📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মোহরে মিছল কী?

📄 মোহরে মিছল কী?


মোহরে মিছল হচ্ছে সেই মোহর, যা কোনো স্ত্রীর বয়স, সৌন্দর্য, অর্থবিত্ত, বুদ্ধিমত্তা, ধর্ম, কুমারীত্ব, অ-কুমারীত্ব, বসবাসের স্থান এবং অন্য যেসব বৈশিষ্ট্যের কারণে মোহরের পরিমাণে হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে, সেসব বৈশিষ্ট্যের কারণে আক্দের সময় তার সমকক্ষ মহিলাদের সমান মোহর পাওয়ার যোগ্য হয়। সন্তান থাকা ও না থাকাও এ ধরনের একটি বৈশিষ্ট্য। কেননা সাধারণত এসব বৈশিষ্ট্যের বিভিন্নতায় স্ত্রীর মোহরের মূল্য বিভিন্ন হয়। পৈতৃক আত্মীয়দের মধ্য থেকে যাদের সমকক্ষতা বিবেচনার যোগ্য তারা হচ্ছে স্ত্রীর বোন, ফুফু এবং চাচাতো ও ফুফাতো বোনেরা। আহমদ বলেছেন, মোহরে মিছল স্ত্রীর পিতুল ও মাতুল পক্ষের আত্মীয়দের সমান কিনা, তা দেখে বিচার করা হবে। আর যখন পিতুল পক্ষের এমন কোনো আত্মীয় মহিলা পাওয়া যাবেনা, যার সাথে ঐ মহিলার গুণবৈশিষ্ট্যের সাথে মিল রয়েছে, যার জন্য মোহরে মিছল নির্ধারণ করা হবে, তখন ঐ মহিলার পিতার পরিবারের সমকক্ষ কোনো পরিবারের অনাত্মীয় মহিলার সমান মোহরই মোহরে মিসল বিবেচিত হবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মোহরে মিছলের চেয়ে কম মোহর অপ্রাপ্ত বয়স্কার মেয়ের বিয়ে

📄 মোহরে মিছলের চেয়ে কম মোহর অপ্রাপ্ত বয়স্কার মেয়ের বিয়ে


শাফেয়ি, দাউদ, ইবনে হাযম ও হানাফিদের মধ্য থেকে আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদের অভিমত হলো, মোহরে মিসলের চেয়ে কম মহরে অপ্রাপ্ত বয়স্কা কন্যাকে বিয়ে দেয়া পিতার জন্য বৈধ নয় এবং এ ক্ষেত্রে পিতার সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া বাধ্যতামূলকও নয়। তার মোহর অবশ্যই মোহরে মিসলের পর্যায়ে উন্নীত করতে হবে। কেননা মোহর একান্তভাবেই কন্যার অধিকার ও সম্পদ। তার সম্পদে তার পিতার সিদ্ধান্ত নেয়ার কোনো অধিকার নেই। আবু হানিফা বলেছেন, পিতা যখন তার অপ্রাপ্ত বয়স্কা কন্যার বিয়ে দেয় এবং তার মোহর কম নির্ধারণ করে, তখন তা কন্যার উপর কার্যকর ও বৈধ হবে। তবে পিতা ও দাদা ব্যতিত আর কারো জন্য এটা বৈধ হবেনা।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কখন অর্ধেক মোহর ওয়াজিব হয়?

📄 কখন অর্ধেক মোহর ওয়াজিব হয়?


আকদের সময় মোহরের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়ে থাকলে এবং সহবাসের আগে স্ত্রীকে তালাক দিলে স্বামীর উপর অর্ধেক মোহর ওয়াজিব হয়। কারণ আল্লাহ বলেছেন:
وَإِنْ طَلَّقْتُمُوهُنَّ مِنْ قَبْلِ أَنْ تَمَسُّوهُنَّ وَقَدْ فَرَضْتُمْ لَهُنَّ فَرِيضَةٌ فَنِصْفُ مَا فَرَضْتُمْ إِلَّا أَنْ يَعْفُونَ أَوْ يَعْفُوا الَّذِي بِيَدِهِ عُقْدَةُ النِّكَاحِ طَ وَأَنْ تَعْفُوا أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى 6 وَلَا تَنْسَوُا الْفَضْلَ بَيْنَكُمْ مَا إِنَّ اللَّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيره
অর্থ: আর যদি তোমরা স্ত্রীদেরকে স্পর্শ করার আগে তালাক দাও এবং এর আগেই এদের জন্য মোহর নির্ধারণ করে থাকো, তাহলে যা নির্ধারণ করেছ, তার অর্ধেক দিতে হবে। তবে (প্রাপ্ত বয়স্কা) স্ত্রীরা অথবা বিয়ের আকদ যার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সে (স্বামী বা ওলি) ক্ষমা করে দিলে সেটা ভিন্ন কথা। তোমরা ক্ষমা করে দেবে এটাই তাকওয়ার নিকটতর। আর তোমরা নিজেদের মধ্যে মহানুভবতা দেখাতে ভুলে যেওনা। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের কার্যকলাপ প্রত্যক্ষ করেন।" (সূরা বাকারা: আয়াত-২৩৭)

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মাতা’র বাধ্যবাধকতা

📄 মাতা’র বাধ্যবাধকতা


স্বামী যখন সহবাসের আগে স্ত্রীকে তালাক দেয় এবং ইতিপূর্বে কোনো মোহর নির্ধারণ না করে থাকে, তখন তার ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাকে কিছু খরচপত্র দেয়া ওয়াজিব। এটা এক ধরনের সৌজন্যপূর্ণ বিদায় দান। আল্লাহ বলেন, "অতপর হয় রীতি মোতাবেক রেখে দেবে, নচেত সৌজন্যের সাথে বিদায় করে দেবে।" (সূরা বাকারা: আয়াত ২ ২৯) এ ব্যাপারে আলেমদের ঐকমত্য রয়েছে যে, যে মহিলার জন্য কোনো মোহর ধার্য হয়নি এবং তার সাথে সহবাসও সংঘটিত হয়নি, সে তালাকের পর মাতা' অর্থাৎ কিছু খরচপত্র ছাড়া কিছুই পাবেনা। এই মাতা'র ধরন ও পরিমাণ স্বামীর আর্থিক অবস্থাভেদে বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। এর কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ নেই। আল্লাহ বলেন:
لَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِنْ طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ مَالَمْ تَمَسُّوهُنَّ أَوْ تَقْرِضُوا لَهُنْ فَرِيضَةٌ ، وَمَتَّعُومُن ج عَلَى الْمُوسِع قَدَرَة وَعَلَى الْمُقْتِرِ قَدَرَة : مَتَاعًا بِالْمَعْرُوفِ : حَقًّا عَلَى الْمُحْسِنِينَ

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00