📄 অবৈধ বিয়েতে সহবাসের কারণে পূর্ণ মোহর প্রাপ্য
যখন কোনো পুরুষ বিয়ের পর স্ত্রীর সাথে সহবাস করে, অতপর কোনো কারণে বিয়ে অবৈধ প্রমাণিত হয়, তখন পূর্ণ মোহর দেয়া ওয়াজিব হয়। কেননা আবু দাউদ বর্ণনা করেন: “বাসরা বিন আকসাম জনৈক কুমারী মেয়েকে বিয়ে করার পর তার সাথে সহবাস করার সময় দেখতে পায় সে গর্ভবতী। পরে সে যখন বিষয়টি রসূল সা.কে জানালো, তখন তিনি বললেন, তার সাথে তুমি সহবাস করেছ বিধায় সে মোহর পাবে.... অতপর তিনি তাদের উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিলেন।
এ হাদিস থেকে জানা গেলো, অবৈধ বিয়েতে ও সহবাসের কারণে নির্ধারিত মোহর সম্পূর্ণই দিতে হবে। অনুরূপ এও জানা গেলো যে, বিয়ের পর ব্যভিচারজনিত গর্ভ ধরা পড়লে বিয়ে বাতিল হয়ে যাবে।
📄 মোহর নির্ধারণ ব্যতিরেকে বিয়ে
মোহর ধার্যকরণ ছাড়া বিয়ে বৈধ বলে আলেমগণের অভিমত। কেননা আল্লাহ বলেছেন:
لَاجُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِنْ طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ مَا لَمْ تَمَسُّوهُنَّ أَوْ تَفْرِضُوا لَهُنَّ فَرِيضَةٌ .
“তোমাদের স্ত্রীদেরকে যদি সহবাস ছাড়াই কিংবা মোহর ধার্যকরণ ছাড়াই তালাক দাও তবে তাতে দোষ নেই।” (সূরা বাকারা: আয়াত ২৩৬)
যেহেতু বিয়ের পরে ব্যতিত তালাক হতে পারেনা, তাই আয়াত দ্বারা মোহর ধার্য ব্যতিত বিয়ের বৈধতা প্রমাণিত হলো। কিন্তু যদি কেউ মোহর ধার্য তো করলোই না তদুপরি শর্ত আরোপ করলো যে, সে মোহর দিতে বাধ্য নয়, তাহলে মালেকী মাযহাবের মতে এ বিয়ে অশুদ্ধ। ইবনে হাযম বলেন, “কেউ যদি শর্ত আরোপ করে যে, সে মোহর দিতে বাধ্য নয়, তাহলে সে বিয়ে বাতিল গণ্য হবে। কেননা রসূল সা. বলেছেন, আল্লাহর কিতাবে যে শর্তের উল্লেখ নেই তা বাতিল।” আর এ শর্ত কুরআনে নেই। বরং কুরআন এ শর্ত বাতিল করেছে এই বলে: “তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহর সানন্দে দিয়ে দাও।” সুতরাং উল্লিখিত বিয়ে বাতিল ও অশুদ্ধ। কিন্তু হানাফিদের মতে, এ বিয়ে জায়েয। কেননা মোহর বিয়ের শর্তও নয়, রুকনও (অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ) নয়।
📄 সহবাসের কারণে বা সহবাসের পূর্বে মৃত্যুর কারণে মোহরে মিছল ওয়াজিব
যখন স্বামী স্ত্রীর সাথে সহবাস করে কিংবা সহবাসের পূর্বে মারা যায় তখন স্ত্রীর মোহরে ‘মিসল’ ও উত্তরাধিকার প্রাপ্য হবে। কেননা আবু দাউদ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি এরূপ অবস্থায় বলেছেন, “এক্ষেত্রে আমি নিজের মত ব্যক্ত করছি। যদি সঠিক হয়, তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে। আর যদি ভুল হয়, তাহলে আমার পক্ষ থেকে। এরূপ ক্ষেত্রে স্ত্রী অন্য একজন স্ত্রীর সমান মোহর পাবে। কমও নয়, বেশিও নয়। সে ইদ্দত পালন করবে এবং উত্তরাধিকারও পাবে।” তখন মা'কাল বিন ইয়াসার দাঁড়িয়ে বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, বারওয়া বিনতে ওয়াসিক সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সা. যে ফায়সালা করেছিলেন, আপনিও সেই রকম ফায়সালাই করেছেন।” এটা আবু হানিফা, আহমদ, দাউদ ও শাফেয়িরও অভিমত।
📄 মোহরে মিছল কী?
মোহরে মিছল হচ্ছে সেই মোহর, যা কোনো স্ত্রীর বয়স, সৌন্দর্য, অর্থবিত্ত, বুদ্ধিমত্তা, ধর্ম, কুমারীত্ব, অ-কুমারীত্ব, বসবাসের স্থান এবং অন্য যেসব বৈশিষ্ট্যের কারণে মোহরের পরিমাণে হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে, সেসব বৈশিষ্ট্যের কারণে আক্দের সময় তার সমকক্ষ মহিলাদের সমান মোহর পাওয়ার যোগ্য হয়। সন্তান থাকা ও না থাকাও এ ধরনের একটি বৈশিষ্ট্য। কেননা সাধারণত এসব বৈশিষ্ট্যের বিভিন্নতায় স্ত্রীর মোহরের মূল্য বিভিন্ন হয়। পৈতৃক আত্মীয়দের মধ্য থেকে যাদের সমকক্ষতা বিবেচনার যোগ্য তারা হচ্ছে স্ত্রীর বোন, ফুফু এবং চাচাতো ও ফুফাতো বোনেরা। আহমদ বলেছেন, মোহরে মিছল স্ত্রীর পিতুল ও মাতুল পক্ষের আত্মীয়দের সমান কিনা, তা দেখে বিচার করা হবে। আর যখন পিতুল পক্ষের এমন কোনো আত্মীয় মহিলা পাওয়া যাবেনা, যার সাথে ঐ মহিলার গুণবৈশিষ্ট্যের সাথে মিল রয়েছে, যার জন্য মোহরে মিছল নির্ধারণ করা হবে, তখন ঐ মহিলার পিতার পরিবারের সমকক্ষ কোনো পরিবারের অনাত্মীয় মহিলার সমান মোহরই মোহরে মিসল বিবেচিত হবে।