📄 নির্জন সাক্ষাতের ব্যাপারে শৈথিল্য প্রদর্শনের যুক্তি ও তার সম্ভাব্য কুফল
ইসলামে পাত্র ও পাত্রীর বিবাহ-পূর্ব নির্জন সাক্ষাতের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কিছু লোক নির্জন সাক্ষাতের ব্যাপারে শৈথিল্য প্রদর্শন করে, যার পেছনে তারা বিভিন্ন যুক্তি উপস্থাপন করে। তবে, শরিয়তের দৃষ্টিতে এই যুক্তিগুলো দুর্বল এবং এর সম্ভাব্য কুফলগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ।
শৈথিল্য প্রদর্শনের যুক্তি:
* 'মনের মিল' বা 'পারস্পরিক বোঝাপড়ার জন্য নির্জনতা জরুরি': অনেকে মনে করে, বিবাহের পূর্বে পাত্র-পাত্রীর মধ্যে নির্জনে দীর্ঘ আলোচনা না হলে তারা একে অপরকে সঠিকভাবে বুঝতে পারবে না এবং এতে ভবিষ্যতে সম্পর্কে সমস্যা হতে পারে।
* 'আধুনিকতা ও উদারতা': কিছু লোক এটিকে আধুনিক সমাজের একটি অংশ মনে করে এবং এটিকে 'উদারতা' বলে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে। তাদের মতে, ইসলামে এ বিষয়ে কঠোরতা অযৌক্তিক।
* 'পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস': অনেকে দাবি করে যে, তাদের পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস এতটাই দৃঢ় যে, শয়তানের প্ররোচনা তাদের উপর প্রভাব ফেলবে না।
সম্ভাব্য কুফল:
* ফেতনা ও পাপের পথ উন্মুক্ত হওয়া: ইসলামে নির্জনতার নিষেধাজ্ঞা মূলত ফেতনা ও পাপের পথ বন্ধ করার জন্য। নির্জনতা শয়তানকে প্ররোচিত করার সুযোগ দেয়, যা অশ্লীলতা ও ব্যভিচারের দিকে ধাবিত করতে পারে। রসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: "কোনো পুরুষ যখন কোনো মহিলার সাথে নির্জনে থাকে, তখন শয়তান তাদের তৃতীয় জন হয়।" (তিরমিযি)। এটি প্রমাণ করে যে, মানুষের মানসিকতার উপর শয়তানের প্রভাব কত শক্তিশালী, এমনকি যদি তারা নিজেদেরকে 'বিশ্বাসী' মনে করে।
* মিথ্যা বোঝাপড়া: নির্জন সাক্ষাতে আবেগপ্রবণ আলোচনা আসল চরিত্র বা উদ্দেশ্যকে গোপন করতে পারে। মানুষ সাধারণত নিজেদের সেরা দিকটিই তুলে ধরে এবং ত্রুটিগুলো লুকিয়ে রাখে, যা পরবর্তীতে সমস্যার সৃষ্টি করে। এতে 'মনের মিল' এর নামে একটি মিথ্যা ধারণার সৃষ্টি হতে পারে।
* সামাজিক কলঙ্ক: বিবাহপূর্ব নির্জন সাক্ষাত সমাজে ভুল বার্তা দেয় এবং পাত্র-পাত্রী উভয়ের সম্মান ক্ষুণ্ন করতে পারে। এটি সমাজে অবৈধ সম্পর্কের প্রতি উৎসাহিত করে এবং নৈতিকতার মানদণ্ডকে দুর্বল করে দেয়।
* অবিশ্বাস ও সন্দেহ: যদি কোনো পক্ষ এই নির্জন সাক্ষাতের বিষয়ে সন্দেহপ্রবণ হয়, তবে বিবাহের পরেও অবিশ্বাস ও সন্দেহের বীজ বুনতে পারে, যা সুস্থ সম্পর্ক বিকাশে বাধা দেয়।
* বিবাহ বন্ধনের পবিত্রতা নষ্ট: বিবাহের পবিত্রতা ও গুরুত্ব হলো এটি একটি সুসংগঠিত ও দায়িত্বশীল চুক্তি। নির্জন সাক্ষাতে শৈথিল্য প্রদর্শন বিবাহের এই পবিত্রতাকে খাটো করে এবং এটিকে একটি সাধারণ সম্পর্কের মতো করে তোলে।
ইসলাম এসব কুফল থেকে সমাজকে রক্ষা করার জন্যই নির্জনতার উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর পরিবর্তে, প্রস্তাবিত পাত্র-পাত্রী একে অপরের সঙ্গে অভিভাবকের উপস্থিতিতে বা জনসমক্ষে কথা বলতে পারে, এবং প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে।