📄 ফকীহদের অভিমত
ফকীহদের মতে, বিবাহের পর যদি কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে ছেড়ে চলে যায় এবং দীর্ঘকাল যাবত তার খোঁজখবর না রাখে, তখন এই অনুপস্থিতির কারণে বিভিন্ন শরয়ী বিধান প্রযোজ্য হয়। বিশেষ করে, স্ত্রীর ভরণ-পোষণ এবং তার পুনরায় বিবাহ করার অধিকারের বিষয়টি জটিলতা সৃষ্টি করে।
ইমাম মালিকের মতে, যদি স্বামী দীর্ঘকাল অনুপস্থিত থাকে এবং তার কোনো খবর না থাকে, তবে স্ত্রী আদালতের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ চাইতে পারে। এক্ষেত্রে আদালত একজন কাজীকে নিয়োগ করতে পারে, যিনি স্বামীর খোঁজ করবেন। যদি তার খোঁজ না পাওয়া যায়, তবে স্ত্রীকে চার বছর অপেক্ষা করতে বলা হবে। চার বছর পর যদি স্বামী ফিরে না আসে, তবে স্ত্রীকে মৃত ধরে নিয়ে তাকে ইদ্দত পালন করতে বলা হবে। ইদ্দত শেষ হওয়ার পর স্ত্রী পুনরায় বিবাহ করতে পারবে।
ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমদের মতে, স্বামীর অনুপস্থিতি যদি কোনো ওজরের কারণে হয় (যেমন যুদ্ধ বা পড়াশোনা), তবে স্ত্রী দীর্ঘকাল পর্যন্ত তার জন্য অপেক্ষা করতে বাধ্য। তবে যদি স্বামীর অনুপস্থিতির কারণ অজানা থাকে এবং তার খোঁজখবর না পাওয়া যায়, তবে স্ত্রীর জন্য কিছু শর্তে বিবাহ বিচ্ছেদ চাওয়া বৈধ হতে পারে।
ইমাম আবু হানিফার মতে, স্বামীর অনুপস্থিতির কারণে স্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে বিবাহ বিচ্ছেদ চাইতে পারে না, যদি না স্বামীর তরফ থেকে কোনো আর্থিক সমর্থন না থাকে। এক্ষেত্রে স্ত্রীকে ধৈর্যধারণ করতে হবে অথবা স্বামীর জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
এই মতামতগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো, একদিকে যেমন স্ত্রীর অধিকার রক্ষা করা, তেমনি অন্যদিকে স্বামীর অনুপস্থিতির কারণে তার অধিকার যেনো খর্ব না হয়, সেটাও নিশ্চিত করা। বিবাহ বন্ধনের পবিত্রতা ও সমাজের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য এই বিধানগুলো গুরুত্বপূর্ণ।