📄 আকদের উপযুক্ত শব্দ
বিবাহ চুক্তির (আকদ) জন্য ব্যবহৃত শব্দগুলো স্পষ্ট, দ্ব্যর্থহীন এবং বিবাহের উদ্দেশ্যকে সরাসরি প্রকাশ করে এমন হওয়া উচিত। শব্দগুলো অবশ্যই ইজাব (প্রস্তাব) এবং কবুল (গ্রহণ) কে সঠিকভাবে প্রতিফলিত করবে।
ইসলামী শরিয়তে কিছু নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, কারণ এগুলোর দ্বারা বিবাহের পবিত্রতা ও গুরুত্ব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায়। সাধারণত, আরবিতে "আনকাhtu" (أَنْكَحْتُ - আমি বিবাহ করালাম) বা "যাওওয়াজতু" (زَوَّجْتُ - আমি বিবাহ দিলাম) এবং এর উত্তরে "কাবিলতু" (قَبِلْتُ - আমি গ্রহণ করলাম) বা "তাযাওয়াজতু" (تَزَوَّجْتُ - আমি বিবাহ করলাম) শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়।
যদি আরবি ভাষাভাষী না হয়, তবে স্থানীয় ভাষায় এর সমার্থক ও স্পষ্ট শব্দ ব্যবহার করা বৈধ। যেমন, বাংলায় "আমি তোমাকে বিবাহ করলাম" এবং "আমি তোমাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করলাম" অথবা "আমি তোমাকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করলাম" এমন স্পষ্ট ও সরাসরি বাক্য ব্যবহার করতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই শব্দগুলো এমন হতে হবে যা দ্বারা অন্য কোনো চুক্তি বা লেনদেন নয়, বরং একটি বৈধ ও স্থায়ী দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়। কোনো অস্পষ্ট বা অসম্পূর্ণ শব্দ ব্যবহার করলে বিবাহের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
📄 বিয়ে সম্পাদন শর্তহীন হওয়া জরুরি
বিবাহ চুক্তি (আকদ) অবশ্যই শর্তহীনভাবে সম্পাদিত হতে হবে। এর অর্থ হলো, চুক্তি এমন কোনো শর্তের উপর নির্ভরশীল হতে পারবে না যা বিবাহের স্থায়িত্ব বা মৌলিক উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে। যদি বিবাহে এমন কোনো শর্ত আরোপ করা হয় যা এটিকে সাময়িক বা অনিশ্চিত করে তোলে, তবে সেই বিবাহ বৈধ হবে না।
শরিয়তের দৃষ্টিতে বিবাহ একটি স্থায়ী সম্পর্ক, যা পরিবার গঠন এবং বংশ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই, যদি কোনো পক্ষ চুক্তি সম্পাদনের সময় এমন কোনো শর্ত আরোপ করে যা বিবাহের এই মৌলিক উদ্দেশ্যকে নস্যাৎ করে দেয়, তবে সেই চুক্তিটি বাতিল হয়ে যাবে।
উদাহরণস্বরূপ, মুতআ বিবাহ (নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিবাহ) ইসলামে নিষিদ্ধ, কারণ এটি একটি সাময়িক শর্তের উপর নির্ভরশীল।Similarly, যদি কেউ এই শর্তে বিবাহ করে যে, নির্দিষ্ট সময়ের পর তালাক দেবে, তাহলে এই ধরনের বিবাহ বৈধ হবে না।
তবে, কিছু বৈধ শর্ত আরোপ করা যেতে পারে যা বিবাহের মৌলিক উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে না, বরং সম্পর্ককে আরও মজবুত করে। যেমন, স্ত্রীকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া, স্বামীর দ্বিতীয় বিবাহ না করার শর্ত দেওয়া ইত্যাদি। এই ধরনের শর্তগুলো যদি শরিয়তসম্মত হয় এবং বিবাহের স্থায়িত্বকে প্রভাবিত না করে, তবে সেগুলো গ্রহণযোগ্য। মূল কথা হলো, বিবাহটি শর্তহীন ও স্থায়ী সম্পর্কের উদ্দেশ্যে সম্পাদিত হতে হবে।