় আইনের ১৯২০ সালের ২৫(৫) নং ধারায় রয়েছে: "স্বামী যখন অনুপস্থিত থাকে, কিন্তু নিকটেই কোথাও থাকে, তখন তার যদি প্রকাশ্য কোনো সম্পদ থেকে থাকে, তবে তার সেই সম্পদ থেকে স্ত্রীর ভরণপোষণ দেয়া হবে। আর প্রকাশ্য কোনো সম্পদ না থাকলে আদালত প্রচলিত পন্থায় তাকে কারণ দর্শানের নোটিশ দিবে ও তাকে নির্দিষ্ট সময় দেবে। কিন্তু সে যদি ঐ সময়ের মধ্যে স্ত্রীকে প্রয়োজনীয় ভরণপোষণ না দেয়, তবে সেই সময় অতিবাহিত হওয়ার পর আদালত স্বামীর বিরুদ্ধে তালাক জারি করবে। কিন্তু অনুপস্থিত স্বামী যদি এত দূরে থাকে যে, তার কাছে পৌঁছা সহজ নয়, যেমন তার অবস্থানস্থল অপরিচিত অথবা সে নিরুদ্দেশ এবং প্রমাণিত হয় যে, তার এমন কোনো সম্পদ নেই, যা থেকে স্ত্রী নিজের জন্য ব্যয় করবে, তাহলে আদালত উক্ত স্বামীকে তালাক দেবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px