📄 স্বর্ণ ও রৌপ্যের যাকাত
স্বর্ণ ও রৌপ্যের যাকাত:
স্বর্ণ ও রৌপ্য আল্লাহ মানুষের জন্য জীবিকা ও অলংকার হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। তার মূল্যমান নির্ধারণ করেছেন, যা দ্বারা জিনিসপত্রের মূল্যমান নির্ধারণ ও পারস্পরিক লেনদেন করা সম্ভব। যাকাত ফরয হওয়ার জন্য স্বর্ণ ও রৌপ্যকে মানুষের অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজন থেকে অতিরিক্ত হতে হবে। যাকাত ফরয হওয়ার জন্য স্বর্ণ ও রৌপ্যকে এক বছর মালিকানাধীন থাকতে হবে, যাতে তার উপর পূর্ণ মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়।
📄 স্বর্ণের নিসাব ও যাকাতের পরিমাণ
স্বর্ণের নিসাব ও যাকাতের পরিমাণ:
বিশ দিনার বা তার সমমূল্য। দিনার হচ্ছে স্বর্ণমুদ্রা। এক দিনার একচল্লিশ ও এক-পঞ্চমাংশ গম দানার সমান। ওযনে চার গ্রাম বা তার কাছাকাছি। বিশ দিনার পঁচাশি গ্রাম স্বর্ণের সমান। তাই যার পঁচাশি গ্রাম স্বর্ণ বা তার সমমূল্যের রৌপ্যমুদ্রা অথবা তার সমমূল্যের ব্যবসায়িক সম্পদ রয়েছে, তার উপর যাকাত ফরয।
যাকাতের পরিমাণ:
স্বর্ণের নিসাব পরিমাণ সম্পদ যার রয়েছে, তার উপর যাকাত ফরয। যাকাতের পরিমাণ হলো, চল্লিশ ভাগের এক ভাগ। এটা শতকরা আড়াই ভাগ। একচল্লিশ বছর পূর্বে সৌদি আরবে এ রকম ছিলো, এক গ্রাম স্বর্ণের দাম বিশ দিরহাম। আর এক দিনারের মূল্য দশ দিরহাম। তখন ২০ দিনারের মূল্য হতো ২০০ দিরহাম। অর্থাৎ ২০ দিনার স্বর্ণের নিসাব। এর উপর ২.৫% যাকাত।
📄 রৌপ্যের নিসাব ও যাকাতের পরিমাণ
রৌপ্যের নিসাব ও যাকাতের পরিমাণ:
দু'শ দিরহাম বা তার সমমূল্য। এক দিরহামের ওজন বাইশ ও এক-পঞ্চমাংশ গম দানার সমান। ওযনে প্রায় তিন গ্রাম। সুতরাং দু’শ দিরহাম ৫৯৫ গ্রাম রূপার সমান। আর দু’শ দিরহামের মূল্যের চেয়ে বেশি যার কাছে থাকে তার উপর যাকাত ফরয।
যাকাতের পরিমাণ:
দু’শ দিরহাম রৌপ্যের নিসাব। এর উপর ২.৫% যাকাত।
📄 স্বর্ণ ও রৌপ্যের সম্মিলন
স্বর্ণ ও রৌপ্যের সম্মিলন:
যখন স্বর্ণের পরিমাণ স্বর্ণের নিসাব থেকে কম হয়, আর রৌপ্যের পরিমাণ রৌপ্যের নিসাব থেকে কম হয়, কিন্তু উভয়টিকে একত্রিত করা হলে স্বর্ণ ও রৌপ্যের নিসাবের সমমূল্যের হয়, তখন তার উপর যাকাত ফরয হবে। এ ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ইমাম আবু হানিফা, হাম্বলি, সাঈদ বিন জুবাইর ও আবু সাওর প্রমুখের মতে, উভয়টিকে একত্রিত করে যাকাত ফরয হবে। ইমাম শাফেয়ী ও মালেক বলেন, একত্রিত করা জায়েয নেই। স্বর্ণের নিসাব স্বর্ণের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, রৌপ্যের নিসাব রৌপ্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।