📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ব্যভিচারিণীকে বিয়ে করা

📄 ব্যভিচারিণীকে বিয়ে করা


ইসলামে ব্যভিচারিণী নারীকে বিবাহ করার ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজীদে বলেছেন:

الزَّانِي لَا يَنكِحُ إِلَّا زَانِيَةً أَوْ مُشْرِكَةً وَالزَّانِيَةُ لَا يَنكِحُهَا إِلَّا زَانٍ أَوْ مُشْرِكٌ ۚ وَحُرِّمَ ذَلِكَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ

“ব্যভিচারী ব্যভিচারিণী অথবা মুশরিক নারী ব্যতীত অন্য কাউকে বিবাহ করবে না। আর ব্যভিচারিণীকে ব্যভিচারী অথবা মুশরিক পুরুষ ব্যতীত অন্য কেউ বিবাহ করবে না। আর মুমিনদের জন্য এটি হারাম করা হয়েছে।” (সূরা নূর: আয়াত ৩)

এই আয়াত দ্বারা নিম্নলিখিত বিধানগুলি স্পষ্ট হয়:

১. ব্যভিচারিণী নারীর বিবাহ: একজন ব্যভিচারিণী নারী বা একজন ব্যভিচারী পুরুষকে একজন মুমিন পুরুষ বা নারী বিবাহ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা আন্তরিকভাবে তওবা করে এবং নিজেদেরকে সংশোধন করে।

২. তওবার শর্ত: যদি ব্যভিচারী বা ব্যভিচারিণী তওবা করে এবং নিজেদের আচরণ সংশোধন করে, তাহলে তাদের বিবাহ করা বৈধ হতে পারে। কিন্তু তওবা না করা পর্যন্ত তাদের বিবাহ করা মুমিনদের জন্য হারাম। তওবা করার পর, ব্যভিচারিণী নারীকে বিবাহ করার আগে তার ইদ্দতকাল (যদি গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে) শেষ হতে হবে।

৩. বংশের বিশুদ্ধতা: ব্যভিচারিণী নারীকে বিবাহ করার ক্ষেত্রে বংশের বিশুদ্ধতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদি ব্যভিচারের ফলে নারী গর্ভবতী হয়, তবে সেই গর্ভের সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই ইদ্দতকাল পালনের মাধ্যমে এই সমস্যা এড়ানো হয়।

৪. সামাজিক ও নৈতিক প্রভাব: এই নিষেধাজ্ঞা সমাজের নৈতিক পবিত্রতা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য। এটি ব্যভিচারের প্রতি একটি কঠোর মনোভাব প্রকাশ করে এবং মুসলিমদেরকে পবিত্র জীবনযাপনের দিকে উৎসাহিত করে।

৫. মুমিনদের জন্য হারাম: আল্লাহ তায়ালা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই ধরনের বিবাহ মুমিনদের জন্য হারাম। এটি মুমিনদেরকে পবিত্র জীবনযাপন এবং আল্লাহর আদেশ মেনে চলার জন্য উৎসাহিত করে।

৬. ব্যভিচারের শাস্তি: ইসলামে ব্যভিচারের জন্য কঠোর শাস্তি নির্ধারিত আছে। যদি ব্যভিচার প্রমাণিত হয় এবং শাস্তি কার্যকর হয়, তারপরেও তওবার শর্ত পূরণ হলে বিবাহ সম্ভব।

ইমাম শাফেয়ী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: “একজন ব্যভিচারিণী নারীকে বিবাহ করার আগে তাকে অবশ্যই তওবা করতে হবে এবং তার ইদ্দতকাল শেষ হতে হবে।”

এই বিধানটি সমাজের নৈতিক স্বাস্থ্য রক্ষা এবং মুসলিমদেরকে পবিত্র জীবনযাপনের জন্য উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যে স্ত্রীর সাথে লিয়ান হয়েছে তাকে বিয়ে করা হারাম

📄 যে স্ত্রীর সাথে লিয়ান হয়েছে তাকে বিয়ে করা হারাম


ইসলামে 'লিয়ান' (লি'আন) হলো একটি শপথ প্রক্রিয়া, যা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঘটে যখন স্বামী তার স্ত্রীকে ব্যভিচারের অভিযোগ করে কিন্তু কোনো সাক্ষী উপস্থাপন করতে পারে না, এবং স্ত্রী সেই অভিযোগ অস্বীকার করে। এই পরিস্থিতিতে স্বামী-স্ত্রী উভয়ই আল্লাহ তায়ালার নামে শপথ করে। লিয়ানের পর, সেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চিরতরে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে এবং তারা একে অপরের জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যায়।

কুরআন মাজীদে লিয়ানের বিধান বর্ণিত হয়েছে:

وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُن لَّهُمْ شُهَدَاءُ إِلَّا أَنفُسُهُمْ فَشَهَادَةُ أَحَدِهِمْ أَرْبَعُ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنَ الصَّادِقِينَ * وَالْخَامِسَةُ أَنَّ لَعْنَتَ اللَّهِ عَلَيْهِ إِن كَانَ مِنَ الْكَاذِبِينَ * وَيَدْرَأُ عَنْهَا الْعَذَابَ أَن تَشْهَدَ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنَ الْكَاذِبِينَ * وَالْخَامِسَةَ أَنَّ غَضَبَ اللَّهِ عَلَيْهَا إِن كَانَتْ مِنَ الْكَاذِبِينَ

“যারা তাদের স্ত্রীদের প্রতি (ব্যভিচারের) অপবাদ আরোপ করে এবং তাদের নিজেদের ব্যতীত কোনো সাক্ষী থাকে না, তাদের একজনের সাক্ষ্য হলো আল্লাহ্র নামে চারবার শপথ করে বলা যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী। এবং পঞ্চমবারে বলা যে, যদি সে মিথ্যাবাদী হয়, তাহলে আল্লাহ্র অভিশাপ তার ওপর পড়ুক। আর তার থেকে শাস্তি দূরীভূত হবে যদি সে আল্লাহ্র নামে চারবার শপথ করে বলে যে, স্বামী অবশ্যই মিথ্যাবাদী। এবং পঞ্চমবারে বলা যে, যদি সে মিথ্যাবাদী হয়, তাহলে আল্লাহ্র ক্রোধ তার ওপর পড়ুক।” (সূরা নূর: আয়াত ৬-৯)

লিয়ানের পরিণতি:

১. চিরস্থায়ী বিচ্ছেদ: লিয়ান সম্পন্ন হওয়ার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চূড়ান্ত বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। এই বিচ্ছেদ তালাকের মতোই কার্যকর হয়, তবে এটি এমন এক ধরনের বিচ্ছেদ যেখানে তারা আর কখনো একে অপরের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে না।

২. হারাম সম্পর্ক: লিয়ানকৃত স্ত্রী তার প্রাক্তন স্বামীর জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যায়। এর মানে হলো, এমনকি যদি তারা তওবাও করে বা তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি দূর হয়ে যায়, তবুও তারা আর স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ফিরতে পারবে না।

৩. সন্তানের পিতৃত্ব: যদি স্ত্রী গর্ভবতী হয় এবং লিয়ান করা হয়, তাহলে সন্তানের পিতৃত্ব স্বামীর দিক থেকে অস্বীকার করা হয়। সন্তানকে মায়ের বংশের হিসেবে গণ্য করা হয়, এবং স্বামী সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়।

৪. ইজ্জত রক্ষা: লিয়ান হলো একটি প্রক্রিয়া যা স্বামী-স্ত্রী উভয়ের ইজ্জত রক্ষা করে যখন ব্যভিচারের অভিযোগের জন্য কোনো সাক্ষী থাকে না। এটি মিথ্যা অভিযোগ বা মিথ্যা অস্বীকারের শাস্তি হিসেবে কাজ করে এবং সত্যকে উদ্ঘাটনের একটি উপায়।

ইমাম শাফেয়ী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: “লিয়ান সম্পন্ন হওয়ার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাহ বন্ধন চিরতরে ছিন্ন হয়ে যায় এবং তারা আর কখনো একে অপরের জন্য হালাল হয় না।”

লিয়ান একটি গুরুতর বিষয় এবং এটি কেবল চরম পরিস্থিতিতেই ব্যবহার করা হয়, যখন পারিবারিক পবিত্রতা এবং সত্য উদ্ঘাটন অপরিহার্য হয়ে পড়ে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মুশরিক নারীকে বিয়ে করা

📄 মুশরিক নারীকে বিয়ে করা


ইসলামে মুশরিক নারীকে বিবাহ করা স্পষ্টভাবে হারাম করা হয়েছে। 'মুশরিক' বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয় যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো কিছুর সাথে অংশীদার স্থাপন করে বা মূর্তিপূজা করে। কুরআন মাজীদে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:

وَلَا تَنكِحُوا الْمُشْرِكَاتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ ۚ وَلَأَمَةٌ مُّؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِّن مُّشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ ۗ وَلَا تُنكِحُوا الْمُشْرِكِينَ حَتَّى يُؤْمِنُوا ۚ وَلَعَبْدٌ مُّؤْمِنٌ خَيْرٌ مِّن مُّشْرِكٍ وَلَوْ أَعْجَبَكُمْ ۗ أُولَٰئِكَ يَدْعُونَ إِلَى النَّارِ ۖ وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى الْجَنَّةِ وَالْمَغْفِرَةِ بِإِذْنِهِ ۖ وَيُبَيِّنُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ

“তোমরা মুশরিক নারীদেরকে বিবাহ করো না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে। আর একজন ঈমানদার দাসীও একজন মুশরিক নারীর চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদেরকে মুগ্ধ করে। আর মুশরিক পুরুষদের সাথে (তোমাদের নারীদের) বিবাহ দিও না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে। আর একজন ঈমানদার দাসও একজন মুশরিক পুরুষের চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদেরকে মুগ্ধ করে। তারা (মুশরিকরা) জাহান্নামের দিকে আহ্বান করে, আর আল্লাহ তাঁর অনুমতিক্রমে জান্নাত ও ক্ষমার দিকে আহ্বান করেন। আর তিনি তাঁর আয়াতসমূহ মানুষের জন্য স্পষ্ট করে দেন, যেন তারা উপদেশ গ্রহণ করে।” (সূরা বাকারা: আয়াত ২২১)

এই আয়াত দ্বারা নিম্নলিখিত বিধানগুলি স্পষ্ট হয়:

১. মুশরিক নারীর বিবাহ হারাম: মুসলিম পুরুষের জন্য মুশরিক নারীকে বিবাহ করা নিষিদ্ধ, যতক্ষণ না সে ইসলাম গ্রহণ করে এবং ঈমান আনে।

২. মুশরিক পুরুষের সাথে মুসলিম নারীর বিবাহ হারাম: মুসলিম নারীর জন্য মুশরিক পুরুষকে বিবাহ করাও নিষিদ্ধ। এই ক্ষেত্রেও পুরুষটিকে অবশ্যই ইসলাম গ্রহণ করে ঈমান আনতে হবে।

৩. ঈমানের গুরুত্ব: এই নিষেধাজ্ঞার মূল কারণ হলো ঈমানের মৌলিক পার্থক্য। মুশরিকরা আল্লাহ ছাড়া অন্যদের ইবাদত করে, যা তাওহীদ (একত্ববাদ)-এর পরিপন্থী। বিবাহ হলো দুটি পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের একটি মাধ্যম, এবং যদি ঈমানের ভিত্তি এক না হয়, তাহলে পারিবারিক জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধ, সন্তান প্রতিপালন, এবং পারস্পরিক বিশ্বাসে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

৪. জাহান্নামের দিকে আহ্বান: আল্লাহ তায়ালা মুশরিকদের সম্পর্কে বলেছেন যে তারা জাহান্নামের দিকে আহ্বান করে। এর অর্থ হলো, তাদের বিশ্বাস এবং জীবনধারা এমন যা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে এবং জাহান্নামের দিকে ধাবিত করে। মুসলিমরা জান্নাত ও ক্ষমার দিকে আহ্বান করে, তাই তাদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করা উচিত যারা একই বিশ্বাস ধারণ করে।

৫. ঈমানদার দাস/দাসী উত্তম: আয়াতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, একজন ঈমানদার দাস বা দাসীও একজন মুশরিক পুরুষ বা নারীর চেয়ে উত্তম, যদিও মুশরিক ব্যক্তিটি দেখতে বা গুণাবলীতে মুগ্ধকর হয়। এটি ঈমানের মূল্যকে দুনিয়াবি আকর্ষণ থেকে ঊর্ধ্বে স্থান দেয়।

এই নিষেধাজ্ঞা মুসলিম উম্মাহর ধর্মীয় পরিচয় রক্ষা, পারিবারিক ঐক্য এবং সঠিক ধর্মীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে সন্তান প্রতিপালনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 সাবেয়ী নারী বিয়ে করা

📄 সাবেয়ী নারী বিয়ে করা


সাবেয়ী (Sabaean) সম্প্রদায়কে বিবাহ করার বিষয়ে ইসলামিক শরীয়তে কিছু মতভেদ রয়েছে, কারণ তাদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে ঐতিহাসিক ও ধর্মতাত্ত্বিকদের মধ্যে স্পষ্ট ধারণা নেই। 'সাবেয়ী' শব্দটি কুরআনে একবার (সূরা মায়েদা: আয়াত ৬২) এবং হাদিসে কয়েকবার উল্লেখিত হয়েছে।

ঐতিহাসিক ও ধর্মতাত্ত্বিকদের মতে, সাবেয়ীরা কারা তা নিয়ে কয়েকটি মত:

১. আহলে কিতাবের অন্তর্ভুক্ত: কিছু আলেম মনে করেন, সাবেয়ীরা আহলে কিতাবের অন্তর্ভুক্ত। তারা বিশ্বাস করেন যে, সাবেয়ীদের এমন এক ধরনের ধর্মীয় বিশ্বাস ছিল যা কিছু নবী ও আসমানী কিতাবের সাথে সম্পর্কযুক্ত, যদিও তাদের নির্দিষ্ট নবী বা কিতাব চিহ্নিত নয়। যদি এই মত সঠিক হয়, তাহলে আহলে কিতাবের নারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী তাদের সতী-সাধ্বী নারীদের বিবাহ করা মুসলিম পুরুষের জন্য বৈধ হবে, যেমনটি ইহুদি ও খ্রিষ্টান নারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ইমাম শাফেয়ী এবং ইমাম আহমদ থেকে কিছু বর্ণনা এই মতকে সমর্থন করে।

২. মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত: কিছু আলেম মনে করেন, সাবেয়ীরা মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত। তারা সূর্য, চাঁদ, তারা, বা অন্যান্য প্রাকৃতিক বস্তুর উপাসনা করত। যদি এই মত সঠিক হয়, তাহলে মুশরিক নারীদের বিবাহ করা হারাম হওয়ার বিধান অনুযায়ী সাবেয়ী নারীদের বিবাহ করা মুসলিম পুরুষের জন্য হারাম হবে, যতক্ষণ না তারা ইসলাম গ্রহণ করে।

৩. নিজস্ব ধর্মাবলম্বী: কিছু ঐতিহাসিক বলেছেন যে, সাবেয়ীরা ছিল একটি স্বতন্ত্র ধর্মীয় সম্প্রদায়, যাদের নিজস্ব বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠান ছিল, যা ইহুদি, খ্রিষ্টান, বা মুশরিক কোনোটির সাথেই সম্পূর্ণরূপে সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল না।

বর্তমান ফতোয়া:

অধিকাংশ আধুনিক ইসলামিক পন্ডিত এবং ফিকহবিদগণ এই বিষয়ে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে। যদি সাবেয়ীদের ধর্মীয় বিশ্বাস আল্লাহ তায়ালার একত্ববাদ এবং ঐশী কিতাবের মৌলিক ধারণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, অথবা যদি তাদের মধ্যে শিরকের (আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন) সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাদের নারীকে বিবাহ করা হারাম হবে।

যদি তাদের ধর্মীয় পরিচয় স্পষ্ট না হয় এবং শিরকের বিষয়ে সন্দেহ থাকে, তাহলে মুসলিম পুরুষের জন্য তাদের নারীকে বিবাহ করা উচিত নয়। কারণ, মুসলিম পুরুষের জন্য এমন নারীকে বিবাহ করা উচিত যিনি তার ধর্মীয় জীবনকে শক্তিশালী করবেন এবং সন্তানদের ইসলামিক মূল্যবোধে প্রতিপালনে সহায়তা করবেন।

সুতরাং, সাবেয়ী নারীকে বিবাহ করার বিষয়টি নির্ভর করে তাদের প্রকৃত ধর্মীয় বিশ্বাস এবং সেগুলোর ইসলামিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যের ওপর। যদি নিশ্চিত হয় যে তারা আহলে কিতাবের মতো মৌলিক ঐশী বিশ্বাস ধারণ করে এবং শিরক থেকে মুক্ত, তাহলে বিবাহ বৈধ হতে পারে। অন্যথায়, তা নিষিদ্ধ হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00