📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ইজাব ও কবুল শুদ্ধ হওয়ার শর্তাবলি

📄 ইজাব ও কবুল শুদ্ধ হওয়ার শর্তাবলি


ইজাব ও কবুল (প্রস্তাব ও গ্রহণ) বিবাহের অত্যাবশ্যকীয় দুটি অংশ। এদের শুদ্ধতার জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা জরুরি। এই শর্তগুলো পূরণ না হলে বিবাহ চুক্তি বৈধ হবে না।

১. স্পষ্টতা: ইজাব ও কবুলের শব্দগুলো স্পষ্টভাবে বিবাহের উদ্দেশ্য প্রকাশ করবে। এখানে কোনো সন্দেহ বা অস্পষ্টতা থাকা যাবে না। যেমন, 'আমি বিবাহ করলাম' (ইজাব) এবং 'আমি গ্রহণ করলাম' (কবুল) এমন স্পষ্ট শব্দ ব্যবহার করতে হবে।

২. ঐক্য: ইজাব ও কবুল একই বিষয়ে এবং একই শর্তে হতে হবে। যদি পাত্রী এক শর্তে কবুল করে আর পাত্র অন্য শর্তে ইজাব করে, তবে চুক্তি শুদ্ধ হবে না।

৩. ধারাবাহিকতা: ইজাব ও কবুল একে অপরের পরপরই হতে হবে, অর্থাৎ ইজাবের পর কবুল করতে বিলম্ব করা যাবে না, যাতে মধ্যবর্তী সময়ে কথার পরিবর্তন বা প্রস্তাব প্রত্যাহার না হয়।

৪. উভয় পক্ষের সম্মতি: পাত্র ও পাত্রী উভয়েরই স্বাধীন ও স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি থাকতে হবে। কোনো প্রকার চাপ, ভয় বা জবরদস্তি থাকলে বিবাহ বাতিল হবে।

৫. সাক্ষী: বিবাহ চুক্তির সময় কমপক্ষে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক, মুসলমান ও ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী উপস্থিত থাকতে হবে। এর প্রমাণ আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত হাদিসে পাওয়া যায়, যেখানে রসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: "সাক্ষী ছাড়া কোনো বিবাহ নেই।" (তিরমিযি, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)

৬. মোহরানা নির্ধারণ: মোহরানা বিবাহের অন্যতম শর্ত। যদিও মোহরানার পরিমাণ উল্লেখ করা বিবাহের শুদ্ধতার জন্য অত্যাবশ্যক নয়, তবে তা ধার্য করা মুস্তাহাব। যদি বিবাহের সময় মোহরানা নির্ধারণ না করা হয়, তবে 'মোহরুল মিসল' (প্রচলিত মোহরানা) প্রযোজ্য হবে।

৭. অভিভাবকের উপস্থিতি: কনের অভিভাবক (ওয়ালী) বা তার প্রতিনিধির উপস্থিতি বিবাহের জন্য জরুরি, বিশেষত যদি কনে কুমারী হয়। রসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: "অভিভাবক ছাড়া কোনো বিবাহ নেই।" (তিরমিযি, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)

এই শর্তগুলো পূরণ হলে বিবাহের আকদ (চুক্তি) শরিয়ত অনুযায়ী বৈধ বলে গণ্য হবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ইজাব ও কবুলের শব্দ

📄 ইজাব ও কবুলের শব্দ


বিবাহের ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ) এর জন্য কিছু নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করা শরিয়তসম্মত। এই শব্দগুলো বিবাহের উদ্দেশ্যকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে এবং এতে কোনো অস্পষ্টতা থাকে না।

আরবিতে সাধারণত ব্যবহৃত শব্দ:

* ইজাব (প্রস্তাব): “আনকাhtu” (أَنْكَحْتُ - আমি বিবাহ করালাম) অথবা “যাওওয়াজতু” (زَوَّجْتُ - আমি বিবাহ দিলাম)। কনের অভিভাবক এই শব্দগুলো ব্যবহার করে বরকে কনের বিবাহের প্রস্তাব দেন।

* কবুল (গ্রহণ): “কাবিলতু” (قَبِلْتُ - আমি গ্রহণ করলাম) অথবা “তাযাওয়াজতু” (تَزَوَّجْتُ - আমি বিবাহ করলাম)। বর এই শব্দগুলো ব্যবহার করে প্রস্তাব গ্রহণ করেন।

এই শব্দগুলো স্পষ্ট ও সরাসরি অর্থ বহন করে, যা বিবাহ চুক্তির গুরুত্ব ও প্রকৃতিকে তুলে ধরে। যদিও অন্য ভাষাভাষীর জন্য এর সমার্থক শব্দ ব্যবহার করা বৈধ, তবে অর্থের স্পষ্টতা ও উদ্দেশ্য নিশ্চিত করা জরুরি।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 আরবি ব্যতিত অন্য ভাষায় বিয়ে

📄 আরবি ব্যতিত অন্য ভাষায় বিয়ে


আরবি ভাষা না জানালে, বিবাহ চুক্তি (আকদ) অন্য যেকোনো ভাষায় করা বৈধ, যদি ইজাব ও কবুলের (প্রস্তাব ও গ্রহণ) অর্থ ও উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়। এর জন্য সাক্ষী ও পক্ষগণের সেই ভাষাটি বোঝা জরুরি।

ফকীহগণ একমত যে, বিবাহের চুক্তি সম্পাদনে ভাষা কোনো বাধা নয়, বরং অর্থের স্পষ্টতা ও উভয় পক্ষের সম্মতিই মূল বিষয়। যদি আরবি ভাষায় ইজাব ও কবুল সম্ভব না হয়, তবে স্থানীয় ভাষায় এমন শব্দ ব্যবহার করতে হবে, যা বিবাহের চুক্তি ও তার ফলাফলকে স্পষ্টভাবে বোঝায়।

উদাহরণস্বরূপ, বাংলায় "আমি তোমাকে বিবাহ করলাম" এবং "আমি তোমাকে গ্রহণ করলাম" - এমন স্পষ্ট বাক্য ব্যবহার করা যাবে। এই বিধানের মূল উদ্দেশ্য হলো, বিবাহের চুক্তিটি যেনো সকল পক্ষ বুঝতে পারে এবং এর শর্তাদি সম্পর্কে সচেতন থাকে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বোবার বিয়ে

📄 বোবার বিয়ে


বোবা ব্যক্তি ইশারা বা লিখিত বার্তার মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন করতে পারে, যদি তার ইশারা বা লিখিত বার্তা বিবাহের ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ) এর উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে এবং উপস্থিত সাক্ষীগণ তা বুঝতে পারে।

ফকীহগণ একমত যে, বোবা ব্যক্তির বিবাহ বৈধ, কারণ তাদের অক্ষমতা তাদের স্বাধীন ইচ্ছাকে বাধা দেয় না। শরিয়তের উদ্দেশ্য হলো, চুক্তি সম্পাদনের সময় উভয়ের স্বাধীন ও স্পষ্ট সম্মতি নিশ্চিত করা। যদি ইশারা বা লিখিত বার্তা দ্বারা এই সম্মতি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়, তবে বিবাহ চুক্তি বৈধ বলে গণ্য হবে।

এই বিধানটি বোবা ব্যক্তিদের বিবাহের অধিকার রক্ষা করে এবং তাদের সামাজিক জীবনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00