📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যৌতুক

📄 যৌতুক


যৌতুক হচ্ছে সেসব সামগ্রী যা স্ত্রী ও তার পরিজনরা তার জন্য প্রস্তুত করে, যাতে স্বামীর বসবাসের সময় সেগুলো তার সাথে থাকে। সমাজে এটা একটা প্রচলিত ও স্বীকৃত প্রথা, স্ত্রী ও তার পরিবার যৌতুক প্রস্তুত করে ও কন্যার বাড়িকে আসবাবপত্রে দিয়ে সুসজ্জিত করে। এটা বাসর উপলক্ষে স্ত্রীর জন্য আনন্দময় পরিবেশ সৃষ্টির একটা পন্থা। নাসায়ী আলী রা. থেকে বর্ণনা করেছেন: রসূলুল্লাহ সা. ফাতেমাকে এক সেট মূল্যবান পোশাক, একটা পানির মশক, সুগন্ধিযুক্ত উদ্ভিদ ইযখির দিয়ে বানানো বালিশ যৌতুক হিসেবে দিয়েছিলেন। এটা সমাজে প্রচলিত প্রথামাত্র। আইনী দিক দিয়ে বাড়িকে সুসজ্জিত করা এবং আসবাবপত্র, বিছানা, গৃহসামগ্রী ও যাবতীয় প্রয়োজনীয় জিনিস প্রস্তুত করার দায়িত্ব স্বামীর। স্ত্রীর উপর এসবের কোনো দায় দায়িত্বই নেই, চাই তার মোহর যতোই হোক না কেন। এমনকি গৃহসামগ্রী সংগ্রহের লক্ষ্যেই যদি মোহর বাড়িয়ে দেয়া হয়ে থাকে, তথাপি এটা স্ত্রীর দায়িত্ব নয়। কেননা মোহর স্ত্রীর দ্বারা যৌন কামনা চরিতার্থ করার বিনিময়স্বরূপ একচ্ছত্রভাবে তারই প্রাপ্য। দাম্পত্য জীবন যাপনের জন্য গৃহসজ্জার উপকরণ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে মোহর নয়। মোহর নিরংকুশভাবে স্ত্রীর হক। তার পিতার, স্বামীর এবং অন্য কারো এতে কোনো হক বা অধিকার নেই।
কিন্তু মালেকি মাযহাব মতে, মোহরে স্ত্রীর একচ্ছত্র অধিকার নেই। তাই তা থেকে নিজের জীবন যাপনের জন্য কিছু ব্যয় করা এবং তা থেকে তার ঋণ পরিশোধ করা তার জন্য জায়েয নেই। অবশ্য একান্ত প্রয়োজনে সে তা থেকে কিছু ব্যয় করতে পারে এবং মোহরের পরিমাণ বেশি হলে তা থেকে সামান্য কিছু ঋণও পরিশোধ করতে পারে।
স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও নিরংকুশ প্রয়োজন পূরণে মোহরের অর্থ ব্যয় করা যাবেনা। কেননা প্রচলিত সামাজিক রীতি ও বিধি অনুসারে তার স্বামীর জন্য গৃহসজ্জা করা স্ত্রীর দায়িত্ব। এই গৃহসজ্জা তাকে বাসরের পূর্বে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্ত মোহরের অর্থ দিয়ে করতে হবে। তাৎক্ষণিকভাবে বাসরের পূর্বে মোহরের কোনো অংশ না পেলে এটা তার দায়িত্ব থাকবেনা। তবে শর্ত থাকলে বা প্রচলিত রীতি থাকলে বাসরের পরে পাওয়া মোহর দিয়েই গৃহসজ্জা করতে হবে।
পারিবারিক আইন প্রণেতাগণ এক্ষেত্রে ইমাম মালেকের মাযহাবকে অনুসরণ করেছেন। পারিবারিক আইনের ৬৬ নং ধারায় বলা হয়েছে : "বাসরের পূর্বে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্ত মোহর দ্বারা ভারসাম্যপূর্ণভাবে নিজেকে প্রস্তুত করা ও সজ্জিত করা স্ত্রীর কর্তব্য, যতোক্ষণ অন্য কোনো বিষয়ে ঐকমত্য না হয়। কিন্তু মোহরের কোনো অংশ তাৎক্ষণিকভাবে না পেলে কোনো প্রস্তুতি ও সাজসজ্জার দায়িত্ব স্ত্রীর উপর থাকবে না। অবশ্য ঐকমত্য ও স্বীকৃত সমাজরীতি অনুযায়ী যা করা প্রয়োজন, সেটুকু করতে হবে।"-পারিবারিক আইন, ড. ইউসুফ মূসা, পৃ. ২১৪।
স্ত্রী যখন নিজের অর্থ দিয়ে গৃহসামগ্রী কিনবে, কিংবা তার পিতা তার জন্য কিনবে, তখন তা তার একচ্ছত্র ও নিরংকুশ সম্পত্তি। স্বামী বা অন্য কারো তাতে কোনো অধিকার থাকবেনা। তবে সে ইচ্ছা করলে স্বামীকে ও তার অতিথিদেরকে তা ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারে। আবার ইচ্ছা করলে নাও দিতে পারে। না দিতে চাইলে তাকে বাধ্য করা যাবেনা। ইমাম মালেকের মতে, প্রচলিত রীতি মোতাবেক স্ত্রীর গৃহসামগ্রী ব্যবহার করা স্বামীর জন্য বৈধ।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 স্ত্রীর মনস্তুষ্টির জন্য স্বামীর সাজসজ্জা

📄 স্ত্রীর মনস্তুষ্টির জন্য স্বামীর সাজসজ্জা


স্ত্রীর মনস্তুষ্টির খাতিরে স্বামীর সাজসজ্জা করা মুস্তাহাব। ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন: আমার স্ত্রী যেমন আমার জন্য সাজগোজ করে, আমিও তেমনি তার জন্য সাজগোজ করি। আমি তার কাছ থেকে সমস্ত অধিকার কড়ায় গণ্ডায় আদায় করা পছন্দ করিনা। কেননা তাহলে সেও আমার কাছ থেকে সকল অধিকার কড়ায় গণ্ডায় আদায় করতে চাইবে। আল্লাহ নিজেই তো বলেছেন: "স্ত্রীদের নিকট স্বামীর যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনি স্বামীর নিকটও স্ত্রীদেরও ন্যায়সঙ্গত অধিকার রয়েছে।"
ইবনে আব্বাসের এই উক্তি সম্পর্কে কুরতুবী বলেন, আলেমগণ বলেছেন: “পুরুষদের সাজসজ্জার কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। এটা নির্ভর করবে তারা তাদের বিচক্ষণতা ও পারিপার্শ্বিকতার সাথে সাযুজ্যকে কিভাবে বাস্তব রূপ দেবে তার উপর। কোনো বিশেষ ধরনের সাজসজ্জা চলমান সময়ের উপযোগী মনে হতে পারে, আবার কোনোটা অনুপযোগী মনে হতে পারে। কোনোটা যুবকদের উপযোগী ও বৃদ্ধদের অনুপযোগী হতে পারে। আবার কোনোটা যুবকদের অনুপযোগী ও বৃদ্ধদের উপযোগী হতে পারে। অনুরূপ, পোশাকের ব্যাপারেও। এসব কিছুতেই স্ত্রীর অধিকার ও মনোরঞ্জনকেই প্রাধান্য দিতে হবে এবং এভাবেই তার নিকট গ্রহণযোগ্যতা ও তার কামনা বাসনার সাথে সাযুজ্য অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। মূল লক্ষ্য হওয়া চাই স্ত্রীর ভালো লাগে ও তাকে আনন্দ দেয় এমন সাজসজ্জা, যাতে সে অন্য পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পায়। আর সুগন্ধী ব্যবহার, দাঁত পরিষ্কার করা, খিলাল করা, শরীর পরিষ্কার করা, অপ্রয়োজনীয় চুল ও লোম দূর করা, পাক পবিত্র থাকা, নখকাটা- এসব কিছু স্পষ্টতই সবার কাছে কাম্য। বুড়োদের জন্য পাকা চুলে মেহেদী দেয়া এবং যুবাবৃদ্ধ সবার জন্য আংটি ব্যবহার করা উত্তম সাজসজ্জা। আংটি পুরুষের বৈধ অলংকার। তাছাড়া পুরুষদের প্রতি স্ত্রীর চাহিদার প্রকৃত সময়টি জানা এবং তাকে ভিন্ন পুরুষের প্রতি আকর্ষণ থেকে মুক্ত রাখাও স্বামীর কর্তব্য। যদি কখনো স্ত্রীর যৌন চাহিদা পূরণে স্বামী নিজের ভেতরে দুর্বলতা রয়েছে বলে অনুভব করে, তবে তার যৌন ক্ষমতাবর্ধক ওষুধ সেবন করা উচিত, যাতে করে স্ত্রীকে ভিন্ন পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া থেকে বিরত রাখা যায়। তবে এ উদ্দেশ্যে কিছু লোক গাঁজা, আফিম ইত্যাদি মাদক সেবনের ন্যায় ধ্বংসাত্মক ও ভুল পথে পা বাড়িয়েছে, যা একদিকে যৌন ক্ষমতাকে চিরতরে পঙ্গু করে দেয়া এবং নিজের উপর ও নিজের পরিবারের উপর যুলুম ও অপরাধ করার নামান্তর। আলেমগণ সর্বসম্মতভাবে রায় দিয়েছেন যে, গাঁজা, আফিম প্রভৃতি মাদক সেবন সম্পূর্ণ হারাম ও মদপানের মতো শাস্তিযোগ্য। আর যে ব্যক্তি একে হালাল মনে করবে, সে ইসলাম থেকে মুরতাদ ও কাফের হয়ে যাবে। আর স্ত্রীর সাথে তার চিরস্থায়ী বিচ্ছেদ অনিবার্য।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বিয়ে পূর্বের খুতবা

📄 বিয়ে পূর্বের খুতবা


বিয়ের আকদ সম্পাদনকারী বা অন্য কেউ বিয়ের আগে কমের পক্ষে আল্লাহর প্রশংসা ও রসূলুল্লাহ সা. এর জন্য দরূদ সম্বলিত একটা খুতবা বা ভাষণ দেবে। এটা মুস্তাহাব।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ওলিমা বা বৌভাত

📄 ওলিমা বা বৌভাত


১. সংজ্ঞা: ওলিমা শব্দের আভিধানিক অর্থ একত্রিত হওয়া। এখানে স্বামী ও স্ত্রী একটি ভোজনে মিলিত হয় বলে এই নামকরণ হয়েছে। বিয়ে সংক্রান্ত যে কোনো ভোজন বা অন্য যে কোনো নিমন্ত্রণে আয়োজিত ভোজনকেও অভিধানে লিমা বলা হয়।
অধিকাংশ আলেমের মতে ওলিমা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ।
১. রসূলুল্লাহ সা. আবদুর রহমান বিন আওফকে বলেছেন: "একটা ছাগল দিয়ে হলেও ওলিমা করো।"
২. আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রসূলুল্লাহ সা. তার আর কোনো স্ত্রীর জন্য এমন ওলিমা করেননি, যেমন করেছেন যয়নবের জন্য। যয়নবের জন্য তিনি একটি ছাগল দিয়ে ওলিমা করেছেন। (বুখারি, মুসলিম)
৩. বুরাইদা রা. বলেছেন: আলী রা. যখন ফাতেমা রা.-এর জন্য বিয়ের প্রস্তাব দেন, তখন রসূলুল্লাহ সা. বললেন: বিয়ের জন্য ওলিমা জরুরি। (আহমদ)
৪. আনাস রা. বলেছেন: "রসূলুল্লাহ সা. তাঁর স্ত্রীদের কারো জন্য এমন ওলিমা করেননি, যেমন যয়নবের জন্য করেছেন। লোকদের দাওয়াত করার জন্য আমাকে পাঠাতে লাগলেন এবং তাদেরকে রুটি ও গোশত খাইয়ে তৃপ্ত করলেন।
৫. বুখারি বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সা. তার কোনো একজন স্ত্রীর জন্য দুই মুদ যব দ্বারা ওলিমা করেছেন।
এই ব্যবধানের কারণ এক স্ত্রীকে অন্য স্ত্রীদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া নয়। এ ব্যবধানের কারণ হলো, এক সময় অভাব অনটন ছিলো, আর অন্য সময় ছিলো স্বচ্ছলতা।
৩. ওলিমার সময়: ওলিমার সময় হলো, আকদের অব্যবহিত আগে বা পরে, কিংবা বাসরের অব্যবহিত পূর্বে বা পরে। এতে প্রচলিত রীতিপ্রথা অনুসারে প্রশস্ততার অবকাশ রয়েছে। বুখারির মতে, রসূলুল্লাহ সা. যয়নবের সাথে বাসর যাপনের পরে জনগণকে দাওয়াত করেছেন।
৪. দাওয়াত কবুল করা: বিয়ের ওলিমায় দাওয়াত দেয়া হলে যাকে দাওয়াত দেয়া হয়েছে, তার উপর দাওয়াত কবুল করা ওয়াজিব। কেননা এ দ্বারা আহুত ব্যক্তির প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়, তার জন্য আনন্দ প্রকাশ করা হয় এবং তার মনকে খুশি করা হয়।
১. ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: তোমাদের কাউকে যখন কোনো ওলিমায় দাওয়াত দেয়া হয়, তখন তার ওলিমায় উপস্থিত হওয়া কর্তব্য।
২. আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: যে ব্যক্তি দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করলো, সে আল্লাহ ও তার রসূলের নাফরমানী করলো।
৩. আবু হুরায়রা রা. থেকে আরো বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: আমাকে যদি এক ক্রোশ দূরে যাওয়ার দাওয়াত দেয়া হয়, তবু আমি যাবো, আর যদি এক গজ দূরে যাওয়ার দাওয়াত দেয়া হয়, তবুও আমি সেখানে যাবো। (সব ক'টি হাদিস বুখারি কর্তৃক বর্ণিত)
তবে দাওয়াত যদি সাধারণভাবে দেয়া হয় এবং কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলকে না দেয়া হয়, তাহলে তা কবুল করা ওয়াজিবও নয়, মুস্তাহাবও নয়। যেমন দূত বললো: হে জনগণ, (কোনো নির্দিষ্টকরণ ব্যতীত) ওলিমায় আসুন। অথবা দূতকে বলা হলো, যাকে পাও, দাওয়াত দাও। যেমন একবার রসূলুল্লাহ সা. করেছিলেন: আনাস রা. বলেন, রসূলুল্লাহ সা. বিয়ে করলেন, অতপর তার স্ত্রীর সাথে বাসর যাপন করলেন। তখন আমার মাতা উম্মে সুলাইম হাইস (খেজুর, ঘি ও ছাতু মিশানো খাবার) তৈরি করলেন, তারপর সেই খাবার একটি পাত্রে ঢাললেন। তারপর বললেন: এটা রসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট নিয়ে যাও। আমি নিয়ে গেলাম। তিনি বললেন: এখানে রাখো। তারপর বললেন: অমুককে অমুককে এবং যাকে যাকে পাও দাওয়াত করো। তিনি যার যার নাম উল্লেখ করেছিলেন এবং যাকে যাকে পেয়েছিলাম, তাকে তাকে দাওয়াত করলাম।"-মুসলিম।
কারো কারো মতে, দাওয়াত কবুল করা ফরযে কিফায়া। কারো মতে, মুস্তাহাব। তবে প্রথমোক্ত মতটিই অধিকতর যুক্তিসংগত। এ হলো বধূর পক্ষ থেকে আয়োজিত বিবাহোৎসবের ভোজন সংক্রান্ত দাওয়াতের বিধি। বরের পক্ষ থেকে আয়োজিত বিবাহোৎসবের ভোজনের দাওয়াতে অংশগ্রহণ করা অধিকাংশ আলেমের মতানুসারে ওয়াজিব। শাফেয়ী মাযহাবের কেউ কেউ বলেন: সকল দাওয়াত কবুল করা ওয়াজিব। ইবনে হাযমের মতে, এই শেষোক্ত মতটি অধিকাংশ সাহাবী ও তাবেয়ীর। কেননা হাদিস থেকে সকল ধরনের দাওয়াত কবুল করা ওয়াজিব বলে জানা যায়, চাই তা বিয়ের উৎসবের দাওয়াত হোক বা অন্য কিছু হোক।
দাওয়াত কবুল করা ওয়াজিব হওয়ার শর্ত
হাফেয ইবনে হাজার ফাতহুল বারীতে বলেছেন: দাওয়াত কবুল করা ওয়াজিব হওয়ার জন্য ৮টি শর্ত রয়েছে:
১. দাওয়াতকারী যেন স্বনির্ভর, পরিণত বয়সের ও বুদ্ধিমান হয়। ২. দাওয়াত যেন দরিদ্রদেরকে বাদ দিয়ে শুধু ধনীদেরকে না দেয়া হয়। ৩. দাওয়াতের উদ্দেশ্য যেন কোনো ব্যক্তি বিশেষের প্রতি অনুরাগ প্রকাশ বা ব্যক্তি বিশেষের প্রতি ভীতি দূর করা না হয়। ৪. দাওয়াতকারীর মুসলমান হওয়া। ৫. প্রথম দিনের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া। ৬. যার দাওয়াত প্রথম পাওয়া যাবে তার দাওয়াত কবুল করা জরুরি। ৭. দাওয়াতের স্থানে এমন কোনো গর্হিত কাজ না হওয়া, যার উপস্থিতিতে তাতে অংশগ্রহণ করা কষ্টকর হয়। ৮. নিমন্ত্রিত ব্যক্তির কোনো ওযর না থাকা।
বগবি বলেছেন, ওযর থাকলে ও পথ দীর্ঘ হলে অনুপস্থিত থাকায় আপত্তি নেই।
দরিদ্রদের বাদ দিয়ে শুধু ধনীদের দাওয়াত করা মাকরূহ:
ওলিমায় ধনীদের দাওয়াত দেয়া ও দরিদ্রদের বাদ দেয়া মাকরূহ। কেননা আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যে ওলিমায় যোগদানে ইচ্ছুকদের আসতে বাধা দেয়া হয় এবং আসতে অনিচ্ছুকদের দাওয়াত দেয়া হয়, সেটাই নিকৃষ্টতম ওলিমা।” -মুসলিম।
আর আবু হুরায়রা রা. থেকে বুখারী বর্ণনা করেছেন: "সেই ওলিমা নিকৃষ্টতম যাতে দরিদ্রদের বাদ দিয়ে শুধু ধনীদের দাওয়াত দেয়া হয়।"

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00