📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 আকদ বাধ্যতামূলক হয়না কখন

📄 আকদ বাধ্যতামূলক হয়না কখন


আকদ বা চুক্তি নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে বাধ্যতামূলক হয় না, যদিও তা প্রাথমিকভাবে বৈধ বলে মনে হতে পারে:

১. ইজাব-কবুলের ত্রুটি: যদি বিবাহের প্রস্তাবে বা গ্রহণে কোনো অস্পষ্টতা থাকে, বা প্রস্তাব ও গ্রহণ একই মজলিসে (বৈঠকে) না হয়, তাহলে চুক্তি বাধ্যতামূলক হয় না। অর্থাৎ, যদি এক পক্ষ প্রস্তাব দেয় এবং অন্য পক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ না করে, অথবা প্রস্তাবটি এমনভাবে দেওয়া হয় যা স্পষ্ট নয়, তাহলে চুক্তিটি কার্যকর হবে না।

২. শর্তের অভাব: যদি বিবাহের কোনো মৌলিক শর্ত, যেমন—সাক্ষী বা মোহরানা, পূরণ না হয়, তাহলে আকদ বাধ্যতামূলক হয় না। যদি সাক্ষীরা অনুপস্থিত থাকে অথবা মোহরানা নির্দিষ্ট করা না হয়, তাহলে বিবাহের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।

৩. অপ্রাপ্তবয়স্ক বা মানসিক অসুস্থতা: যদি বর বা কনের মধ্যে কেউ অপ্রাপ্তবয়স্ক হয়, অথবা মানসিক অসুস্থতার কারণে চুক্তি সম্পাদনে অক্ষম হয়, তাহলে আকদ বাধ্যতামূলক হবে না। এক্ষেত্রে অভিভাবকের অনুমতি এবং তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা অপরিহার্য।

৪. প্রতারণা বা জবরদস্তি: যদি কোনো পক্ষকে প্রতারণা করে বা জবরদস্তি করে বিবাহে বাধ্য করা হয়, তাহলে সেই চুক্তিটি শরীয়ত অনুযায়ী বাতিল বলে গণ্য হবে এবং তা বাধ্যতামূলক হবে না।

৫. নিষিদ্ধ সম্পর্ক: যদি বর ও কনের মধ্যে এমন কোনো সম্পর্ক থাকে যা শরীয়ত অনুযায়ী বিবাহে নিষিদ্ধ (যেমন—রক্ত সম্পর্কীয়, দুধ সম্পর্কীয়, বা বৈবাহিক সম্পর্কীয়), তাহলে চুক্তিটি বাতিল হবে এবং তা বাধ্যতামূলক হবে না।

৬. মোহরানার অনিশ্চয়তা: যদি মোহরানা এমনভাবে নির্দিষ্ট করা হয় যা সম্পূর্ণ অনিশ্চিত বা অস্পষ্ট, তাহলে চুক্তিটি কার্যকর নাও হতে পারে। মোহরানা সুনির্দিষ্ট হওয়া চুক্তি কার্যকারিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এই পরিস্থিতিগুলোতে আকদ বাধ্যতামূলক হয় না, যা শরীয়তের নিয়ম অনুযায়ী বিবাহের বৈধতা এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00