📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যাকাতের সংজ্ঞা

📄 যাকাতের সংজ্ঞা


যাকাতের সংজ্ঞা:
যাকাত শব্দটির মূল ধাতু হলো ‘যাকা’, যার আভিধানিক অর্থ বৃদ্ধি পাওয়া। আর আরবিতে ‘যাকা’ যখন ‘তা’ বর্ণের সাথে যুক্ত হয়, তখন ‘পবিত্র হওয়া’ অর্থে ব্যবহৃত হয়। এ জন্য ইসলামী শরিয়তে যাকাত হচ্ছে এমন সম্পদ, যা নির্দিষ্ট সময় ও নির্দিষ্ট পরিমাণ পর্যন্ত পৌঁছলে মুসলমান ধনী ব্যক্তি থেকে নিয়ে গরীব লোকদেরকে দেয়া বাধ্যতামূলক। ‘যাকাত’কে ‘যাকাত’ নামে আখ্যায়িত করার কারণ এই যে, এটা সম্পদকে পবিত্র করে এবং তার পরিমাণ বৃদ্ধি করে। আল্লাহ বলেন: خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِم بِهَا وَصَلِّ عَلَيْهِمْ إِنَّ صَلَوَاتِكَ سَكَنٌ لَّهُمْ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ (অর্থ: তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করো, যা দ্বারা তুমি তাদেরকে পবিত্র করবে ও পরিশুদ্ধ করবে। আর তাদের জন্য দোয়া করো। তোমার দোয়া তাদের জন্য শান্তি স্বরূপ। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী।) (সূরা আত তাওবা: আয়াত ১০৩) হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, সদকা মালকে কিছুমাত্র কমায় না। পক্ষান্তরে এটি তার বৃদ্ধি ঘটিয়ে থাকে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যাকাত আদায়ের নির্দেশ ও উৎসাহ প্রদান

📄 যাকাত আদায়ের নির্দেশ ও উৎসাহ প্রদান


যাকাত আদায়ের নির্দেশ ও উৎসাহ প্রদান:
যাকাত ইসলামের অন্যতম মৌল স্তম্ভ। নামাযের পরেই যাকাতের স্থান। কুরআন ও সুন্নাহতে এই দুই মৌল স্তম্ভের উপর অধিকতর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে এবং উভয়ের উপরই একই ভাবে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। নামাযের উপর উৎসাহ দানকারী যে সংখ্যক আয়াত ও হাদিস রয়েছে, যাকাতের উপর উৎসাহ দানকারী আয়াত ও হাদিসও প্রায় একই সংখ্যক। আল্লাহ বলেন: أَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ (অর্থ: তোমরা নামায কায়েম করো ও যাকাত আদায় করো।) বুখারি, মুসলিম, তিরমিযি ও নাসায়ী ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি: ১. আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আর মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর রসূল, এই সাক্ষ্য দান করা, ২. নামায কায়েম করা, ৩. যাকাত আদায় করা, ৪. হজ্জ করা, ৫. রমযান মাসে রোযা রাখা। রসূলুল্লাহ (সা) যখন মুয়ায (রা) কে ইয়ামানে পাঠালেন, তখন তাকে বললেন: “তাদেরকে জানিয়ে দিও, আল্লাহ তাদের উপর যাকাত ফরয করেছেন, যা তাদের ধনীদের থেকে গ্রহণ করা হবে ও তাদের গরীবদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।” যাকাতের প্রতি উৎসাহ প্রদান করতে গিয়ে রসূলুল্লাহ (সা) যাকাত আদায়কারীকে সুসংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহ তার প্রতিদান বাড়িয়ে দেবেন এবং তার জন্য অনেক প্রতিদান জমা করে রাখবেন। আল্লাহ বলেন: خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِم بِهَا وَصَلِّ عَلَيْهِمْ إِنَّ صَلَوَاتِكَ سَكَنٌ لَّهُمْ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ (অর্থ: তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করো, যা দ্বারা তুমি তাদেরকে পবিত্র করবে ও পরিশুদ্ধ করবে। আর তাদের জন্য দোয়া করো। তোমার দোয়া তাদের জন্য শান্তি স্বরূপ। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী।) (সূরা আত তাওবা: আয়াত ১০৩)

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যাকাত না দেয়ার ভয়াবহ পরিণাম সম্পর্কে সতর্কবাণী

📄 যাকাত না দেয়ার ভয়াবহ পরিণাম সম্পর্কে সতর্কবাণী


যাকাত না দেয়ার ভয়াবহ পরিণাম সম্পর্কে সতর্কবাণী:
আল্লাহ ও রসূল (সা) যাকাত না দেয়ার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন এবং যাকাত অস্বীকারকারীকে কুফরী ও শিরকের শাস্তির হুমকি দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন: وَوَيْلٌ لِّلْمُشْرِكِينَ الَّذِينَ لَا يُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ بِالْآخِرَةِ هُمْ كَافِرُونَ (অর্থ: দুর্ভোগ মুশরিকদের জন্য, যারা যাকাত দেয়না এবং আখেরাতকে অস্বীকার করে।) (সূরা হা মীম সাজদাহ: আয়াত ৬-৭) এখানে আল্লাহ মুশরিকদেরকে যাকাত অস্বীকারকারী বলেছেন। কারণ ইসলামী শরিয়তে কুফরীকে ইসলামের মূলনীতি ও বিধিবিধানের অস্বীকার নাম দেয়া হয়েছে। আর ইসলামকে সম্পূর্ণরূপে গ্রহণ না করলে নামায ও যাকাত দুটোই কার্যকর হয়না। রসূলুল্লাহ (সা) যাকাত না দেয়ার পরিণতি সম্পর্কে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন: আল্লাহ তাকে (যাকাত অস্বীকারকারীকে) শাস্তি দেবেন এবং তার কাছ থেকে যাকাত গ্রহণ করবেন। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সম্পদ থেকে যাকাত না দেবে, কেয়ামতের দিন তার সম্পদকে টাক বিহীন সাপ বানিয়ে তার গলার চারপাশে পেঁচিয়ে দেয়া হবে। সাপটি বলবে: আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার সম্পদ। তারপর রসূলুল্লাহ (সা) সূরা আলে ইমরানের নিম্নোক্ত আয়াত তেলাওয়াত করেন: وَلَا يَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَبْخَلُونَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ هُوَ خَيْرًا لَّهُم بَلْ هُوَ شَرٌّ لَّهُمْ سَيُطَوَّقُونَ مَا بَخِلُوا بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ (অর্থ: আল্লাহ যাদেরকে নিজের অনুগ্রহে সম্পদ দিয়েছেন এবং যারা তাতে কৃপণতা করে, তারা যেন মনে না করে এটা তাদের জন্য ভালো। বরঞ্চ এটা তাদের জন্য মারাত্মক খারাপ। কেয়ামতের দিন তাদেরকে তাদের কৃপণতাকৃত সম্পদ দিয়ে গলদেশে বেড়ী বানিয়ে দেয়া হবে।) (আলে ইমরান: আয়াত ১৮০) মুসলিম আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: উট, গরু, ছাগল প্রভৃতি পশুর মালিক যদি তার উপর অর্পিত যাকাতের অধিকার আদায় না করে, তবে কেয়ামতের দিন সেগুলোকে তার সামনে সমবেত করা হবে, সেগুলো তাকে নিজের পা দিয়ে মাড়াতে থাকবে ও শিং দিয়ে গুঁতোতে থাকবে। যখন প্রথম দলটি চলে যাবে, তখন দ্বিতীয় দলটি এসে তাকে মাড়াবে ও গুঁতোবে। এভাবে চলতে থাকবে যতক্ষণ না সকল পশু তাকে মাড়ানো ও গুঁতোনো শেষ করবে। বুখারি মুসলিম আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন: রসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: সম্পদশালী মুসলমান যদি যাকাত না দেয়, কেয়ামতের দিন তার সম্পদকে একটা টাকবিহীন বিষাক্ত সাপের রূপ দেয়া হবে, যার চোখে দুটো কালো দাগ থাকবে। তারপর তা তার গলায় পেঁচিয়ে দিয়ে তার চোয়াল কামড়ে ধরে বলবে: আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার সম্পদ। মুসলিমে বর্ণিত: এই সাপ তাকে তা কামড়াতে থাকবে যতক্ষণ না তার প্রতিদানের হিসাব সম্পন্ন হয়। বুখারি মুসলিম আবূ যার (রা) থেকে বর্ণনা করেন: রসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: “আমার নিকট উহুদ পাহাড় পরিমাণ সম্পদ থাকতো, আর আমি আল্লাহর ঋণ (যাকাত) পরিশোধকারী হতাম, তবে তিনটে স্বর্ণ মুদ্রার চেয়ে বেশি নিজের জন্য রাখতাম না।”

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যাকাত অস্বীকারকারী সম্পর্কে শরীয়ায় বিধান

📄 যাকাত অস্বীকারকারী সম্পর্কে শরীয়ায় বিধান


যাকাত অস্বীকারকারী সম্পর্কে শরীয়ায় বিধান:
যাকাতকে অস্বীকার করা ইসলাম থেকে বহির্ভূত হওয়ার শামিল। যদি কোনো মুসলিম তার যাকাত অস্বীকার করে, তাহলে তাকে তওবা করতে বলা হবে। তওবা না করলে তাকে মুরতাদ গণ্য করা হবে। বুখারি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: “আমি রসূলুল্লাহ (সা) ও আবু বকর (রা)-এর যুগে জানতাম, আল্লাহ ও রসূলের সাথে যুদ্ধ করা আল্লাহর দীনের যে মূলনীতিগুলো দ্বারা প্রমাণিত তা হচ্ছে, নামায ও যাকাত।” আর আবু বকর সিদ্দিক (রা) তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন যারা নামাযকে যাকাত থেকে আলাদা করেছে। তিনি বলেছেন: “যাকাত মালের উপর ফরয। আল্লাহর কসম, রসূলুল্লাহ (সা)-এর যুগে তারা যাকাতস্বরূপ উটের গলায় রশি দিয়ে দিতো, এখন যদি তা দিতে অস্বীকার করে, তবে আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো।” এ ব্যাপারে সাহাবীগণের ইজমা বা ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00