📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ভরণপোষণের দায় একটা বৈধ ঋণ এবং তার জন্য স্বামী দায়ী

📄 ভরণপোষণের দায় একটা বৈধ ঋণ এবং তার জন্য স্বামী দায়ী


যেহেতু পূর্বে বর্ণিত শর্তাবলী সাপেক্ষে স্ত্রীর ভরণপোষণ স্বামীর উপর ওয়াজিব এবং নির্দিষ্ট কারণসমূহ ও শর্তাবলীর উপস্থিতিতে স্ত্রীর ভরণপোষণ স্বামীর উপর ওয়াজিব হওয়ার পর স্বামী যদি তা না দেয়, তবে সেটি তার ঋণ গণ্য হবে। অন্যান্য ঋণের মতোই এ ঋণ হয় পরিশোধ করতে হবে, নয়তো স্ত্রীর পক্ষ থেকে দায়মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এ ঋণ থেকে সে মুক্ত হবেনা। এটাই শাফেয়ী মাযহাবের মত। মিশরে ১৯২০ সালের ১৫ নং আইন জারি হওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি সেটাই অনুসৃত হয়ে আসছে। ঐ আইনে বলা হয়েছে:
ধারা ১: কোনো স্ত্রী তার স্বামীর নিকট নিজেকে সঁপে দেয়ার পর তার ভরণপোষণের ব্যয় স্বামীর ঋণ গণ্য হবে। স্বামীর উপর এই ভরণপোষণের দায় অর্পিত হওয়া সত্ত্বেও সে তা দেয়া থেকে বিরত হওয়ার সময় থেকেই এটা ঋণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ঋণ কোনো আদালতের রায় কিংবা দু'পক্ষের সম্মতির উপর নির্ভরশীল থাকবেনা। এ ঋণ যতক্ষণ পরিশোধ না করা হবে কিংবা স্ত্রী স্বামীকে দায়মুক্ত না করবে, ততোক্ষণ বহাল থাকবে।
ধারা ২: যে তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী ভরণপোষণের হকদার, তার ভরণপোষণও ঋণরূপে গণ্য হবে এবং তা তালাক প্রদানের তারিখ থেকেই, ঠিক যেরূপ পূর্বোক্ত ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে। যে কর্তৃপক্ষ থেকে উল্লিখিত আইন জারি হয়েছে, সেখান থেকে (অর্থাৎ আইন মন্ত্রণালয় থেকে একই সাথে আরো কিছু বিধি জারি হয়েছে। সেগুলো নিম্নরূপ:
১. স্ত্রী বা তালাকপ্রাপ্তরা খোরপোষ স্বামীর নিকট ঋণ হিসেবে প্রাপ্য গণ্য হওয়ার জন্য আদালতের ফায়সালা বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের শর্ত নয়। বরং যে মুহূর্তে তা স্বামীর নিকট প্রাপ্য হবে এবং স্বামী তা দেয়া থেকে বিরত থাকবে, সেই মুহূর্ত থেকেই তা ঋণ হিসেবে গণ্য হবে।
২. খোরপোষের ঋণ সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ ঋণ এবং তা পরিশোধ করা অথবা দায়মুক্ত করা ছাড়া রোহিত হয়না।
এই দুটি বিধি থেকে নিম্নোক্ত উপবিধিগুলো গঠিত হয়:
১. স্ত্রী বা তালাকপ্রাপ্তা আদালতে স্বামীর কাছ থেকে নিজের ভরণপোষণ আদায়ের আবেদন জানাতে পারবে এবং আবেদন জানানোর পূর্ব থেকেই তা আমলে আসবে, চাই তা এক মাসের চেয়ে বেশি হোক না কেন। স্ত্রী যদি জানায় যে, তার স্বামী তাকে ভরণপোষণ ছাড়াই ফেলে রেখেছে, অথচ এই সময়ে তার উপর তার ভরণপোষণ দেয়ার দায়িত্ব ছিলো, তাহলে সময়টা লম্বা হোক বা খাট হোক, তার দাবি গোটা সময়ের জন্য প্রযোজ্য হবে। স্ত্রী বা তালাকপ্রাপ্তার এ দাবি যখন যে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ দ্বারা প্রমাণিত হবে, এমনকি তা যদি ১৭৮ ধারায় বিধিবদ্ধ তদন্ত সাপেক্ষের দ্বারাও প্রমাণিত হয়, তবে সে যা চেয়েছে, তা দেয়ার আদেশ দেয়া হবে।
২. ভরণপোষণের ঋণ স্বামী স্ত্রীর যে কোনো একজন মারা গেলেও রহিত হয়না। তালাক দ্বারাও রহিত হয়না, চাই তা খুলা তালাকই হোক না কেন। তালাক যে ধরনেরই পেয়ে থাকুক না কেন, প্রাপ্য ভরণপোষণের যেটুকু দাম্পত্য সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় অনাদায়ী রয়েছে তালাকপ্রাপ্তা তা পাওয়ার হকদার, যতোক্ষণ না সেই ভরণপোষণ তালাক বা খুলার বিনিময়ে পরিণত না হয়।
৩. স্বামীর প্রতি স্ত্রীর সাময়িক অবাধ্যতা অনাদায়ী ভরণপোষণকে রহিত করেনা। স্থায়ী অবাধ্যতাই কেবল ভরণপোষণের দায় থেকে ততোক্ষণ স্বামীকে অব্যাহতি দেয়া, যতক্ষণ সে অবাধ্য থাকে, চাই তা স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবন চলাকালে হোক, কিংবা ইদ্দতদালে হোক। এই আইন জারি হওয়ার পর কোনো কোনো স্ত্রী এর সুযোগ গ্রহণ করে ভরণপোষণ দাবি করা থেকে বিরত থাকে, যাতে তা থেকে সময়ের ব্যবধানে একটা মোটা দাগের অর্থ সঞ্চিত হয়। অতপর সেই অনাদায়ী ভরণপোষণের সম্পূর্ণটাই স্বামীর কাছ থেকে এক সাথে দাবি করে। এতে স্বামী কঠিন চাপের শিকার হয় এবং তার ঘাড়ে বড় রকমের বোঝা চাপে। এ কারণে স্বামীদের সমস্যা লাঘবের জন্য উপায় খোঁজা হয়। অবশেষে ১৯৩১ সালের ৭৮ নং আইনের ৯৯ ধারার ৬ নং অনুচ্ছেদে শরীয়া আদালতসমূহের ধারাবাহিক বিধিমালা জারি হয়। তাতে বলা হয় : "দাবি পেশের তারিখ থেকে তিন বছরের চেয়ে আগের কোনো দাবি গৃহীত হবেনা।" এই আইনের অধিকতর ব্যাখ্যা সম্বলিত স্মারকে এই অনুচ্ছেদ সম্পর্কে বলা হয়েছে : "অতীত সময়ের বাবদে যে ভরণপোষণ পাওনা রয়েছে। সে ব্যাপারে বিচার বিভাগীয় বিশেষ ক্ষমতা বিধির অধীন এই মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, খৃস্টীয় তিন বছরের চেয়ে বেশি সময়ের ভরণপোষণের দাবি বিবেচিত হবে না এবং তার সর্বশেষ সময় হচ্ছে দাবি নিবন্ধিত হওয়ার তারিখ। যেহেতু উপস্থাপনের পূর্ববর্তী একটা নির্দিষ্ট সময় বাবদ পাওনা অনাদায়ী ভরণপোষণের দাবি জানানোর শর্তহীন ও অবাধ অনুমতি থাকার কারণে এক সাথে কয়েক বছরের ভরণপোষণের দাবি জানানোর মাধ্যমে দায়ী স্বামীর উপর অতিমাত্রায় বোঝা চাপানোর আশংকা সৃষ্টি হয়, সেহেতু ভরণপোষণের হকদারকে এক এক বছর করে এমনভাবে ভরণপোষণের দাবি জানাতে বাধ্য করা ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রয়োজন মনে করা হয়, যাতে তিন বছরের চেয়ে বেশি বিলম্বিত না হয়। এর অন্যথা হলে দাবি বিবেচনা করতে অস্বীকার করা হবে মর্মে বিধি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দাবিদারকে পর্যায়ক্রমে এক এক বছরের দাবি জানাতে বাধ্য করা হয়। এতে ভরণপোষণের হকদারের কোনো ক্ষতিও নেই। কেননা তিন বছর অতিবাহিত হবার আগেই সে তার পাওনার দাবি পেশ করার সুযোগ পাচ্ছে। এ আইনের প্রয়োগ এখনো পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ভরণপোষণের ঋণ থেকে অব্যাহতি ও তা কেটে নেয়ার নিয়ম

📄 ভরণপোষণের ঋণ থেকে অব্যাহতি ও তা কেটে নেয়ার নিয়ম


যেহেতু স্ত্রীর প্রাপ্য ভরণপোষণ বা খোরপোষ স্বামীর নিকট স্ত্রীর প্রাপ্য ঋণ হিসেবে বিবেচিত এবং যে মুহূর্ত থেকে স্বামী তা দেয়া থেকে বিরত রয়েছে সেই সময় থেকেই এটা ঋণের দায় হিসেবে তার উপর বহাল রয়েছে, সেহেতু স্ত্রী ইচ্ছা করলে স্বামীকে এই ঋণ থেকে পুরোপুরি বা আংশিক অব্যাহতি বা দায়মুক্তি দিতে পারে। কিন্তু ভবিষ্যতে তার যে ভরণপোষণ পাওনা হবে তা থেকে আগাম দায়মুক্তি ঘোষণা করলে, সে ঘোষণা শুদ্ধ ও বৈধ হবেনা। কেননা তা এখনো ঋণে পরিণত হয়নি। আর দায়মুক্তি কেবল সেই ঋণ থেকেই দেয়া যায়, যা কার্যত ঋণে পরিণত ও ঋণ হিসেবে প্রাপ্য হয়েছে। তবে যদি ভরণপোষণ মাসিক বা অনুরূপ কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ বাবদ দেয়া স্থির হয়ে থাকে, তাহলে আগামী এক মাস বা এক বছরের জন্য আগাম দায়মুক্তি দেয়া যাবে।
আর যখন ভরণপোষণ বৈধ ঋণ হিসেবে গণ্য হয়, যা পরিশোধ করা বা ছেড়ে দেয়া ব্যতিত রহিত হয়না। অথচ একই সময়ে স্ত্রীর নিকট স্বামীর প্রাপ্য কোনো ঋণ থাকে এবং দুজনের যে কোনো একজন উভয় ঋণের কাটাকাটি করার দাবি জানায়, তখন এ দাবি মেনে নিয়ে উভয় ঋণকে সমপর্যায়ে আনা হবে। কাটাকাটির বিষয়ে হাম্বলীদের একটা ভিন্ন মত রয়েছে। তারা স্ত্রীর সচ্ছলতা ও অসচ্ছলতায় পার্থক্য করে। স্ত্রী যদি সচ্ছল হয়, তবে স্বামী তার প্রাপ্য ভরণপোষণের বিনিময়ে নিজের পাওনা ঋণ তার কাছ থেকে আদায় করতে পারে। কেননা যার কাছে কারো কোনো হক পাওনা থাকে, সে তার যে কোনো সম্পদ থেকে সেই পাওনা পরিশোধ করতে পারে। এখানে স্ত্রীর কাছে তার পাওনা ঋণের অর্থও তার সম্পদ। আর যদি স্ত্রী অসচ্ছল হয়, তবে স্বামী তার ভরণপোষণের বিনিময়ে তার কাছ থেকে নিজের প্রাপ্য ঋণ আদায় করতে পারবেনা। কেননা ঋণ পরিশোধ শুধু জীবন বাঁচানোর জন্য যা অত্যাবশ্যকীয়, তার অতিরিক্ত সম্পদ থেকেই করা ওয়াজিব। স্বামীর যে ঋণ তার কাছে প্রাপ্য, তা তার অত্যাবশ্যকীয় সম্পদের অতিরিক্ত নয়। তাছাড়া আল্লাহ তো অসচ্ছল ব্যক্তিকে অবকাশ দানের আদেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেছেন: وَإِنْ كَانَ ذُو عُسْرَةٍ فَنَظِرَةٌ إِلَى مَيْسَرَةِ . "যদি সে অসচ্ছল হয়, তাহলে তার সচ্ছল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা বাঞ্ছনীয়।” (সূরা আল বাকারা: আয়াত ২৮০)

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 অপ্রাপ্ত বয়স্কার ভরণপোষণ প্রদান ও তারপর স্ত্রীর ভরণপোষণের অযোগ্য হওয়া

📄 অপ্রাপ্ত বয়স্কার ভরণপোষণ প্রদান ও তারপর স্ত্রীর ভরণপোষণের অযোগ্য হওয়া


স্বামী যখন স্ত্রীকে অগ্রিম এক মাস বা এক বছর বা অনুরূপ কোনো মেয়াদের জন্য ভরণপোষণ দিয়ে দেয়, অতপর এমন কিছু ঘটে, যার কারণে স্ত্রী ভরণপোষণের অযোগ্য হয়ে যায়, যেমন স্বামী স্ত্রীর একজন মারা গেলো অথবা স্ত্রী স্বামীর অবাধ্য হলো, তাহলে স্বামী অবশিষ্ট মেয়াদের ভরণপোষণ স্ত্রীর কাছ থেকে ফেরত নিতে পারবে, যে মেয়াদের জন্য তার ভরণপোষণ প্রাপ্য হয়না। কেননা স্ত্রী ঐ ভরণপোষণ গ্রহণ করেছে স্বামীর স্বার্থে নিজেকে তার নিকট আটক রাখার বিনিময়ে। আর মৃত্যু বা অবাধ্যতার কারণে যখন সেই আটকাবস্থার অবসান ঘটেছে, তখন তাকে যে ভরণপোষণ অগ্রিম দেয়া হয়েছে, তার অবশিষ্টাংশ বাবদ প্রদত্ত ভরণপোষণ তার ফেরত দেয়া উচিত। এটাই ইমাম শাফেয়ী ও মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের মত।
ইমাম আবু হানিফা ও আবু ইউসুফের অভিমত এই যে, অগ্রিম দেয়া ভরণপোষণের কোনো অংশই স্বামী ফেরত নিতে পারবেনা। কেননা ভরণপোষণ যদিও আটকাবস্থার বদলা, তথাপি তাতে সৌজন্যমূলক দানের সাদৃশ্য রয়েছে, যা স্ত্রী হস্তগত করেছে। অথচ স্বামী স্ত্রীর মধ্যে লেনদেনকৃত সৌজন্যমূলক দান কখনো ফেরত নেয়া যায়না।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ইদ্দত পালনরত স্ত্রীর ভরণপোষণ

📄 ইদ্দত পালনরত স্ত্রীর ভরণপোষণ


রজয়ী তালাকোত্তর ইদ্দত ও গর্ভবতী অবস্থায় ইদ্দত পালনকারিণীর ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কেননা আল্লাহ রজয়ী তালাকপ্রাপ্তাদের সম্পর্কে বলেন:
اسْكُنُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ سَكَنْتُم مِّن وُّجَدِكُمْ . অর্থ: তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী যেরূপ গৃহে তোমরা বাস করো, তোমাদের তালাক দেয়া স্ত্রীদেরকেও সেরূপ গৃহে বাস করতে দিও।" (সূরা তালাক, আয়াত ৬) আর গর্ভবতীদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন: وَإِنْ كُنَّ أُولَاتِ حَمْلٍ فَأَنْفِقُوا عَلَيْهِنَّ حَتَّى يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ.
অর্থ: আর যদি তারা গর্ভবতী হয়, তবে তাদের সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত তাদের ভরণপোষণ দাও।” (সূরা তালাক: আয়াত ৬)
এ আয়াত প্রমাণ করে, গর্ভবতীকে ভরণপোষণ দেয়া ওয়াজিব, চাই সে রজয়ী তালাকজনিত ইদ্দতে থাকুক, বায়েন তালাক জনিত ইদ্দতে থাকুক, কিংবা মৃত্যুজনিত ইদ্দতে থাকুক। বায়েন তালাকজনিত ইদ্দত পালনকারিণী অগর্ভবতীর ব্যাপারে তিন ধরনের মতামত রয়েছে:
১. বাসস্থান দিতে হবে, কিন্তু ভরণপোষণ দিতে হবেনা। এটা ইমাম মালেক ও শাফেয়ীর অভিমত। তাদের প্রমাণ সূরা তালাকের উপরোক্ত ৬ নং আয়াত।
২. তাকে বাসস্থান ও ভরণপোষণ দুটোই দিতে হবে। এটা উমর ইবনুল খাত্তাব, উমর ইবনে আব্দুল আযীয, ছাওরী ও হানাফি মাযহাবের অভিমত। কেননা সূরা তালাকের উক্ত ৬ নং আয়াতে সকল ধরনের তালাকপ্রাপ্তাকে বাসস্থান সুবিধা দেয়া ওয়াজিব বলা হয়েছে। আর বাসস্থান সুবিধা দেয়া যেখানে ওয়াজিব, সেখানে ভরণপোষণ দেয়াও আনুষঙ্গিকভাবে ওয়াজিব। এটা রজয়ী তালাক, গর্ভীবতীর তালাক ও স্বয়ং স্ত্রীর জন্যও ওয়াজিব। উমর রা. ও আয়েশা রা. উভয়ে ফাতিমা বিনতে কায়েস রা. কর্তৃক বর্ণিত হাদিসকে অস্বীকার করে বলেছিলেন, "আমরা একজন মহিলার কথার জন্য আল্লাহর কিতাব ও রসূল সা.-এর সুন্নতকে ত্যাগ করবোনা। এই মহিলা রসূল সা.-এর কথা সঠিকভাবে মনে রেখেছেন না ভুলে গেছেন, তা আমরা জানিনা।” তারপর ফাতিমা যখন এই কথা জানতে পারলেন তখন বললেন: "আমার ও তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব ফায়সালা করবে। আল্লাহ বলেন: فَطَلِقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ وَأَحْصُوا الْعِدَّةَ : وَاتَّقُوا اللهَ رَبَّكُمْ : لَا تُخْرِجُوهُنَّ مِنْ بُيُوتِهِنَّ وَلَا يَخْرُجْنَ إِلَّا أَنْ يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ ، وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ ، وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ ، لَا تَدْرِي لَعَلَّ اللَّهَ يُحْدِيثُ بَعْدَ ذَلِكَ أَمْرًاه
অর্থ: যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দিতে চাও, তখন তাদের ইদ্দতের উদ্দেশ্যে তালাক দিও এবং ইদ্দত গণনা করো। তোমাদের পালনকর্তা আল্লাহকে তোমরা ভয় করো। তোমরা তাদেরকে তাদের বাসগৃহ থেকে বের করে দিওনা এবং তারাও যেন বের না হয়, যদি তারা কোনো স্পষ্ট অশ্লীলতায় লিপ্ত না হয়। এগুলো আল্লাহর বিধান। যে কেউ আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন করে, সে তো নিজের উপরই যুলুম করে। তুমি জাননা, হয়তো আল্লাহ এরপর কোনো নতুন উপায় করে দিবেন।"
প্রশ্ন হলো, তিন তালাকের পর আর কী উপায় বেরিয়ে আসবে?"
৩. আহমদ, দাউদ, আবু সাওর, ইসহাক, আলী ইবনে আব্বাস, জাবের, হাসান, আতা, শাবী, ইবনে আবি লায়লা, আওযায়ি ও ইমামিয়া শীয়া মাযহাবের মতে, সে ভরণপোষণ ও বাসস্থান কোনোটাই পারেনা। তাদের প্রমাণ বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত হাদিস: ফাতিমা বিনতে কায়েস বলেন বা "আমার স্বামী রসূল সা.-এর আমলে আমাকে তিন তালাক দিলো এবং সে আমাকে কোনো বাসস্থানও দিলনা, ভরণপোষণওনা।” কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে: রসূল সা. বলেছেন: "যে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার সুযোগ তার স্বামীর রয়েছে, সে- বাসস্থানের সুবিধা ও ভরণপোষণ পাবে।" আর আহমদ, মুসলিম, আবু দাউদ ও নাসায়ী বর্ণনা করেন রসূল সা. ফাতেমা বিনতে কায়েসকে বলেছেন: "তুমি গর্ভবতী না হলে ভরণপোষণ পাবেনা।"

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00