📄 কুফু সম্পর্কে শরীয়তের বিধান
এই 'কুফু' সম্পর্কে শরিয়তের নির্দেশ কি এবং তা কতোখানি আমল দেয়া হবে? এ প্রশ্নে ফকীহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ইবনে হাযম বলেছেন: 'কুফু'র কোনোই গ্রহণযোগ্যতা নেই। তিনি বলেন: যে কোনো মুসলমান, যদি সে ব্যভিচারী না হয়, যে কোনো মুসলিম নারীকে যদি সে ব্যভিচারিণী না হয়, বিয়ে করতে পারে। মুসলমানরা সবাই ভাই ভাই। একজন অজ্ঞাত কূলশীলা কৃষ্ণাঙ্গ মহিলার ছেলের জন্য হাশেমি খলিফার মেয়ে বিয়ে করা নিষিদ্ধ নয়। আর চরম পাপিষ্ঠ মুসলমান, যদি সে ব্যভিচারী না হয় তবে চরম পাপিষ্ঠা মুসলিম নারীর জন্য 'কুফু'ধারী, যদি সে ব্যভিচারিণী না হয়।
এর প্রমাণ সূরা হুজুরাতের ১০নং আয়াত : إِنَّهَا الْمُؤْمِنُونَ "মুমিনীরা সবাই ভাই ভাই” এবং সূরা নিসার ৩নং আয়াত: "তোমাদের যে মহিলাকে ভালো লাগে বিয়ে করো" এবং নিষিদ্ধ মহিলাদের বিবরণ দেয়ার পর সূরা নিসার ২৪নং আয়াতে আল্লাহই বলেন: “এবং ঐ সকল মহিলা ব্যতিত সবাই তোমাদের জন্য হালাল।"
রসূলুল্লাহ সা. যয়নবকে তাঁর মুক্ত গোলাম যায়দের সাথে বিয়ে দিয়েছিলেন। আর মিকদাদের বিয়ে দিয়েছিলেন যাবায়া বিনতে যুবাইরের সাথে। ইবনে হাযম বলেন: পাপিষ্ঠ পুরুষ ও পাপিষ্ঠা মেয়ে সম্পর্কে আমি যা বলেছি, তার আলোকে ফাসেক বা পাপিষ্ঠ পুরুষের পক্ষে পাপিষ্ঠা মেয়ে ব্যতিত অন্য কাউকে বিয়ে করা অনুমোদনযোগ্য নয়। অনুরূপ, পাপিষ্ঠা মেয়েকে পাপিষ্ঠ পুরুষ ব্যতিত অন্য কারো বিয়ে করা অনুমোদনযোগ্য নয়।" অথচ একথা কেউ বলেনা। আল্লাহ বলেছেন: إِنَّهَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ وقال سُبْحَانَهُ وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ . (মুমিনরা সবাই ভাই ভাই।" আল্লাহ আরো বলেছেন: “মুমিন নারী ও পুরুষ পরস্পরের বন্ধু ও ওলি।” (সূরা তওবা: আয়াত ৭১)
📄 কুফু বা সমতা নির্ণিত হবে ন্যায়নিষ্ঠতা ও সৎচরিত্র দ্বারা
অন্য একদল ওলামার মত হলো, 'কুফু' বা সমতা অবশ্যই বিবেচ্য বিষয়। তবে তা নির্ণিত হবে সততা ও সচ্চরিত্র দ্বারা। সুতরাং বংশ মর্যাদা, পেশা, ধনাঢ্যতা বা আর কোনো জিনিসের কোনো মূল্য নেই। কাজেই বংশমর্যাদাহীন একজন সৎ লোকের জন্য সম্ভ্রান্ত বংশীয়া মহিলাকে বিয়ে করা, নিচ জাতীয় পেশাজীবীর জন্য উচ্চ মর্যাদাশীলা মহিলাকে বিয়ে করা, খ্যাতিমান কোনো পুরুষের পক্ষে কোনো সুনামধারী ও মর্যাদাশালী মহিলাকে বিয়ে করা এবং দরিদ্র পুরুষের পক্ষে ধনাঢ্য মহিলাকে বিয়ে করা বৈধ যদি সে মুসলিম ও চরিত্রবান হয়। এ ব্যাপারে কোনো ওলির আপত্তি তোলার ও বিয়ে বিচ্ছেদ দাবি করার অধিকার নেই। যদি সে বিয়ে সম্পাদনকারী ওলির মর্যাদার সাথে অসামঞ্জস্যশীল হয় এবং বিয়ে মহিলার সম্মতি অনুসারে সম্পাদিত হয়ে থাকে, তাহলেও ওলি বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবেনা। তবে যদি পুরুষ সততার শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে সে একজন সৎকর্মশীলা নারীর 'কুফু' নয়। এরূপ ক্ষেত্রে সে যদি কুমারী হয় এবং তার পিতা তাকে ফাসেকের সাথে জোরপূর্বক বিয়ে দেয় তবে তার বিয়ে ভেংগে দেয়ার দাবি করার অধিকার থাকবে।
"বিদায়াতুল মুজতাহিদ” গ্রন্থে বলা হয়েছে: মালেকি মাযহাবে এ ব্যাপারে দ্বিমত নেই যে, কুমারী মেয়েকে যখন তার পিতা মদখোরের সাথে বিয়ে দেয় অথবা সার্বিকভাবে ফাসেক বা পাপিষ্ঠ, এমন কারো সাথে বিয়ে দেয়, তখন সে নিজেকে সেই বিয়ে থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে পারবে। এরূপ ক্ষেত্রে শাসক ব্যাপারটা দেখবে এবং উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাবে। অনুরূপ, যখন হারাম সম্পদের মালিকের সাথে তাকে বিয়ে দেয় কিংবা ঘন ঘন তালাক দেয়ার জন্য কসম খায় এমন ব্যক্তির সাথে বিয়ে দেয়, তখনও সে নিজেকে বিয়ে থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে পারবে। এই মাযহাবের ফকীহগণের প্রমাণাদি নিম্নরূপ:
১. আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
يَأَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا مَا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَكُمْ
“হে মানব, আমি তোমাদেরকে একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা যাতে পরস্পরে পরিচিত হতে পার, সেজন্য তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সর্বাপেক্ষা আল্লাহভীরু, সে-ই সর্বাপেক্ষা সম্মানিত।” (সূরা হুজুরাত : আয়াত ১৩)।
এ আয়াতে ঘোষণা করা হয়েছে, সৃষ্টির দিক দিয়ে এবং মানবীয় মূল্য ও মর্যাদার দিক দিয়ে সকল মানুষ সমান এবং মানুষের প্রাপ্য ও আল্লাহর প্রাপ্য পরিশোধের মাধ্যমে সর্বোচ্চ খোদাভীরুতার প্রমাণ দেয়া ব্যতিত কেউ কারো চেয়ে বেশি সম্মানিত নয়।
২. তিরমিযি আবু হাতেম মাযানী থেকে বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: “যখন এমন কেউ তোমাদের নিকট (বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে যার চরিত্র ও দীনদারি তোমাদের নিকট সন্তোষজনক, তখন তার সাথে তোমরা বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করো। তা যদি না করো, তবে পৃথিবী বিরাট ফেতনা ও ফ্যাসাদে জড়িয়ে পড়বে। লোকেরা বললো: হে রসূলুল্লাহ, যদি তার মধ্যে অন্য কোনো জিনিস থাকে। তিনি তিনবার বললেন: দীনদারি ও সততা তোমাদের কাছে সন্তোষজনক এমন কেউ যদি তোমাদের নিকট আসে, তাহলে তার সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করো।” এ হাদিসে ওলি বা অভিভাবকদের বলা হয়েছে যেন তাদের অধীনস্থ মেয়েদেরকে দীনদার, সৎ ও চরিত্রবান প্রার্থীদের সাথে বিয়ে দেয়। আর যদি সচ্চরিত্র লোকদের সাথে বিয়ে না দেয় এবং বংশমর্যাদা, সামাজিক প্রতিষ্ঠা, পদমর্যাদা ও ধনসম্পদের প্রতি প্রলুব্ধ হয়, তাহলে এত ফেতনা ও ফ্যাসাদ জড়াবে, যার কোনো শেষ নেই।
৩. রসূলুল্লাহ সা. বললেন: হে বনু বিয়াযা, তোমরা আবু হিন্দের সাথে তোমাদের মেয়ের বিয়ে দাও, বিয়ে দাও।" আবু হিন্দ ছিলো বনু বিয়াযার মুক্ত গোলাম ও একজন ক্ষৌরকার। সে ঐ গোত্রের বংশোদ্ভূত কেউ ছিলনা। মায়ালিমুস সুনান গ্রন্থে বলা হয়েছে: ইমাম মালেক ও অন্য যারা তার মত বিশ্বাস করেন যে, একমাত্র দীনদারির দিক দিয়েই সমতা দেখতে হবে, অন্য কোনো দিক দিয়ে নয়, তাদের জন্য এ হাদিসে অকাট্য প্রমাণ রয়েছে।
৪. রসূলুল্লাহ সা. যায়দ বিন হারেসার সাথে যয়নব বিনতে জাহাশকে বিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু যয়নব ও তার ভাই আব্দুল্লাহ এ প্রস্তাব অস্বীকার করেন। কারণ একে তো তিনি সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশীয়, তদুপরি তিনি রসূলুল্লাহ সা.-এর ফুফাতো বোন। তার মাতা আব্দুল মুত্তালিব কন্যা উমাইমা। অপরদিকে যায়দ ছিলো ক্রীতদাস। তখন এ আয়াত নাযিল হলো:
وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْখِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَلاً مُّبِينًا
অর্থ: কোনো মুমিন নারী ও পুরুষের অধিকার নেই যে, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যখন কোনো ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, তখন তারা তাতে নিজেদের স্বাধীন ইচ্ছা প্রয়োগ করবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রসূলের নাফরমানী করবে, সে সুস্পষ্ট গোমরাহিতে লিপ্ত হবে।” (সূরা আহযাব: আয়াত ৩৬)
এ আয়াত নাযিল হবার পর তার ভাই আব্দুল্লাহ রসূলুল্লাহ সা. কে বললেন: আমাকে যা ইচ্ছা আদেশ করুন। অতপর তিনি যয়নবকে যায়দের সাথে বিয়ে দিলেন।
৫. আবু হুযায়ফা সালেমকে ওলিদ বিন উতবার কন্যা হিন্দের সাথে বিয়ে দেন। তিনি ছিলেন জনৈকা আনসারী মহিলার মুক্ত গোলাম।
৬. বিলাল বিন রাবাহকে আবদুর রহমান বিন আওফের বোনের সাথে বিয়ে দেয়া হয়।
৭. আলী রা.কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল 'কুফু'ধারীদের বিয়ে সম্পর্কে। তিনি বললেন: মানুষ যখন ঈমান আনে ও ইসলাম গ্রহণ করে, তখন তারা আরব হোক, অনারব হোক, কুরাইশী হোক বা হাশেমী হোক, সবাই পরস্পরের 'কুফু'ধারী। অর্থাৎ সবাই সমান ও পরস্পরের সমকক্ষ। এটা মালেকি মাযহাবের মত। শওকানি বলেছেন: উমর রা. ইবনে মাসউদ রা., মুহাম্মদ ইবনে সিরীন, উমর ইবনে আব্দুল আযীয ও ইবনুল কাইয়েম বলেছেন: রসূলুল্লাহ সা.-এর ফায়সালা যে দাবি জানায়, তা হলো, দীনদারিতে পূর্ণাঙ্গ ও মৌলিক সমতা রক্ষা করা চাই। সুতরাং কোনো মুসলিম নারীর বিয়ে কাফেরের সাথে এবং কোনো সতী নারীর বিয়ে পাপাচারীর সাথে হতে পারেনা। কুরআন ও সুন্নাহ 'কুফু' বা সমতার ব্যাপারে এর বাইরে আর কোনো জিনিসকে হিসাবে ধরেনি। মুসলিম সতী নারীর জন্য নোংরা ব্যভিচারী পুরুষকে বিয়ে করা হারাম করেছে। এ ক্ষেত্রে বংশীয় কৌলিন্য, পেশা, ধনসম্পদ, ইত্যাদিকে কোনো হিসাবে ধরেনি। একজন ক্রীতদাস যদি চরিত্রবান মুসলমান হয়, তবে একজন ধনাঢ্য সম্ভ্রান্ত বংশীয় নারীকে বিয়ে করা তার জন্য সম্পূর্ণ বৈধ। অকুরাইশী পুরুষরা কুরাইশী মহিলাদেরকে অহাশেমী পুরুষরা হাশেমী মহিলাদেরকে এবং দরিদ্র পুরুষরা ধনী মহিলাদেরকে অবাধে বিয়ে করতে পারে।"-যাদুল মায়াদ, ৪/২২।
ইতিপূর্বে মালেকি ও অ-মালেকি যেসব ফকিহর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা সবাই একমাত্র সততা ও দীনদারিকেই 'কুফু'র গ্রহণযোগ্য উপাদান বলে মনে করেন। অন্যান্য ফকিহগণও সততা ও দীনদারিকে 'কুফু'র গ্রহণযোগ্য উপাদান মনে করেন এবং তারা এও মনে করেন যে, ফাসেক পুরুষ সতী নারীর জন্য 'কুফু' বা সমকক্ষ নয়। তবে তারা শুধু এই দুটি বিষয়েই 'কুফু'কে সীমিত করার পক্ষপাতি নন। তারা মনে করেন, আরো কিছু বিষয় এমন রয়েছে, যাতে কুফু বা সমকক্ষতা রক্ষা করা আবশ্যক।
📄 কুফু পাওয়া ও তার অভিভাবকদের অধিকার
অধিকাংশ ফকিহর মতে, 'কুফু' তথা সমমানের স্বামী পাওয়া স্ত্রী ও তার ওলিদের অধিকার। তাই ওলির জন্য বৈধ নয়, তার অধীনস্থ মেয়েকে তার ও অন্য সকল ওলির সম্মতি ব্যতিরেকে বিনা কুফুতে বিয়ে দেয়া। কেননা বিনা কুফুতে বিয়ে দেয়া তাদের অবমাননা ও অপমানের শামিল। তাই এটা তাদের সকলের সম্মতি ব্যতিরেকে জায়েয নয়। মহিলা ও তার ওলি সম্মতি দিলে বিয়ে বৈধ হবে। কেননা তাদের অসম্মতিই এ পথে বাধা ছিলো। যখন তারা সম্মতি দিল, তখন বাধা দূর হলো। শাফেয়ি ফকিহগণ বলেন: যে ওলি আর্থিক ব্যয়ভার বহন করে, 'কুফু'র অধিকার তারই প্রাপ্য। ইমাম আহমদ বলেন, এটা সকল ওলির অধিকার, চাই দূরের হোক বা কাছের হোক। যে ওলি সম্মতি দেবেনা, তার বিয়ে বাতিল করার ক্ষমতা থাকবে। আহমদ থেকে আরেকটি মত বর্ণিত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, 'কুফু' আল্লাহর হক। স্ত্রী ও তার ওলিরা যদি 'কুফু'বিহীন বিয়েতে রাযী হয়ও, তবু তাদের রাযী হওয়া শুদ্ধ নয়। তবে এই মতটির ভিত্তি হলো, 'কুফু' শুধু ধর্মের ব্যাপারেই বিবেচ্য অন্য কোনো ব্যাপারে নয়। একটি বর্ণনা থেকে তার এই মত জানা গেছে।
📄 কুফু কখন বিবেচ্য?
'কুফু' কেবল আব্দ সম্পাদনের সময়ই বিবেচ্য। আব্দ হয়ে যাওয়ার পর যদি জানা যায়, কোনো এক দিক দিয়ে 'কুফু' রক্ষিত হয়নি। তাহলে তাতে কোনো ক্ষতি হবেনা এবং তা আকদের উপর কোনো প্রভাব ফেলবেনা। কেননা বিয়ের শর্তাবলী আকদের সময়ই বিবেচনায় নিতে হয়। বিয়ের সময় যদি স্বামী একটা ভদ্র পেশায় প্রতিষ্ঠিত থাকে। অথবা স্ত্রীর ভরণ পোষণে সক্ষম থেকে থাকে কিংবা সৎ লোক থেকে থাকে। কিন্তু পরে পরিস্থিতি পাল্টে যায়, ফলে সে কোনো নিম্ন পর্যায়ের পেশা অবলম্বন করে, অথবা ভরণ পোষণে অক্ষম হয়ে পড়ে, অথবা বিয়ের পরে অসৎ ও ফাসেক হয়ে যায়, তবে আব্দ বহাল থাকবে। কেননা সময় পরিবর্তনশীল এবং মানুষের অবস্থা সব সময় এক রকম থাকেনা। স্ত্রীকে বাস্তবতা মানতেই হয় এবং ধৈর্য ও খোদাভীতির পথ আঁকড়ে ধরে রাখতে হয়। (কোনো মেয়েকে যদি তার ও তার ওলির সম্মতি ছাড়াই 'কুফু'বিহীন বিয়ে দেয়া হয়, তবে কারো কারো মতে, বিয়ে বাতিল হয়ে যাবে। আবার কারো কারো মতে, বিয়ে শুদ্ধ হবে, কিন্তু মহিলার তা বাতিল করার অধিকার থাকবে। এটা শাফেয়ি মাযহাবের মত। হানাফিদের মত অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে।)