📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বিয়ের উপকারিতা

📄 বিয়ের উপকারিতা


বিবাহের অনেক উপকারিতা রয়েছে, যা মানুষের ইহকাল ও পরকালে কল্যাণ নিশ্চিত করে। নিম্নে তার কয়েকটি উল্লেখ করা হলো:

১. নফসের পবিত্রতা ও পাপ থেকে সুরক্ষা: বিবাহ মানুষের প্রবৃত্তিকে পবিত্র রাখে এবং তাকে যাবতীয় গুনাহ ও অপকর্ম থেকে রক্ষা করে। বিশেষত যুবক-যুবতীদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা তাদের চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা করে।

২. মানবজাতির বংশ বৃদ্ধি: বিবাহের মাধ্যমে মানবজাতির বংশ বৃদ্ধি হয়, যা পৃথিবীর আবাদ ও উন্নতির জন্য অপরিহার্য। রসূলুল্লাহ (সা) তার উম্মতের সংখ্যাধিক্য নিয়ে কিয়ামতের দিন গর্ব করার কথা বলেছেন।

৩. পারিবারিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা: বিবাহ পরিবার গঠন করে, যা সমাজের মূল ভিত্তি। একটি স্থিতিশীল পরিবার একটি স্থিতিশীল সমাজের জন্ম দেয়, যেখানে শান্তি ও সৌহার্দ্য বিরাজ করে।

৪. মানসিক শান্তি ও প্রশান্তি: বিবাহিত জীবন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মানসিক শান্তি ও স্বস্তি নিয়ে আসে, যা আল্লাহর এক বিশেষ নিয়ামত। আল্লাহ নিজেই বলেছেন, তিনি তাদের মাঝে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।

৫. দীনদারী ও আখিরাতের উন্নতি: সতী সাধ্বী স্ত্রী স্বামীর দীনদারী রক্ষা করতে সাহায্য করে এবং আখিরাতের জীবনে কল্যাণ নিশ্চিত করে। বিবাহের মাধ্যমে অর্জিত সওয়াব ব্যক্তির আমলনামায় যুক্ত হয়।

৬. পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়িত্বশীলতা: স্বামী-স্ত্রী একে অপরের পরিপূরক হিসেবে জীবনযাপন করে। তারা পরস্পরের প্রতি দায়িত্বশীল হয় এবং যৌথভাবে পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্ব পালন করে।

৭. কাম প্রবৃত্তির স্বাভাবিক পরিতৃপ্তি: বিবাহের মাধ্যমে মানবীয় কাম প্রবৃত্তির স্বাভাবিক ও বৈধ পরিতৃপ্তি ঘটে, যা অবৈধ সম্পর্ক থেকে মানুষকে বিরত রাখে।

এই উপকারিতাগুলো মানুষকে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে উৎসাহিত করে এবং এর গুরুত্ব তুলে ধরে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বিয়ের শরয়ী বিধান

📄 বিয়ের শরয়ী বিধান


বিবাহের শরয়ী বিধান হচ্ছে, সাধারণত এটা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। এটি এমন ব্যক্তিদের জন্য মুস্তাহাব যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে এবং সহবাসের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। যারা সহবাসে অক্ষম অথবা সহবাসের আকাঙ্ক্ষা নেই, তাদের জন্য এটা বৈধ। আবার এটা ওয়াজিবও হতে পারে, যদি কেউ সহবাসের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে এবং বিবাহ না করলে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার প্রবল আশংকা থাকে। এমন ব্যক্তি যদি বিবাহ না করে, তবে সে গুনাহগার হবে। পক্ষান্তরে যারা বিবাহ করলে নিজেদের দীনদারী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা করে, তাদের জন্য বিবাহ মাকরূহ।

বিবাহের মাসয়ালা:

১. বিবাহকে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে:

* আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: "চারটি গুণের জন্য স্ত্রীলোককে বিবাহ করা হয়: তার ধন-সম্পদ, তার বংশ মর্যাদা, তার সৌন্দর্য ও তার দীনদারী। তুমি দীনদারী দেখে বিবাহ করো, তাহলে তোমার হাতে বরকত আসবে।" (বুখারি, মুসলিম)

* আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: "মুসলিম ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করার পর যে জিনিসের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ কল্যাণ অর্জন করতে পারে তা হলো: সতী সাধ্বী স্ত্রী। স্বামী তাকে আদেশ করলে মেনে চলে, স্বামী তাকে দেখলে মন প্রফুল্ল হয়, স্বামী শপথ করলে তা রক্ষা করে এবং স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার সম্পদ ও সততা রক্ষা করে।" (ইবনে মাজাহ)

২. ইসলামের বিধান হলো, বিয়ে না করে সারা জীবন অবিবাহিত থাকা অনুমোদিত নয়। বিয়ে করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা (যা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিত পালন করতেন এবং তার গুরুত্বের উপর জোর দিতেন)। যারা শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য রাখে, তাদের জন্য বিয়ে করা অত্যন্ত উৎসাহিত।

* ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: "ইসলামে কারো চিরকুমার থাকা ও হজ্জবিহীন থাকা অনুমোদিত নয়।" (বায়হাকি)

৩. আর্থিক সামর্থ্য না থাকলেও বিবাহ করা যেতে পারে, যদি সে আল্লাহর উপর ভরসা রাখে।

* আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: "তোমাদের মধ্য থেকে যারা অবিবাহিত পুরুষ ও নারী এবং তোমাদের সৎ দাস-দাসী, তাদের বিবাহ সম্পন্ন করো। যদি তারা দরিদ্র হয়, তাহলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ সুপ্রশস্ত ও সর্বজ্ঞানী।" (সূরা আন-নূর: আয়াত ৩২)

* আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: "আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া উচিত, তিনি তোমাদেরকে সচ্ছলতা দেবেন।" (তিরমিযি)

* আবু বকর (রা) থেকে বর্ণিত: "রসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: "যদি সে আল্লাহকে ভয় করে, তাহলে আল্লাহ তাকে সচ্ছলতা দেবেন।" (আবু দাউদ)

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কনে নির্বাচন করা

📄 কনে নির্বাচন করা


ইসলামে কনে নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিছু দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা বরকে একটি সফল ও বরকতময় বৈবাহিক জীবন শুরু করতে সাহায্য করে। এই নির্বাচনের প্রধান ভিত্তি হওয়া উচিত দীনদারী ও উত্তম চরিত্র।

আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: “স্ত্রীলোককে চারটি গুণের জন্য বিবাহ করা হয়: তার ধন-সম্পদ, তার বংশ মর্যাদা, তার সৌন্দর্য ও তার দীনদারী। তুমি দীনদারী দেখে বিবাহ করো, তাহলে তোমার হাতে বরকত আসবে।” (বুখারি, মুসলিম ও অন্য চারটি হাদিস গ্রন্থ)

এই হাদিসটি কনে নির্বাচনের ক্ষেত্রে দীনদারীর গুরুত্ব তুলে ধরে। যদিও ধন-সম্পদ, বংশ মর্যাদা ও সৌন্দর্য স্বাভাবিকভাবেই মানুষের পছন্দের বিষয় হতে পারে, তবে দীনদারীকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। এর কারণ হলো, দীনদারীই একজন নারীর চরিত্রকে উত্তম করে তোলে এবং পারিবারিক জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনে। একজন দীনদার স্ত্রী কেবল স্বামীর প্রতি অনুগতই থাকে না, বরং সন্তানদেরকেও ইসলামী আদর্শে গড়ে তুলতে সহায়তা করে। ফলে, দীনদারী পারিবারিক স্থিতিশীলতা এবং পরকালীন সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 তালাক দেয়ার নিয়ত লুকিয়ে রেখে যে বিয়ে করা হয়

📄 তালাক দেয়ার নিয়ত লুকিয়ে রেখে যে বিয়ে করা হয়


তালাকের নিয়ত লুকিয়ে রেখে যে বিবাহ করা হয়, তা ইসলামে বৈধ নয় এবং তা 'মুতআ' বিবাহের কাছাকাছি এক ধরনের প্রতারণা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এই ধরনের বিবাহে উদ্দেশ্য থাকে সাময়িকভাবে সম্পর্ক স্থাপন করে নির্দিষ্ট সময়ের পর তালাক দেওয়া, যা সাধারণ বিবাহের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।

সাধারণ বিবাহে উদ্দেশ্য থাকে স্থায়ী সম্পর্ক, পরিবার গঠন এবং বংশ বৃদ্ধি। যদি কেউ তালাকের নিয়ত লুকিয়ে রাখে এবং তা প্রকাশ না করে, তবে এটি একটি অসৎ উদ্দেশ্য এবং প্রতারণা। এই ধরনের বিবাহ শরিয়তের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এটি বিশ্বাস ও সততার ভিত্তিকে নষ্ট করে।

ফকীহদের মতে, যদি বিবাহ চুক্তির সময় তালাকের নিয়ত গোপন থাকে এবং এটি প্রকাশ না করা হয়, তাহলে বিবাহটি বাতিল না হলেও এর নৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ইমাম আহমদের মতে, এটি মাকরূহ তাহরিমী (হারামের কাছাকাছি)। অন্যান্য ইমামদের মতে, যদি বিবাহে তালাকের শর্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকে, তাহলে বাহ্যত বিবাহটি বৈধ, কিন্তু উদ্দেশ্যগতভাবে এটি মাকরুহ বা হারাম হতে পারে।

এই ধরনের বিবাহ থেকে বিরত থাকা উচিত, কারণ এটি দাম্পত্য জীবনের পবিত্রতা ও স্থায়িত্বকে ক্ষুণ্ন করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00