📄 ওলির অনুপস্থিতি
ওলি হওয়ার যাবতীয় শর্ত ও যোগ্যতার আধিকারী ওলি যখন উপস্থিত থাকে, তখন তার চেয়ে দূরবর্তী ব্যক্তি ওলি হওয়ার যোগ্য গণ্য হবেনা। যেমন পিতা যদি উপস্থিত থাকে তবে ভাই বা চাচা প্রভৃতি ওলি হতে পারবেনা। উক্ত ভাই বা চাচা যদি পিতার অনুমতি ছাড়া কোনো অপ্রাপ্ত বয়স্কা বা অনুরূপ অধীনস্থ মেয়ের বিয়ে সম্পাদন করে, তবে অনুমতির উপর এ বিয়ে মওকুফ থাকবে। কিন্তু যদি নিকটতম ওলি অনুপস্থিত থাকে এবং বিয়ের সুযোগ্য ও কুফুসম্পন্ন প্রস্তাবক তার মত জানার অপেক্ষা করতে প্রস্তুত না হয়, তাহলে অভিভাবকত্ব তার পরবর্তী ব্যক্তির নিকট স্থানান্তরিত হবে, যাতে একজন মহিলার স্বার্থহানি না ঘটে। অতপর অনুপস্থিত ওলি ফিরে এসে তার পরবর্তী ওলি কর্তৃক সম্পাদিত বিয়েতে আপত্তি তোলার অধিকারী হবে না। কেননা সে তার অনুপস্থিতির কারণে অস্তিত্বহীন বিবেচিত হবে এবং তার পরবর্তী ব্যক্তিই ন্যায্য ওলি গণ্য হবে। এটা হানাফি মাযহাবের মত। কিন্তু শাফেয়ি বলেন: নিকটতম ওলি উপস্থিত থাকতে দূরবর্তী ওলি বিয়ে সম্পাদন করলে সে বিয়ে বাতিল। আর যখন নিকটতম ওলি অনুপস্থিত থাকবে, তখন পরবর্তী ব্যক্তি তার বিয়ে সম্পাদন করতে পারবেনা। তখন বিয়ে সম্পাদন করবে বিচারক।
বিদায়াতুল মুজতাহিদ গ্রন্থে বলা হয়েছে : এ বিষয়ে ইমাম মালেক বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মত দিয়েছেন। এরপর বলেছেন, নিকটতম ব্যক্তির উপস্থিতিতে দূরবর্তী ব্যক্তি বিয়ে সম্পাদন করলে বিয়ে বাতিল হবে। আবার অন্য সময় বলেছেন : বিয়ে বৈধ। অন্য একবার বলেছেন : নিকটতর ওলি এ বিয়ে অনুমোদনও করতে পারবে, বাতিলও করতে পারবে। তবে এই বিভিন্নতা পিতা কর্তৃক কুমারী কন্যার ও ওসিয়তপ্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক পালিত কন্যার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কেননা এ ক্ষেত্রে তার এই বক্তব্য বহাল থাকবে যে, বিয়ে বাতিল হবে। অর্থাৎ পিতা ছাড়া আর কেউ কুমারী কন্যার বিয়ে পিতার উপস্থিতিতেই সম্পাদন করলে কিংবা ওসিয়তপ্রাপ্ত ব্যক্তির উপস্থিতিতে অন্য কেউ পালিত কন্যার বিয়ে সম্পাদন করলে সে বিয়ে বাতিল হবে। ইমাম মালেক আবু হানিফার এই মত সমর্থন করেন যে, নিকটতর ওলির অনুপস্থিতিতে দূরবর্তী ওলির নিকট অভিভাবকত্ব স্থানান্তরিত হবে।
📄 নিকট আত্মীয় ওলি অনুপস্থিত থাকলে তিনি দূরের আত্মীয় ওলির মতো
আল-মুগনীতে বলা হয়েছে : যখন নিকটাত্মীয় ওলি আটক বা বন্দী থাকে যেখানে তার মতামত গ্রহণ করা সম্ভব হয়না, তখন তিনি দূরের আত্মীয় ওলির মতো গণ্য হবেন। কেননা দূরত্ব কেবল তার ব্যক্তিগত অবস্থানের কারণে বিবেচিত হয়নি, বরং তার তদারকীতে বিয় সম্পাদন অসম্ভব হওয়ার কারণে বিবেচিত হয়েছে। এখানে এই শেষোক্ত কারণই বিদ্যমান। তাই যখন জানা যাবেনা ওলি নিকটাত্মীয়, না দূরের আত্মীয়, অথবা নিকটাত্মীয় কিন্তু তার অবস্থান জানা যায়না, তখন তিনি দূরের আত্মীয় গণ্য হবেন।
📄 দু'জন ওলির বিয়ে সম্পাদন (পৃথকভাবে)
যখন দু'জন ওলি কোনো মেয়ের বিয়ের আব্দ সম্পাদন করে, তখন দেখতে হবে উভয় আব্দ একই সময়ে সম্পন্ন হয়েছে, বা একটা আগে ও অপরটা পরে হয়েছে। উভয় আব্দ যদি একই সময়ে হয়, তবে দুটোই বাতিল হয়ে যাবে। আর যদি একটা আগে ও অন্যটা পরে হয়, তবে কনে প্রথম আদের বরের স্ত্রী গণ্য হবে। এমনকি দ্বিতীয়জন যদি তার সাথে সহবাস করে থাকে তবুও। দ্বিতীয় আকদের বর যদি এ কথা পূর্বাহ্নে জেনেও তার সাথে সহবাস করে থাকে যে, তার সাথে আরেকজনের আব্দ ইতিপূর্বেই সম্পন্ন হয়েছে, তাহলে তার সহবাস ব্যভিচার গণ্য হবে এবং সে 'হদে'র (শরিয়ত নির্দেশিত শাস্তি) যোগ্য বিবেচিত হবে। আর যদি সে এ কথা পূর্বাহ্নে না জেনে থাকে, তাহলে তাকে প্রথম আব্দের বরের কাছেই ফিরিয়ে দেয়া হবে। তবে দ্বিতীয়জন অজ্ঞতার কারণে শাস্তি থেকে অব্যাহতি পাবে। সামুরা রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: যে মহিলাকে দু'জন ওলি পৃথকভাবে বিয়ে দেয়, সে প্রথম আকদের বরের স্ত্রী হবে।” (আহমদ, আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ) এ হাদিসে যেরূপ শর্তহীনভাবে প্রথম আব্দকে কার্যকর ও দ্বিতীয় আব্দকে অকার্যকর বিবেচনা করা হয়েছে, তা দাবি করে, কনে প্রথম আদের বরের স্ত্রী, চাই তার সাথে দ্বিতীয় আন্দের বর সহবাস করে থাকুক বা না করে থাকুক।
📄 যে নারীর ওলি নেই এই আদালতে যাওয়ারও সাধ্য নেই
কুরতুবী বলেন: কোনো মহিলার অবস্থান যদি এমন জায়গায় হয়, যেখানে তার কোনো ওলি নেই এবং সেখানে কোনো শাসকও নেই, তবে তার দায়িত্ব তার কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেশীর হাতে ন্যস্ত করা হবে, যিনি তার বিয়ে দেবেন এবং আপাতত তিনিই তার ওলি হবেন। কারণ মানব-সমাজে বিয়ে-শাদির ব্যবস্থা তো থাকাই চাই। যতটা সম্ভব, সুষ্ঠুভাবে তা সম্পন্ন করলেই হলো। (আহকামুল কুরআন, পৃ. ৮৬, খণ্ড-৩)। এ কারণেই ইমাম মালেক দুস্থ মহিলা সম্পর্কে বলেছেন: এ ধরনের মহিলা যার নিকট তার দায়িত্ব সমর্পণ করে, সে-ই তার বিয়ে দেবে। কেননা সে শাসক থেকে দূরে অবস্থান করে। তাই সে শাসকবিহীন এলাকার মানুষের সাথে তুলনীয়। কাজেই মোটামুটিভাবে বলা যায়, মুসলিম সমাজই তার ওলি। শাফেয়ি বলেন: প্রতিবেশীদের মধ্যে যখন এমন কোনো মহিলা থাকে, যার কোনো ওলি নেই এবং সেই মহিলা কোনো পুরুষকে নিজের ওলি বা অভিভাবক বানিয়ে নেয়, তখন সেই পুরুষ তাকে বিয়ে দিলে সেটা জায়েয হবে। কারণ শালিস মনোনয়নের সাথে এর সাদৃশ্য রয়েছে। আর যে ব্যক্তি শালিস মনোনীত হয়, সে শাসকের স্থলাভিষিক্ত এবং তার সিদ্ধান্ত কার্যকর।