📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যেসব অবস্থায় সম্পূর্ণ মোহর দেয়া ওয়াজিব

📄 যেসব অবস্থায় সম্পূর্ণ মোহর দেয়া ওয়াজিব


নিম্নে বর্ণিত অবস্থাগুলোর যে কোনোটি দেখা দিলেই সম্পূর্ণ মোহর দেয়া বাধ্যতামূলক:
১. যখন প্রকৃত অর্থে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে যৌন মিলন ঘটে: কেননা আল্লাহ বলেছেন: "আর যদি তোমরা এক স্ত্রীর পরিবর্তে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করতে ইচ্ছা করো এবং তাদের একজনকে প্রচুর অর্থও দিয়ে থাকো, তবুও তা থেকে কিছুই ফেরত নিওনা। তোমরা কি তা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপাচারের মাধ্যমে ফেরত নেবে? কিভাবে তোমরা তা ফেরত নেবে? অথচ তোমরা পরস্পরে সংগম করেছ এবং সে নারীরা তোমাদের কাছ থেকে কঠোর অঙ্গীকার গ্রহণ করেছে? (সূরা নিসা: আয়াত ২০, ২১)
২. স্বামী স্ত্রীর কোনো একজন যদি যৌন মিলনের পূর্বেই মারা যায়। এটা সর্বসম্মত মত।
৩. আবু হানিফার মতে, স্বামী যখন তার বধূর সাথে যৌন মিলন করা যায় এমন নিভৃত সাক্ষাতে মিলিত হয়, তখনই নির্ধারিত পুরো মোহর বধূর পাপ্য হয়ে যায়। এই নিভৃত সাক্ষাতকার দ্বারা উভয়ের এমন জায়গায় সাক্ষাৎ করা বুঝায় যেখানে তাদের উপস্থিতি কেউ টের পাবে না মর্মে উভয়ে নিশ্চিত থাকে। তাদের দু'জনের কেউ এমন অবস্থার শিকার থাকেনা যা শরিয়ত অনুযায়ী যৌন মিলনের অন্তরায়। যেমন কোনো একজন ফরয রোযা রেখেছে, অথবা মাসিক ঋতুস্রাব চলছে কিংবা এমন কোনো বাধা রয়েছে যা অতিক্রম করা কার্যত অসম্ভব। যেমন এমন কোনো রোগে আক্রান্ত যার কারণে বর্তমানে যৌন মিলন সম্ভব নয়। অথবা কোনো স্বাভাবিক বাধা বিদ্যমান, যেমন তাদের দুইজনের মাঝে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি। ইমাম আবু হানিফা তার মতের সপক্ষে যে প্রমাণ তুলে ধরেছেন তা হলো: আবু উবায়দা যায়েদ ইবনে আবি আওফা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, খুলাফায়ে রাশেদীনের সিদ্ধান্ত ছিলো, যখন কক্ষের দরজা বন্ধ করা হয় এবং সতর খুলে ফেলা হয়। তখনই মোহর প্রাপ্য হয়ে যায়। ওয়াকী নাফে বিন জুবাইর থেকে বর্ণনা করেন: রসূল সা.-এর সাহাবিগণ বলতেন, যখন সতর খোলা হয় ও দরজা বন্ধ করা হয়, তখনই মোহর পাওনা হয়ে যায়।
তাছাড়া, তিনি এ যুক্তিও প্রদর্শন করেন, যেহেতু স্ত্রীর পক্ষ থেকে নিজেকে পুরোপুরিভাবে সমর্পণ করা হয়েছে, সেহেতু এর বদলায় মোহর প্রাপ্য হবেই। ইমাম শাফেয়ী মালেক ও দাউদ এ মতের বিরোধিতা করে বলেন, সহবাস ব্যতিত পুরো মোহর প্রাপ্য হয়না।
তবে ইমাম মালেক বলেছেন, স্বামী যখন সংগমের উদ্যোগ নিয়ে স্ত্রীর উপর চড়াও হয় এবং স্ত্রী সহবাসের উপযুক্তভাবে শুয়ে পড়ে, তখন কার্যত সহবাস না করলেও মোহর প্রাপ্য হয়ে যায়।
সংগমের উপযুক্ত নিভৃত সাক্ষাতকার দ্বারা অর্ধেক মোহরের বেশি প্রাপ্য হয়না। কেননা আল্লাহ বলেছেন:
وَإِنْ طَلَّقْتُمُوهُنَّ مِنْ قَبْلِ أَنْ تَمَسُّوهُنَّ وَقَدْ فَرَضْتُمْ لَهُنَّ فَرِيضَةٌ فَنِصْفُ مَا فَرَضْتُمْ .
"যদি তোমরা মোহর ধার্য করার পর স্ত্রীকে স্পর্শ করার আগে তালাক দাও, তবে যে মোহর তোমরা ধার্য করেছ তার অর্ধেক দিতে হবে।" (সূরা বাকারা: আয়াত ২৩৭)
অর্থাৎ স্পর্শের আগে তালাক দেয়া হলে ধার্যকৃত মোহরের অর্ধেক স্ত্রীর প্রাপ্য হবে। আর স্পর্শের অর্থ হলো প্রকৃত ও পূর্ণ যৌন মিলন। নিছক নিভৃতে সাক্ষাৎ করলেই যৌন মিলন হয়না। কাজেই সে ক্ষেত্রে পুরো মোহর প্রাপ্য হয়না।
শুরাইহ বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা কুরআনে কোনো দরজা বা সতরের উল্লেখ করেছেন বলে আমি শুনিনি। স্বামী যদি দাবি করে, সে স্ত্রীকে স্পর্শ করেছে, তবে তাকে অর্ধেক মোহর দিতে হবে। আর ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলতেন, যখন কোনো পুরুষের নিকট তার স্ত্রী আসে, অতপর সে স্ত্রীকে তালাক দেয় এবং দাবি করে, সে তাকে স্পর্শ করেনি, তখন তার উপর অর্ধেক মোহর ওয়াজিব হবে। আব্দুর রাজ্জাক ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণনা করেছেন, "স্ত্রীর সাথে সহবাস না করা পর্যন্ত পুরো মোহর স্বামীর নিকট প্রাপ্য হবেনা।"

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 অবৈধ বিয়েতে সহবাসের কারণে পূর্ণ মোহর প্রাপ্য

📄 অবৈধ বিয়েতে সহবাসের কারণে পূর্ণ মোহর প্রাপ্য


যখন কোনো পুরুষ বিয়ের পর স্ত্রীর সাথে সহবাস করে, অতপর কোনো কারণে বিয়ে অবৈধ প্রমাণিত হয়, তখন পূর্ণ মোহর দেয়া ওয়াজিব হয়। কেননা আবু দাউদ বর্ণনা করেন: “বাসরা বিন আকসাম জনৈক কুমারী মেয়েকে বিয়ে করার পর তার সাথে সহবাস করার সময় দেখতে পায় সে গর্ভবতী। পরে সে যখন বিষয়টি রসূল সা.কে জানালো, তখন তিনি বললেন, তার সাথে তুমি সহবাস করেছ বিধায় সে মোহর পাবে.... অতপর তিনি তাদের উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিলেন।
এ হাদিস থেকে জানা গেলো, অবৈধ বিয়েতে ও সহবাসের কারণে নির্ধারিত মোহর সম্পূর্ণই দিতে হবে। অনুরূপ এও জানা গেলো যে, বিয়ের পর ব্যভিচারজনিত গর্ভ ধরা পড়লে বিয়ে বাতিল হয়ে যাবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মোহর নির্ধারণ ব্যতিরেকে বিয়ে

📄 মোহর নির্ধারণ ব্যতিরেকে বিয়ে


মোহর ধার্যকরণ ছাড়া বিয়ে বৈধ বলে আলেমগণের অভিমত। কেননা আল্লাহ বলেছেন:
لَاجُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِنْ طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ مَا لَمْ تَمَسُّوهُنَّ أَوْ تَفْرِضُوا لَهُنَّ فَرِيضَةٌ .
“তোমাদের স্ত্রীদেরকে যদি সহবাস ছাড়াই কিংবা মোহর ধার্যকরণ ছাড়াই তালাক দাও তবে তাতে দোষ নেই।” (সূরা বাকারা: আয়াত ২৩৬)
যেহেতু বিয়ের পরে ব্যতিত তালাক হতে পারেনা, তাই আয়াত দ্বারা মোহর ধার্য ব্যতিত বিয়ের বৈধতা প্রমাণিত হলো। কিন্তু যদি কেউ মোহর ধার্য তো করলোই না তদুপরি শর্ত আরোপ করলো যে, সে মোহর দিতে বাধ্য নয়, তাহলে মালেকী মাযহাবের মতে এ বিয়ে অশুদ্ধ। ইবনে হাযম বলেন, “কেউ যদি শর্ত আরোপ করে যে, সে মোহর দিতে বাধ্য নয়, তাহলে সে বিয়ে বাতিল গণ্য হবে। কেননা রসূল সা. বলেছেন, আল্লাহর কিতাবে যে শর্তের উল্লেখ নেই তা বাতিল।” আর এ শর্ত কুরআনে নেই। বরং কুরআন এ শর্ত বাতিল করেছে এই বলে: “তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহর সানন্দে দিয়ে দাও।” সুতরাং উল্লিখিত বিয়ে বাতিল ও অশুদ্ধ। কিন্তু হানাফিদের মতে, এ বিয়ে জায়েয। কেননা মোহর বিয়ের শর্তও নয়, রুকনও (অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ) নয়।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 সহবাসের কারণে বা সহবাসের পূর্বে মৃত্যুর কারণে মোহরে মিছল ওয়াজিব

📄 সহবাসের কারণে বা সহবাসের পূর্বে মৃত্যুর কারণে মোহরে মিছল ওয়াজিব


যখন স্বামী স্ত্রীর সাথে সহবাস করে কিংবা সহবাসের পূর্বে মারা যায় তখন স্ত্রীর মোহরে ‘মিসল’ ও উত্তরাধিকার প্রাপ্য হবে। কেননা আবু দাউদ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি এরূপ অবস্থায় বলেছেন, “এক্ষেত্রে আমি নিজের মত ব্যক্ত করছি। যদি সঠিক হয়, তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে। আর যদি ভুল হয়, তাহলে আমার পক্ষ থেকে। এরূপ ক্ষেত্রে স্ত্রী অন্য একজন স্ত্রীর সমান মোহর পাবে। কমও নয়, বেশিও নয়। সে ইদ্দত পালন করবে এবং উত্তরাধিকারও পাবে।” তখন মা'কাল বিন ইয়াসার দাঁড়িয়ে বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, বারওয়া বিনতে ওয়াসিক সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সা. যে ফায়সালা করেছিলেন, আপনিও সেই রকম ফায়সালাই করেছেন।” এটা আবু হানিফা, আহমদ, দাউদ ও শাফেয়িরও অভিমত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00