📄 কোন মহিলাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়া বৈধ?
সাধারণত, যে মহিলাকে বিবাহ করা বৈধ, তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়াও বৈধ। তবে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত বা অবস্থা রয়েছে, যখন কোনো মহিলাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া জায়েজ হয় না।
১. ইদ্দত পালনকারী মহিলা: যে মহিলা কোনো কারণে (যেমন স্বামী মারা গেলে বা তালাকপ্রাপ্ত হলে) ইদ্দত পালন করছে, তাকে স্পষ্টভাবে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া বৈধ নয়। তবে, ইঙ্গিতে প্রস্তাব দেওয়া যেতে পারে। এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা পরবর্তীতে করা হবে।
২. অন্যের প্রস্তাবিত মহিলা: যে মহিলাকে ইতোমধ্যে অন্য কোনো পুরুষ বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে এবং সেই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে বা হওয়ার সম্ভাবনা আছে, তাকে প্রস্তাব দেওয়া বৈধ নয়। এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা পরবর্তীতে করা হবে।
📄 ইদ্দত পালনকারী মহিলাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়া
ইদ্দত পালনকারী মহিলাকে সরাসরি বা স্পষ্টভাবে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া জায়েজ নয়। তবে, ইঙ্গিতে প্রস্তাব দেওয়া যেতে পারে, যার মধ্যে কোনো সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি বা বিয়ের চুক্তি অন্তর্ভুক্ত থাকবে না। আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন:
وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا عَرَضْتُمْ بِهِ مِنْ خِطْبَةِ النِّسَاءِ أَوْ أَكْنَنْتُمْ فِي أَنْفُسِكُمْ
“তোমাদের জন্য কোনো অপরাধ নেই যদি তোমরা পরোক্ষভাবে (ইঙ্গিতে) নারীদের কাছে বিবাহের প্রস্তাব দাও, অথবা তোমাদের মনে তা গোপন রাখো।” (সূরা আল-বাকারা: আয়াত ২৩৫)
এই আয়াত দ্বারা বোঝা যায় যে, ইদ্দতকালে মহিলাদেরকে স্পষ্টভাবে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া নিষিদ্ধ, কারণ ইদ্দতের মূল উদ্দেশ্য হলো গর্ভাশয় খালি আছে কিনা তা নিশ্চিত করা এবং মৃত স্বামীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। স্পষ্টভাবে প্রস্তাব দেওয়া হলে তা ইদ্দতের পবিত্রতা ও উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করতে পারে।
ইঙ্গিতে প্রস্তাবের উদাহরণ:
* পুরুষ বলতে পারে, “আমি একজন সতী সাধ্বী স্ত্রী খুঁজছি।”
* অথবা, “যদি আল্লাহ আমাকে সুযোগ দেন, আমি বিবাহ করতে ইচ্ছুক।”
* অথবা, “তোমার মতো একজন মহিলাকে স্বামী হিসেবে পাওয়া সত্যিই সৌভাগ্যের বিষয়।”
এই ধরনের ইঙ্গিতে প্রস্তাবের মাধ্যমে পুরুষ তার আগ্রহ প্রকাশ করতে পারে, কিন্তু মহিলাকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে না। এই বিধানের মূল উদ্দেশ্য হলো, ইদ্দত পালনকারী নারীর অধিকার ও সম্মান রক্ষা করা।
📄 একজনের প্রস্তাবের উপর আরেক জনের প্রস্তাব দেয়া
একজনের বিয়ের প্রস্তাবের ওপর অন্যজনের প্রস্তাব দেওয়া ইসলামে নিষিদ্ধ, যদি প্রথম প্রস্তাবটি কনের পক্ষ থেকে গৃহীত হয়ে থাকে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন:
১. আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন তার ভাইয়ের প্রস্তাবের ওপর প্রস্তাব না দেয়, যতক্ষণ না সে তার প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেয় অথবা তাকে অনুমতি দেয়।" (বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ)
২. আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কোনো পুরুষ যেন তার ভাইয়ের দামের ওপর দাম না দেয় এবং কোনো প্রস্তাবের ওপর প্রস্তাব না দেয়, যতক্ষণ না সে (প্রথম প্রস্তাবকারী) তা প্রত্যাহার করে নেয় অথবা তাকে অনুমতি দেয়।" (বুখারি, মুসলিম)
এই হাদিসগুলো থেকে বোঝা যায় যে, যদি কোনো মহিলাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং সেই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় বা তাতে সম্মতি দেওয়া হয়, তবে অন্য কোনো পুরুষের জন্য সেই মহিলার কাছে প্রস্তাব দেওয়া হারাম। এর উদ্দেশ্য হলো, মুসলমানদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, সৌহার্দ্য ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখা এবং ঝগড়া-বিবাদ, বিদ্বেষ ও প্রতারণা রোধ করা।
তবে, যদি প্রথম প্রস্তাবটি কনের পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যান করা হয়, অথবা প্রস্তাবকারী নিজেই তার প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেয়, তবে অন্য পুরুষ সেই মহিলাকে প্রস্তাব দিতে পারে। এছাড়াও, যদি প্রথম প্রস্তাবকারী নতুন প্রস্তাবকারীকে অনুমতি দেয়, তাহলেও প্রস্তাব দেওয়া জায়েজ।
এই বিধানটি সমাজের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।