📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 নিকট আত্মীয় ওলি অনুপস্থিত থাকলে তিনি দূরের আত্মীয় ওলির মতো

📄 নিকট আত্মীয় ওলি অনুপস্থিত থাকলে তিনি দূরের আত্মীয় ওলির মতো


আল-মুগনীতে বলা হয়েছে : যখন নিকটাত্মীয় ওলি আটক বা বন্দী থাকে যেখানে তার মতামত গ্রহণ করা সম্ভব হয়না, তখন তিনি দূরের আত্মীয় ওলির মতো গণ্য হবেন। কেননা দূরত্ব কেবল তার ব্যক্তিগত অবস্থানের কারণে বিবেচিত হয়নি, বরং তার তদারকীতে বিয় সম্পাদন অসম্ভব হওয়ার কারণে বিবেচিত হয়েছে। এখানে এই শেষোক্ত কারণই বিদ্যমান। তাই যখন জানা যাবেনা ওলি নিকটাত্মীয়, না দূরের আত্মীয়, অথবা নিকটাত্মীয় কিন্তু তার অবস্থান জানা যায়না, তখন তিনি দূরের আত্মীয় গণ্য হবেন।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 দু'জন ওলির বিয়ে সম্পাদন (পৃথকভাবে)

📄 দু'জন ওলির বিয়ে সম্পাদন (পৃথকভাবে)


যখন দু'জন ওলি কোনো মেয়ের বিয়ের আব্দ সম্পাদন করে, তখন দেখতে হবে উভয় আব্দ একই সময়ে সম্পন্ন হয়েছে, বা একটা আগে ও অপরটা পরে হয়েছে। উভয় আব্দ যদি একই সময়ে হয়, তবে দুটোই বাতিল হয়ে যাবে। আর যদি একটা আগে ও অন্যটা পরে হয়, তবে কনে প্রথম আদের বরের স্ত্রী গণ্য হবে। এমনকি দ্বিতীয়জন যদি তার সাথে সহবাস করে থাকে তবুও। দ্বিতীয় আকদের বর যদি এ কথা পূর্বাহ্নে জেনেও তার সাথে সহবাস করে থাকে যে, তার সাথে আরেকজনের আব্দ ইতিপূর্বেই সম্পন্ন হয়েছে, তাহলে তার সহবাস ব্যভিচার গণ্য হবে এবং সে 'হদে'র (শরিয়ত নির্দেশিত শাস্তি) যোগ্য বিবেচিত হবে। আর যদি সে এ কথা পূর্বাহ্নে না জেনে থাকে, তাহলে তাকে প্রথম আব্দের বরের কাছেই ফিরিয়ে দেয়া হবে। তবে দ্বিতীয়জন অজ্ঞতার কারণে শাস্তি থেকে অব্যাহতি পাবে। সামুরা রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: যে মহিলাকে দু'জন ওলি পৃথকভাবে বিয়ে দেয়, সে প্রথম আকদের বরের স্ত্রী হবে।” (আহমদ, আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ) এ হাদিসে যেরূপ শর্তহীনভাবে প্রথম আব্দকে কার্যকর ও দ্বিতীয় আব্দকে অকার্যকর বিবেচনা করা হয়েছে, তা দাবি করে, কনে প্রথম আদের বরের স্ত্রী, চাই তার সাথে দ্বিতীয় আন্দের বর সহবাস করে থাকুক বা না করে থাকুক।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যে নারীর ওলি নেই এই আদালতে যাওয়ারও সাধ্য নেই

📄 যে নারীর ওলি নেই এই আদালতে যাওয়ারও সাধ্য নেই


কুরতুবী বলেন: কোনো মহিলার অবস্থান যদি এমন জায়গায় হয়, যেখানে তার কোনো ওলি নেই এবং সেখানে কোনো শাসকও নেই, তবে তার দায়িত্ব তার কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেশীর হাতে ন্যস্ত করা হবে, যিনি তার বিয়ে দেবেন এবং আপাতত তিনিই তার ওলি হবেন। কারণ মানব-সমাজে বিয়ে-শাদির ব্যবস্থা তো থাকাই চাই। যতটা সম্ভব, সুষ্ঠুভাবে তা সম্পন্ন করলেই হলো। (আহকামুল কুরআন, পৃ. ৮৬, খণ্ড-৩)। এ কারণেই ইমাম মালেক দুস্থ মহিলা সম্পর্কে বলেছেন: এ ধরনের মহিলা যার নিকট তার দায়িত্ব সমর্পণ করে, সে-ই তার বিয়ে দেবে। কেননা সে শাসক থেকে দূরে অবস্থান করে। তাই সে শাসকবিহীন এলাকার মানুষের সাথে তুলনীয়। কাজেই মোটামুটিভাবে বলা যায়, মুসলিম সমাজই তার ওলি। শাফেয়ি বলেন: প্রতিবেশীদের মধ্যে যখন এমন কোনো মহিলা থাকে, যার কোনো ওলি নেই এবং সেই মহিলা কোনো পুরুষকে নিজের ওলি বা অভিভাবক বানিয়ে নেয়, তখন সেই পুরুষ তাকে বিয়ে দিলে সেটা জায়েয হবে। কারণ শালিস মনোনয়নের সাথে এর সাদৃশ্য রয়েছে। আর যে ব্যক্তি শালিস মনোনীত হয়, সে শাসকের স্থলাভিষিক্ত এবং তার সিদ্ধান্ত কার্যকর।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ওলি কর্তৃক অধীনস্থ্যা মহিলার বিয়ে ঠেকানো

📄 ওলি কর্তৃক অধীনস্থ্যা মহিলার বিয়ে ঠেকানো


আলেমগণ একমত, কোনো ওলির জন্য এটা বৈধ নয় যে, তার অধীনস্থ নারীকে যখন তার 'কুফু'ধারী কেউ মোহরে মিছল সহকারে বিয়ে করতে চাইবে, তখন তাকে বিয়ে করতে বাধা দেবে এবং বিয়ে প্রতিহত করে তার উপর যুলুম চালাবে। এ রকম ক্ষেত্রে ওলি যখন তাকে বিয়ে করতে বাধা দেবে তখন সেই মহিলার আদালতে আবেদন করার অধিকার থাকবে, যাতে আদালত তার বিয়ে দেয়। এরূপ ক্ষেত্রে তার অভিভাবকত্ব অন্য ওলির নিকট হস্তান্তরিত হবেনা, বরং উক্ত অত্যাচারী ওলির নিকট থেকে তার অভিভাবকত্ব সরাসরি আদালতের হাতে চলে যাবে। কেননা বিয়ে ঠেকানো একটা যুলুম। আর যুলুম প্রতিহত করার দায়িত্ব আদালতের হাতে ন্যস্ত। অবশ্য যখন কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণে বিয়েতে বাধা দেয়া হয়, যেমন স্বামী 'কুফু'ধারী নয়, কিংবা ধার্যকৃত মোহর মোহরে মিছলের চেয়ে কম। অথবা তার চেয়েও অধিক 'কুফু'ধারী অন্য প্রস্তাবক বিদ্যমান, তখন অভিভাবকত্ব হস্তান্তরিত হবেনা। কেননা এ ক্ষেত্রে ওলি বাধাদানকারী বলে গণ্য হয়না।
মাকাল বিন ইয়াসার রা. বলেন: আমার একটা বোন ছিলো। আমার নিকট তার বিয়ের প্রস্তাব আসতো। এক পর্যায়ে আমার নিকট বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এলো আমার এক চাচাতো ভাই। আমি তার সাথেই বোনের বিয়ে দিলাম। তারপর সে তাকে রজয়ি (প্রত্যাহারযোগ্য) তালাক দিলো এবং তাকে রেখে চলে গেল। ইদ্দত শেষে যখন আবার আমার বোনের বিয়ের জন্য আমার নিকট প্রস্তাব আসতে লাগলো। তখন ঐ চাচাতো ভাই আবার আমার নিকট তার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এলো। তখন আমি বললাম: আল্লাহর কসম, আমি আর কখনো তাকে বিয়ে দেবনা। তখন আমার সম্পর্কে আয়াত নাযিল হলো : "যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দাও এবং তালাকের পর তারা তাদের ইদ্দত পূর্ণ করে, তখন তোমরা তাদেরকে তাদের স্বামীর সাথে পুনরায় বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হতে বাধা দিওনা।” (সূরা বাকারা: আয়াত ২৩২) মা'কাল বলেন: এরপর আমি আমার কসমের কাফফারা দিলাম এবং বোনকে তার সাথে বিয়ে দিলাম।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00