📘 ফিকাহুস সুন্নাহ 📄 প্রকাশ্য মোহর ও গোপন মোহর

📄 প্রকাশ্য মোহর ও গোপন মোহর


বিয়ের চুক্তি সম্পাদনকারী উভয় পক্ষ যখন গোপনে এক ধরনের মোহর এবং প্রকাশ্যে তার চেয়ে বেশি মোহর ধার্য করে, তারপর পরস্পরে বিতর্কে লিপ্ত হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়, তখন আদালত কিভাবে নিষ্পত্তি করবে? আবু ইউসুফ বলেছেন: তারা যে মোহর গোপনে একমত হয়ে ধার্য করেছিল সেটির পক্ষে আদালত রায় দেবে। কেননা ঐ মোহরই প্রকৃত ইচ্ছার প্রতিফলক এবং সেটাই চুক্তি সম্পাদনকারী পক্ষদ্বয়ের উদ্দেশ্য। অন্যরা বলেন, প্রকাশ্যে ধার্যকৃত মোহর কার্যকর হবে। কেননা সেটাই আকদে উল্লেখিত রয়েছে। গোপনে যা হয়েছে, তার জ্ঞান আল্লাহর নিকট। বিচার ফায়সালা কেবল প্রকাশ্য অবস্থার ভিত্তিতেই হয়। এটাই আবু হানিফা, মুহাম্মদ, আহমদ, আছর, শা'বী, শাফেয়ি, ইবনে আবি লায়লা ও আবু উবায়েদের অভিমত।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ 📄 মোহর হস্তগত করা

📄 মোহর হস্তগত করা


স্ত্রী যখন অপ্রাপ্ত বয়স্কা হয়, তখন তার মোহর হস্তগত করার অধিকার পিতার থাকে কারণ, তিনি তার সম্পত্তির অভিভাবক। তাই তিনি তার সম্পত্তি হস্তগত করতে পারেন, যেমন হস্তগত পারেন তার বিক্রি করা জিনিসের মূল্য হস্তগত করতে। আর যদি তার বাবা ও দাদা কেউ না থাকে, তবে তার সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়কের তার মোহর হস্তগত করার অধিকার থাকবে। তত্ত্বাবধায়ক উক্ত মোহর হস্তগত করার পর অভিভাবক আদালতে আমানত রাখবেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতি ব্যতিত তিনি তাতে হাত দিতে পারবেননা। পক্ষান্তরে বয়স্কা ও অকুমারী মেয়ে যদি পরিণত বুদ্ধিসম্পন্না হয়, তাহলে তার অনুমতি ব্যতিত তার মোহর হস্তগত করা যাবেনা। কেননা তার সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা কেবল তারই। তবে পিতা যদি তার উপস্থিতিতে মোহর হস্তগত করে এবং সে নীরব থাকে, তাহলে সেটি তার পক্ষ থেকে অনুমতি গণ্য হবে এবং স্বামী দায়মুক্ত হবে। আর কুমারী মেয়ে প্রাপ্ত বয়স্কা, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্না ও পরিণত বুদ্ধিসম্পন্না হলে পিতা তার অনুমতি ব্যতিত তার মোহর হস্তগত করতে পারবেনা, যেমন পারে না অকুমারী মেয়ের মোহর হস্তাগত করতে। অবশ্য কেউ কেউ বলেছেন, পিতা তার বিনা অনুমতিতে তার মোহর হস্তগত করতে পারবে। কেননা এটাই প্রচলিত ও স্বীকৃত রীতি এবং কুমারী মেয়ে অপ্রাপ্ত বয়স্কার পর্যায়ভুক্ত।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية