📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির যাকাত

📄 ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির যাকাত


ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির যাকাত:
যাকাতের নিসাব পরিমাণ সম্পদ যার রয়েছে, সে যদি ঋণগ্রস্ত হয় এবং ঋণ পরিশোধ করে দিলে তার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকে, তবে তার উপর যাকাত ফরয নয়। এ ব্যাপারে হানাফিরা বলেছেন, যাকাতের জন্য সম্পদ মালিকানাধীন হওয়া শর্ত, সম্পদ বন্ধক থাকা শর্ত নয়। শাফেয়ী মাযহাবের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কোনো কোনো শাফেয়ী আলেম বলেছেন: ঋণ যাকাতের পথে বাধা নয়। কেননা যাকাত সম্পদ দ্বারা আল্লাহ প্রদত্ত অধিকার। আর আল্লাহ প্রদত্ত অধিকার মানুষের অধিকারের উপর অগ্রাধিকার পায়। তাদের প্রমাণ হযরত উসমান (রা) বলেছেন: “যে ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত হয়, সে যেন নিজের ঋণ পরিশোধ করে দেয়, তারপর যাকাত দেয়।” উসমান (রা) থেকে আরো বর্ণিত: তিনি বলেছেন: “এই হচ্ছে তোমাদের মাসের মাস। যার কাছে ঋণ রয়েছে, সে যেন নিজের ঋণ পরিশোধ করে দেয়। আর যার কাছে যাকাত দেয়ার মতো সম্পদ রয়েছে, সে যেন তা আদায় করে দেয়।”

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যাকাত না দিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির যাকাত

📄 যাকাত না দিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির যাকাত


যাকাত না দিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির যাকাত:
কোনো ব্যক্তি যাকাত না দিয়ে মারা গেলে তার সম্পত্তি থেকে সর্বপ্রথম যাকাত আদায় করা হবে, যদি সে মৃত্যুর আগে যাকাতের ওসিয়ত করে থাকে। আর যদি যাকাতের ওসিয়ত না করে থাকে, তাহলেও যাকাত আদায় করা হবে। কেননা যাকাত আল্লাহর হক। আল্লাহর হক মানুষের হকের উপর অগ্রাধিকার পায়। এ ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই।

তবে উলামাদের মধ্যে যাকাতের ওসিয়ত না করলে তার মাল থেকে যাকাত আদায় করা হবে কিনা সে ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। হযরত উসমান (রা) যাকাত আদায় করেছেন। কিন্তু হযরত ইবনে আব্বাস (রা) বলেন: “যে যাকাত না দিয়ে মারা যায়, তাকে তার কবরে নিয়ে যাওয়া হবে।” এই উক্তি থেকে তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, যাকাত কেবল তার জীবিত থাকাকালে ফরয ছিলো। আবু বকর (রা) যাকাত না দেয়া উটের মালিককে বলেছেন: “তার কাছ থেকে যাকাত গ্রহণ করো এবং তার উটও গ্রহণ করো।”

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যাকাত প্রদানে নিয়ত (সংকল্প) শর্ত

📄 যাকাত প্রদানে নিয়ত (সংকল্প) শর্ত


যাকাত প্রদানে নিয়ত (সংকল্প) শর্ত:
যাকাত প্রদানে নিয়ত তথা সংকল্প বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ যাকাত আদায় করার নিয়ত করতে হবে, কেবল দান করার নিয়ত করলে হবেনা। কেননা যাকাত আল্লাহর ইবাদত। আর ইবাদত মাত্রই নিয়তের উপর নির্ভরশীল। রসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: “সকল কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল।”

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যখন ফরয হয় যাকাত তখনই আদায় করা

📄 যখন ফরয হয় যাকাত তখনই আদায় করা


যখন ফরয হয় যাকাত তখনই আদায় করা:
যাকাত যখন ফরয হয়, তখন আদায় করা বাধ্যতামূলক, বিলম্ব করা জায়েয নয়। বিলম্ব করলে গুনাহগার হতে হবে। কারণ আল্লাহ বলেছেন: وَآتُوا الزَّكَاةَ (অর্থ: যাকাত আদায় করো)। কোনো বিধান যখন বাধ্যতামূলক হয়, তখন কাল বিলম্ব না করে তা আদায় করা ফরয। রসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: “আল্লাহর কাছ থেকে যে যাকাত তোমার উপর ফরয, তা তুমি আদায় করো।”

তবে যাকাত আদায় বিলম্ব করার দুটি ওযর বা কারণ রয়েছে: ১. যদি যাকাত আদায় করার উপযুক্ত লোক পাওয়া না যায়। ২. উপযুক্ত লোক পাওয়া গেলেও তার কাছে পৌঁছা সম্ভব না হলে। এই দুটি ওযর থাকলে যাকাত আদায় বিলম্বিত করা জায়েয হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00