📄 যখন ফরয হয় যাকাত তখনই আদায় করা
যখন ফরয হয় যাকাত তখনই আদায় করা:
যাকাত যখন ফরয হয়, তখন আদায় করা বাধ্যতামূলক, বিলম্ব করা জায়েয নয়। বিলম্ব করলে গুনাহগার হতে হবে। কারণ আল্লাহ বলেছেন: وَآتُوا الزَّكَاةَ (অর্থ: যাকাত আদায় করো)। কোনো বিধান যখন বাধ্যতামূলক হয়, তখন কাল বিলম্ব না করে তা আদায় করা ফরয। রসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: “আল্লাহর কাছ থেকে যে যাকাত তোমার উপর ফরয, তা তুমি আদায় করো।”
তবে যাকাত আদায় বিলম্ব করার দুটি ওযর বা কারণ রয়েছে: ১. যদি যাকাত আদায় করার উপযুক্ত লোক পাওয়া না যায়। ২. উপযুক্ত লোক পাওয়া গেলেও তার কাছে পৌঁছা সম্ভব না হলে। এই দুটি ওযর থাকলে যাকাত আদায় বিলম্বিত করা জায়েয হবে।
📄 অগ্রিম যাকাত প্রদান
অগ্রিম যাকাত প্রদান:
যাকাতের নিসাব পূর্ণ হওয়ার পূর্বে যাকাত অগ্রিম দেয়া জায়েয নেই। কিন্তু নিসাব পূর্ণ হওয়ার পর যাকাত অগ্রিম দেয়া জায়েয। এ ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ (সা) তাকে যাকাত পূর্ণ হওয়ার পূর্বে অগ্রিম যাকাত দেয়ার আদেশ দিয়েছিলেন। হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: “যাকাতের নিসাব পূর্ণ হওয়ার পূর্বে যাকাত গ্রহণ করা বৈধ নয়।”
📄 যাকাত প্রদানকারীর জন্য দোয়া করা মুস্তাহাব
যাকাত প্রদানকারীর জন্য দোয়া করা মুস্তাহাব:
যাকাত গ্রহণকারীর জন্য যাকাত প্রদানকারীর প্রতি দোয়া করা মুস্তাহাব। আল্লাহ বলেছেন: وَصَلِّ عَلَيْهِمْ إِنَّ صَلَوَاتِكَ سَكَنٌ لَّهُمْ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ (অর্থ: আর তাদের জন্য দোয়া করো। তোমার দোয়া তাদের জন্য শান্তি স্বরূপ। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী।) (সূরা আত তাওবা: আয়াত ১০৩) এখানে ‘صل’ শব্দের অর্থ দোয়া। রসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: “যাকাত গ্রহণকারী যাকাত প্রদানকারীর প্রতি দোয়া করবে।”
আবু দাউদ ইবনে আবি আওফা (রা) থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ (সা) যখন কোনো যাকাত প্রদানকারীর যাকাত গ্রহণ করতেন, তখন তার প্রতি এই বলে দোয়া করতেন: “হে আল্লাহ, অমুকের পরিবারকে ক্ষমা করে দাও।” তিনি (রা) আরো বলেছেন: “যাকাত প্রদানকারীর জন্য দোয়া করা মুস্তাহাব।”
📄 যে সকল সম্পদে যাকাত ফরয হয়
যে সকল সম্পদে যাকাত ফরয হয়:
যে সকল সম্পদে যাকাত ফরয হয় তা হলো: ১. স্বর্ণ ও রৌপ্য, ২. নগদ অর্থ, ৩. ব্যবসায়িক পণ্য, ৪. শস্য ও ফলমূল, ৫. উট, গরু, ছাগল প্রভৃতি চতুষ্পদ জন্তু, ৬. খনিজ সম্পদ।
এখানে কেবল প্রথম পাঁচটি বিষয়ে আলোচনা করা হলো:
১. স্বর্ণ ও রৌপ্য: স্বর্ণ ও রৌপ্য আল্লাহ মানুষের জন্য জীবিকা ও অলংকার হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। তার মূল্যমান নির্ধারণ করেছেন, যা দ্বারা জিনিসপত্রের মূল্যমান নির্ধারণ ও পারস্পরিক লেনদেন করা সম্ভব। যাকাত ফরয হওয়ার জন্য স্বর্ণ ও রৌপ্যকে মানুষের অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজন থেকে অতিরিক্ত হতে হবে। যাকাত ফরয হওয়ার জন্য স্বর্ণ ও রৌপ্যকে এক বছর মালিকানাধীন থাকতে হবে, যাতে তার উপর পূর্ণ মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়।