📄 কনের কোন্ কোন্ অঙ্গ দেখবে
পাত্রীর কোন্ কোন্ অঙ্গ দেখা বৈধ, তা নিয়ে ফকীহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে অধিকাংশ আলেমের মতে, পাত্রীর মুখমণ্ডল ও দুই হাতের তালু দেখা বৈধ। কেউ কেউ এর সাথে পায়ের পাতা দেখারও অনুমতি দিয়েছেন। এর উদ্দেশ্য হলো, পাত্রীকে শারীরিকভাবে দেখে তার সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা লাভ করা, যাতে বিবাহের পর কোনো অপ্রত্যাশিত বিষয় নিয়ে সমস্যা তৈরি না হয়।
১. ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যদি কোনো পুরুষ কোনো মহিলাকে দেখে, আর তার সৌন্দর্য তার মনে ধরে, তবে যেনো তা প্রকাশ না করে।" (মুসলিম)
২. আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন তোমাদের কেউ কোনো মহিলাকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়, তখন যদি তার কিছু দেখতে সক্ষম হয় যা তাকে বিবাহের প্রতি আগ্রহী করবে, তবে যেনো তা দেখে।" (আবু দাউদ, তিরমিযি)
৩. জাবির (রা) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেছেন: "আমি একজন মহিলাকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: 'তুমি কি তাকে দেখেছ?' আমি বললাম: 'না।' তিনি বললেন: 'তবে তাকে দেখো, কারণ এতে তোমাদের দুজনের মধ্যে ভালোবাসা জন্মাবে।" (মুসলিম)
এই হাদিসগুলো থেকে বোঝা যায় যে, বিবাহের পূর্বে পাত্রীকে দেখা শরিয়তসম্মত এবং এর উদ্দেশ্য হলো উভয় পক্ষের মধ্যে সম্মতি ও ভালোবাসা তৈরি করা। তবে এই দেখার ক্ষেত্রে শরিয়তের সীমা লঙ্ঘন করা যাবে না।
📄 কনে কর্তৃক বরকে দেখা
যেমন বর কনেকে দেখতে পারে, তেমনি কনেও বরকে দেখতে পারে। এর উদ্দেশ্য হলো, কনের বরের প্রতি সম্মতি এবং মানসিক স্বস্তি তৈরি করা। এই দেখা শরিয়তসম্মত উপায়ে হতে হবে।
আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যদি কোনো মহিলা কোনো পুরুষকে দেখে, আর তার সৌন্দর্য তার মনে ধরে, তবে যেনো তা প্রকাশ না করে।" (মুসলিম)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, কনেরও বরকে দেখার অধিকার আছে, এবং বরেরও উচিত তার ভালো দিকগুলো কনের সামনে প্রকাশ করা। এর ফলে, একটি সুখী ও স্থিতিশীল বৈবাহিক সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে।
📄 দৌরুতন সম্পর্কে ওয়াকিফহাল হওয়া
বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পূর্বে পাত্র-পাত্রীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা সম্পর্কে ওয়াকিফহাল হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দৌরুতন বলতে এমন কিছু গোপন ত্রুটিকে বোঝানো হয়েছে যা বিবাহের পর সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারে। এক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রী উভয়েরই একে অপরের কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক বৈশিষ্ট্য বা অবস্থা সম্পর্কে অবহিত থাকা উচিত, যা তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে।
১. আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যদি কোনো পুরুষ কোনো মহিলাকে দেখে, আর তার সৌন্দর্য তার মনে ধরে, তবে যেনো তা প্রকাশ না করে।" (মুসলিম)
২. জাবির (রা) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেছেন: "আমি একজন মহিলাকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: 'তুমি কি তাকে দেখেছ?' আমি বললাম: 'না।' তিনি বললেন: 'তবে তাকে দেখো, কারণ এতে তোমাদের দুজনের মধ্যে ভালোবাসা জন্মাবে।" (মুসলিম)
এই হাদিসগুলো থেকে বোঝা যায় যে, পাত্র-পাত্রী উভয়েরই একে অপরকে দেখার এবং পছন্দ করার অধিকার রয়েছে। তবে, এই দেখার উদ্দেশ্য কেবল শারীরিক সৌন্দর্য নয়, বরং উভয়ের জীবনযাপন, স্বাস্থ্য এবং পারিবারিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা লাভ করাও জরুরি। যদি কোনো গুরুতর শারীরিক বা মানসিক সমস্যা থাকে যা বৈবাহিক জীবনে প্রভাব ফেলবে, তবে তা স্বচ্ছতার সাথে জানানো উচিত।
📄 পাত্র ও পাত্রীর নির্জনে মিলিত হওয়া নিষিদ্ধ
বিবাহের প্রস্তাবিত পাত্র ও পাত্রীর জন্য আকদ (বিবাহ চুক্তি) সম্পন্ন হওয়ার পূর্বে নির্জনে মিলিত হওয়া বা একাকী অবস্থান করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এটি ইসলামে ফেতনা (বিশৃঙ্খলা ও পাপ) থেকে বাঁচার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান।
১. ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কোনো পুরুষ যেনো কোনো মাহরাম মহিলা ব্যতীত অন্য কোনো মহিলার সাথে নির্জনে মিলিত না হয়, এবং কোনো মহিলা যেনো কোনো মাহরাম পুরুষ ব্যতীত অন্য কোনো পুরুষকে সাথে নিয়ে সফর না করে।" (বুখারি, মুসলিম)
২. উমর ইবনুল খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কোনো পুরুষ যখন কোনো মহিলার সাথে নির্জনে থাকে, তখন শয়তান তাদের তৃতীয় জন হয়।" (তিরমিযি)
এই হাদিসগুলো স্পষ্ট করে যে, বিবাহ-পূর্ব সম্পর্ক বা প্রস্তাবের সময়ও পাত্র-পাত্রীর মধ্যে নির্জনতা ইসলামে নিষিদ্ধ। এর কারণ হলো, নির্জনতা পাপের পথ খুলে দেয় এবং শয়তান মানুষকে খারাপ কাজে প্ররোচিত করার সুযোগ পায়। বিবাহের পবিত্রতা ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষার জন্য এই বিধানটি অত্যন্ত জরুরি।