📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মাতা’র বাধ্যবাধকতা

📄 মাতা’র বাধ্যবাধকতা


স্বামী যখন সহবাসের আগে স্ত্রীকে তালাক দেয় এবং ইতিপূর্বে কোনো মোহর নির্ধারণ না করে থাকে, তখন তার ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাকে কিছু খরচপত্র দেয়া ওয়াজিব। এটা এক ধরনের সৌজন্যপূর্ণ বিদায় দান। আল্লাহ বলেন, "অতপর হয় রীতি মোতাবেক রেখে দেবে, নচেত সৌজন্যের সাথে বিদায় করে দেবে।" (সূরা বাকারা: আয়াত ২ ২৯) এ ব্যাপারে আলেমদের ঐকমত্য রয়েছে যে, যে মহিলার জন্য কোনো মোহর ধার্য হয়নি এবং তার সাথে সহবাসও সংঘটিত হয়নি, সে তালাকের পর মাতা' অর্থাৎ কিছু খরচপত্র ছাড়া কিছুই পাবেনা। এই মাতা'র ধরন ও পরিমাণ স্বামীর আর্থিক অবস্থাভেদে বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। এর কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ নেই। আল্লাহ বলেন:
لَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِنْ طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ مَالَمْ تَمَسُّوهُنَّ أَوْ تَقْرِضُوا لَهُنْ فَرِيضَةٌ ، وَمَتَّعُومُن ج عَلَى الْمُوسِع قَدَرَة وَعَلَى الْمُقْتِرِ قَدَرَة : مَتَاعًا بِالْمَعْرُوفِ : حَقًّا عَلَى الْمُحْسِنِينَ

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মোহর কখন রহিত হয়

📄 মোহর কখন রহিত হয়


সহবাসের পূর্বে স্ত্রীর পক্ষ থেকে বিচ্ছেদ সংঘটিত হলে স্বামীর উপর থেকে সমগ্র মোহরের দায় রহিত হয়ে যাবে এবং স্ত্রীকে এক কানাকড়িও তার দিতে হবেনা। স্ত্রীর পক্ষ থেকে বিচ্ছেদ সংঘটিত হওয়ার উদাহরণ, যেমন-সে ইসলাম ত্যাগ করলো, অথবা স্বামীর অসচ্ছলতা বা অন্য কোনো ত্রুটির কারণে স্ত্রী বিয়ে ভেঙ্গে দিলো। অথবা, স্ত্রীর কোনো ত্রুটির কারণে অথবা বয়োপ্রাপ্তির পর স্বাধীনতা পেয়ে স্বামী বা স্ত্রী বিয়ে ভেঙ্গে দিল ইত্যাদি। এরূপ ক্ষেত্রে কোনো খরচপত্রও প্রাপ্য হয়না। কেননা সে নিজেই এ অধিকার হাতছাড়া করেছে। তদ্রূপ সহবাসের পূর্বে স্ত্রী যদি স্বামীকে মোহরের দায় থেকে অব্যাহতি দেয় কিংবা তা তাকে দান করে দেয়, তাহলেও স্বামী মোহর থেকে অব্যাহতি পাবে। কেননা স্ত্রী নিজেই তার নিরংকুশ অধিকার ছেড়ে দিয়েছে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 আকদের পর মোহরের পরিমাণ বাড়ানো

📄 আকদের পর মোহরের পরিমাণ বাড়ানো


আবু হানিফা বলেছেন, স্বামী যদি স্ত্রীর সাথে সহবাস করে থাকে অথবা মারা যায়, তাহলে আব্দের পর মোহরে যেটুকু বাড়াবে, তা কার্যকর হবে। সহবাসের পূর্বে তালাক দিলে মোহরের বর্ধিত অংশ কার্যকর থাকবেনা, বরং তার উপর নির্ধারিত মোহরের অর্ধেক মাত্র পাওনা থাকবে। মালেকের মতে, সহবাস করে থাকলে বর্ধিত মোহর কার্যকর হবে। আর সহবাসের পূর্বে তালাক দিলে মূল মোহরের অর্ধেক সেই সাথে বর্ধিত মোহরের অর্ধেকও দিতে হবে। আর যদি সহবাসের পূর্বে ও প্রাপ্য অর্ধেক মোহর স্ত্রীর হস্তগত হওয়ার পূর্বে স্বামী মারা যায়, তাহলে সমগ্র মোহর বাতিল হবে এবং সে শুধু আকদের সময় যতোটুকু মোহর নির্ধারিত হয়েছে, ততোটুকুই পাবে। শাফেয়ির মতে, বর্ধিত মোহর একটা নবতর উপহার। তা হস্তগত করলে বৈধ, নচেত বাতিল। আহমদ বলেছেন, বর্ধিত মোহর মূল মোহরের বিধি অনুসারে বিবেচিত।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 প্রকাশ্য মোহর ও গোপন মোহর

📄 প্রকাশ্য মোহর ও গোপন মোহর


বিয়ের চুক্তি সম্পাদনকারী উভয় পক্ষ যখন গোপনে এক ধরনের মোহর এবং প্রকাশ্যে তার চেয়ে বেশি মোহর ধার্য করে, তারপর পরস্পরে বিতর্কে লিপ্ত হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়, তখন আদালত কিভাবে নিষ্পত্তি করবে? আবু ইউসুফ বলেছেন: তারা যে মোহর গোপনে একমত হয়ে ধার্য করেছিল সেটির পক্ষে আদালত রায় দেবে। কেননা ঐ মোহরই প্রকৃত ইচ্ছার প্রতিফলক এবং সেটাই চুক্তি সম্পাদনকারী পক্ষদ্বয়ের উদ্দেশ্য। অন্যরা বলেন, প্রকাশ্যে ধার্যকৃত মোহর কার্যকর হবে। কেননা সেটাই আকদে উল্লেখিত রয়েছে। গোপনে যা হয়েছে, তার জ্ঞান আল্লাহর নিকট। বিচার ফায়সালা কেবল প্রকাশ্য অবস্থার ভিত্তিতেই হয়। এটাই আবু হানিফা, মুহাম্মদ, আহমদ, আছর, শা'বী, শাফেয়ি, ইবনে আবি লায়লা ও আবু উবায়েদের অভিমত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00