📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ইহরামের নিষিদ্ধ কাজ করলে তার বিধান

📄 ইহরামের নিষিদ্ধ কাজ করলে তার বিধান


৯. ইহরামের নিষিদ্ধ কাজ করলে তার বিধান
যে ব্যক্তি ওযর তথা অনিবার্য কারণবশত ইহরামে যেসব কাজ নিষিদ্ধ স্ত্রী সহবাস ব্যতিত তার কোনো একটা করার প্রয়োজন বোধ করে, যেমন ঠাণ্ডা বা গরম থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যে মাথা কামানো, সেলাই করা কাপড় পরা, ইত্যাদি। তার জন্য একটা ছাগল যবাই করা, অথবা মাথা প্রতি অর্ধ সা' করে ছয় জন মিসকীনকে খাবার দেয়া। অথবা তিন দিন রোযা রাখা জরুরি। এই তিনটের মধ্যে যে কোনো একটি করা তার ইচ্ছাধীন। স্ত্রী সহবাস ব্যতিত ইহরামের জন্য নিষিদ্ধ আর কোনো কাজ করলে হজ্জ বাতিল হয়না।
কা'ব বিন আজরা থেকে বর্ণিত, হুদাইবিয়ার সময় রসূল সা. তার কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন: তোমার মাথার কীটগুলো তোমাকে খুব কষ্ট দিয়েছে বুঝি। সে বললো: হা। রসূল সা. বললেন: মাথা কামিয়ে ফেলো, তারপর একটা ছাগল কুরবানি করো অথবা তিন দিন রোযা রাখো অথবা ছয় জন মিসকীনকে তিন সা খোরমা খাওয়াও। -বুখারি, মুসলিম ও আবু দাউদ।
অন্য বর্ণনায় এই সাহাবি বললেন: আমার মাথায় কীটের যন্ত্রণা আমাকে পীড়া দিচ্ছেন। তখন হুদাইবিয়ার বছর চলছিল এবং আমি রসূল সা. এর সাথে ছিলাম। এমনকি এ কারণে আমার দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশংকা দেখা দিলো। তখন আল্লাহই তায়ালা নাযিল করলেন: তোমাদের কেউ যদি রোগ জর্জরিত হয় অথবা তার মাথায় কোনো পীড়া থাকে, তাহলে সে যেনো রোযা সদকা বা কুরবানির মাধ্যমে তার ফিদিয়া দেয়।” এরপর রসূলুল্লাহ সা. আমাকে ডাকলেন এবং বললেন: তোমার মাথা কামাও, তারপর তিনদিন রোযা রাখো অথবা ছয় জন মিসকীনকে ষোল রতল কিসমিস দান করো অথবা একটা ছাগল কুরবানি করো। আমি মাথা কামিয়ে ফেললাম তারপর কুরবানির করলাম।"
ইমাম শাফেয়ীর মতে ওষরধারী ও ওযরহীন উভয়কেই ফিদিয়া দিতে হবে। আবু হানিফার মতে, ওযরহীন ব্যক্তি সামর্থ থকলে কুরবানি করা ওয়াজিব, অন্যায় নয়।
আংশিক চুল কাটলে আতা বলেছেন, ইহরামকারী তিনটে বা তার বেশি পশম উপড়ালে তার ওপর কুরবানি করা ওয়াজিব। আর শাফেয়ী বলেছেন, একটা পশমে এক মুদ, দুইটা পশমে দুই মুদ ও তিনটা পশমে একটা ছাগল কুরবানি করা ওয়াজিব।
তেল মাখালে: আল মুসওয়া গ্রন্থে বলা হয়েছে: খাঁটি তেল বা খাঁটি সেবকা দিয়ে শরীর মর্দন করলে আবু হানিফার মতে কুরবানি ওয়াজিব চাই যে অংগই করা হোক না কেন। আর শাফেয়ী মাযহাব অনুযায়ী সুগন্ধিযুক্ত নয় এমন তেল দ্বারা মাথার চুল ও দাড়ি মর্দন করলে ফিদিয়া দিতে হবে। শরীরের যে কোনো জায়গায় মর্দন করা হোক, ফিদিয়া দিতে হবেনা।
ভুলক্রমে বা অজ্ঞতাবশত নিষিদ্ধ পোশাক পরলে বা সুগন্ধি লাগালে ক্ষতি নেই: ইহরামকারী যখন নিষিদ্ধ বস্তুর কথা না জেনে বা নিজের ইহরামের কথা ভুলে গিয়ে নিষিদ্ধ কাপড় পরে বা সুগন্ধি ব্যবহার করে, তখন তার ফিদিয়া দেয়ার প্রয়োজন নেই। কেননা ইয়ালা বিন উমাইয়া বলেন: জারানাতে এক ব্যক্তি রসূল সা. এর কাছে উপস্থিত হলো। তখন তার গায়ে একটা জুব্বা এবং দাড়ি ও মাথার চুল হলুদ রং এ রচিত ছিলো। সে বললো: হে রসূলুল্লাহ আমি একটি ওমরার ইহরাম বেধেছি। আমার বেশভূষা যা আছে তাতো দেখতেই আছেন। রসূলুল্লাহ সা. বললেন: তোমার হলুদ রংটা ধুয়ে ফেলো জুব্বাটা খুলে ফেলো এবং তুমি হজ্জে যা যা করেছিলে, ওমরাতেও তাই করো।" -ইবনে মাজাহ ব্যতীত সকল সহীহ হাদিস গ্রন্থ। আতা বলেছেন: অজ্ঞতাবশত বা ভুলক্রমে নিষিদ্ধ পোশাক পরলে বা সুগন্ধি লাগালে কোনো কাফফারা দিতে হবেনা।-বুখারি।
কিন্তু শিকার করা নিষিদ্ধ একথা না জানার কারণে বা ভুলে যাওয়ার কারণে শিকার হত্যা করলে তার সমান বদলা দিতে হবে। (অর্থাৎ কুরবানি দিতে হবে।) কারণ এর ক্ষতিপূরণ আর্থিক ক্ষতিপূরণ। আর্থিক ক্ষতিপূরণে জানা অজানা ও ভুল ও স্ব-ইচ্ছা সমান। যেমন মানুষের আর্থিক ক্ষতি সাধন করলে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়।
স্ত্রী সহবাসে হজ্জ বাতিল
আলী, উমর ও আবু হুরায়রা রা. হজ্জের ইহরাম অবস্থায় স্ত্রী সহবাসকারী এক ব্যক্তি সম্পর্কে ফতোয়া দিলেন যে, উভয়কে হজ্জ যথাযথভাবে সমাপ্ত করতে হবে। অতপর পরবর্তী বছর পুনরায় হজ্জ ও কুরবানি করতে হবে। আবুল আব্বাস তাবারি বলেছেন: ইহরামকারী প্রথম ইহরামমুক্ত হবার আগেই স্ত্রী সহবাস করলে তার হজ্জ নষ্ট হয়ে যাবে চাই তা আরাদায় অবস্থানের আগে করুক বা পরে করুক। নষ্ট হওয়া সত্ত্বেও তাকে হজ্জের অবশিষ্ট কাজগুলো সম্পন্ন করতে হবে, তাকে একটা উট কুরবানি করতে হবে এবং পরবর্তী বছর হজ্জের কাজা করতে হবে। স্ত্রী যদি নফল ইহরাম করে থাকে তবে তাকে হজ্জ চালিয়ে যেতে হবে, পরবর্তী বছর কাযা করতে হবে এবং কুরবানিও করতে হবে। এটা অধিকাংশ আলেমের মত। কোনো কোনো আলেম বলেন, তাদের উভয়ের একটা কুরবানিই দিতে হবে। আতাও এই মত পোষণ করেন। বগবী বলেছেন: রমযানে দিনের বেলায় স্ত্রী সহবাস করলে যেমন কাফফারা দিতে হয়, পুরুষকে এখানেও তেমনি কাফফারা দিতে হবে। পরবর্তী বছর যখন তারা কাযা হজ্জ করতে বেরুবে, তখন যে স্থানে আগের বছর সহবাস সংঘটিত হয়েছিল সে স্থানে উভয়ের পৃথক পৃথক জায়গায় অবস্থান করা মালেক ও আহমদের মতে ওয়াজিব এবং হানাফী ও শাফেয়ী মতে মুস্তাহাব। আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সতর্কতা অবলম্বনের উদ্দেশ্যে এরূপ করা চাই। উট কুরবানি করতে অক্ষম হলে গরু, গরু দিতে অক্ষম হলে সাতটা ছাগল দেবে। তাতেও অক্ষম হলে উটকে টাকার হিসাবে এবং টাকাকে খাদ্যের হিসাবে মূল্যায়ণ করতে হবে এবং প্রত্যেক মিসকীনকে এক মুদ হিসাবে সদকা করতে হবে। এতেও অক্ষম হলে প্রত্যেক মুদের বিনিময়ে একটা করে রোযা রাখবে। যুক্তিবাদীদের অভিমত হলো। আরাফায় অবস্থানের পূর্বে সহবাস করলে হজ্জ বাতিল হয়ে যাবে এবং তাকে একটা ছাগল অথবা একটা উটের এক সপ্তমাংশ দান করতে হবে। আর আরাফায় অবস্থানের পরে সহবাস করলে হজ্জ বাতিল হবেনা, তবে তাকে একটা উট কুরবানি করতে হবে। কিরাণ হজ্জকারী যখন তার হজ্জ নষ্ট করে, তখন ইফরাদ হজ্জকারীর ওপর যা যা ওয়াজিব হয়, তার ওপরও সেসব জিনিস ওয়াজিব হবে। কিরান হজ্জই তাকে কাযা করতে হবে এবং কিরানের কুরবানি থেকে সে অব্যাহতি পাবেনা। অধিকাংশ আলেমের মতে, প্রথম ইহরাম থেকে মুক্ত হওয়ার পর সহবাস করলে হজ্জ বাতিল হবেনা এবং তাকে কাযাও করতে হবেনা। কারো কারো মতে কাযা করা ওয়াজিব এবং তাকে ফিদিয়া দিতে হবে। এটা ইবনে উমর, হাসান ও ইবরাহিমের অভিমত। এখন ফিদিয়া হিসেবে উট না ছাগল দিতে হবে তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ইবনে আব্বাস ও আতার মতে উট ওয়াজিব। উট ইকরামার মত ও শাফেয়ীর দুই মতের একটি, যা হানাফীদের মধ্য হতে আল মাবসুত ও আল বাদায়ের লেখক গ্রহণ করেছেন। শাফেয়ীর অপর মতানুসারে ছাগল দেয়া ওয়াজিব হবে। এটা ইমাম মালেকেরও মত। আর যখন ইহরামকারীর স্বপ্নদোষ হয় কিংবা সহবাসের কথা চিন্তা করায় বা কোনো মহিলার দিকে দৃষ্টি দেয়ার উত্তেজনার সৃষ্টি হয় ও বীর্যপাত হয়, তখন শাফেয়ী মযহাব অনুসারে তার উপর কিছুই ওয়াজিব হবেনা। অন্যেরা বলেন: যে ব্যক্তি কামোত্তেজনা সহকারে স্পর্শ করে বা চুমু দেয়, তার উপর ছাগল কুরবানি করা ওয়াজিব, চাই বীর্যপাত হোক বা না হোক। ইবনে আব্বাস রা. এর মতে, তার উপর কুরবানি ওয়াজিব। মুজাহিদ বলেন: এক ব্যক্তি ইবনে আব্বাসের কাছে এলো এবং বললো: আমি ইহরাম বেঁধেছি। এমতাবস্থায় আমার কাছে অমুক মহিলা সেজেগুজে এলো। ফলে আমি নিজেকে সংযত রাখতে পারলামনা। আমার ওপর কামোত্তেজনা প্রবল হলো। একথা শুনে ইবনে আব্বাস হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়লেন। তারপর বললেন: তুমি একজন কামোন্মাদ। তোমার কোনো সমস্যা নেই। একটা কুরবানি করো ব্যাস তোমার হজ্জ সম্পন্ন হয়ে গেলো। -সাঈদ বিন মানসুর।
শিকার হত্যার ক্ষতিপূরণ: আল্লাহ তায়ালা সূরা মায়েদার ৯৫ আয়াতে বলেছেন: يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْتُلُوا الصَّيْدَ وَانْتُمْ حُرُمٌ ط وَمَنْ قَتَلَهُ مِنْكُمْ مُتَعَمِّدًا فَجَزَاء مِثْلُ مَا قَتَلَ مِنَ النَّعَمِ يَحْكُمُ بِهِ ذَوَا عَدْلٍ مِنْكُمْ هَدْيَا بَلِغَ الْكَعْبَةِ أَوْ كَفَّارَةٌ طَعَامٌ مَسْكِينَ أَوْ عَدْلُ ذَلِكَ صِيَامًا لِيَذُوقَ وَبَالَ أَمْرِهِ مَا عَفَا اللَّهُ عَمَّا سَلَفَ مَا وَمَنْ عَادَ فَيَنْتَقِمُ اللَّهُ مِنْهُ طَا وَاللَّهُ عَزِيزٌ ذُو انْتِقَا
"হে ঈমানদারগণ তোমরা ইহরামে থাকা অবস্থায় শিকার হত্যা করোনা। তোমাদের কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে শিকার হত্যা করলে তাকে হত্যাকৃত জন্তুর সমান বিনিময় হিসেবে দিতে হবে। তোমাদের মধ্যে দু'জন ন্যায়বিচারক এর নিষ্পত্তি করবে। সে জন্তুটি হাদিয়া হিসেবে কা'বায় পৌঁছাতে হবে। অথবা, তাকে কাফফারা হিসেবে কয়েকজন মিসকীনকে খাওয়াতে হবে অথবা এর সমপরিমাণ রোযা রাখতে হবে, যেন সে তার কৃতকর্মের প্রতিফল ভোগ করে। যা গত হয়েছে তা আল্লাহর মাফ করেছেন। তবে কেউ তা পুনরায় করলে আল্লাহ তার কাছ থেকে প্রতিশোধ নেবেন। আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রতিশোধ গ্রহণে সক্ষম।"
ইবনে কাছীর বলেছেন: অধিকাংশ আলেমের মতে, ভুলক্রমে বা ইচ্ছাকৃত যেভাবেই শিকার হত্যা করা হোক, বিনিময় প্রদান ওয়াজিব। যুহরি বলেছেন: ইচ্ছাকৃতভাবে শিকার হত্যাকারীর ব্যাপারে কুরআন তার ফায়সালা দিয়েছে। আর ভুলক্রমে হত্যাকারীর ওপর সুন্নত কার্যকর রয়েছে। অর্থাৎ কুরআন ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যাকারীর উপর বিনিময় ওয়াজিবরূপে ধার্য করেছে এবং তাকে গুনাহগার আখ্যায়িত করেছে এই উক্তির মাধ্যমে যেন সে তার কৃতকর্মের প্রতিফল ভোগ করে।' আর রসূল সা. ও সাহাবায়ে কেরামের ফায়সালা সম্বলিত সুন্নত ভুলক্রমে শিকার হত্যাকারীর উপর বিনিময় ধার্য করেছে। যেমনটি ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যাকারীর উপর কুরআন বিনিময় ধার্য করেছে। তাছাড়া শিকার হত্যা একটা ক্ষতি। আর ক্ষতি সাধন ইচ্ছাকৃতভাবেই হোক বা ভুলক্রমেই হোক, ক্ষতিপূরণ দিতেই হয়। তবে পার্থক্য এই যে, ইচ্ছাকৃতভাবে শিকার হত্যাকারী গুনাহগারও বটে, কিন্তু ভুলক্রমে হত্যাকারী গুনাহগার বলে নিন্দিত নয়। মুস্তয়া গ্রন্থে বলা হয়েছে। তাকে হত্যাকৃত জন্তুর সমান বিনিময় হিসেবে দিতে হবে। আবু হানিফা এর ব্যাখ্যায় বলেন যে, শিকার হত্যাকারীকে বিনিময় দিতে হবে হত্যাকৃত জন্তুর সমমূল্যের। আর বিনিময়টা যাতে সমমূল্যের হয়, সে জন্য বিনিময় ধার্য করতে হবে দু'জন ন্যায় বিচারক ব্যক্তিকে। হয় অনুরূপ একটা জন্তু দিয়ে বিনিময় দিতে হবে, যা হাদিয়ার আকারে কা'বায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। নচেত মিসকীনদের খাদ্য হিসেবে কাফফারা দিতে হবে। আর ইমাম শাফেয়ীর ব্যাখ্যা হলো: শিকার হত্যাকারীর ওপর বিনিময় দেয়া ওয়াজিব হবে, যা আকার আকৃতিতে হত্যাকৃত জন্তুর সমান হবে এবং একই জাতের জন্তু হবে। আর এদিক দিয়ে তা সমান কিনা তা স্থির করবে দু'জন ন্যায়বিচারক ব্যক্তি। আর এই বিনিময়কে হাদিয়া হিসেবে কা'বায় পৌঁছানো হবে। নচেত এই বিনিময় হবে কোনো কাফফারা বা কাফফারার সমান রোযা।
উমর ও পূর্বতন মনীষীগণের ফায়সালা: মুহাম্মদ ইবনে সিরীন থেকে বর্ণিত: এক ব্যক্তি উমর রা. এর কাছে এলো এবং বললো: আমি ও আমার এক সাথী পাহাড়ী পথের একটি গর্তে দুটো ঘোড়া দাবড়িয়ে দিয়ে একটা হরিণ হত্যা করলাম। তখন আমরা দু'জনই ইহরামে ছিলাম। এ কাজটা আপনি কেমন মনে করেন? উমর রা. তার পাশের এক ব্যক্তিকে বললেন: এসো আমি ও তুমি এর ফায়সালা করি। তারপর তারা দু'জনে ফায়সালা করলেন যে, লোকটিকে একটি মাদী ছাগল দিতে হবে। একথা শুনে লোকটি এই বলতে বলতে বিদায় হতে উদ্যত হলো "ইনি হচ্ছেন আমীরুল মুমিনীন, একটা হরিণের ব্যাপারেও ফায়সালা করতে পারেন না, আর এক ব্যক্তিকে ডেকে আনেন তার সাথে ফায়সালা করতে।' উমর রা. লোকটির কথা শুনলেন এবং তাকে কাছে ডাকলেন। তাকে বললেন: তুমি কি সূরা মায়েদা পড়ো? সে বললো: না। তিনি বললেন। এই ব্যক্তিকে চিনো, যে আমার সাথে ফায়সালায় অংশ নিলো? সে বললো: না। উমর রা. বললেন: তুমি যদি আমাকে জানাতে যে, সূরা মায়েদা পড়েছো, তাহলে আমি তোমাকে এমন প্রহার করতাম যাতে ব্যথা পাও। তারপর বললেন: আল্লাহ তায়ালা তাঁর কিতাবে বলেছেন: يَحْكُمُ بِهِ ذَوَا عَدْلٍ مِنْكُمْ هَديَّا بَالِغَ الْكَعْبَةَ .
"তার ব্যাপারে দু'জন ন্যায়বিচারক ব্যক্তি ফায়সালা করবে ....." আর ইনি হচ্ছেন আব্দুর রহমান বিন আওফ।
প্রাচীন মনীষীগণ স্থির করেছেন যে, উটপাখী হত্যা করলে একটা উট, বুনো গাধা, বুনো গরু, ও পাহাড়ী জাগল হত্যা করলে একটা গরু এবং খরগোশ কবুতর, ঘুঘু পাখী, বুনো মোরগ, ও দাবলী নামক পাখী হত্যা করলে একটা ছাগল কুরবানি করতে হবে। আর হায়েনা হত্যায় একটা ভেড়া। হরিণ হত্যায় একটা মাদী ছাগল, খরগোশ হত্যায় চার মাসের ঊর্ধ্বের মাদী ছাগল, শিয়াল হত্যায় এক বছরের ছাগল এবং ইয়ারবু নামক ইঁদুর সদৃশ জন্তু হত্যায় চার মাস বয়সী মাদী ছাগল দিতে হবে।
বিনিময় সংগ্রহ করা সম্ভব না হলে যা করণীয়: সাঈদ বিন মানসুর ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণনা করেছেন: সূরা মায়েদার উক্ত ৯৫নং আয়াত অনুযায়ী ইহরাম অবস্থায় কেউ শিকার হত্যা করলে তার সমান বিনিময় নির্ধারণ করতে হবে। বিনিময় যদি তার কাছে থেকে থাকে তাহলে তা যবাই করবে ও তার গোশত সদকা করে দেবে। আর যদি বিনিময় না থাকে, তবে বিনিময়কে নগদ অর্থের হিসাবে মূল্যায়ণ করতে হবে, তারপর সেই অর্থের সমান খাদ্য নির্ধারণ করতে হবে এবং খাদ্যের প্রত্যেক অর্ধ সার বিনিময়ে একটা করে রোযা রাখবে। ধরা যাক, সে একটা হরিণ বা তদ্রূপ কোনো জন্তু হত্যা করলো, তাকে একটা ছাগল দিতে হবে, যা মক্কায় যবাই করা হবে। নচেত ছয় জন মিসকীনকে খাবার খাওয়াবে। তা না পারলে তিন দিন রোযা রাখবে। আর যদি একটা পাহাড়ি ছাগল হত্যা করে, তাহলে তাকে একটা গরু দিতে হবে। গরু দিতে না পারলে বিশজন মিসকীনকে খাওয়াবে। তাও না পারলে বিশটি রোযা রাখবে। আর যদি একটা উট পাখি কিংবা বুনো গাধা বা অনুরূপ কোনো জন্তু হত্যা করে, তাহলে তাকে একটা উট দিতে হবে। উট দিতে না পারলে ত্রিশজন মিসকীনকে খাওয়াবে। তাও না পারলে ত্রিশটি রোযা রাখবে। ইবনে আবি হাতেম, ইবনে জারীর।
খাওয়ানো ও রোযা রাখার পদ্ধতি: মালেক বলেন: শিকার হত্যাকারীর বিনিময় দান সম্পর্কে আমি সর্বোত্তম যেকথা শুনেছি তা হলো, হত্যাকৃত শিকারের মূল্য নির্ধারণ করে দেখতে হবে, এই মূল্যে কি পরিমাণ খাদ্য পাওয়া যায়। এরপর প্রত্যেক মিসকীনকে এক মুদ পরিমাণ খাওয়াবে। অথবা প্রত্যেক মুদের বাবদে একদিন রোযা রাখবে, আর দেখবে মিসকীনের সংখ্যা কতো। মিসকীনের সংখ্যা যদি দশজন হয় তাহলে দশদিন রোযা রাখবে। আর যদি তাদের সংখ্যা বিশ হয়, তাহলে বিশটি রোযা রাখবে।
যৌথভাবে শিকার হত্যা: যখন একটি দল ইচ্ছাকৃতভাবে যৌথ উদ্যোগে একটা শিকার হত্যা করে, তখন তাদেরকে একটা বিনিময়ই দিতে হবে। কেননা আল্লাহ বলেছেন: হত্যাকৃত জন্তুর সমান বিনিময় দিতে হবে। ইবনে উমর রা. কে একটি হায়েনা হত্যাকারী দল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যাদের সবাই ইহরামে ছিলো। তিনি বললেন: সবাই মিলে একটা ভেড়া যবাই করো। লোকেরা জিজ্ঞাসা করলো: দলের প্রত্যেক সদস্যের পক্ষ থেকে একটি করে? তিনি বললেন: না সকলের পক্ষ থেকে একটি।
হারাম শরিফে শিকার ও গাছ কাটা: ইহরামকারী ও ইহরামমুক্ত নির্বিশেষে সকলে ওপরই হারাম শরিফে শিকার করা, শিকারকে ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়া, সাধারণত মানুষের চেষ্টায় উৎপাদিত হয়নি এমন গাছ কাটা, উদ্ভিদ কাটা, এমনকি কাটাওয়ালা গাছ পর্যন্ত কাটা হারাম। একমাত্র সুগন্ধিযুক্ত ইযখির ও সানামকী গাছ কাটা, উপড়ানো ও নষ্ট করা জায়েয। বুখারি ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণনা করেছেন। রসূলুল্লাহ সা. মক্কা বিজয়ের দিন বললেন: এই শহর পবিত্র ও সম্মানিত, এর কোনো কাঁটাযুক্ত গাছ ও কোনো উদ্ভিদ কাটা যাবেনা। এর কোনো শিকারকে তাড়িয়ে দেয়া যাবেনা এবং কোনো হারানো জিনিস কুড়ানো যাবেনা। তবে শুদ্ধ ঘোষণাকারীর জন্য কুড়ানো বৈধ। আব্বাস বললেন: ইযখির বাদে, কেননা এটা জনগণের জন্য একটা অপরিহার্য বস্তু। এটা বাড়ির জন্য ও কামারের জন্য জরুরি।' তখন রসূল সা. বললেন: হ্যা, ইযখির বাদে।
শওকানি বলেছেন, কুরতুবি বলেছেন: ফকীহগণ নিষিদ্ধ গাছকে মানুষের চেষ্টা ছাড়া প্রাকৃতিকভাবে আল্লাহর তৈরি গাছের মধ্যে সীমিত রেখেছেন। যে সকল গাছ মানুষের চেষ্টা ও যত্ন দ্বারা উৎপন্ন হয়েছে, তার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। অধিকাংশ আলেমের মতে তা কাটা যাবে। শাফেয়ী বলেন: সবকিছুতেই বিনিময় দেয়া জরুরি। ইবনে কুদামা এই মতকে অগ্রগণ্য মনে করেছেন।
প্রথম শ্রেণীর গাছ অর্থাৎ মানুষের চেষ্টা ছাড়া শুধু প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন গাছ কাটার বিনিময় সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে, মালেক বলেন: এতে কোনো বিনিময় নেই। কেবল গুনাহ হবে। আতা বলেন: ক্ষমা চাইবে। আবু হানিফা বলেন: এর মূল্য অনুপাতে একটা উপহার অর্থাৎ জন্তু আদায় করা হবে। শাফেয়ী বলেছেন: বড় গাছ হলে একটা গরু এবং ছোট গাছে ছাগল দিতে হবে। মানুষের চেষ্টা ছাড়া আপনা আপনি ভাংগা ডাল, আপনা আপনি উপড়ে যাওয়া গাছ ও ঝরা পাতা কাজে লাগানো যাবে বলে আলেমগণ রায় দিয়েছেন।
ইবনে কুদামা বলেছেন: হারামের সীমানার ভেতরে মানুষের উৎপাদিত ফসল, তরকারি ও সুগন্ধি দ্রব্য গ্রহণ করা, কাটা ও তা লালন পালন করার ব্যাপারে আলেমদের সর্বসম্মত সম্মতি রয়েছে। রওযা নাদিয়া গ্রন্থে আছে: মক্কার হারাম শরিফে শিকার করা ও গাছ কাটায় ইহরামমুক্ত ব্যক্তির গুনাহ হবে। তবে কোনো বিনিময় দিতে হবেনা। তবে যে ব্যক্তি ইহরাম থাকে, শিকারের জন্য আল্লাহ তায়ালার ঘোষিত বিনিময় দেয়া তার জন্য অপরিহার্য। তবে মক্কার গাছ কাটার জন্য কোনো বিনিময় দিতে হবেনা। কেননা এর স্বপক্ষে কোনো প্রামাণ্য দলিল নেই। অতপর ইবনে কুদামা বলেছেন: মোদ্দাকথা হলো, শিকার হত্যায় নিষেধাজ্ঞা ও গাছ কাটার নিষেধাজ্ঞার মাঝে এবং বিনিময় বা মূল্য দেয়ার বাধ্যবাধকতার মাঝে কোনো অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক নেই। বরং এই নিষেধাজ্ঞাই প্রকাশ করে যে, শিকার করা ও গাছ কাটা হারাম। আর বিনিময় ও মূল্য বিনা প্রমাণে ওয়াজিব হয়না। সূরা মায়েদার উপরোক্ত ৯৫নং আয়াত ব্যতিত এর আর কোনো প্রমাণ নেই। অথচ এ প্রমাণে শুদ্ধ বিনিময়ের উল্লেখ রয়েছে। কাজেই বিনিময় ছাড়া অন্য কিছু দিতে হবেনা।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মক্কার হারাম শরিফের সীমানা

📄 মক্কার হারাম শরিফের সীমানা


১০. মক্কার হারাম শরিফের সীমানা
মক্কার হারাম শরিফের সুনির্দিষ্ট সীমানা রয়েছে। এই সীমানা সমগ্র মক্কা নগরীকে বেষ্টন করে রেখেছে। এর পাঁচ দিকে পাঁচটা প্রতীক রয়েছে। এই প্রতীকগুলো হলো রাস্তার দু'পাশে এক মিটার উপরে রক্ষিত কয়েকটি পাথর। উত্তর দিক থেকে এর সীমানা হলো মক্কা থেকে ছয় কি: মি: দূরে অবস্থিত তানয়ীম। দক্ষিণে এর সীমানা ১২ কি: মি: দূরে অবস্থিত আদাহ। পূর্ব দিক থেকে এর সীমা ১৬ কি: মি: দূরে অবস্থিত জিরানা। উত্তর পূর্ব দিকে সীমানা ১৪ কি: মি: দূরে অবস্থিত 'ওয়াদি নাখেলা'। আর পশ্চিম দিকে সীমানা ১৫ কি: মি: দূরে অবস্থিত 'শুমাইছী' এরই পূর্ব নাম হুদাইবিয়া। যেখানে 'বাইয়াতুর রিদওয়ান' সংঘটিত হয়।
মুহিবুদ্দীন তাবারি উবাইদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন : মক্কার হারাম শরিফের এই সীমানা চিহ্নগুলো ইবরাহিম আ. স্থাপন করেছিলেন এবং জিবরাঈল আ. তাকে এগুলো দেখিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর এ সীমানা আর কেউ নাড়ায়নি। যখন কুসাই এলেন, তখন তিনি এর সংস্কার করলেন। এরপর আর কেউ সীমানা নাড়ায়নি। অবশেষে যখন রসূলুল্লাহ সা. এলেন, তখন তিনি মক্কা বিজয়ের বছর তামীম বিন উসাউদ খাযায়ীকে পাঠালেন এবং তিনি সীমানা চিহ্নগুলো সংস্কার করলেন। এরপর এই সীমানা আর কেউ নাড়ায়নি। অবশেষে যখন উমর রা. এলেন তখন তিনি কুরাইশের চার জন নেতাকে পাঠালেন। তারা হলেন: মাহরামা বিন নওফেল, সাঈদ বিন ইয়ারবু, হুয়াইতিব বিন আব্দুল উযযা ও আযহার বিন আবদ আওফ। তারা এ চিহ্নগুলো সংস্কার করলেন। এরপর মুয়াবিয়াও এর সংস্কার করেন। তারপর আব্দুল মালেক এর সংস্কারের আদেশ জারি করেন।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মদিনার হারাম শরিফ

📄 মদিনার হারাম শরিফ


মক্কার হারাম শরিফে শিকার ও গাছপালা যেমন নিষিদ্ধ, তেমনি মদিনার শিকার ও গাছপালা নিষিদ্ধ।

জাবের রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: ইবরাহিম আ. মক্কাকে নিষিদ্ধ ও নিরাপদ নগরীরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, আর আমি মদিনাকে নিষিদ্ধ ও নিরাপদ নগরীরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছি এর দুটো পাথুরে ভূমির মাঝখানে। এর কোনো কাঁটাযুক্ত গাছ কাটা হবেনা এবং কোনো প্রাণী শিকার করা হবেনা। মুসলিম।

আর আহমদ ও আবু দাউদ আলী রা. থেকে বর্ণনা করেছেন : রসূল সা. মদিনা সম্পর্কে বলেছেন: কেউ এর গাছ কাটবেনা, কেউ এর শিকার তাড়াবেনা, এখানে পাওয়া কোনো হারানো জিনিস কুড়াবেনা, কেবল যে ব্যক্তি তা ঘোষণা করবে সে ব্যতিত। কোনো ব্যক্তি লড়াইর জন্য এখানে অস্ত্র বহন করবেনা, এখানে কেউ কোনো গাছ কাটবেনা কেবল যে ব্যক্তি তার উটকে খাওয়াতে চায় সে ব্যতিত। "বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত হাদিসে রসূলুল্লাহ সা. বলেন: "ঈর পাহাড় থেকে দূর পাহাড় পর্যন্ত মদিনা একটি সম্মানিত নগরী।" আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত: মদিনার দুই পাথুরে ভূখণ্ডের মাঝে রসূল সা. মদিনাকে সম্মানিত করেছেন এবং মদিনার চার পাশে বারো মাইল এলাকাকে সুরক্ষিত এলাকা বানিয়েছেন। দুই পাথুরে ভূখণ্ড পূর্ব দিকের পাথুরে ভূখণ্ড ও পশ্চিম দিকের পাথুরে ভূখণ্ডের মাঝে মদিনার হারাম শরিফের আয়তন বারো মাইল বলে ধারণা করা হয় যা ঈর থেকে ছুর পর্যন্ত বিস্তৃত। ঈর হলো মীকাতের নিকটবর্তী একটি পাহাড় আর ছুর উত্তর দিকে ওহদের পার্শ্ববর্তী পাহাড়।

রসূলুল্লাহ সা. মদিনাবাসীকে কৃষি সরঞ্জমাদি, বাহনের সরঞ্জমাদি, ইত্যাকার অপরিহার্য জিনিসপত্র তৈরি করার জন্য গাছ গাছালি কাটার অনুমতি দিয়েছেন। তাদের পশুদের খাওয়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ঘাস কাটারও অনুমতি দিয়েছেন।

আহমদ জাবের রা. থেকে বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: মদিনা তার দুই পাথরে ভূখণ্ডের মাঝে নিষিদ্ধ নগরী, এর সম্পূর্ণটাই সুরক্ষিত পশুকে খাওয়ানোর জন্য ব্যতিত এর কোনো গাছ কাটা যাবেনা।"

মক্কার হারাম শরিফের অবস্থা এর বিপরীত। কেননা মক্কাবাসী তাদের প্রয়োজনীয় যাবতীয় জিনিসে স্বয়ং সম্পূর্ণ। কিন্তু মদিনাবাসী তাদের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদিতে স্বয়ং সম্পূর্ণ নয়। মদিনার হারাম শরিফের শিকার হত্যায় ও গাছ কাটায় কোনো বিনিময় দিতে হয়না। কিন্তু গুনাহ হয়।

বুখারিতে আনাস রা. থেকে বর্ণিত, রসূল সা. বলেছেন: মদিনা এখান থেকে ওখান পর্যন্ত সুরক্ষিত সম্মানিত নগরী। এর কোনো গাছ কাটা হবেনা। এখানে কোনো নতুন জিনিসের উদ্ভব ঘটানো হবেনা। যে ব্যক্তি এখানে কোনো নতুন জিনিসের উদ্ভব ঘটাবে, তার ওপর আল্লাহর ফেরেশতাদের ও সকল মানুষের অভিসম্পাত। যে ব্যক্তি মদিনার কোনো গাছ কর্তিত দেখতে পায়, তার জন্য কর্তিত অংশ নেয়া বৈধ। সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস রা. থেকে বর্ণিত: তিনি আকীকে তার বাসভবনে গেলেন। সেখানে একটা ক্রীতদাসকে দেখলেন একটা গাছ কাটছে বা লাঠি দ্বারা গাছের পাতা পাড়ছে। তিনি তার কাছ থেকে তা কেড়ে নিলেন। পরে দাসটির আপন জনেরা এসে সা'দকে অনুরোধ করলো দাসটির কাছ থেকে কেড়ে নেয়া জিনিস ফেরত দিতে। সা'দ বললেন: আল্লাহর রসূল সা. যা আমাকে দান করেছেন, তা আমি কখনো দেবোনা। আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই। শেষ পর্যন্ত তিনি তা ফেরত দিলেন না। মুসলিম আবু দাউদ ও হাকেম বর্ণনা করেছেন, রসূল সা. বলেছেন: মদিনার হারাম শরিফে তোমরা যাকে শিকার করতে দেখবে। তার কাছ থেকে তোমরা তা কেড়ে নিতে পারো।

আর কোনো নিরাপদ হারাম আছে কি?

ইবনে তাইমিয়া বলেছেন: মক্কা ও মদিনার এই দুই হারাম ব্যতিত সারা পৃথিবীতে আর কোনো হারাম শরিফ নেই। বাইতুল মাকদাস বা অন্য কোনো স্থান হারাম নয়। মক্কা ও মদিনা ব্যতিত পৃথিবীর আর কোনো স্থান হারাম নামে আখ্যায়িতও নয়। অজ্ঞ লোকেরা যদিও বাইতুল মাকদাসকে হারামুল মাকদাস এবং খলীল নগরীকে হারামুল খলীল নামে অভিহিত করে থাকে। কিন্তু এ দুটি বা অন্য কোনো স্থান মুসলমানদের সর্বসম্মত মত অনুসারে হারাম তথা নিরাপদ স্থান নয়। সর্বসম্মত হারাম হচ্ছে মক্কার হারাম শরিফ। অধিকাংশ আলেমের নিকট মদিনাও হারাম এবং এর পক্ষে রসূল সা. থেকে প্রচুর হাদিস বর্ণিত রয়েছে। তায়েফের 'উজা' (وجاء) হচ্ছে একমাত্র তৃতীয় স্থান, যার হারাম হওয়া মুসলমানদের মধ্যে বিতর্কিত। শাফেয়ী ও শওকানিসহ কেউ কেউ এটিকে হারাম মনে করেন। কিন্তু অধিকাংশ আলেম ইমাম ও মনীষী একে হারাম মনে করেন না।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মদিনার উপর মক্কার শ্রেষ্ঠত্ব

📄 মদিনার উপর মক্কার শ্রেষ্ঠত্ব


অধিকাংশ আলেমের মতে মক্কা মদিনার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আহমদ, ইবনে মাজাহ ও তিরমিযি আব্দুল্লাহ বিন আদী থেকে বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সা. মক্কাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন : আল্লাহর কসম, তুমি আল্লাহর শ্রেষ্ঠতম ভূখণ্ড এবং আল্লাহর নিকট প্রিয়তম ভূখণ্ড। আমাকে যদি তোমা থেকে বহিষ্কৃত করা না হতো, তবে আমি বের হতামনা।" তিরমিযি ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সা. মক্কাকে সম্বোধন করে বলেছিলেন: আমার নিকট তোমার চেয়ে ভালো ও প্রিয় নগরী আর নেই। আমার জাতি যদি আমাকে তোমা থেকে বের করে না দিতো, তবে আমি তোমার যমীনে ব্যতীত আর কোথাও বসবাস করতামনা।"

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00