📄 এতিম মেয়ের বিয়ে
এতিম মেয়েকে বয়োপ্রাপ্ত হওয়ার আগে বিয়ে দেয়া বৈধ। ওলি তার বিয়ের আয়োজন করবে। তবে বয়োপ্রাপ্ত হওয়ার পর তার বিয়ে বাতিল করার ক্ষমতা থাকবে। এটা আয়েশা রা. আহমদ ও আবু হানিফার মত। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন : "তারা তোমার নিকট স্ত্রীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তুমি বলো: আল্লাহ তাদের সম্বন্ধে তোমাদের ব্যবস্থা দিচ্ছেন, আর যা তোমাদেরকে কিতাবে পড়ে শুনান হয়, তা ঐসব এতিম নারীদের সম্পর্কে যাদের তোমরা তাদের নির্ধারিত প্রাপ্য দাওনা, অথচ তোমরা তাদেরকে বিয়ে করতে চাও।” (সূরা নিসা : আয়াত ১২৭)
আয়েশা রা. বলেন: এ আয়াত এমন এতিম নারী সংক্রান্ত, যে তার ওলির নিকট লালিত পালিত হয়, অতপর উক্ত ওলি তাকে বিয়ে করতে আগ্রহী হয়, কিন্তু তাকে ইনসাফ সহকারে মোহরানা দেয়না। তাই ইনসাফ সহকারে মোহরানা না দিলে তাদেরকে বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে। আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসায়ী ও ইবনে মাজায় রসূল সা. থেকে বর্ণিত: "এতিম নারীকে তার নিজের ব্যাপারে মতামত জিজ্ঞাসা করা হবে। সে যদি চুপ থাকে তবে সেটা তার সম্মতি, আর অসম্মতি জানালে তার বিয়ে বৈধ হবে না।" শাফেয়ি বলেছেন: এতিম মহিলাকে বিয়ে দেয়া কেবল বয়োপ্রাপ্ত হওয়ার পরেই বৈধ হবে। কেননা, রসূলুল্লাহ সা. তার মতামত নিতে বলেছেন। অথচ বয়োপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত মতামত নেয়ার সুযোগ নেই। কারণ অপ্রাপ্ত বয়স্কা মেয়ের মতামত জিজ্ঞাসা করা নিরর্থক ও নিষ্ফল।
📄 একই ওলি কর্তৃক বিয়ে সম্পাদন
যখন বর ও কনে উভয়ের ওলি একই ব্যক্তি হয়, তখন সেই ওলি অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে ও মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন করতে পারে। যেমন দাদা যখন ওলি কিংবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত উকিল, তখন তিনি তার এক অপ্রাপ্ত বয়স্ক পৌত্রকে অপর অপ্রাপ্ত বয়স্ক পৌত্রীর সাথে (চাচাতো ভাই ও বোনকে) বিয়ে দিতে পারেন।
📄 শাসক বা বিচারক যখন ওলি হয়
দুই অবস্থায় শাসক বা বিচারকের নিকট অভিভাবকত্ব চলে যায়:
১. যখন একাধিক ওলি থাকে এবং তারা ঝগড়ায় লিপ্ত হয়।
২. যখন ওলি বিদ্যমান থাকেনা, চাই ওলির অস্তিত্বই না থাকুক, অথবা ওলি অনুপস্থিত থাকুক। এমতাবস্থায় যদি কুফু'ধারী বর পাওয়া যায়। প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে তার প্রতি সম্মত থাকে এবং ওলিদের কেউ উপস্থিত না থাকে। যেমন সে বর ও কনে উভয়ের শহরের বাইরে থাকে, তাহলে বিচারক এমতাবস্থায় বিয়ে সম্পন্ন করতে পারবে। তবে বর ও কনে যদি অনুপস্থিত ওলির অপেক্ষায় থাকতে সম্মত থাকে, চাই তাতে যতো বিলম্বই ঘটুক, তবে তার অপেক্ষায় থাকতে হবে এবং অভিভাবকত্ব বিচারকের হাতে যাবেনা। তবে এ ধরনের সম্মতি কনের পক্ষ থেকে না জানানো হলে অপেক্ষা করা বাধ্যতামূলক থাকবেনা। কেননা বায়হাকিতে আলী রা. থেকে বর্ণিত: "তিনটে জিনিসে বিলম্ব করা যাবেনা: নামায, যখন তার সময় সমাগত হয়। লাশের সৎকার, যখন তা উপস্থিত হয় এবং স্বামীহীনা নারীর বিয়ে, যখন 'কুফু'ধারী বর পাওয়া যায়।