📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যে সকল শর্ত পালন করা জরুরি

📄 যে সকল শর্ত পালন করা জরুরি


আক্‌দ করার সময় যদি কোনো শর্ত করা হয় এবং তা কুরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থী না হয়, তাহলে সেই শর্ত পালন করা জরুরি। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَوْفُوا بِالْعُقُودِ “হে মুমিনগণ, তোমরা তোমাদের চুক্তিগুলো পূর্ণ করো।” (সূরা মায়েদা: আয়াত ১)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: الْمُسْلِمُونَ عِنْدَ شُرُوطِهِمْ فَهُمْ أَحَقُّ مَا وَفَيْتُمْ بِالشَّرَائِطِ مَا اسْتَحْلَلْتُمْ بِهِ الْفُرُوجَ

“মুসলমানরা তাদের শর্তানুযায়ী চলে। তোমরা যা দ্বারা লজ্জা স্থান হালাল করো (অর্থাৎ বিবাহ করো), তা দ্বারা চুক্তি পালন করার অধিকতর যোগ্য।” – বুখারী, মুসলিম এবং ইবনে মাজাহ্। তবে ইবনে মাজাহ্-এর বর্ণনায় রয়েছে: فَأَحَقُّ مَا وَفَيْتُمْ بِهِ الشُّرُوطَ أَنْ تُوفُوا مَا اسْتَحْلَلْتُمْ بِهِ الْفُرُوجَ

“তোমরা যেসব শর্ত পালনের অধিকতর যোগ্য, তা হচ্ছে, যা দ্বারা তোমরা লজ্জা স্থান হালাল করো, সেসব শর্ত পূর্ণ করা।” তিরমিযী এটিকে হাসান সহীহ হাদিস বলেছেন।

ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহর কিতাবে যে শর্তের উল্লেখ নেই, সে শর্ত বাতিল।”

আল্-খাত্তাবী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: “এ হাদিসে চুক্তি ও শর্তের বৈধতা প্রমাণ করে, যদি তা কুরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থী না হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যেসব চুক্তি আল্লাহর কিতাবে নেই, তা বাতিল, অর্থাৎ যা শরীয়াতের মূলনীতি ও বিধানের বিপরীত। যে শর্ত শরীয়াতকে বাতিল করে, তা বাতিল বলে গণ্য। যদি কোনো শর্ত শরীয়াতের পরিপন্থী না হয় এবং তা চুক্তি দ্বারা প্রমাণিত হয়, তাহলে তা পালন করা উচিত।” – ফাতহুল বারী

ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: “বিবাহের ক্ষেত্রে যেসব শর্ত শরীয়াতের পরিপন্থী নয়, তা পালন করা জরুরি। যদি কোনো নারী স্বামী বা তার পরিবারের সাথে একত্রে থাকতে না চায় এবং স্বাধীনভাবে থাকতে চায়, তাহলে তা বৈধ। এমনকি যদি স্ত্রী স্বামীর জন্য কোনো অর্থ দাবি করে, যা দিয়ে সে স্বতন্ত্র বাড়িতে বসবাস করতে পারে, তাহলে তা পূরণ করা জরুরি।”

একইভাবে, স্ত্রী শর্ত দিতে পারে যে, তার স্বামী দ্বিতীয় বিবাহ করতে পারবে না। যদি স্বামী এই শর্ত ভঙ্গ করে, তাহলে স্ত্রীর তালাকের অধিকার থাকবে। শাফেয়ী, হাম্বলী ও হানাফী মাজহাবের মতে, এই শর্ত বৈধ এবং পালন করা জরুরি। যদি স্বামী দ্বিতীয় বিবাহ করে, তাহলে স্ত্রী তালাকপ্রাপ্ত হবে না। তবে ইবনে তাইমিয়ার মতে, এই ধরনের শর্ত পালন করা আবশ্যক।

মুগনীতে বলা হয়েছে: “বিবাহের ক্ষেত্রে যেসব শর্ত কুরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থী নয়, সেগুলো পালন করা জরুরি। এমনকি যদি স্বামী স্ত্রীকে বলে যে, সে তাকে তালাক দেবে না, তাহলে এটি একটি বৈধ শর্ত।”

ইমাম আহমদ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: “বিবাহের ক্ষেত্রে যেসব শর্ত শরীয়াতের পরিপন্থী নয়, তা পালন করা উচিত। যদি স্বামী এই ধরনের শর্ত ভঙ্গ করে, তাহলে স্ত্রীর তালাকের অধিকার থাকবে।”

তবে ইবনে তাইমিয়ার মতে, স্বামী এই শর্ত ভঙ্গ করলে স্ত্রী তালাকপ্রাপ্ত হবে না। যদি স্ত্রী স্বামীকে এই ধরনের শর্ত ভঙ্গ করার কারণে তালাকের অধিকার দেয়, তাহলে স্বামী এই শর্ত ভঙ্গ করলে স্ত্রীকে তালাক দেওয়া উচিত।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যে সকল শর্ত মানা জরুরি নয়

📄 যে সকল শর্ত মানা জরুরি নয়


যদি চুক্তিতে এমন কোনো শর্ত রাখা হয় যা শরীয়তসম্মত নয়, তাহলে সেই শর্ত বাতিল হবে। তবে মূল চুক্তি ঠিক থাকবে। যেমন, যদি স্বামী শর্ত করে যে, স্ত্রী তার জন্য কোনো খরচ দাবি করতে পারবে না। অথবা, স্ত্রী শর্ত করে যে, স্বামী তার সাথে সহবাস করতে পারবে না। অথবা, স্ত্রী শর্ত করে যে, সে স্বামীর সাথে সফরে যাবে না। অথবা, স্ত্রী শর্ত করে যে, স্বামী দ্বিতীয় বিবাহ করতে পারবে না। অথবা, স্ত্রী শর্ত করে যে, সে স্বামীর জন্য রান্না করবে না। এই ধরনের শর্তগুলো বাতিল বলে গণ্য হবে, কিন্তু মূল বিবাহ ঠিক থাকবে। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহর কিতাবে যে শর্তের উল্লেখ নেই, সে শর্ত বাতিল।”

ইমাম আহমদ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: “বিবাহের ক্ষেত্রে যেসব শর্ত শরীয়তের পরিপন্থী, সেগুলো বাতিল হবে, কিন্তু মূল বিবাহ ঠিক থাকবে।”

ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: “যদি কোনো শর্ত শরীয়তের পরিপন্থী হয়, তাহলে সেই শর্ত বাতিল হবে, কিন্তু মূল বিবাহ বাতিল হবে না।”

তবে, যদি এই ধরনের শর্তগুলো পালন করার জন্য কোনো কঠোরতা বা বাধ্যবাধকতা থাকে, তাহলে সেই শর্ত বাতিল হবে এবং মূল বিবাহও বাতিল হতে পারে। যেমন, যদি স্বামী শর্ত করে যে, স্ত্রী তার সাথে সহবাস করতে পারবে না, এবং এই শর্ত পালন করার জন্য স্ত্রী স্বামীর সাথে সহবাস না করে, তাহলে বিবাহ বাতিল হতে পারে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যে সকল শর্ত স্ত্রীর জন্য উপকারী

📄 যে সকল শর্ত স্ত্রীর জন্য উপকারী


যদি চুক্তিতে এমন শর্ত রাখা হয় যা স্ত্রীর জন্য উপকারী হয় এবং তা শরীয়তের পরিপন্থী না হয়, তাহলে সেই শর্ত পালন করা জরুরি। যেমন, যদি স্ত্রী শর্ত করে যে, স্বামী তাকে তার পরিবারের সাথে দেখা করার অনুমতি দেবে। অথবা, স্ত্রী শর্ত করে যে, স্বামী তাকে কাজ করার অনুমতি দেবে। অথবা, স্ত্রী শর্ত করে যে, স্বামী তাকে আলাদা বাড়িতে থাকতে দেবে। এই ধরনের শর্তগুলো বৈধ এবং পালন করা জরুরি।

ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: “যদি কোনো শর্ত স্ত্রীর জন্য উপকারী হয় এবং তা শরীয়তের পরিপন্থী না হয়, তাহলে সেই শর্ত পালন করা জরুরি।”

তবে, যদি এই ধরনের শর্তগুলো পালন করার জন্য কোনো কঠোরতা বা বাধ্যবাধকতা থাকে, তাহলে সেই শর্ত বাতিল হবে এবং মূল বিবাহও বাতিল হতে পারে। যেমন, যদি স্ত্রী শর্ত করে যে, স্বামী তাকে তার পরিবারের সাথে দেখা করার অনুমতি দেবে, এবং এই শর্ত পালন করার জন্য স্বামী স্ত্রীকে তার পরিবারের সাথে দেখা করার অনুমতি না দেয়, তাহলে বিবাহ বাতিল হতে পারে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 নিষিদ্ধ শর্তাবলী

📄 নিষিদ্ধ শর্তাবলী


যদি চুক্তিতে এমন শর্ত রাখা হয় যা শরীয়তের সুস্পষ্ট নির্দেশের পরিপন্থী, তাহলে সেই শর্ত বাতিল হবে। যেমন, যদি স্বামী শর্ত করে যে, স্ত্রী তার ধর্ম পরিবর্তন করবে। অথবা, স্ত্রী শর্ত করে যে, স্বামী তার ধর্ম পরিবর্তন করবে। এই ধরনের শর্তগুলো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং বাতিল বলে গণ্য হবে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহর কিতাবে যে শর্তের উল্লেখ নেই, সে শর্ত বাতিল।”

ইমাম আহমদ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: “বিবাহের ক্ষেত্রে যেসব শর্ত শরীয়তের সুস্পষ্ট নির্দেশের পরিপন্থী, সেগুলো বাতিল হবে।”

তবে, যদি এই ধরনের শর্তগুলো পালন করার জন্য কোনো কঠোরতা বা বাধ্যবাধকতা থাকে, তাহলে সেই শর্ত বাতিল হবে এবং মূল বিবাহও বাতিল হতে পারে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00