📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে বিয়ে নিষিদ্ধ হওয়ার যৌক্তিকতা

📄 দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে বিয়ে নিষিদ্ধ হওয়ার যৌক্তিকতা


দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে বিবাহ নিষিদ্ধ হওয়ার পেছনে ইসলামের সুনির্দিষ্ট যৌক্তিকতা রয়েছে, যা পারিবারিক কাঠামো, সম্মান, এবং নৈতিক পবিত্রতা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেয়। এই নিষেধাজ্ঞাগুলো সাধারণত 'হুরমাতুল মুসাহারাত' বা বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে সৃষ্ট মাহরাম সম্পর্ক নামে পরিচিত। এর প্রধান কারণগুলো নিম্নরূপ:

১. পারিবারিক পবিত্রতা রক্ষা: এই নিষেধাজ্ঞাগুলোর মাধ্যমে পারিবারিক সম্পর্কগুলোকে সম্মান ও পবিত্রতা দেওয়া হয়। যখন একজন পুরুষ কোনো নারীকে বিবাহ করে, তখন সেই নারীর নিকটাত্মীয়রা (যেমন মা, মেয়ে) তার নিজের পরিবারের অংশ হয়ে যায়। এই সম্পর্কগুলোর মধ্যে যৌন সম্পর্ক স্থাপন নিষিদ্ধ করা হয় যাতে পারিবারিক বন্ধনগুলো সুদৃঢ় থাকে এবং সম্পর্কের জটিলতা এড়ানো যায়।

২. সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠা: শাশুড়ি, সৎ মেয়ে (যদি স্ত্রীর সাথে সহবাস হয়), এবং পুত্রবধূ—এদের প্রতি বিশেষ সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠা করা হয়। যদি এদের সাথে বিবাহ সম্পর্ক বৈধ হতো, তাহলে পারিবারিক সম্পর্কগুলোতে সম্মান ও পবিত্রতার ধারণা বিঘ্নিত হতো। উদাহরণস্বরূপ, শাশুড়িকে মায়ের মতো এবং পুত্রবধূকে নিজের মেয়ের মতো দেখা হয়।

৩. অনৈতিকতা ও বিশৃঙ্খলা রোধ: ইসলামে অনৈতিক সম্পর্ক কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। যদি এই ধরনের সম্পর্ক বৈধ হতো, তাহলে পরিবারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতো এবং নৈতিক অবক্ষয় ঘটত। এই নিষেধাজ্ঞাগুলো সমাজের নৈতিক ভিত্তি রক্ষা করে এবং সুস্থ পারিবারিক পরিবেশ বজায় রাখে।

৪. সম্পর্কের জটিলতা পরিহার: দুই বোনকে একই সময়ে বিবাহ করা বা ফুফু ও ভাতিজিকে একই সময়ে বিবাহ করা নিষিদ্ধ। এর কারণ হলো, এটি সম্পর্কের মধ্যে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে এবং পারিবারিক কলহ বাড়াতে পারে। যদি দুজন বোন একই স্বামীর অধীনে থাকে, তাহলে তাদের মধ্যে হিংসা বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হতে পারে, যা পারিবারিক শান্তি নষ্ট করবে। এই নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কের মধ্যে স্পষ্টতা এবং শান্তি বজায় রাখে।

৫. বংশের ধারাবাহিকতা: এই নিষেধাজ্ঞাগুলো বংশের ধারাবাহিকতা এবং পরিচয় রক্ষা করতে সাহায্য করে। যদি এই ধরনের সম্পর্ক বৈধ হতো, তাহলে বংশের পরিচয়ে জটিলতা সৃষ্টি হতো এবং কে কার সন্তান তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ত।

৬. আল্লাহর আদেশ পালন: সর্বোপরি, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো আল্লাহর সুস্পষ্ট নির্দেশ। একজন মুসলিমের জন্য আল্লাহর আদেশ পালন করা ইবাদতের অংশ এবং তাঁর নির্ধারিত সীমারেখা মেনে চলার প্রতীক। এই আদেশগুলো মানবজাতির সার্বিক কল্যাণ ও মঙ্গলের জন্য দেওয়া হয়েছে।

এই যৌক্তিকতাগুলো একত্রিত হয়ে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে বিবাহ নিষিদ্ধ করার গুরুত্ব তুলে ধরে, যা ইসলামের পারিবারিক নীতি ও মূল্যবোধের মূল ভিত্তি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00